২০২৪ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়া একটি গ্রহাণু প্রথমে পৃথিবীর জন্য বিপদের আশঙ্কা তৈরি করলেও নতুন হিসাব অনুযায়ী সেই ঝুঁকি কমেছে বরং বিজ্ঞানীদের মতে চাঁদের সঙ্গে এর সংঘর্ষের সম্ভাবনাই এখন বেশি যা মহাকাশ গবেষকদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে
মহাকাশ বিজ্ঞানের জগতে ফের এক বড়সড় আশঙ্কা তৈরি করেছে একটি প্রকাণ্ড গ্রহাণু। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও হিসাব বলছে, ঠিক সাত বছর পর ২০৩২ সালে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে পারে এই বিশালাকার গ্রহাণু। এই সংঘর্ষের ফলে যে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে, তার শক্তি জাপানের হিরোশিমায় ঘটানো পরমাণু বিস্ফোরণের চেয়ে প্রায় ৪০০ গুণ বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। শুধু চাঁদের ভবিষ্যৎই নয়, এই মহাজাগতিক ঘটনার প্রভাব পৃথিবীতেও অনুভূত হতে পারে এমন আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
গ্রহাণু ২০২৪ ওয়াইআর৪ কোথা থেকে এল এই বিপদের বার্তা
এই গ্রহাণুটির অস্তিত্ব প্রথমবার ধরা পড়ে ২০২৪ সালে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ যন্ত্র ও টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা প্রথম জানতে পারেন এই গ্রহাণুর কথা তখনই এর নামকরণ করা হয় ২০২৪ ওয়াইআর৪ 2024 YR4 প্রথমদিকে বিজ্ঞানীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল এই ভেবে যে, গ্রহাণুটি সরাসরি পৃথিবীর দিকেই ধেয়ে আসছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৩.১ শতাংশ
যদিও মহাকাশ বিজ্ঞানের পরিভাষায় ৩ শতাংশের বেশি সংঘর্ষের সম্ভাবনাকে মোটেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। কারণ, একটি মাঝারি আকারের গ্রহাণুও পৃথিবীতে আছড়ে পড়লে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে সক্ষম। ফলে প্রথম দফায় ২০২৪ ওয়াইআর৪ বিজ্ঞানীদের কাছে একটি উচ্চঝুঁকির মহাজাগতিক বস্তু হিসেবে চিহ্নিত হয়।
পৃথিবীর ঝুঁকি কমলেও চাঁদের বিপদ বাড়ছে
পরবর্তী কয়েক মাস ধরে উন্নত মডেল, আরও নিখুঁত হিসাব এবং নতুন পর্যবেক্ষণ তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা গ্রহাণুটির গতিপথ পুনর্মূল্যায়ন করেন। তাতে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে, পৃথিবীতে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা ক্রমশ কমছে। কিন্তু তার পরিবর্তে বেড়ে যাচ্ছে চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা।
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালে এই গ্রহাণুটির সঙ্গে চাঁদের সংঘর্ষের সম্ভাবনা প্রায় ৪ শতাংশ। শতাংশের হিসেবে সংখ্যাটি কম মনে হলেও, মহাকাশ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, গ্রহাণুর আকার, গতি এবং সম্ভাব্য বিস্ফোরণের শক্তি বিবেচনা করলে এই সংঘর্ষ একেবারেই ছোটখাটো ঘটনা নয়।
গ্রহাণুর আকার ও বিস্ফোরণের ভয়াবহতা
‘২০২৪ ওয়াইআর৪’-এর সঠিক আকার ও ভর এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তবে প্রাথমিক গবেষণা বলছে, এই গ্রহাণুর প্রস্থ অন্তত ৬০ মিটার হতে পারে। তুলনামূলকভাবে দেখতে গেলে, এটি একটি বড় যাত্রীবাহী বিমানের চেয়ে কয়েকগুণ বড়।
এই আকারের একটি গ্রহাণু যদি চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ে, তাহলে যে শক্তির বিস্ফোরণ ঘটবে, তা প্রায় ৬০ লক্ষ মেট্রিক টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমান হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শক্তির এই মাত্রা হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমার বিস্ফোরণের চেয়ে প্রায় ৪০০ গুণ বেশি।
যদিও চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই এবং সেখানে মানুষের বসবাসও নেই, তবুও এই বিস্ফোরণকে মোটেই তুচ্ছ করে দেখছেন না বিজ্ঞানীরা। কারণ, এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পৃথিবীর উপর পড়তে পারে।
পৃথিবীর দিকে ছুটে আসতে পারে উল্কাপিণ্ড
বিজ্ঞানীদের একটি বড় উদ্বেগের জায়গা হল সংঘর্ষের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ছিটকে যেতে পারে মহাকাশে। সেই ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ছোট-বড় উল্কাপিণ্ড থাকতে পারে, যেগুলি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণে আকৃষ্ট হয়ে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে পারে।
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, এই ধরনের উল্কাপিণ্ড পৃথিবীর দিকে আসার সম্ভাবনা প্রায় ১ শতাংশ। শতাংশের হিসেবে কম হলেও, ঝুঁকিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণকারী বিভিন্ন কৃত্রিম উপগ্রহ যেমন যোগাযোগ উপগ্রহ, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ কিংবা সামরিক স্যাটেলাইট এই উল্কাপিণ্ডের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নাসার ইঞ্জিনিয়ার ব্রেন্ট বার্বি এই প্রসঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াইআর৪ এর কারণে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণকারী বিভিন্ন বস্তু ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সেই কারণেই আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া দরকার।
চাঁদের কোন অংশে আঘাত লাগতে পারে
শুধু সংঘর্ষের সম্ভাবনাই নয়, চাঁদের ঠিক কোন অংশে এই গ্রহাণুর আঘাত লাগতে পারে, তারও একটি সম্ভাব্য হিসাব কষার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা বর্তমান মডেল অনুযায়ী, চাঁদের যে অংশটি সবসময় পৃথিবীর দিকে মুখ করে থাকে, সেই অংশে সংঘর্ষের সম্ভাবনা প্রায় ৮৬ শতাংশ।
যদি সত্যিই চাঁদের পৃথিবীমুখী অংশে এই সংঘর্ষ ঘটে, তাহলে সেই বিস্ফোরণের ঝলকানি পৃথিবী থেকে খালি চোখেই দেখা যেতে পারে। যদিও এই দৃশ্যমানতা নির্ভর করবে বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর যেমন স্থানীয় আবহাওয়া, মেঘাচ্ছন্নতা, পৃথিবীর কোন অংশ থেকে চাঁদ দৃশ্যমান রয়েছে ইত্যাদি।
মার্কিন মহাকাশবিজ্ঞানী প্যাট্রিক কিং এই বিষয়ে বিস্তৃত গবেষণা করেছেন। তাঁর মতে, বিস্ফোরণের ঝলকানি যথেষ্ট উজ্জ্বল হতে পারে এবং অনুকূল পরিস্থিতিতে তা পৃথিবী থেকে প্রত্যক্ষ করা সম্ভব।
কোথা থেকে দেখা যেতে পারে সেই ঝলকানি?
বর্তমান অনুমান অনুযায়ী, যদি সংঘর্ষ ঘটে, তাহলে আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চাঁদের বুকে সেই অভূতপূর্ব ঝলকানি দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে হাওয়াই এবং সংলগ্ন দ্বীপপুঞ্জ, পাশাপাশি আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের বাসিন্দারা এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেতে পারেন।
তবে বিজ্ঞানীরাই স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন এগুলো সবই এখন অনুমানের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আরও তথ্য ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন।
সংঘর্ষ এড়ানো কি সম্ভব?
এই সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করছেন, চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের বহু আগেই পৃথিবী থেকে গ্রহাণুটিকে ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
তবে তার জন্য আগে গ্রহাণুটির সঠিক আকার, ভর এবং গঠন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দরকার। সেই কারণেই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নাসার অত্যাধুনিক জেম্স ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে ‘২০২৪ ওয়াইআর৪’-কে পর্যবেক্ষণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পর্যবেক্ষণ থেকে গ্রহাণুটি সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পৃথিবী ও চাঁদের দিকে ধাবমান সম্ভাব্য বিপজ্জনক গ্রহাণু ‘২০২৪ ওয়াইআর৪’কে ঘিরে বিজ্ঞানী মহলে এখন তীব্র আলোচনা চলছে সংঘর্ষের আগেই কি মহাকাশেই একে ধ্বংস করা সম্ভব? আধুনিক মহাকাশ বিজ্ঞান বলছে, তাত্ত্বিকভাবে তা সম্ভব হলেও বাস্তবে এই কাজ অত্যন্ত জটিল, ঝুঁকিপূর্ণ এবং নিখুঁত পরিকল্পনার দাবি রাখে। কারণ, সামান্য ভুল হিসাব গোটা মানব সভ্যতার জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
চাঁদের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হওয়ার পর থেকেই বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন, শুধু অপেক্ষা করে বসে থাকা কোনও সমাধান নয়। চাঁদে আঘাত লাগলে সরাসরি মানব প্রাণহানি না হলেও, তার ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর দিকে ছুটে এলে কৃত্রিম উপগ্রহ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, এমনকি ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের উপরও গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই সংঘর্ষের অনেক আগেই গ্রহাণুটিকে নিষ্ক্রিয় করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নাসার ইঞ্জিনিয়ার ও মহাকাশ বিজ্ঞানী ব্রেন্ট বার্বি মনে করেন, মানুষের হাতে এখন এমন প্রযুক্তি রয়েছে, যার সাহায্যে গ্রহাণুর গতিপথ বদলানো বা সেটিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন এই ধরনের অভিযানে কোনও রকম আবেগ বা তাড়াহুড়ো চলবে না। প্রতিটি ধাপ হতে হবে হিসাব করা, পরীক্ষিত এবং বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মোড়া।
গ্রহাণু ধ্বংস বা তার গতিপথ পরিবর্তনের একটি সম্ভাব্য পদ্ধতি হল বিশেষভাবে নির্মিত মহাকাশযান পাঠিয়ে সরাসরি গ্রহাণুর গায়ে আঘাত করা। এই পদ্ধতিকে বলা হয় “কাইনেটিক ইমপ্যাক্ট”। এর উদ্দেশ্য গ্রহাণুটিকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা নয়, বরং তার গতিপথে সামান্য পরিবর্তন আনা, যাতে সেটি চাঁদ বা পৃথিবীর কাছাকাছি না আসে।
নাসা ইতিমধ্যেই এই ধরনের প্রযুক্তির একটি পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে। ২০২২ সালে ‘ডার্ট’ DART মিশনের মাধ্যমে একটি ছোট গ্রহাণুর কক্ষপথ সফলভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল। সেই সাফল্য বিজ্ঞানীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তবে ‘২০২৪ ওয়াইআর৪’এর আকার তুলনামূলকভাবে বড় হওয়ায়, তার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী ও উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন হবে।
আরেকটি, তুলনামূলকভাবে বেশি বিতর্কিত কিন্তু কার্যকর বিকল্প হল মহাকাশেই নিয়ন্ত্রিত পরমাণু বিস্ফোরণের মাধ্যমে গ্রহাণুটিকে ধ্বংস করা বা তার গতি পরিবর্তন করা। এই পদ্ধতিতে গ্রহাণুর খুব কাছাকাছি বা তার পৃষ্ঠে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাকে ছোট ছোট অংশে ভেঙে দেওয়া হয় অথবা প্রচণ্ড শক্তির ধাক্কায় তার গতিপথ বদলে দেওয়া হয়।
তবে এই পদ্ধতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক ঝুঁকি। প্রথমত, যদি বিস্ফোরণ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত না হয়, তাহলে গ্রহাণুটি পুরোপুরি ধ্বংস না হয়ে অসংখ্য ছোট টুকরোয় ভেঙে যেতে পারে। সেই টুকরোগুলি পৃথিবীর দিকে ছুটে এলে বিপদ আরও বেড়ে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিগত প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের অন্তত তিন মাস আগে যদি গ্রহাণুটিকে ধ্বংস করা যায়, তাহলে তার ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। কারণ, এই সময়ের মধ্যে ধ্বংসাবশেষ মহাকাশেই ছড়িয়ে পড়বে এবং পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাবে।
কিন্তু সংঘর্ষের খুব কাছাকাছি সময়ে যদি ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেই ধ্বংসাবশেষ সরাসরি পৃথিবীর দিকে ছুটে আসতে পারে। ফলে যে বিপদ এড়াতে এই অভিযান, সেটাই উল্টো আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। তাই সময় নির্ধারণ এই পুরো পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই কারণেই ২০২৬ সালে নাসার জেম্স ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে ‘২০২৪ ওয়াইআর৪’-এর বিস্তারিত পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই পর্যবেক্ষণ থেকে গ্রহাণুর প্রকৃত আকার, ভর এবং গঠন সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সম্ভাব্য সংঘর্ষ কেবল একটি মহাজাগতিক ঘটনা নয়। এটি মানব সভ্যতার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক সমন্বয় এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার এক বড় পরীক্ষা। কারণ, এমন কোনও বিপদের মোকাবিলা কোনও একটি দেশ একা করতে পারবে না। প্রয়োজন হবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় এবং যৌথ সিদ্ধান্ত।
মার্কিন গবেষকেরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই সংক্রান্ত গবেষণার জন্য বিশেষ মহাকাশ অভিযান পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অভিযানের সাফল্যের উপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে গ্রহাণু প্রতিরোধে মানবজাতির প্রস্তুতির মানদণ্ড।
সময় যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে নজরদারি, গবেষণা এবং জল্পনা। শেষ পর্যন্ত এই ভবিষ্যদ্বাণী কতটা সত্যি হবে, কিংবা মানবজাতি এই বিপদ আগেভাগেই প্রতিহত করতে পারবে কি না তা বলবে সময়ই। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, ‘২০২৪ ওয়াইআর৪’ ইতিমধ্যেই মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
এই গ্রহাণু আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে মহাবিশ্বে আমরা একা নই, এবং প্রকৃতির সামনে মানব সভ্যতা এখনও কতটা ক্ষুদ্র। তবে একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করছে, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানুষ চাইলে সবচেয়ে বড় বিপদের সঙ্গেও লড়াই করার প্রস্তুতি নিতে পারে।