মাত্র ২৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান আক্রমণের পক্ষে, ৪৩ শতাংশ বিপক্ষে এবং ৩০ শতাংশ নীরব। রিপাবলিকানরাও ট্রাম্পকে যুদ্ধবাজ বলে অভিযোগ করছেন।
মার্কিন নাগরিকদের ২৭শতাংশ পক্ষে ইরান আক্রমণ, ৪৩শতাংশ বিপক্ষে ট্রাম্প যুদ্ধবাজ, বলছেন অনেক রিপাবলিকানও
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনমত জরিপ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরান আক্রমণের বিষয়ে নাগরিকদের মতামত উঠে এসেছে। এই জরিপের ফলাফল যথেষ্ট উদ্বেগজনক এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে। মাত্র ২৭% মার্কিন নাগরিক ইরান আক্রমণের পক্ষে মত দিয়েছেন, ৪৩% বিপক্ষে এবং ৩০% নীরব রয়েছেন। এই ফলাফলটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
এই জরিপে যে পরিসংখ্যান উঠে এসেছে তা মার্কিন রাজনৈতিক মহলে একটি বড় বিস্ময়। মাত্র ২৭% নাগরিকের পক্ষে থাকা এমন একটি পরিসংখ্যান, যা ইরান আক্রমণের বিষয়ে নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক দ্বন্দ্ব এবং বিভাজন সৃষ্টি করেছে। এটি এমন সময় প্রকাশিত হয়েছে যখন মার্কিন প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তিত।
যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই সংখ্যাটি অত্যন্ত কম এবং এটি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের প্রস্তুতির অভাবকে প্রতিফলিত করে। তবে, এটা স্পষ্ট যে, রাজনৈতিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিকে মনোযোগ দিলে, মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ইরান আক্রমণের বিরুদ্ধে মতামত বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
৪৩শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান আক্রমণের বিপক্ষে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন, যা বিশ্লেষকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক দলের সমর্থকদের মধ্যে এই ধরনের পরিসংখ্যান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যেহেতু তারা ইরান আক্রমণের বিপক্ষে। বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিক বিশ্বাস করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন সমস্যা সৃষ্টি করবে এবং জাতির নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
জনগণের এমন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এটা প্রতিফলিত হচ্ছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ সাধারণ জনগণের মধ্যে অত্যন্ত বিতর্কিত। অনেকেই মনে করেন, আন্তর্জাতিক চাপ এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করা যেতে পারে, আর যুদ্ধের পথে যাওয়া শুধু পরিণতির দিক থেকে না, বরং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে।
এত বিপুল সংখ্যক মার্কিন নাগরিক ৩০শতাংশ নিজেদের মতামত প্রকাশ করেননি বা নীরব রয়েছেন, যা তাদের ভয়ের লক্ষণ হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে, নাগরিকরা যখন সংকটময় ইস্যুতে নিরপেক্ষ থাকে, তখন তারা কেবল রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে নিজেদের টেনে আনতে চায় না বা তারা পুরো পরিস্থিতি বুঝতে পারে না। তবে, এর একটি বড় দিক হলো যে, অনেকেই পরিস্থিতির গুরুত্ব না বুঝে বা দেশের রাজনৈতিক চাপের কারণে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন।
নীরব জনগণের বিশ্লেষণ করা হলে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, কারণ এটি এই সংকেত দেয় যে, বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিক হয়তো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বা সামরিক অভিযানে আগ্রহী নয়। এই নীরবতা এমন একটি সংকটপূর্ণ মুহূর্তে গণতন্ত্রের আচরণিক প্রতিফলন হতে পারে, যেখানে জনগণ তাদের সরকারের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কথা বলার সময় মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়।
একদিকে যেমন ৪৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান আক্রমণের বিপক্ষে, অন্যদিকে অনেক রিপাবলিকান নেতা বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপারে মতামত প্রকাশ করেছেন। অনেক রিপাবলিকান তাদের নেতা ট্রাম্পকে যুদ্ধবাজ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তাদের দাবি, ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র সর্বদা সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে আগ্রহী ছিল এবং তার প্রশাসনের সময় অনেকবারই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে যুদ্ধের আশঙ্কা ছিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছিল, এবং বেশ কয়েকটি ঘটনার পর, তাঁকে এক ধরনের যুদ্ধবাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে, তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ভূমিকা মার্কিন রাজনীতির মধ্যে এখনও অস্বাভাবিক শক্তিশালী, এবং তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দর্শন অনেক ক্ষেত্রেই অন্যান্য রিপাবলিকানদের মতামতের ওপর প্রভাব ফেলছে। যদিও রিপাবলিকানদের মধ্যে অনেকেই যুদ্ধের বিপক্ষে, তবুও ট্রাম্পের নীতি অনেক সময় তাদের প্রভাবিত করেছে এবং একে একে তাকে যুদ্ধবাজ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এই বক্তব্যের দ্বারা রিপাবলিকানদের বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যেখানে একপক্ষ শান্তির পক্ষে এবং অন্যপক্ষ সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে।
এই পরিস্থিতি মার্কিন রাজনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের জন্য জনগণের মতামত বা জনমতের দৃষ্টিভঙ্গি এখন আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং রাজনীতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং এই সংকটগুলি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ধরনের জনমত জরিপ আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে এবং মার্কিন সরকারের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশ্ব রাজনীতি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক নীতি পুনঃবিন্যাস করবে, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জনমত জরিপে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ইরান আক্রমণের পক্ষে, বিপক্ষে এবং নিরপেক্ষ মতামতের মধ্যে বিশাল পার্থক্য দেখা গেছে। জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে, মাত্র ২৭শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান আক্রমণের পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে ৪৩শতাংশ বিপক্ষে এবং ৩০শতাংশ নাগরিক নীরব বা নিরপেক্ষ রয়েছেন। এই ফলাফল, যা মার্কিন রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যকর হয়ে উঠেছে, দেশটির সামরিক নীতি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবাজ ইমেজের ওপর নতুন আলো ফেলেছে।
মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ইরান আক্রমণের পক্ষে মাত্র ২৭শতাংশ মতামত হওয়া এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচন করছে। এই সংখ্যা অনেকটাই কম এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক, সামরিক এবং নিরাপত্তা অবস্থান নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধা এবং বিভাজন সৃষ্টি করছে। ইরান আক্রমণের পক্ষে থাকা কিছু নাগরিকরা মনে করছেন যে, ইরান একটি বৃহত্তম নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করতে পারে, এবং এটি আটকানোর জন্য আক্রমণ করা প্রয়োজন।
তবে এই মতামতটি সামরিক বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিকে মনোযোগী জনগণের কাছে কম প্রভাব ফেলছে, যারা মনে করেন যে, আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক চেষ্টার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। তাদের বিশ্বাস, যুদ্ধের পথ গ্রহণ করা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য মারাত্মক খরচ এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে, পাশাপাশি এটা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
৪৩শতাংশমার্কিন নাগরিক ইরান আক্রমণের বিপক্ষে মত দিয়েছেন, এবং এটি সরাসরি মার্কিন জনগণের বৃহত্তর অংশের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব প্রতিফলিত করছে। বিশেষত, ডেমোক্র্যাটিক দলের সমর্থকরা এবং মধ্যবয়সী নাগরিকরা বেশি সংখ্যায় এই মত প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, ইরান আক্রমণ না হলে বিশ্ব শান্তি বজায় থাকবে এবং মার্কিন অর্থনীতি ও জনগণের উপর যুদ্ধের যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা প্রতিহত করা সম্ভব হবে।
এছাড়া, সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, ইরান আক্রমণের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক যুদ্ধের সূচনা হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে গভীর সংকটে ফেলবে এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্যও বিপজ্জনক হতে পারে। এই মতামতের পক্ষে অনেকেই যুক্তি দেখাচ্ছেন যে, ইরান এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় রয়েছে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে আক্রমণ না করে কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করা যেতে পারে।
এদিকে, ৩০শতাংশ নাগরিক যারা কোনো মতামত প্রদান করেননি, তাদের মধ্যে অনেকেই দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে জনগণ সাধারণত নীরব থাকে বা কোনো পক্ষের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে চায় না, কারণ তারা জানে যে এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলি বিশ্বব্যাপী বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি তাদের ব্যক্তিগত জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামরিক পদক্ষেপের প্রতি অনিশ্চয়তা নাগরিকদের বিভ্রান্ত করেছে, ফলে তারা নিজেদের মতামত প্রকাশ করার ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত। বেশ কিছু মানুষ মনে করছেন যে, তারা পুরো পরিস্থিতি জানেন না বা পুরো ব্যাপারটি বুঝতে সক্ষম নন, তাই তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না। তবে, এই ৩০শতাংশ জনগণের নীরবতা পরোক্ষভাবে ইরান আক্রমণের বিপক্ষে জনমত বাড়ানোর দিকে কাজ করছে, কারণ এটি যুদ্ধের ভয় এবং আন্তর্জাতিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, মার্কিন রিপাবলিকান দলের মধ্যে ট্রাম্পকে যুদ্ধবাজ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। বহু রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছুক ছিল। বিশেষত, ২০১৬ ২০২০ সালের মধ্যে ট্রাম্পের প্রশাসন ইরান এবং অন্যান্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক আন্তর্জাতিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
একটি বিশেষজ্ঞ সমীক্ষা অনুযায়ী, রিপাবলিকানদের একটি বড় অংশের মতে, ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের প্রক্রিয়াগুলি অধিকাংশ সময় আক্রমণাত্মক এবং যুদ্ধবাজ ছিল। তারা মনে করেন যে, একাধিক বার ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন যে কৌশল অবলম্বন করেছে, তা শুধুমাত্র যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
যদিও ট্রাম্পের সমর্থকরা তার কর্মকাণ্ডে বেশ সন্তুষ্ট, তবে একাধিক রিপাবলিকান নেতা তাকে ‘যুদ্ধবাজ’ বলে আখ্যায়িত করছেন। ট্রাম্পের নীতি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দ্রুতই বহির্বিশ্বে শক্তি প্রয়োগ করেছিল, বিশেষ করে ইরান, সিরিয়া এবং আফগানিস্তানে। এমনকি কিছু সমালোচক দাবি করেছেন যে, ট্রাম্প শুধুমাত্র নিজের রাজনৈতিক লাভের জন্য যুদ্ধের পথে যেতে চাইতেন।