Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কুল পাড়া নিয়ে কুলতলিতে অশান্তি, চলল গুলি! জখম দু’জনের মধ্যে আশঙ্কাজনক এক

রফিকুল মোল্লা, নাজমুল হক মোল্লা, হাকিমুল মোল্লারা কুলতলি থানার মেরিগঞ্জ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের হালদারপাড়ার বাসিন্দা। গাছ থেকে কুল পাড়া নিয়ে তাঁদের বচসা হয়।সামান্য কুল পাড়া নিয়ে দুই পরিবারের বচসার মাঝে গুলি চলার অভিযোগ। ঘটনাস্থল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি। গন্ডগোলে জখম হয়েছেন দু’জন। তাঁদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে তাঁকে।

রফিকুল মোল্লা, নাজমুল হক মোল্লা, হাকিমুল মোল্লারা কুলতলি থানার মেরিগঞ্জ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের হালদারপাড়ার বাসিন্দা। শনিবার গাছ থেকে কুল পাড়া নিয়ে তাঁদের বচসা হয়। অভিযোগ, রফিকুল সেই সময় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালান। বন্দুকের বাট দিয়ে তিনি মারধর করেন নাজমুল এবং হাকিমুলকে। মাথা ফেটে রক্তাক্ত হন দু’জন। স্থানীয় বাসিন্দারা গুলি চালানোর কথা বললেও পুলিশ এখনও তা নিশ্চিত করেনি। জেলা পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত গুলি চলার কোনও প্রমাণ মেলেনি। কী হয়েছিল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।কুলতলি থানার পুলিশ মূল অভিযুক্তকে আটক করেছে। তবে এখনও কেউ গ্রেফতার হননি। ওই নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। পাড়ায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের নিয়মিত টহলদারি চলছে।

কুলতলি থানার মেরিগঞ্জ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের হালদারপাড়ায় শনিবার দুপুরে একটি আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে চরম উত্তেজনা। গাছ থেকে কুল পাড়া নিয়ে শুরু হওয়া বচসা শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় রফিকুল মোল্লার বিরুদ্ধে গুলি চালানো ও বন্দুকের বাট দিয়ে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আহত হয়েছেন নাজমুল হক মোল্লা ও হাকিমুল মোল্লা। যদিও পুলিশ এখনও গুলি চালানোর অভিযোগ নিশ্চিত করেনি, গোটা এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত: কুল পাড়া নিয়ে বিবাদ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে হালদারপাড়ার একটি কুল গাছ ঘিরে বিবাদ শুরু হয়। গাছটি কার জমিতে, কে কুল পাড়বে—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই রফিকুল মোল্লা, নাজমুল হক মোল্লা ও হাকিমুল মোল্লার মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুরুতে বিষয়টি ছিল শুধুই বচসার পর্যায়ে। কিন্তু ধীরে ধীরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “প্রথমে মনে হয়েছিল একটু ঝগড়াঝাঁটি হচ্ছে। গ্রামে এ রকম তো হতেই পারে। কিন্তু হঠাৎ করে পরিস্থিতি এতটা ভয়ঙ্কর হয়ে যাবে, কেউ ভাবেনি।”

গুলি চালানোর অভিযোগ ও মারধর

অভিযোগ অনুযায়ী, বচসা চরমে উঠলে রফিকুল মোল্লা আচমকাই আগ্নেয়াস্ত্র বের করেন এবং বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালান। গুলির শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে বলে দাবি স্থানীয়দের। আতঙ্কে অনেকেই ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন, কেউ কেউ আবার প্রাণভয়ে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

গুলির পরেই রফিকুল বন্দুকের বাট দিয়ে নাজমুল ও হাকিমুলকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। মাথায় আঘাত পেয়ে দু’জনেই রক্তাক্ত হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “গুলি চলার শব্দ আমরা স্পষ্ট শুনেছি। তারপরই চিৎকার-চেঁচামেচি। এমন দৃশ্য আগে দেখিনি।”

আহতদের অবস্থা

নাজমুল হক মোল্লা ও হাকিমুল মোল্লাকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। মাথায় গভীর ক্ষত থাকায় দু’জনকেই সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন, তবে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে পরিবার সূত্রে খবর।

আহতদের পরিবারের অভিযোগ, “এটা শুধু মারধর নয়, পরিকল্পিত হামলা। গুলি চালানো হয়েছে, আমাদের লোকেদের মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছে।”

পুলিশের অবস্থান: গুলি চালানোর প্রমাণ নেই?

ঘটনার খবর পেয়ে কুলতলি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করা হয়। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ গুলি চালানোর কথা বলছেন, পুলিশ এখনও পর্যন্ত সেই অভিযোগ নিশ্চিত করেনি।

জেলা পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমার বলেন,
“এখনও পর্যন্ত গুলি চলার কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি। ঘটনাস্থল থেকে কোনও খালি খোসা উদ্ধার হয়নি। তবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে, আহতরা চিকিৎসাধীন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ফরেনসিক তদন্তের কথাও ভাবা হচ্ছে।

দুই পক্ষের দাবি ও পাল্টা অভিযোগ

ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। রফিকুল মোল্লার পরিবারের দাবি, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, গুলি চালানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

রফিকুলের এক আত্মীয় বলেন, “ঝগড়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু গুলি চালানো হয়নি। মারধরের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হোক, কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্রের কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

অন্যদিকে, আহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পুলিশ চাপের মুখে পড়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁদের বক্তব্য, গ্রামে আগ্নেয়াস্ত্রের দাপট নতুন নয়, আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে।

গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা

এই ঘটনার পর থেকেই হালদারপাড়া এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বেরোতে সাহস পাচ্ছেন না। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

একজন গ্রামবাসী বলেন, “কুল পাড়াকে কেন্দ্র করে যদি গুলি চলে, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? কাল কে কাকে মেরে ফেলবে, তার কোনও ঠিক নেই।”

news image
আরও খবর

পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গেও কথা বলছে।

আইনগত দিক: কী ধারায় মামলা হতে পারে?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি গুলি চালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। ভারতীয় দণ্ডবিধির পাশাপাশি আর্মস অ্যাক্টের একাধিক ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। এমনকি খুনের চেষ্টার ধারাও যুক্ত হতে পারে।

তবে গুলি চালানোর প্রমাণ না মিললে মারধর, গুরুতর আঘাত, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের মতো ধারায় মামলা রুজু হতে পারে। তদন্তের গতিপ্রকৃতির উপরই নির্ভর করবে চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ।

সামাজিক প্রেক্ষাপট: তুচ্ছ বিবাদ থেকে বড় অপরাধ

এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, কীভাবে গ্রামবাংলায় সামান্য বিবাদ মুহূর্তে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। জমি, গাছ, ফসল—এই সব বিষয়কে কেন্দ্র করে বহু জায়গাতেই দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে থাকে, যা সুযোগ পেলেই হিংসায় বিস্ফোরিত হয়।

সমাজবিদদের মতে, আইনের ভয়, সামাজিক মধ্যস্থতার অভাব এবং ব্যক্তিগত অস্ত্রের উপস্থিতি—এই তিনের মিশ্রণেই এমন ঘটনা বাড়ছে।

তদন্তের ভবিষ্যৎ ও নজর সবার

বর্তমানে গোটা ঘটনার দিকে নজর রয়েছে প্রশাসন ও স্থানীয় মানুষের। গুলি চালানো হয়েছিল কি না, হলে অস্ত্র এল কোথা থেকে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, মেডিক্যাল রিপোর্ট, ঘটনাস্থলের ফরেনসিক পরীক্ষা—সব মিলিয়ে তদন্তের উপরই নির্ভর করছে সত্যের উন্মোচন।

একজন প্রবীণ গ্রামবাসীর কথায়,
“আমরা চাই সত্যিটা সামনে আসুক। দোষী যে-ই হোক, তার শাস্তি হোক। নইলে এমন ঘটনা আবার ঘটবে।”

এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কী প্রমাণ সামনে আসে, পুলিশি তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, আর এলাকায় শান্তি কবে ফেরে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে হালদারপাড়া ও আশপাশের মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই হালদারপাড়ায় অস্বস্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল। গ্রামের একটি পুরনো কুল গাছকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে মতবিরোধ চলছিল বলে দাবি এলাকাবাসীর একাংশের। ওই কুল গাছটি কার জমিতে পড়েছে এবং কে সেই গাছ থেকে ফল পাড়ার অধিকার রাখে—এই প্রশ্ন ঘিরেই শনিবার নতুন করে বিবাদ শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, সকালে প্রথমে নাজমুল হক মোল্লা ও হাকিমুল মোল্লা গাছ থেকে কুল পাড়ছিলেন। সেই সময় সেখানে পৌঁছন রফিকুল মোল্লা। তিনি দাবি করেন, গাছটি তাঁর জমির সীমানার মধ্যে পড়ে এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া কুল পাড়া বেআইনি। এই নিয়েই শুরু হয় তর্কাতর্কি। প্রথমদিকে বিষয়টি ছিল কথার লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান,
“শুরুর দিকে কেউ ভাবেনি ব্যাপারটা এত দূর গড়াবে। গ্রামের মধ্যে গাছ বা জমি নিয়ে ঝগড়া নতুন কিছু নয়। সবাই ভেবেছিল একটু চেঁচামেচি করে থেমে যাবে।”

কিন্তু সময় যত গড়াতে থাকে, ততই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। দু’পক্ষের কথার সুর চড়ে যায়, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, পুরনো কিছু ক্ষোভও এই বিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। শুধু কুল পাড়া নয়, আগের জমি সংক্রান্ত বিবাদ ও ব্যক্তিগত বিরোধের কথাও উঠে আসে কথোপকথনের মাঝে।

এলাকাবাসীর একাংশের মতে, ওই সময় আশপাশে বেশ কয়েকজন মানুষ জড়ো হয়ে যান। কেউ কেউ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন, আবার কেউ কেউ উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেন। কথার লড়াই একসময় ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয় বলে অভিযোগ। সেই মুহূর্তেই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়,
“একসময় বোঝাই যাচ্ছিল না কে কী বলছে। সবাই চিৎকার করছে। তখনই হঠাৎ পরিস্থিতি ভয়ানক দিকে মোড় নেয়।”

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই অভিযোগ অনুযায়ী রফিকুল মোল্লা মারমুখী হয়ে ওঠেন। যদিও এই পর্যায় পর্যন্ত কোনও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি, তবে উত্তেজনার মাত্রা যে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল, তা মানছেন প্রায় সকলেই।

গ্রামবাসীদের মতে, যদি ওই সময়ই দ্রুত কোনও সামাজিক মধ্যস্থতা বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ হতো, তাহলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ আকার নিত না। কুল পাড়া নিয়ে শুরু হওয়া একটি সামান্য বিবাদ যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পরিণত হবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।

এই ঘটনার সূত্রপাত পর্বই পরে সংঘর্ষের মূলে থাকা মানসিকতা, জমে থাকা ক্ষোভ এবং গ্রামীণ বিবাদের বাস্তব চিত্রকে স্পষ্ট করে তুলে ধরে—যেখানে একটুখানি উসকানিই বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

Preview image