শীতের দিনে বেগুন বেশ সুস্বাদু হয়। তাই দিয়ে বানিয়ে ফেলুন কোফ্‌তা। রুটি-ভাত সবের সঙ্গেই খাওয়া যাবে। শীতের বেগুন এমনিতে বেশ সুস্বাদু। পোড়ানোই হোক বা ভাজা— গরম রুটি, লুচির সঙ্গে খেয়েও বেশ লাগে। কিন্তু মাঝেমধ্যে তো নতুন কিছু রাঁধারও ইচ্ছা যায়। তা ছাড়া স্বাদ বদল হলেও মন্দ হয় না। এ বার বরং বানিয়ে দেখুন বেগুনের কোফ্‌তা।মুচমুচে কোফ্‌তা গরম ভাত বা চায়ের সঙ্গে দিব্যি লাগবে। তবে ঝোল করে তাতে ফুটিয়েও নিতে পারেন কোফ্‌তাগুলি।
বেগুন ধুয়ে গ্রেটারের সাহায্য গ্রেট করে নিন। তার সঙ্গে যোগ করুন আদা, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতাকুচি, বাদামের টুকরো। স্বাদমতো নুন দিন। বেসন দিয়ে মেখে কোফ্তার মতো গোল আকার দিন। কড়াইয়ে তেল গরম হলে কোফ্তাগুলি ভেজে নিন। এবার কড়াইয়ে অল্প তেল দিয়ে শুকনো লঙ্কা, গোটা জিরে ফোড়ন দিন। আদা, হলুদ, কাঁচালঙ্কাবাটা সামান্য জলে গুলে কড়াইয়ে দিয়ে দিন। স্বাদমতো নুন যোগ করে নাড়তে থাকুন। মশলা কষে গেলে দিয়ে দিন টম্যাটো বাটা। কিছু ক্ষণ রান্না করার পর কাজুবাটা দিয়ে কষতে থাকুন। মশলা কষে এলে কিছুটা গরম জল দিন। দিন স্বাদমতো চিনি। ঝোল ফুটে গেলে কোফ্তা দিন। মিনিট পাঁচেক পরে গরমমশলা আর ধনেপাতাকুচি দিয়ে নামিয়ে ফেলুন।
রুটি, ভাত, পরোটা, পোলাও— সব কিছুর সঙ্গেই এটি খাওয়া যাবে। ভাজা কোফ্তাও খেতে সুস্বাদু হয়।
বেগুন ধুয়ে গ্রেটারের সাহায্য গ্রেট করে নিন। তার সঙ্গে যোগ করুন আদা, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতাকুচি, বাদামের টুকরো। স্বাদমতো নুন দিন। বেসন দিয়ে মেখে কোফ্তার মতো গোল আকার দিন। কড়াইয়ে তেল গরম হলে কোফ্তাগুলি ভেজে নিন। এবার কড়াইয়ে অল্প তেল দিয়ে শুকনো লঙ্কা, গোটা জিরে ফোড়ন দিন। আদা, হলুদ, কাঁচালঙ্কাবাটা সামান্য জলে গুলে কড়াইয়ে দিয়ে দিন। স্বাদমতো নুন যোগ করে নাড়তে থাকুন। মশলা কষে গেলে দিয়ে দিন টম্যাটো বাটা। কিছু ক্ষণ রান্না করার পর কাজুবাটা দিয়ে কষতে থাকুন। মশলা কষে এলে কিছুটা গরম জল দিন। দিন স্বাদমতো চিনি। ঝোল ফুটে গেলে কোফ্তা দিন। মিনিট পাঁচেক পরে গরমমশলা আর ধনেপাতাকুচি দিয়ে নামিয়ে ফেলুন।
রুটি, ভাত, পরোটা, পোলাও— সব কিছুর সঙ্গেই এটি খাওয়া যাবে। ভাজা কোফ্তাও খেতে সুস্বাদু হয়।
বেগুনের কোফ্তা কারি এমন একটি পদ, যা সাধারণ উপকরণ দিয়ে তৈরি হলেও তার স্বাদ, গন্ধ, টেক্সচার—সব মিলিয়ে অসাধারণ। এটি একদিকে যেমন ঘরোয়া, অন্যদিকে তেমনই অতিথি আপ্যায়নের জন্য যথেষ্ট অভিজাত।
রুটি, ভাত, পরোটা, পোলাও—সব কিছুর সঙ্গেই মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এই পদটিকে করে তোলে অত্যন্ত বহুমুখী। আর আলাদা করে ভাজা কোফ্তাগুলো স্ন্যাকস হিসেবেও অনন্য।
সবচেয়ে বড় কথা, এই রান্নাটি শুধু পেট ভরায় না—মনও ভরায়
বাঙালি রান্নাঘরের অন্যতম প্রিয় সবজি হলো বেগুন। ভাজা, ভর্তা, পোস্ত, দই বেগুন, বেগুন পোড়া— কত রকম পদই না তৈরি হয় এই একটি সবজি দিয়ে! কিন্তু সাধারণ বেগুনের পদ ছাড়াও, যদি একটু নতুনত্ব আনা যায়, তাহলে তৈরি হয় এক অসাধারণ পদ— বেগুন কোফতা কারি। এটি যেমন মুখরোচক, তেমনই দেখতে রাজকীয়, আবার পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ।
এই পদটি মূলত উত্তর ভারতীয় কোফতার ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হলেও, বাঙালি স্বাদের সঙ্গে মিশে গিয়ে তৈরি করেছে এক অনন্য স্বাদভুবন।
কোফতা বলতে বোঝায়— সবজি বা মাংসের মিশ্রণ দিয়ে তৈরি ছোট ছোট বল, যা ভেজে বা সেদ্ধ করে ঝোলে বা গ্রেভিতে দেওয়া হয়। বেগুন কোফতায় মূল উপাদান হলো গ্রেট করা বেগুন, যার সঙ্গে নানা মশলা, বাদাম ও বেসন মিশিয়ে ভেজে নেওয়া হয়। তারপর কাজু ও টম্যাটো দিয়ে তৈরি মসৃণ গ্রেভিতে সেই কোফতা যোগ করা হয়।
ফলাফল?
একটি এমন পদ, যা একদিকে খাসা, আবার অন্যদিকে নরম, ঝোলের সঙ্গে মিশে গিয়ে তৈরি করে অতুলনীয় স্বাদ।
মাঝারি আকারের বেগুন – ২টি
বেসন – ৩-৪ টেবিল চামচ
আদা কুচি – ১ চা চামচ
কাঁচালঙ্কা কুচি – ১-২টি
ধনেপাতা কুচি – ২ টেবিল চামচ
বাদাম বা চিনাবাদাম কুচি – ২ টেবিল চামচ
লবণ – স্বাদমতো
লাল লঙ্কা গুঁড়ো – ½ চা চামচ
গরম মশলা গুঁড়ো – ¼ চা চামচ
তেল – ভাজার জন্য
তেল – ২ টেবিল চামচ
শুকনো লঙ্কা – ১-২টি
গোটা জিরে – ½ চা চামচ
আদা বাটা – ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়ো – ½ চা চামচ
কাঁচালঙ্কা বাটা – ½ চা চামচ
টম্যাটো বাটা – ৩-৪ টেবিল চামচ
কাজু বাটা – ২ টেবিল চামচ
লবণ – স্বাদমতো
চিনি – স্বাদমতো
গরম মশলা গুঁড়ো – ¼ চা চামচ
ধনেপাতা কুচি – সাজানোর জন্য
গরম জল – প্রয়োজনমতো
প্রথমে বেগুন ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। তারপর গ্রেটারের সাহায্যে বেগুন গ্রেট করুন।
? টিপস:
বেগুন গ্রেট করার পর যদি বেশি জল বের হয়, তাহলে হালকা করে চিপে জল ঝরিয়ে নিন। এতে কোফতা ভালো হবে।
গ্রেট করা বেগুনের সঙ্গে যোগ করুন—
আদা, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা
বাদাম কুচি
লবণ, লাল লঙ্কা গুঁড়ো
বেসন
সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
? টিপস:
মিশ্রণ যদি বেশি নরম হয়, তাহলে একটু বেসন বা সুজি যোগ করতে পারেন।
মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট গোল বল তৈরি করুন— ঠিক কোফতার মতো।
কড়াইয়ে তেল গরম করে মাঝারি আঁচে কোফতাগুলি ভেজে নিন।
? গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
খুব বেশি আঁচে ভাজবেন না, না হলে কোফতা ভেঙে যেতে পারে।
হালকা বাদামি রং হওয়া পর্যন্ত ভাজাই যথেষ্ট।
ভাজা কোফতা তুলে রেখে দিন।
একই কড়াইয়ে অল্প তেল দিন।
প্রথমে শুকনো লঙ্কা ও গোটা জিরে ফোড়ন দিন।
তারপর দিন—
আদা বাটা
হলুদ
কাঁচালঙ্কা বাটা
সব মশলা সামান্য জল দিয়ে কষাতে থাকুন।
? টিপস:
মশলা পোড়ার হাত থেকে বাঁচাতে একটু একটু করে জল যোগ করুন।
মশলা কষে গেলে টম্যাটো বাটা যোগ করুন।
কিছুক্ষণ রান্না করে কাজু বাটা দিন।
? ফলাফল:
এই ধাপে গ্রেভি ঘন, মসৃণ ও সুগন্ধি হয়ে উঠবে।
মশলা ভালোভাবে কষে এলে প্রয়োজনমতো গরম জল দিন।
স্বাদমতো লবণ ও চিনি যোগ করুন।
ঝোল ফুটে উঠলে ভাজা কোফতা যোগ করুন।
? টিপস:
কোফতা দেওয়ার পর বেশি নেড়েচেড়ে রান্না করবেন না— ভেঙে যেতে পারে।
৫ মিনিট মতো রান্না করে শেষে দিন—
গরম মশলা
ধনেপাতা কুচি
চুলা বন্ধ করে দিন।
বেগুন কোফতা কারি পরিবেশন করা যায়—
? গরম ভাতের সঙ্গে
? রুটি বা পরোটার সঙ্গে
? পোলাও বা বিরিয়ানির সঙ্গে
বিশেষ দিনে এটি হলে, সাধারণ খাবারও হয়ে ওঠে রাজকীয়।
বেশি কাঁচালঙ্কা ও লাল লঙ্কা ব্যবহার করুন
একটু গোলমরিচ গুঁড়ো যোগ করতে পারেন
একটু বেশি চিনি বা মধু ব্যবহার করুন
কাজুর পরিমাণ বাড়াতে পারেন
কোফতা ভাজা না করে এয়ার ফ্রায়ারে বা বেক করে নিতে পারেন
কম তেল ব্যবহার করুন
কাজুর বদলে বাদাম বা তিলের বাটা ব্যবহার করতে পারেন
বেগুন কোফতা শুধু সুস্বাদুই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ।
ফাইবার সমৃদ্ধ → হজমে সাহায্য করে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট → শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কম ক্যালোরি → ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উৎস
শক্তি বৃদ্ধি করে
আদা ও কাঁচালঙ্কা → হজম শক্তি বাড়ায়
হলুদ → প্রদাহ কমায়
কোফতা বেশি সময় ঝোলে রাখবেন না— নরম হয়ে যেতে পারে।
গ্রেভি যদি বেশি ঘন হয়, একটু দুধ যোগ করতে পারেন।
কোফতা যদি ভেঙে যায়, তাহলে একটু বেসন বাড়ান।
ফ্রিজে রাখা কোফতা আবার গরম করলে স্বাদ আরও ভালো হয়।
বেগুন কোফতা কারি শুধু দৈনন্দিন খাবার নয়। এটি—
অতিথি আপ্যায়নে
উৎসবের ভোজে
নিরামিষ বিশেষ দিনে
একটি পারফেক্ট পদ।
অনেক বাড়িতে দুর্গাপূজা, ঈদ, জন্মদিন বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে এই ধরনের কোফতা কারি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়।
বেগুন কোফতা কারি হলো এমন একটি পদ, যা সাধারণ বেগুনকে অসাধারণ রূপ দেয়।
এতে আছে বাঙালি রান্নার সরলতা, উত্তর ভারতীয় গ্রেভির রাজকীয়তা এবং আধুনিক রান্নার নতুনত্ব।
একবার বানিয়ে দেখলেই বুঝবে—
? বেগুন শুধু ভাজা বা ভর্তার জন্য নয়, বরং কোফতার মতো অভিনব পদেও অনবদ্য।