Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

সলমনের গানের সঙ্গে নেচে উঠলেন ঐশ্বর্যা! দীর্ঘ দিনের জটিলতা কি তবে কাটল এ বার?

সম্প্রতি মুকেশ অম্বানীর আত্মীয় তথা টেনিস খেলোয়াড় মুদিত দানির বিয়ের আগে সঙ্গীত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঐশ্বর্যা ও অভিষেক। রং মিলিয়ে পোশাক পরেছিলেন দম্পতি।‘হম দিল দে চুকে সনম’ ছবির পরে আর কখনও একসঙ্গে দেখা যায়নি সলমন খান ও ঐশ্বর্যা রাইকে। সলমনকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও বরাবর এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। কখনও একে অপরের মুখোমুখিও হননি তাঁরা। কিন্তু এ বার সলমনের ছবির গানের সঙ্গে বিয়েবাড়িতে নাচলেন ঐশ্বর্যা। সঙ্গ দিলেন অভিষেক বচ্চনও। সেই নাচের মুহূর্ত সমাজমাধ্যমে ভাইরাল।

সম্প্রতি মুকেশ অম্বানীর আত্মীয় তথা টেনিস খেলোয়াড় মুদিত দানির বিয়ের আগে সঙ্গীত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঐশ্বর্যা ও অভিষেক। রং মিলিয়ে পোশাক পরেছিলেন দম্পতি। দু’জনের পরনেই ছিল গাঢ় নীল রঙের পোশাক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেটপ্রভাবী ওরি। তিনিও তারকাদম্পতির সঙ্গে ছবি তুলে সমাজমাধ্যমে দেন। তবে অভিষেক ও ঐশ্বর্যার নাচের ভিডিয়ো নিয়ে সবচেয়ে আলোচনা হচ্ছে। সেই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, মঞ্চে অম্বানী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে নাচছেন ঐশ্বর্যা ও অভিষেক। নেপথ্যে বাজছে সলমন খানের ছবি ‘সালাম-এ-ইশ্‌ক’ ছবির গান। এই দেখেই অবাক অনুরাগীরা, কারণ এমন সচরাচর ঘটে না। মুহূর্তে এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।উল্লেখ্য, সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় জিতে বলিউডে প্রবেশ ঐশ্বর্যার। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন তিনি। যদিও একটা সময়ে স্বেচ্ছায় এই কর্মব্যস্ত জীবন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তা নিয়ে কোনও রকমের কোনও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন না তিনি। বরং ঐশ্বর্যা বলেন, ‘‘আমার মধ্যে কোনও দিনই কোনও নিরাপত্তাহীনতা ছিল না। আমার মেয়েকে বড় করার দায়িত্ব রয়েছে। এ ছাড়াও স্বামীকে সময় দিচ্ছিলাম। তাই এ ধরনের জিনিস মাথায় আসে না। আর জীবনের প্রতি আমার দৃষ্টিভঙ্গিও সম্পূর্ণ আলাদা।’’ শেষ ঐশ্বর্যাকে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল ২০২৩ সালে ‘পোন্নিয়ান সেলভান ২’ ছবিতে।

ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন, যাঁদের নাম শুধু জনপ্রিয়তার জন্যই নয়, বরং তাঁদের ব্যক্তিত্ব, কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং জীবনদর্শনের জন্যও বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকে। সেই তালিকার অন্যতম উজ্জ্বল নাম হল Aishwarya Rai Bachchan। সৌন্দর্য, অভিনয় দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতির মাধ্যমে তিনি বলিউড তথা ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে এক বিশেষ স্থান তৈরি করেছেন। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে বলিউডে প্রবেশ করা ঐশ্বর্যার জীবনযাত্রা শুধু একজন অভিনেত্রীর সাফল্যের গল্প নয়, বরং এটি এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা—যেখানে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস, পরিবারকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার এক অনন্য উদাহরণ।

ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনের জন্ম ১ নভেম্বর ১৯৭৩ সালে কর্ণাটকের মাঙ্গালোরে। ছোটবেলা থেকেই তিনি মেধাবী এবং প্রতিভাবান ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। স্কুল ও কলেজ জীবনে তিনি স্থাপত্যবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে অন্য এক পথে নিয়ে যায়—মডেলিং জগতে। কলেজে পড়ার সময় থেকেই তিনি মডেলিং শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ও ফ্যাশন শোতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

১৯৯৪ সালে তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়, যখন তিনি মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। সেই বছর তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের হারিয়ে মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট জেতেন। এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়নি, বরং ভারতকেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুনভাবে পরিচিত করে তোলে। সেই সময় ভারতের জন্য এটি ছিল এক গর্বের মুহূর্ত। ঐশ্বর্যার সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্তা এবং আত্মবিশ্বাস আন্তর্জাতিক বিচারকদের মুগ্ধ করেছিল।

মিস ওয়ার্ল্ড জয়ের পর থেকেই তাঁর কাছে চলচ্চিত্রের প্রস্তাব আসতে শুরু করে। তিনি অভিনয় জগতে পা রাখেন এবং খুব দ্রুতই বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করে ফেলেন। তাঁর প্রথমদিকের চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে “ঔর পেয়ার হো গয়া” এবং তামিল চলচ্চিত্র “ইরুভার”, যা পরিচালনা করেছিলেন বিখ্যাত পরিচালক Mani Ratnam। যদিও প্রথমদিকে তাঁর অভিনয় নিয়ে কিছু সমালোচনা হয়েছিল, কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নিজের প্রতিভা দিয়ে সকলের মন জয় করে নেন।

১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “হাম দিল দে चुके সনম” ছবিটি তাঁর ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে। এই ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে বিপুল প্রশংসা পায়। এরপর “তাল”, “দেবদাস”, “ধুম ২”, “জোধা আকবর”, “গুরু” প্রভৃতি ছবির মাধ্যমে তিনি বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের তালিকায় স্থায়ী জায়গা করে নেন। বিশেষ করে “দেবদাস” ছবিতে তাঁর পার্বতী চরিত্রটি দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। এই ছবিটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয় এবং ঐশ্বর্যার অভিনয় বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়।

ঐশ্বর্যা শুধু বলিউডেই নয়, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতেও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। তিনি হলিউডের কয়েকটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন, যেমন “ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস” এবং “দ্য পিঙ্ক প্যান্থার ২”। এছাড়াও তিনি কানের চলচ্চিত্র উৎসবে নিয়মিত উপস্থিত থেকে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন আইকন হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সুন্দরী নারীর তালিকায় স্থান দিয়েছে।

২০০৭ সালে তিনি বিখ্যাত অভিনেতা Abhishek Bachchan-কে বিয়ে করেন। এই বিয়ের মাধ্যমে তিনি ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী চলচ্চিত্র পরিবার Amitabh Bachchan-এর পরিবারে যোগ দেন। বিয়ের পরও তিনি অভিনয় চালিয়ে যান এবং বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রে কাজ করেন।

২০১১ সালে তাঁদের কন্যা Aaradhya Bachchan-এর জন্ম হয়। সন্তানের জন্মের পর ঐশ্বর্যার জীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। তিনি তাঁর মেয়েকে বড় করে তোলার দায়িত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। অনেক অভিনেত্রীর মতো তিনি কাজের ব্যস্ততায় পরিবারকে অবহেলা করেননি। বরং তিনি নিজের ক্যারিয়ার থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে মেয়ের সঙ্গে সময় কাটানোকে প্রাধান্য দেন।

এই সময়টা নিয়ে অনেকেই ভেবেছিলেন যে তিনি হয়তো অভিনয় জগত থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। কিন্তু ঐশ্বর্যা নিজে কখনও এই বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখেননি। তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে তাঁর মধ্যে কখনও কোনও নিরাপত্তাহীনতা কাজ করেনি। তাঁর মতে, জীবনের প্রতিটি পর্যায়ের নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। একজন মা হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন করাও তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ঐশ্বর্যা বলেছেন যে তাঁর জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা। তিনি বিশ্বাস করেন যে ক্যারিয়ারই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়। পরিবার, সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত সুখও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি কোনও দিনই অন্য অভিনেত্রীদের সাফল্য দেখে নিজেকে পিছিয়ে পড়া মনে করেননি। বরং তিনি নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্তে তিনি গর্বিত।

সন্তানের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি তিনি তাঁর স্বামীকে সময় দিয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে সুন্দরভাবে সময় কাটিয়েছেন। এই বিষয়টি অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ আধুনিক যুগে যেখানে ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে ঐশ্বর্যা সেই ভারসাম্য বজায় রাখার এক সুন্দর উদাহরণ তৈরি করেছেন।

news image
আরও খবর

তবে অভিনয় থেকে তিনি সম্পূর্ণ সরে যাননি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আবারও বড় পর্দায় ফিরে আসেন। ২০২২ এবং ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র “পোন্নিয়ান সেলভান” এবং “পোন্নিয়ান সেলভান ২”-এ তাঁর অভিনয় দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই ছবিতে তিনি দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন—নন্দিনী এবং মন্দাকিনী দেবী। তাঁর অভিনয় আবারও প্রমাণ করে যে তিনি এখনও বলিউড এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম দক্ষ অভিনেত্রী।

এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলেন আবারও সেই একই কিংবদন্তি পরিচালক Mani Ratnam, যাঁর হাত ধরেই ঐশ্বর্যার চলচ্চিত্রজগতে প্রথম পদার্পণ হয়েছিল। অনেকেই মনে করেন, এই ছবির মাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ার যেন এক পূর্ণচক্র সম্পূর্ণ করেছে।

ঐশ্বর্যার জনপ্রিয়তা শুধু তাঁর অভিনয় দক্ষতার জন্য নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক কাজের জন্যও। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজে যুক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে চোখের দান এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রচারে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর সৌন্দর্য এবং জনপ্রিয়তাকে তিনি সমাজের ভালোর জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করেন।

এছাড়াও তিনি বহু আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন এবং বিশ্বজুড়ে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ফ্যাশনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কানের চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর উপস্থিতি প্রায় প্রতি বছরই সংবাদমাধ্যমের প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে। সেখানে তাঁর পোশাক এবং উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতেও আলোচিত হয়।

ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনের জীবন আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—সাফল্য মানেই শুধু ক্যারিয়ার নয়। জীবনে পরিবার, সম্পর্ক, দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত সুখেরও সমান গুরুত্ব রয়েছে। তিনি দেখিয়েছেন যে একজন নারী একই সঙ্গে সফল অভিনেত্রী, দায়িত্বশীল মা এবং পরিবারের সদস্য হতে পারেন।

আজও তিনি বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সম্মানিত অভিনেত্রী। তাঁর সৌন্দর্য, মেধা এবং ব্যক্তিত্ব তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি আবারও নতুন নতুন চরিত্রে দর্শকদের সামনে হাজির হবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁর ভক্তদের রয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনের জীবন শুধু এক অভিনেত্রীর সাফল্যের গল্প নয়, বরং এটি আত্মবিশ্বাস, দৃঢ়তা এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁর জীবনযাত্রা প্রমাণ করে যে সত্যিকারের সাফল্য তখনই আসে, যখন মানুষ নিজের মূল্যবোধ এবং দায়িত্বকে সম্মান করে জীবনের পথে এগিয়ে যায়।

 

 

 

 

Preview image