Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হাসপাতালে অব্যবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ Agnimitra Paul - রোগী পরিষেবায় গাফিলতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল চিত্র দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন Agnimitra Paul। রোগীদের পরিষেবায় অব্যবস্থা, অপরিচ্ছন্নতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট জানান।

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীদের ভোগান্তি, চিকিৎসা পরিষেবায় অব্যবস্থা, পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ প্রায়শই সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি এক সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিলেন বিজেপি নেত্রী Agnimitra Paul। হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেই রোগীদের অবস্থা, চিকিৎসা পরিষেবার মান এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন অগ্নিমিত্রা পল। সেখানে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন বহু মানুষ সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অনেক রোগী দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। আবার কেউ কেউ জানান, ওষুধের অভাব, পর্যাপ্ত বেড না থাকা এবং হাসপাতালের কর্মীদের অসহযোগিতার কারণে তাঁদের চরম সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে উঠে আসে হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। বিভিন্ন জায়গায় আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। বাথরুমের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ বলে অভিযোগ ওঠে। রোগীদের পরিবার দাবি করেন, হাসপাতালে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধিও ঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। এই দৃশ্য দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অগ্নিমিত্রা পল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেন। হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। তিনি জানান, সরকারি হাসপাতাল সাধারণ মানুষের শেষ ভরসা। তাই সেখানে যদি মানুষ ন্যূনতম পরিষেবাও না পান, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক।

অগ্নিমিত্রা পল আরও বলেন, একজন সাধারণ মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসেন, তখন তিনি শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়, মানবিক আচরণও আশা করেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের মানসিকতা বদলানোরও প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির বড় বড় দাবি করা হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষ সেই পরিষেবার সুবিধা পাচ্ছেন না। কাগজে-কলমে উন্নয়নের ছবি দেখানো হলেও হাসপাতালের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। রোগীদের কষ্ট, পরিষেবার অভাব এবং অব্যবস্থার ছবি দেখে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পরিদর্শনের সময় একাধিক রোগীর পরিবারের সদস্য তাঁর কাছে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। কেউ বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পরীক্ষা করাতে পারছেন না। কেউ অভিযোগ করেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নেই। আবার কেউ দাবি করেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে বাধ্য করা হচ্ছে, যার ফলে গরিব মানুষদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন অগ্নিমিত্রা পল। তিনি জানান, হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, রোগীদের সঠিক পরিষেবা দেওয়া এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এখনই জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও যেতে পারে বিরোধী শিবির।

তিনি আরও দাবি করেন, সাধারণ মানুষের করের টাকায় সরকারি হাসপাতাল চলে। তাই সেই হাসপাতালগুলিতে উন্নত পরিষেবা পাওয়া মানুষের অধিকার। স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনো রকম দুর্নীতি, অব্যবস্থা বা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।

রাজনৈতিক মহলেও এই হাসপাতাল পরিদর্শন নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ক্রমশ ভেঙে পড়ছে এবং সরকার শুধুমাত্র প্রচারে ব্যস্ত। অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির জন্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা নিয়ে অযথা রাজনীতি করা হচ্ছে।

তবে সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন, রাজনৈতিক তরজার বাইরে গিয়ে বাস্তব সমস্যার সমাধান হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে প্রতিদিন বহু মানুষ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক সংকট, পরিকাঠামোর অভাব এবং পর্যাপ্ত পরিষেবার অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র ভবন তৈরি করলেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি হয় না। প্রয়োজন দক্ষ চিকিৎসক, পর্যাপ্ত নার্স, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা। পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

news image
আরও খবর

অগ্নিমিত্রা পলের এই হাসপাতাল পরিদর্শনের পর নতুন করে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের পরিদর্শন প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং বাস্তব সমস্যাগুলি সামনে নিয়ে আসে। যদিও শুধুমাত্র পরিদর্শন নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমেই পরিস্থিতির প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সেই সময় যদি হাসপাতালের অব্যবস্থা তাঁদের আরও সমস্যায় ফেলে, তবে তা অত্যন্ত অমানবিক। তাই স্বাস্থ্য পরিষেবাকে রাজনৈতিক প্রচারের বিষয় না বানিয়ে বাস্তব উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া উচিত।

হাসপাতাল পরিদর্শনের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পল বলেন, “মানুষ চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে আসেন। কিন্তু এখানে এসে যদি তাঁদের অবহেলা, নোংরা পরিবেশ এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার শিকার হতে হয়, তবে সেটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো রকম গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না।”

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হবে এবং প্রয়োজন হলে উচ্চ পর্যায়েও বিষয়টি তোলা হবে। রোগীদের স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই একই সমস্যা চললেও প্রশাসনের তরফে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির জন্য নিয়মিত মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, ওষুধের সঠিক সরবরাহ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগীদের অভিযোগ শোনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা থাকাও জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অগ্নিমিত্রা পলের এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ স্বাস্থ্য পরিষেবা সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এই ইস্যু আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনাতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সবশেষে তিনি বলেন, “সরকারের দায়িত্ব মানুষের পাশে দাঁড়ানো। হাসপাতালে মানুষ যেন সম্মানের সঙ্গে চিকিৎসা পান, সেটাই নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য পরিষেবায় গাফিলতি মানে মানুষের জীবনের সঙ্গে খেলা, আর সেটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

এছাড়াও হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় Agnimitra Paul হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ওয়ার্ড এবং বহির্বিভাগ ঘুরে দেখেন। সেখানে বহু রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সরাসরি নিজেদের সমস্যার কথা তাঁর সামনে তুলে ধরেন। কেউ অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা মিলছে না, আবার কেউ জানান প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। হাসপাতালের ভিড় সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

অগ্নিমিত্রা পল বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবা এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে সামান্য গাফিলতিও মানুষের জীবনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রশাসনের উচিত শুধুমাত্র কাগজে উন্নয়নের দাবি না করে বাস্তবে পরিষেবার মান বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন এবং রোগীদের অভিযোগ দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যেন সরকারি হাসপাতালে এসে সম্মানের সঙ্গে চিকিৎসা পান, সেটাই প্রশাসনের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন বিজেপি নেত্রী।

Preview image