AFC Champions League 2-এর চূড়ান্ত গ্রুপবিন্যাস প্রকাশ্যে। এশিয়ার মঞ্চে ইস্টবেঙ্গলের সামনে কারা প্রতিপক্ষ, কতটা কঠিন হতে চলেছে লাল-হলুদের লড়াই জেনে নিন বিস্তারিত।
এশিয়ার মঞ্চে নতুন পরীক্ষার সামনে ইস্টবেঙ্গল। মঙ্গলবার, ১৮ অগস্ট অনুষ্ঠিত হয়ে গেল AFC Champions League 2-এর গ্রুপবিন্যাস। ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে এই প্রতিযোগিতার মূলপর্বে খেলতে নামছে কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব ইস্টবেঙ্গল। ড্রয়ের পরই পরিষ্কার হয়ে গেল লাল-হলুদ ব্রিগেডের সামনে অপেক্ষা করে রয়েছে কতটা কঠিন চ্যালেঞ্জ।
এ বারের AFC Champions League 2-এ ‘D’ গ্রুপে রাখা হয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে। তাদের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে জর্ডনের আল হুসেন, ইরাকের আল শোরতা এবং ওমানের আল সীব। অর্থাৎ পশ্চিম এশিয়ার তিন শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে ভারতের প্রতিনিধিকে।
কাগজে-কলমে তিন প্রতিপক্ষই যথেষ্ট শক্তিশালী। নিজেদের দেশের ঘরোয়া ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে সাফল্য রয়েছে প্রত্যেকের। ফলে এশিয়ার দ্বিতীয় সারির সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতায় ইস্টবেঙ্গলের পথ মোটেই সহজ হতে চলেছে না।
তবে একই সঙ্গে এই গ্রুপ ইস্টবেঙ্গলের কাছে নিজেদের আন্তর্জাতিক মান যাচাই করারও বড় সুযোগ। ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব হিসেবে এশিয়ার মঞ্চে ভাল ফল করার প্রত্যাশা থাকবে সমর্থকদের।
গ্রুপবিন্যাস অনুযায়ী Group D বা ‘D’ গ্রুপে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল।
এই গ্রুপের চারটি দল হল—
গ্রুপের বাকি তিনটি দলই পশ্চিম এশিয়ার শক্তিশালী ফুটবল সংস্কৃতি থেকে উঠে আসা। ফলে প্রতিটি ম্যাচেই ইস্টবেঙ্গলকে টেকনিক্যাল এবং ফিজিক্যাল ফুটবলের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
জর্ডনের অন্যতম শক্তিশালী ক্লাব আল হুসেন। সাম্প্রতিক মরশুমে তাদের পারফরম্যান্সই বলে দিচ্ছে দলটির শক্তি।
২০২৫-২৬ মরশুমের Jordanian Pro League-এর চ্যাম্পিয়ন আল হুসেন। অর্থাৎ নিজেদের দেশের সেরা দল হিসেবেই তারা এশিয়ার প্রতিযোগিতায় নামছে।
ঘরোয়া লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিযোগিতামূলক পশ্চিম এশীয় ফুটবলে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা আল হুসেনকে ইস্টবেঙ্গলের গ্রুপে অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ করে তুলতে পারে।
বিশেষ করে জর্ডনের ক্লাব ফুটবলে শক্তিশালী শারীরিক ফুটবল, দ্রুত ট্রানজিশন এবং সংগঠিত রক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আল হুসেনের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্স এবং মিডফিল্ডকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
‘D’ গ্রুপে আরও একটি শক্তিশালী নাম আল সীব। ওমানের এই ক্লাবটিও নিজেদের দেশের শীর্ষ লিগে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে।
গত মরশুমে Oman Professional Football League-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আল সীব।
ফলে একই গ্রুপে জর্ডন এবং ওমানের দুই ঘরোয়া লিগ চ্যাম্পিয়নের বিরুদ্ধে নামতে হচ্ছে ইস্টবেঙ্গলকে।
আল সীবের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তাদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিজ্ঞতা এবং সংগঠিত দলগত খেলা। এশিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় মধ্যপ্রাচ্যের ক্লাবগুলির অভিজ্ঞতা সাধারণত ভারতীয় ক্লাবগুলির তুলনায় অনেক বেশি।
তাই আল সীবের বিরুদ্ধে ম্যাচে সুযোগ নষ্ট করলে তার মূল্য দিতে হতে পারে ইস্টবেঙ্গলকে।
ইস্টবেঙ্গলের তৃতীয় প্রতিপক্ষ আল শোরতা। ইরাকি ফুটবলের অন্যতম পরিচিত ক্লাব এই দল।
২০২৫-২৬ মরশুমে Iraq Stars League-এর রানার্স-আপ হয়েছে আল শোরতা। অর্থাৎ অল্পের জন্য তারা লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি।
ইরাকি ফুটবলের নিজস্ব শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। ফিজিক্যাল ফুটবলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং আক্রমণে দ্রুততা এই অঞ্চলের দলগুলির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ফলে ‘D’ গ্রুপে এমন কোনও ম্যাচ নেই যেখানে ইস্টবেঙ্গলকে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবে দেখা যাবে। প্রতিটি পয়েন্ট অর্জনের জন্যই কঠিন লড়াই প্রয়োজন হবে।
এ বারের AFC Champions League 2-এর গ্রুপ পর্বে ভারতের একমাত্র প্রতিনিধি ইস্টবেঙ্গল।
ভারতীয় ফুটবলের জন্যও বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিটি ফল সরাসরি ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের মান এবং মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকবে।
গত মরশুমের ঘরোয়া সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছে লাল-হলুদ।
বাছাই পর্বে কুয়েতের আল-আরবিকে হারিয়ে মূলপর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইস্টবেঙ্গল। সেই জয় নিঃসন্দেহে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
তবে বাছাইপর্ব পেরোনোর পর মূলপর্বে প্রতিযোগিতার মান আরও অনেক বেশি। এখানে একটি ছোট ভুলও ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে।
ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্বে থাকা আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের কাছেও AFC Champions League 2 গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে চলেছে।
ভারতীয় ফুটবল সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ দেশের ফুটবলারদের শক্তি এবং দুর্বলতা সম্পর্কেও তিনি যথেষ্ট পরিচিত।
কিন্তু এশিয়ার মঞ্চ সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এখানে প্রতিপক্ষের গতি, ফিটনেস, শারীরিক শক্তি, ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা এবং ম্যাচের তীব্রতা ঘরোয়া ফুটবলের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।
তাই শুধু প্রথম একাদশ নয়, পুরো স্কোয়াডের গভীরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ম্যাচের মধ্যে চোট, কার্ড, ফিটনেস সমস্যা অথবা টানা সূচির কারণে একাধিক ফুটবলারকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করতে হতে পারে।
এশিয়ার মঞ্চে ইস্টবেঙ্গলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের উপর স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি দায়িত্ব থাকবে।
মাঝমাঠে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা, বলের দখল ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষের দ্রুত আক্রমণ থামানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
অন্যদিকে রক্ষণভাগকে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে।
আল হুসেন, আল সীব এবং আল শোরতার মতো দলের বিরুদ্ধে রক্ষণে সামান্য ভুলও গোলের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।
তাই আনোয়ার আলিদের মতো ডিফেন্ডারদের সংগঠিত থাকা এবং পুরো ম্যাচ জুড়ে মনঃসংযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কাগজে-কলমে প্রতিপক্ষরা এগিয়ে থাকলেও ফুটবল শুধুমাত্র নাম বা অতীত সাফল্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় না।
ইস্টবেঙ্গলের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে দলের লড়াকু মানসিকতা।
বিশেষ করে ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে খেলতে পারলে লাল-হলুদ ব্রিগেড বাড়তি শক্তি পেতে পারে।
ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরা বরাবরই ক্লাবের অন্যতম বড় সম্পদ। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচে গ্যালারির পরিবেশ প্রতিপক্ষের উপরও চাপ তৈরি করতে পারে।
তবে আবেগের পাশাপাশি প্রয়োজন থাকবে সঠিক পরিকল্পনার।
প্রতিপক্ষের শক্তি অনুযায়ী ম্যাচভিত্তিক কৌশল পরিবর্তন করতে হবে হাবাসকে।
কোনও ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল হয়তো বেশি আক্রমণাত্মক হবে, আবার কোনও ম্যাচে রক্ষণ শক্ত রেখে কাউন্টার অ্যাটাকই হতে পারে প্রধান অস্ত্র।
AFC Champions League 2-এর গ্রুপ পর্ব শুরু হবে ১৫ সেপ্টেম্বর।
গ্রুপের ম্যাচ চলবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
অর্থাৎ প্রায় তিন মাস ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে গ্রুপের ম্যাচ খেলতে হবে দলগুলিকে।
এই সময় ইস্টবেঙ্গলকে আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলের সূচিও সামলাতে হতে পারে। ফলে ফুটবলারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
একই খেলোয়াড়কে টানা ম্যাচ খেলালে চোটের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বড় এবং ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড থাকার সুবিধা এই পর্যায়ে কাজে আসবে।
গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর সফল দলগুলি প্রবেশ করবে নকআউট পর্বে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী—
রাউন্ড অফ ১৬:
৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭।
কোয়ার্টার ফাইনাল:
২ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ, ২০২৭।
সেমিফাইনাল:
৬ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিল, ২০২৭।
ফাইনাল:
১৫ মে, ২০২৭।
অর্থাৎ গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পেরোতে হবে দলগুলিকে।
ইস্টবেঙ্গলের প্রথম লক্ষ্য অবশ্যই হবে গ্রুপ পর্বে যত বেশি সম্ভব পয়েন্ট সংগ্রহ করে নকআউটের লড়াইয়ে থাকা।
‘D’ গ্রুপকে ইস্টবেঙ্গলের দৃষ্টিকোণ থেকে কঠিন বলার সবচেয়ে বড় কারণ প্রতিপক্ষদের সাম্প্রতিক ঘরোয়া সাফল্য।
একদিকে জর্ডনের লিগ চ্যাম্পিয়ন আল হুসেন।
অন্যদিকে ওমানের লিগ চ্যাম্পিয়ন আল সীব।
তার সঙ্গে রয়েছে ইরাকের লিগ রানার্স-আপ আল শোরতা।
অর্থাৎ তিনটি দলই নিজেদের দেশের শীর্ষ পর্যায়ে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে ভাল ফল করেছে।
সেখানে ইস্টবেঙ্গলকে শুধু টেকনিক্যাল ফুটবল নয়, আন্তর্জাতিক ম্যাচের চাপের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হবে।
নিজেদের মাঠে সমর্থকদের সামনে ইস্টবেঙ্গল আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে পারলেও বিদেশের মাঠে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে।
জর্ডন, ইরাক এবং ওমানের পরিবেশ, আবহাওয়া, মাঠের পরিস্থিতি এবং দর্শকদের সামনে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ভারতীয় ফুটবলারদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
তার সঙ্গে থাকবে দীর্ঘ বিমানযাত্রা এবং খুব কম সময়ের মধ্যে ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টিও।
তাই অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে পয়েন্ট নিয়ে ফেরা ইস্টবেঙ্গলের অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
গ্রুপ থেকে পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে হলে নিজেদের হোম ম্যাচগুলিতে ভাল ফল করা প্রয়োজন।
শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে পয়েন্ট পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই ঘরের মাঠে জয় অথবা অন্তত নিয়মিত পয়েন্ট সংগ্রহের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
প্রথমে গোল না খাওয়ার কৌশল, সেট-পিস কাজে লাগানো এবং পাওয়া সুযোগ থেকে গোল করা—এই তিন বিষয় ইস্টবেঙ্গলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এশিয়ার ম্যাচে খুব বেশি গোলের সুযোগ নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই যে কয়েকটি সুযোগ তৈরি হবে, সেগুলি কাজে লাগানোই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
এই প্রতিযোগিতায় ইস্টবেঙ্গলের পারফরম্যান্স শুধু ক্লাবের সমর্থকদের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ নয়।
ভারতীয় ফুটবলের আন্তর্জাতিক অবস্থানের দিক থেকেও এটি তাৎপর্যপূর্ণ।
এশিয়ার শক্তিশালী ক্লাবগুলির বিরুদ্ধে ভারতীয় ক্লাব কতটা প্রতিযোগিতা করতে পারে, তার একটি ছবি পাওয়া যাবে AFC Champions League 2-এ ইস্টবেঙ্গলের পারফরম্যান্স থেকে।
ভাল ফল করলে ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্লাবগুলির আত্মবিশ্বাসও বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে দেশের তরুণ ফুটবলারদের কাছেও আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।
ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাসের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বহু স্মরণীয় অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে। তাই AFC Champions League 2-এ নামার আগে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা বাড়ছে সমর্থকদের মধ্যে।
তবে এই গ্রুপের শক্তি বিবেচনা করলে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখা প্রয়োজন।
আল হুসেন, আল সীব এবং আল শোরতার বিরুদ্ধে প্রতিটি ম্যাচই কার্যত কঠিন পরীক্ষা।
প্রথম ম্যাচ থেকেই ইস্টবেঙ্গলকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল খেলতে হবে।
একটি জয় কিংবা শক্তিশালী দলের মাঠ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রও পরবর্তী ম্যাচগুলির আগে দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিতে পারে।
কঠিন গ্রুপ অনেক সময় বড় সুযোগও তৈরি করে।
যদি ইস্টবেঙ্গল এই গ্রুপ থেকে ভাল ফল করতে পারে, তা হলে সেই সাফল্যের গুরুত্বও অনেক বেশি হবে।
কারণ প্রতিপক্ষদের সাম্প্রতিক রেকর্ড দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, কোনও দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এশিয়ার মঞ্চে নিজেদের নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাই এই প্রতিযোগিতা ইস্টবেঙ্গলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকবে, লাল-হলুদ ফুটবলাররা শুধু অংশগ্রহণের জন্য নয়, প্রতিটি ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন।
গ্রুপ: D
ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ:
আল হুসেন — জর্ডন
আল শোরতা — ইরাক
আল সীব — ওমান
গ্রুপ পর্ব: ১৫ সেপ্টেম্বর–৯ ডিসেম্বর
রাউন্ড অফ ১৬: ৯–১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭
কোয়ার্টার ফাইনাল: ২–১৮ মার্চ ২০২৭
সেমিফাইনাল: ৬–১৪ এপ্রিল ২০২৭
ফাইনাল: ১৫ মে ২০২৭
AFC Champions League 2-এর ড্র হওয়ার পর ইস্টবেঙ্গলের সামনে ছবিটা এখন অনেকটাই পরিষ্কার। ‘D’ গ্রুপে তাদের মোকাবিলা করতে হবে পশ্চিম এশিয়ার তিন শক্তিশালী দল—আল হুসেন, আল শোরতা এবং আল সীবের।
প্রতিপক্ষদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিচার করলে লাল-হলুদের সামনে কাজটা কঠিন। দুই দেশের বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন এবং আরও একটি দেশের লিগ রানার্স-আপের বিরুদ্ধে খেলতে হবে তাদের।
কিন্তু বাছাই পর্ব পেরিয়ে মূলপর্বে পৌঁছনো ইস্টবেঙ্গলের কাছে এটিই নিজেদের প্রমাণ করার আদর্শ মঞ্চ।
১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। হোম ম্যাচ থেকে সর্বাধিক পয়েন্ট সংগ্রহ, অ্যাওয়ে ম্যাচে সংগঠিত ফুটবল এবং পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে নকআউটের লড়াইয়ে থাকার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে লাল-হলুদ।
ভারতের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তাই ইস্টবেঙ্গলের AFC Champions League 2 অভিযান ঘিরে নজর থাকবে গোটা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের।