Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অভিনয়ের জগতে সুযোগ পেতে শুধু পরিশ্রম যথেষ্ট নয় স্বজনপোষণ নিয়ে অক্ষয়ের স্পষ্ট বার্তা

ধুরন্ধর ছবিতে রহমান বালোচের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য চারদিকে প্রশংসিত অক্ষয়। এই সাফল্যের রেশ ধরেই নাকি নতুন ছবির জন্য নিজের পারিশ্রমিক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছেন অভিনেতা। পাশাপাশি চরিত্রের প্রয়োজনে পরচুলা ব্যবহারের শর্তও প্রযোজকদের সামনে রেখেছেন বলে খবর।

আপাতত বলিউডের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অক্ষয় খন্না। দীর্ঘ কেরিয়ারে বহুবার নীরবে নিজের কাজ দিয়ে দর্শকের মন জয় করলেও, সাম্প্রতিক সময়ে যেন আবার নতুন করে শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ধুরন্ধর’-এ রহমান বালোচ চরিত্রে তাঁর অভিনয় ইতিমধ্যেই দর্শক ও সমালোচক মহলে প্রবল প্রশংসিত। চরিত্রটির ভিতরের দ্বন্দ্ব, সংযত আবেগ, সংলাপ বলার সময় চোখের ভাষা—সব মিলিয়ে অনেকেই বলছেন, বহু বছর পর অক্ষয় খন্না আবার নিজের সেরা ফর্মে ফিরেছেন। এমনও মত শোনা যাচ্ছে যে, এই চরিত্রটি তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্সের তালিকায় জায়গা করে নেবে।

‘ধুরন্ধর’-এর মুক্তির পর থেকেই সমাজমাধ্যমে অক্ষয়ের অভিনয়ের নানা দৃশ্য, সংলাপ ও এক্সপ্রেশন নিয়ে চর্চা শুরু হয়। অনেক দর্শকই মনে করছেন, আজকের অতিরিক্ত গ্ল্যামার-নির্ভর বলিউডে অক্ষয়ের মতো সংযত অথচ গভীর অভিনয় একেবারেই বিরল। এই সাফল্যের আবহেই হঠাৎ সামনে আসে আরেকটি বড় খবর, যা কার্যত নতুন করে আলোচনার ঝড় তোলে—অক্ষয় খন্না নাকি আসন্ন ছবি ‘দৃশ্যম ৩’ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কেন এমন সিদ্ধান্ত? ঠিক কী কারণে একটি জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির ছবি থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি?

এই সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসার পর থেকেই সমাজমাধ্যমে ঘুরতে শুরু করে অভিনেতার পুরনো সাক্ষাৎকারের নানা অংশ। বিশেষ করে ২০২০ সালের একটি সাক্ষাৎকার নতুন করে ভাইরাল হয়, যেখানে অক্ষয় খন্না ইন্ডাস্ট্রির স্বজনপোষণ বা নেপোটিজ়ম নিয়ে বেশ স্পষ্ট মন্তব্য করেছিলেন। সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের মানুষ হলে কি সত্যিই প্রথম কাজ পেতে সুবিধা হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে অক্ষয় কোনও ঘুরপথে না গিয়ে একেবারে সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেছিলেন, অভিনেতা হতে চাওয়া আর সঠিক সুযোগ পাওয়া এক বিষয় নয়। কোটি কোটি মানুষ অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে খুব কমজনই প্রকৃত সুযোগ পান।

অক্ষয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ইচ্ছাশক্তি বা প্রতিভা থাকলেই প্রথম কাজ পাওয়া যায় না। বাস্তব দুনিয়ায় প্রথম সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচিতি, পারিবারিক যোগাযোগ এবং ইন্ডাস্ট্রি কানেকশন অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। সেই সাক্ষাৎকারে তাঁকে স্পষ্টভাবে বলতে শোনা যায়, “নেপোটিজ়ম— ওটাই কাজে লাগে।” এই এক লাইনের মন্তব্যই আবার নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করছেন, একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা হয়েও অক্ষয় এমন বাস্তব কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যা বহু মানুষ আড়ালে মেনে নিলেও মুখে বলতে চান না।

এই বক্তব্য নিয়ে সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একদল মানুষ মনে করছেন, অক্ষয় বাস্তবতার কথাই বলেছেন। বলিউড বা যে কোনও বড় ইন্ডাস্ট্রিতেই পরিচিতি একটি বড় ফ্যাক্টর—এই সত্য অস্বীকার করার জায়গা নেই। আবার অন্য একটি অংশের মত, এই ধরনের মন্তব্য নতুন অভিনেতাদের আরও নিরাশ করতে পারে এবং ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের অসাম্যকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। তবে অক্ষয়ের বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার—তিনি বিষয়টিকে ঢেকে রাখার চেষ্টা করেননি। বরং প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, প্রথম কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচিতি অনেক সময় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

আর ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই ‘দৃশ্যম ৩’ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর খবর নতুন করে আগুনে ঘি ঢালার কাজ করেছে। ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে শোনা যাচ্ছে, ‘ধুরন্ধর’ ছবির সাফল্যের পর অক্ষয় খন্না নাকি নিজের পারিশ্রমিক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তুলনামূলকভাবে কম প্রচারিত, সংযত অভিনেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সাফল্য তাঁর বাজারদর যে বাড়িয়েছে, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। সূত্রের খবর অনুযায়ী, নতুন প্রজেক্টগুলির জন্য তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি পারিশ্রমিক দাবি করছেন।

শুধু পারিশ্রমিক নয়, চরিত্রের লুক নিয়েও নাকি অক্ষয় বেশ কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রেখেছিলেন। ‘দৃশ্যম ৩’-এর ক্ষেত্রে তিনি পরচুলা ব্যবহারের দাবি রেখেছেন বলে গুঞ্জন। চরিত্রের বয়স, লুক ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্যই এই শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে শোনা যাচ্ছে। তবে প্রযোজনা-পক্ষের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। পারিশ্রমিক, লুক এবং চরিত্রের উপস্থাপনা—এই তিনটি বিষয় মিলিয়েই নাকি সমস্যার সূত্রপাত।

news image
আরও খবর

ধীরে ধীরে এই মতবিরোধ বড় আকার নেয় এবং শেষ পর্যন্ত অক্ষয় ‘দৃশ্যম ৩’ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন বলে খবর। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্মাতাদের তরফ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবু ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে গুঞ্জন তীব্র। অনেকেই মনে করছেন, এত বড় একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। তাই পুরো বিষয়টি নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল আরও বেড়েছে।

এই আবহেই সামনে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—অক্ষয়ের জায়গায় নাকি ‘দৃশ্যম ৩’-এ দেখা যেতে পারে জয়দীপ অহলাওয়াতকে। জয়দীপ ইতিমধ্যেই ওয়েব সিরিজ ও ছবিতে নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তাঁর অভিনয়ের স্টাইল বেশ রাফ, রিয়েল এবং ইনটেন্স। ‘পাতাল লোক’-এর মতো প্রজেক্টে তাঁর পারফরম্যান্স দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, জয়দীপ যদি সত্যিই ‘দৃশ্যম ৩’-এ যুক্ত হন, তবে ছবির মুডে একেবারে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।

তবে এখানেই উঠে আসছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অক্ষয় খন্না ও জয়দীপ অহলাওয়াত, এই দুই অভিনেতার অভিনয়ধারা একেবারেই ভিন্ন মেরুর। অক্ষয় খন্নার অভিনয়ে বরাবরই দেখা যায় এক ধরনের নিস্তব্ধতা, সংযম আর ভেতরে জমে থাকা চাপা আবেগের প্রকাশ। তিনি সংলাপের চেয়ে চোখের ভাষা, মুখের অভিব্যক্তি আর নীরব মুহূর্তকে বেশি গুরুত্ব দেন। অনেক সময় চরিত্রের অনুভূতি তিনি প্রকাশ করেন খুব সূক্ষ্ম ভঙ্গিতে, যা ধীরে ধীরে দর্শকের উপর প্রভাব ফেলে। ঠিক এই কারণেই থ্রিলার বা মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রে অক্ষয়ের উপস্থিতি আলাদা মাত্রা যোগ করে বলে মনে করেন সমালোচকেরা।

অন্যদিকে জয়দীপ অহলাওয়াতের অভিনয় সম্পূর্ণ আলাদা ধাঁচের। তাঁর অভিনয়ে রয়েছে খোলামেলা আগ্রাসন, বাস্তবতার কাঁচা ছাপ এবং এক ধরনের অনমনীয় শক্তি। জয়দীপ চরিত্রে ঢুকে পড়েন শরীরী ভাষা ও স্পষ্ট আবেগের মাধ্যমে। সংলাপ বলার ভঙ্গি, হাঁটাচলা কিংবা চোখের দৃষ্টিতে থাকে এক ধরনের তীব্রতা, যা দর্শকের নজর কাড়ে মুহূর্তের মধ্যেই। ফলে যদি সত্যিই ‘দৃশ্যম ৩’-এ অক্ষয়ের পরিবর্তে জয়দীপকে নেওয়া হয়, তা হলে চরিত্রের উপস্থাপনা এবং ছবির সামগ্রিক আবহে যে বড় পরিবর্তন আসবে, তা বলাই বাহুল্য।

এই সম্ভাব্য কাস্টিং বদল ঘিরে তাই ইতিমধ্যেই নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক দর্শক মনে করছেন, অক্ষয়ের সংযত অভিনয় ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির টানটান থ্রিলার মুডের সঙ্গে দারুণভাবে মানানসই। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, জয়দীপের ইনটেন্স ও রাফ অভিনয় ছবিটিকে আরও রিয়েলিস্টিক ও সমসাময়িক করে তুলতে পারে। ফলে কোন দৃষ্টিভঙ্গি শেষ পর্যন্ত নির্মাতারা বেছে নেবেন, তা নিয়ে কৌতূহল ক্রমশ বাড়ছে।

সব মিলিয়ে ‘ধুরন্ধর’-এর সাফল্য একদিকে অক্ষয় খন্নাকে আবার লাইমলাইটে ফিরিয়ে এনেছে, অন্যদিকে ‘দৃশ্যম ৩’ ঘিরে তৈরি করেছে একাধিক নাটকীয় মোড়। স্বজনপোষণ নিয়ে ভাইরাল হওয়া পুরনো মন্তব্য, পারিশ্রমিক বৃদ্ধির গুঞ্জন, চরিত্রের লুক ঘিরে পরচুলা ব্যবহারের শর্ত এবং প্রযোজনা-পক্ষের সঙ্গে তৈরি হওয়া মতবিরোধ—এই সবকিছু মিলিয়ে অক্ষয় খন্নাকে ঘিরে এই মুহূর্তে বলিউডে আলোচনা ও বিতর্ক যেন একসঙ্গে তুঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে নীরবে কাজ করা এই অভিনেতা ফের শিরোনামে, আর সেই শিরোনামের কেন্দ্রে রয়েছে একাধিক প্রশ্ন ও জল্পনা।

এখন দর্শকরা তাকিয়ে রয়েছেন পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে। অক্ষয় কি সত্যিই ‘দৃশ্যম ৩’ থেকে পুরোপুরি সরে গিয়েছেন, নাকি শেষ মুহূর্তে কোনও সমঝোতার রাস্তা বেরোবে? আর যদি সত্যিই কাস্টিং বদল হয়, তবে জয়দীপ অহলাওয়াতকে এই জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে দেখা যাবে কি না—এই সব প্রশ্নের উত্তর আপাতত অজানাই। তবে একথা নিশ্চিত, এই মুহূর্তে বলিউডে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলির মধ্যে অক্ষয় খন্না অন্যতম, এবং তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ ঘিরেই রয়েছে দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রির কৌতূহল।

Preview image