প্রয়াত পরিচালক শিলাদিত্য মৌলিকের বাবা ৭১ বছর বয়সে হঠাৎ হৃদরোগে মারা যান।শিলাদিত্য মুম্বইয়ে ছিলেন, বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়েন।তিনি জানান, বাবা সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং হঠাৎ এই ঘটনা ঘটেছে।শিলাদিত্য এখন দ্রুত বাড়ি ফিরে মায়ের পাশে থাকতে চান।
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত নাম পরিচালক শিলাদিত্য মৌলিকের পরিবার গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। বুধবার সকালে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তাঁর বাবা। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শিলাদিত্য ও তাঁদের পরিবারের জন্য এক অবিশ্বাস্য এবং ব্যথাব্যঞ্জক মুহূর্ত হিসেবে রূপ নিয়েছে।
শিলাদিত্য মৌলিকের বাবা ছিলেন স্বাভাবিকভাবে সুস্থ, সক্রিয় এবং শক্তিশালী। পরিবারের কাছে তিনি সবসময়ই ছিলেন এক অবিচলিত ভরসার ঠিকানা। তিনি শুধু একজন বাবা ছিলেন না, বরং জীবনের নানা ওঠাপড়ার মধ্যে পরিবারের এক অটল সমর্থন। শিলাদিত্য জানিয়েছেন, “বাবা ৭১ বছর বয়সেও ভীষণ ফিট ছিলেন। কোনওদিনও ভাবিনি এভাবে চলে যাবে। একেবারে সুস্থ মানুষ ছিলেন। প্রতিদিনের মতো সকালেও মা চা দিতে গিয়েছিলেন। তখনই বুঝতে পারেন শরীরটা ঠিক নেই। আমায় ফোন করেন মা। বন্ধুবান্ধবদের সাহায্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু যাওয়ার আগেই সব শেষ হয়ে যায়।”
শিলাদিত্য বলেন, হঠাৎ এই খবর পাওয়ার পর তিনি এক মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে পড়েন। তিনি তখন মুম্বইয়ে কাজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে মুম্বই বিমানবন্দরে বসেই তিনি বাড়ি ফেরার বিমানের অপেক্ষা করতে শুরু করেন। বিমানবন্দরের সেই কয়েক ঘণ্টা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটি। তিনি জানান, “এমন সময় মনে হয় পুরো পৃথিবী থমকে গেছে। এক মুহূর্তে জীবন যেন অন্য পথে সরে গেল। বাবা যে শূন্যতা রেখে গেলেন, তা হৃদয়ে গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।”
পরিচালক শিলাদিত্য মৌলিক শুধু একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচিত নন; তিনি একজন পুত্র, বন্ধু এবং পরিবারের প্রতি অত্যন্ত দায়বদ্ধ ব্যক্তিও। বাবার মৃত্যু সংবাদে তাঁর মনের অবস্থাকে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “এখন যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি ফিরে যেতে চাই, মায়ের কাছেও যেতে হবে। পরিবারের কাছে থাকা এখন সবচেয়ে জরুরি।”
শিলাদিত্য মৌলিকের বাবা ছিলেন একজন সংযত, শিক্ষিত এবং উদার মানসিকতা সম্পন্ন মানুষ। শিলাদিত্য জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি বাবার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন। বাবা ছিলেন জীবনকে সহজভাবে দেখতে এবং প্রতিটি পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে কাজ করতে বিশ্বাসী। শিলাদিত্য বলেন, “বাবার নীতি, তার দৃষ্টিভঙ্গি, জীবনের প্রতি তার দায়িত্বপরায়ণতা—এই সবই আমাকে একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।”
শিলাদিত্য মৌলিকের বাবার প্রয়াণ শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, তাদের আশেপাশের মানুষদের জন্যও শোকের খবর। শিলাদিত্য জানিয়েছেন, বাবা সবসময়ই বন্ধু এবং প্রতিবেশীদের সহায়তায় এগিয়ে আসতেন। তিনি ছিলেন এক ধরনের মানুষ যাঁর উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই সকলকে নিরাপদ এবং সাহসী অনুভব করাতো।
বাংলা চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক মহলে শিলাদিত্য মৌলিক একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি তার বাবার কাছ থেকে শিখেছেন কিভাবে জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। বাবার হঠাৎ প্রয়াণ শিলাদিত্য এবং তাঁর পরিবারের জন্য শুধুই ব্যক্তিগত শোক নয়, এটি একটি গভীর মানসিক ও আত্মিক শূন্যতার অনুভূতিও তৈরি করেছে। শিলাদিত্য বলেন, “এত বছর ধরে বাবা আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তাঁর অভাব এখন কেবল অনুভূত হচ্ছে।”
শিলাদিত্য মৌলিকের বাবা স্বাস্থ্য সচেতন ছিলেন। তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করতেন, স্বাস্থ্যকর খাবার খেতেন এবং মানসিকভাবে সবসময় সতর্ক থাকতেন। এমন একজন সুস্থ মানুষের হঠাৎ মৃত্যু শিলাদিত্য এবং পরিবারের কাছে এক অপ্রত্যাশিত ধাক্কা হিসেবে এসেছে। শিলাদিত্য জানান, বাবার হঠাৎ মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল অসহায়তা। তিনি জানান, “এই ধরনের ঘটনা কখনও প্রত্যাশা করা যায় না। এক মুহূর্তে সবকিছু বদলে যায়।”
পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ, সামাজিক ও মানসিক সহমর্মিতা, এবং জীবনের প্রতি ধৈর্য—এই গুণাবলীর কারণে শিলাদিত্য মৌলিকের বাবাকে সকলেই ভালোবেসে দেখতেন। শিলাদিত্য বলেন, “বাবার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই বিশেষ ছিল। তার শেখানো শিক্ষাগুলো আমাকে সবসময় পথ দেখাবে।”
এখন শিলাদিত্য দ্রুত বাড়ি ফিরে মায়ের পাশে থাকতে চাইছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই সময় পরিবারের সংহতি এবং সান্ত্বনা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। “মায়ের সাথে থাকা এখন অত্যন্ত জরুরি। তিনি খুবই দুর্বল মনে করছেন, তাই আমি চাই তার পাশে থাকি,” শিলাদিত্য বলেন।
শিলাদিত্য মৌলিকের বাবার প্রয়াণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবন কতটা অপ্রত্যাশিত। জীবন যতই দীর্ঘ হোক, কখনও কখনও হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ছন্দকে বদলে দিতে পারে। এই শূন্যতা, এই নীরবতা, এবং এই খালি জায়গা শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই নয়, বরং যারা তার জীবন ও কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন, তাদের মধ্যেও গভীরভাবে অনুভূত হবে।
শিলাদিত্য মৌলিক এবং তাঁর পরিবারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল এই শোককে সামলানো এবং একে অপরের পাশে থাকা। শিলাদিত্য জানিয়েছেন, বাবার জীবনের শিক্ষা এবং মূল্যবোধই তাকে এবং তার পরিবারকে শক্তি দেবে এই কঠিন সময়ে। তিনি বলেন, “বাবা সবসময় আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে সাহসের সঙ্গে জীবন কাটাতে হয়। তার শেখানো শিক্ষা এখন আমার এবং পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি।”
পরিচালক হিসেবে শিলাদিত্য মৌলিক সবসময়ই সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পরিবারের মানসিক সমর্থন ছাড়া একজন মানুষ কখনও পূর্ণাঙ্গভাবে জীবনের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না। বাবার প্রয়াণ এই সত্যকেই আরও গভীরভাবে অনুভূত করিয়েছে।
শিলাদিত্য মৌলিকের বাবার প্রয়াণ শুধু ব্যক্তিগত শোক নয়, এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষতির কথাও বলে। একজন প্রগতিশীল, সহানুভূতিশীল এবং উদার মানুষকে হারানো সহজ নয়। শিলাদিত্য জানিয়েছেন, বাবা ছিলেন এমন একজন মানুষ যিনি নিজের কাজ এবং অন্যের প্রতি মনোযোগ দিয়ে জীবন কাটাতেন। তার অনুপ্রেরণা ও দৃষ্টিভঙ্গি চলচ্চিত্র জগতের পাশাপাশি তার পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জীবনেও প্রভাব রেখেছে।
শেষ পর্যন্ত, শিলাদিত্য মৌলিকের বাবার প্রয়াণ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় জীবনের অপ্রত্যাশিততা এবং সম্পর্কের মূল্য। শিলাদিত্য এবং তার পরিবার এখন এক ধরণের শূন্যতা এবং নীরবতার মধ্যে আছে, তবে বাবার রেখে যাওয়া শিক্ষা, আদর্শ এবং স্নেহ তাঁদের শক্তি দেবে। শিলাদিত্য জানিয়েছেন, “বাবার প্রেরণা আমার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে থাকবে। তার শিক্ষা কখনও ভোলা যাবে না।”
এই কঠিন সময়ে শিলাদিত্য মৌলিকের পরিবারের পাশে থাকা, তাদের শোককে সম্মান করা এবং স্মৃতিকে জীবিত রাখা সবার দায়িত্ব। বাবার বিদেহী আত্মা শান্তিতে থাকুক—এটাই শিলাদিত্য এবং পরিবারসহ সকল প্রিয়জনের কামনা।
শিলাদিত্য মৌলিক এবং তাঁর পরিবারের প্রতি এই শোকের মুহূর্তে সমবেদনা জানানো প্রতিটি মানুষের জন্য প্রয়োজন। তারা এই সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবেন, এবং বাবার রেখে যাওয়া মূল্যবোধ ও শিক্ষা তাঁদের জীবনের প্রতিটি ধাপে প্রভাবিত করবে।