Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ট্রোলিং ও গুজবের বিরুদ্ধে মায়ের হাত ধরে নীরবতা ভাঙলেন সায়ক

সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা ট্রোলিং ও গুজবের বিরুদ্ধে অবশেষে মুখ খুললেন সায়ক। মায়ের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে তিনি দেবলীনাকে ঘিরে ওঠা অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন।দেবলীনাকে তিনি শুধুই বন্ধু হিসেবে চেনেন এই দাবি জানিয়ে সায়ক বলেন, কুৎসা ছড়ানোর কারণে তাঁর পরিবারও মানসিক চাপে ছিল। তাই মায়ের উপস্থিতিতেই তিনি সত্য প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন।টানা অপমান ও কটূক্তির পর সায়কের আবেগঘন পোস্টে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাসতে থাকে সমর্থনের বার্তা। অনেকেই লেখেন, সত্যের পাশে থাকাই সবচেয়ে বড় শক্তি।গুজব আর ট্রোলের ভিড়ে পরিবারই যে তাঁর একমাত্র আশ্রয়, সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করলেন সায়ক।

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে একজন পরিচিত মুখ হওয়া মানেই শুধু জনপ্রিয়তা নয়, তার সঙ্গে আসে নজরদারি, সমালোচনা, আর অনেক সময় নির্মম ট্রোলিং। সাম্প্রতিক সময়ে সায়ক সেই কঠিন বাস্তবতারই মুখোমুখি হয়েছেন। কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ঘিরে চলছিল লাগাতার কুৎসা, অপমানজনক মন্তব্য এবং গুজব। দেবলীনাকে কেন্দ্র করে তাঁর নামে ছড়িয়ে পড়ে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ—যার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই বলেই সায়ক নিজে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। কিন্তু গুজবের আগুন ছড়াতে সময় লাগে না, আর সেই আগুনে পুড়তে হয় শুধু অভিযুক্তকেই নয়, তাঁর পরিবারকেও।

শুরুটা হয়েছিল কিছু অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট ও মন্তব্য থেকে। পরিচিত-অপরিচিত বহু মানুষ কোনও যাচাই ছাড়াই সেই অভিযোগে সায় দিতে শুরু করেন। কমেন্ট বক্সে একের পর এক কটূক্তি, ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহননের ভাষা—সব মিলিয়ে এক বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। সায়ক প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। নীরবতা অনেক সময় শক্তির প্রতীক হলেও, এই নীরবতার আড়ালে যে মানসিক চাপ কাজ করছিল, তা সহজেই অনুমেয়। দিনের পর দিন অপমান সহ্য করা, নিজের সম্পর্কে ছড়ানো মিথ্যা কথা দেখা—এগুলো যে কাউকে ভেঙে দিতে পারে।

এই সময়টায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে পরিবারের ওপর। সায়ক নিজেই জানিয়েছেন, গুজব ছড়ানোর পর থেকে তাঁর পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিল। একজন মায়ের কাছে সন্তানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শোনা কতটা কষ্টের, তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সমাজের চোখে ছেলে কীভাবে দেখানো হচ্ছে, মানুষ কী বলছে—এই চাপ সামলানো সহজ নয়। তবু পরিবারের সমর্থনই ছিল সায়কের সবচেয়ে বড় ভরসা। বাইরে যখন প্রশ্ন, সন্দেহ আর আঙুল তোলা, ভেতরে তখন পরিবারের নিঃশর্ত ভালোবাসা।

এই পরিস্থিতিতেই আজ ভোরে সায়ক নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে দেখা যায়, তিনি মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবিটা প্রথম দেখায় খুব সাধারণ—দু’জন মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। কিন্তু একটু গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়, সেই সাধারণতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে গভীর অর্থ। দু’জনের মুখেই ক্লান্তির ছাপ, কিন্তু চোখে রয়েছে এক ধরনের প্রশান্তি। যেন অনেকদিনের চাপের পর সত্যিটা প্রকাশ করার স্বস্তি।

ছবির সঙ্গে সায়ক লেখেন, “এই পৃথিবীর সব কাঁটা… মা-ই একমাত্র আশ্রয়।” এই একটি লাইনের মধ্যেই যেন সব কথা বলা হয়ে যায়। কোনও দীর্ঘ ব্যাখ্যা নয়, কোনও নাটকীয় অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ নয়। শুধু নিজের অনুভূতি, নিজের আশ্রয়ের কথা। এরপর তিনি স্পষ্ট করে জানান, দেবলীনাকে তিনি শুধুই বন্ধুর মতো চেনেন। তাঁদের মধ্যে কোনও অবৈধ সম্পর্ক নেই। তাঁর নামে যে অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কুৎসা ছাড়া কিছু নয়।

সায়ক আরও জানান, এই গুজব শুধু তাঁকে নয়, তাঁর পরিবারকেও গভীর মানসিক চাপে ফেলেছিল। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, সত্যটা প্রকাশ্যে আনবেন—আর সেই সত্য বলার মুহূর্তে তাঁর পাশে থাকবেন তাঁর মা। এই সিদ্ধান্তের মধ্যেই একটা বার্তা ছিল—সবচেয়ে কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকাই সবচেয়ে বড় শক্তি।

পোস্টটি করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিক্রিয়ায় ভরে যায় ফেসবুক। অসংখ্য মানুষ সায়কের পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থনের বার্তা দেন। কেউ লেখেন, “সত্যি বাইরে আসতেই কুৎসাকারীরা চুপ হয়ে যায়।” কেউ আবার বলেন, “কেরিয়ারে সাফল্য এলে শত্রুও বাড়ে।” অনেকেই আক্ষেপ প্রকাশ করে লেখেন, “মানুষের মুখ বন্ধ করা যায় না, কিন্তু নিজের সম্মান রক্ষা করাটা জরুরি।” এই সমর্থন সায়কের জন্য নিঃসন্দেহে কিছুটা হলেও স্বস্তির।

তবে এই ঘটনাকে শুধু একজন ব্যক্তির অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়ে না। এটি আসলে আমাদের সময়ের সোশ্যাল মিডিয়া সংস্কৃতিরই প্রতিচ্ছবি। আজকাল যে কোনও গুজব মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। সত্য-মিথ্যার যাচাই করার সময় বা আগ্রহ—দুটোই অনেকের থাকে না। একটি পোস্ট, একটি স্ক্রিনশট, বা একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য থেকেই তৈরি হয় গল্প। আর সেই গল্পে রঙ চড়াতে শুরু করে নেটিজেনদের কল্পনা।

বিশেষ করে পরিচিত মানুষদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও বেশি। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন যেন জনসম্পত্তি হয়ে ওঠে। কে কার সঙ্গে কথা বলল, কে কার পাশে দাঁড়াল—সব কিছু থেকেই তৈরি হয় জল্পনা। আর সেই জল্পনা যখন কুৎসায় রূপ নেয়, তখন তার প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক শান্তি, সামাজিক সম্মান—সব কিছুই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

সায়কের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। কয়েকটি ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকেই তৈরি হয় বড়সড় ট্রোলিং। কেউ কেউ হয়তো বিনোদনের জন্য, কেউ আবার ঈর্ষা বা বিদ্বেষ থেকে সেই আগুনে ঘি ঢালেন। কিন্তু খুব কম মানুষই ভাবেন, এর পরিণতি কী হতে পারে। একটি মন্তব্য, একটি শেয়ার—এই ছোট কাজগুলোই কারও জীবনে বড় ক্ষত তৈরি করতে পারে।

news image
আরও খবর

এই প্রসঙ্গে সায়কের পোস্টের শেষ লাইনটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি লেখেন, “কুৎসা নয়, সত্যিই পাশে থাকুক মানুষ।” এই কথার মধ্যে শুধু নিজের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন নয়, সমাজের প্রতিও একটি আহ্বান আছে। সত্যের পাশে থাকা মানে শুধু একজন মানুষকে সমর্থন করা নয়, বরং গুজবের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, যাচাই ছাড়া কিছু না ছড়ানোর দায়িত্ব নেওয়া।

অনেকে বলছেন, সায়কের এই নীরবতা ভেঙে সত্য বলা অন্যদের জন্যও এক ধরনের উদাহরণ। সব সময় চুপ থাকাই যে সেরা পথ নয়, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট। তবে একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে কোনও আক্রমণাত্মক ভাষা নেই। তিনি কাউকে দোষারোপ করেননি, কাউকে হুমকি দেননি। শুধু নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন, আর তাঁর শক্তির উৎস—পরিবারকে সামনে এনেছেন।

এখানেই এই ঘটনার মানবিক দিকটি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। একজন মানুষ যখন চারদিক থেকে আঘাত পায়, তখন সে ফিরে যায় তার শিকড়ে। সায়কের ক্ষেত্রে সেই শিকড় তাঁর মা। ছবিটা তাই শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, একটি আশ্রয়ের কথাও বলে। মা-বাবা, পরিবার—যারা নিঃশর্তভাবে সন্তানের পাশে থাকেন, সমাজের হাজার প্রশ্নের মাঝেও যাঁদের বিশ্বাস অটুট থাকে।

এই ঘটনা আমাদের আরও একবার ভাবতে বাধ্য করে—আমরা কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছি। মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে কি যাচাইহীন অভিযোগ ছড়ানো? সমালোচনা আর কুৎসার মধ্যে পার্থক্যটা কি আমরা ভুলে যাচ্ছি? একজন মানুষকে না জেনে, না বুঝে বিচার করার অধিকার কি আমাদের আছে?

সায়ক হয়তো একজন পরিচিত মুখ, তাই তাঁর পোস্ট আলোচনায় এসেছে। কিন্তু প্রতিদিন এমন অসংখ্য মানুষ আছেন, যাঁরা গুজব আর ট্রোলিংয়ের শিকার হন, অথচ তাঁদের কথা শোনার কেউ নেই। তাঁদের অনেকের কাছেই পরিবারের সমর্থনই একমাত্র ভরসা। আবার কারও ক্ষেত্রে সেটুকুও থাকে না। তাই এই ধরনের ঘটনার গুরুত্ব শুধু খবরের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; সমাজ হিসেবে আমাদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা দরকার।

সমর্থনের বন্যার মধ্যেও সায়ক নিজে খুব বেশি কথা বলেননি। তাঁর পোস্টে নাটকীয়তা নেই, অতিরিক্ত আবেগও নেই। আছে শুধু শান্ত, সংযত সত্য। হয়তো এই সংযমই তাঁকে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে অনেকের কাছে। তিনি দেখিয়েছেন, কুৎসার জবাব সব সময় কোলাহল দিয়ে দিতে হয় না; কখনও কখনও সত্য আর ভালোবাসাই সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর।

শেষ পর্যন্ত এই ঘটনাটি একটি সহজ কিন্তু গভীর সত্যই মনে করিয়ে দেয়—ট্রোল আর অপবাদ থেকে বড় কোনও সুরক্ষা যদি থাকে, তা পরিবারের ভালোবাসা। বাইরে যত ঝড়ই উঠুক, ভেতরের আশ্রয় যদি শক্ত থাকে, তবে সেই ঝড় পার হওয়া সম্ভব। সায়কের মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তোলা ছবিটি তাই শুধু একটি মুহূর্তের দলিল নয়, বরং বিশ্বাস, সাহস আর পারিবারিক বন্ধনের প্রতীক হয়ে থাকবে।

এই গল্পের কোনও চটকদার সমাপ্তি নেই। গুজব হয়তো পুরোপুরি থেমে যাবে, হয়তো নতুন রূপে আবার ফিরে আসবে—এটাই সোশ্যাল মিডিয়ার বাস্তবতা। কিন্তু সায়ক তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সত্যের বাইরে তাঁর কিছু বলার নেই। আর তাঁর এই অবস্থান হয়তো অনেককেই নতুন করে ভাবতে শেখাবে—একটি মন্তব্য করার আগে, একটি অভিযোগে সায় দেওয়ার আগে।

কারণ শেষ পর্যন্ত, সোশ্যাল মিডিয়ার পর্দার ওপারে আমরা সবাই মানুষ। আমাদের অনুভূতি আছে, পরিবার আছে, ভালোবাসা আছে। সেই মানবিকতাটুকু যদি আমরা ভুলে যাই, তবে প্রযুক্তির সব অগ্রগতিই অর্থহীন হয়ে পড়ে। সায়কের এই অভিজ্ঞতা তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত লড়াইয়ের গল্প নয়, বরং আমাদের সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দলিল।

Preview image