Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

গভীর রাতে ভূমিকম্পে কাঁপল দার্জিলিং কম্পন অনুভূত শিলিগুড়ি জলপাইগুড়িতেও

পড়শি রাজ্য সিকিম, অসম-সহ প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও চিনে কম্পন অনুভূত হয়েছে

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হঠাৎ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দার্জিলিং, শিলিগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আচমকাই অনুভূত হয় কম্পন, যা মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় সাধারণ মানুষের মধ্যে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, এই কম্পনের প্রভাব অনুভূত হয়েছে পড়শি দেশ নেপাল ও চিনেও। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.৫, যা মাঝারি মাত্রার কম্পন হিসেবে ধরা হয়। যদিও কম্পনের স্থায়িত্ব ছিল খুব কম সময়ের জন্য, তবুও রাতের অপ্রত্যাশিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

জাতীয় ভূতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল পশ্চিম সিকিমের গ্যালশিং অঞ্চল। সিকিম-হিমালয় অঞ্চলে ভূমিকম্প নতুন কোনও ঘটনা নয়। এই এলাকা ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট ও ইউরেশীয় প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় ভূকম্পন প্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ভারতীয় প্লেট উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ায় হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি হয়েছে, এবং এই সংঘর্ষ প্রক্রিয়া এখনও চলমান। সেই কারণেই হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

এই সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, সিকিম ও অসমের বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অনেক মানুষ ঘুম থেকে জেগে উঠে ঘরের জিনিসপত্র নড়াচড়া করতে দেখেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, বিছানা, জানালা ও আলমারির দরজা কাঁপতে শুরু করে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি, তবুও আতঙ্কিত মানুষ রাতেই বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন বা খোলা জায়গায় অবস্থান করেন।

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল বিশেষভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ। দার্জিলিং ও সিকিম অঞ্চল অতীতে একাধিক বড় ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছে। ২০১১ সালে সিকিমে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এছাড়া উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও মাঝেমধ্যেই ভূকম্পন অনুভূত হয়। এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ জোন-IV এবং জোন-V-এর মধ্যে পড়ে, যা ভারতের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্প অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত।

এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই, গত মঙ্গলবার রাতে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। সেই কম্পনের উৎসস্থল ছিল মায়ানমার, এবং রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৬। মায়ানমারে সংঘটিত ওই ভূমিকম্পের প্রভাব ভারত, বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়াতেও অনুভূত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার টেকটোনিক প্লেটগুলির জটিল গঠন ও পারস্পরিক গতিবিধির ফলে এক অঞ্চলের ভূমিকম্পের প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ভূমিকম্পের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও বিভ্রান্তি দেখা দেয়, বিশেষ করে গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে। অনেক সময় মানুষ বুঝতে পারেন না এটি ভূমিকম্প নাকি অন্য কোনও কম্পন। কিন্তু বিছানা, দরজা, জানালা বা ঝুলন্ত জিনিসপত্র নড়াচড়া করলে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বেশি থাকে। ভূমিকম্প সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যায়, তবে তার প্রভাব অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত বড় ধরনের ক্ষতি করে না, তবে দুর্বল বা পুরনো কাঠামো, পাহাড়ি এলাকা এবং ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিকম্পের ফলে ভূমিধস, রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের মতো অঞ্চলে ভূমিকম্পের পরে সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।

ভূমিকম্প কেন ঘটে তা বোঝার জন্য টেকটোনিক প্লেটের ধারণা গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর ভূত্বক কয়েকটি বড় বড় প্লেটে বিভক্ত, যেগুলি ধীরে ধীরে চলমান। এই প্লেটগুলির সংযোগস্থলে চাপ জমতে থাকে এবং যখন সেই চাপ সহ্যসীমা অতিক্রম করে, তখন হঠাৎ শক্তি নির্গত হয়, যার ফলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। হিমালয় অঞ্চল মূলত একটি সংঘর্ষ অঞ্চলের উদাহরণ, যেখানে ভারতীয় প্লেট ইউরেশীয় প্লেটের নিচে ঢুকে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়া লক্ষ লক্ষ বছর ধরে চলমান, এবং এর ফলে ভবিষ্যতেও এই অঞ্চলে ভূমিকম্প ঘটার সম্ভাবনা থাকবে।

ভূমিকম্পের সময় কী করা উচিত সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কিছু নির্দেশিকা রয়েছে। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া জরুরি। যদি বাড়ির ভিতরে থাকেন, তবে শক্ত আসবাবের নিচে বা দেয়ালের পাশে দাঁড়ানো উচিত এবং জানালা ও ভারী আসবাব থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। বাইরে থাকলে খোলা জায়গায় চলে যাওয়া নিরাপদ, যাতে বিদ্যুৎ লাইন, গাছ বা বিল্ডিং ধসে পড়ার ঝুঁকি কম থাকে। গাড়িতে থাকলে গাড়ি থামিয়ে ভিতরে থাকা নিরাপদ।

এই সাম্প্রতিক ভূমিকম্প আবারও মনে করিয়ে দিল যে উত্তরবঙ্গ ও হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চল ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। যদিও এই কম্পন ছিল স্বল্পস্থায়ী ও তুলনামূলকভাবে কম মাত্রার, তবুও এটি একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে। ভবিষ্যতে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তাই ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নির্মাণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

news image
আরও খবর

বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরাঞ্চলে ভূমিকম্প-প্রতিরোধী বিল্ডিং কোড মেনে চলা, পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলির সংস্কার, এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। স্কুল, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া ও প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

সব মিলিয়ে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অনুভূত ভূমিকম্প আবারও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেছে। যদিও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও এই ধরনের ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃতির শক্তির সামনে মানুষ কতটা অসহায় এবং সতর্কতা ও প্রস্তুতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার:

সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পের ঘটনা আবারও স্পষ্ট করে দিল যে হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গ, সিকিম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, সিকিম কিংবা অসম—এই সব অঞ্চলেই ভূমিকম্প নতুন কিছু নয়। অতীতেও এই অঞ্চলে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটেছে, যা প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং ভূমিধসের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার রাতের ৪.৫ মাত্রার কম্পন বড় ধরনের বিপর্যয় না ঘটালেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হিসেবে ধরা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত উত্তরমুখী গতিবিধি এবং ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে হিমালয় অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদে থেকেই যাবে। এই ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া কয়েক কোটি বছর ধরে চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। ফলে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেই কারণে শুধুমাত্র ভূমিকম্পের পরে আতঙ্কিত হওয়া নয়, বরং আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এই ধরনের ভূমিকম্প সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। গভীর রাতে হঠাৎ কম্পন অনুভূত হলে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার অনুভূতি স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়। অনেক মানুষ ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন, কেউ আবার সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তবে আতঙ্কের পাশাপাশি এই ঘটনাগুলি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি সুযোগও তৈরি করে। ভূমিকম্প কীভাবে ঘটে, কীভাবে সতর্ক থাকতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কী করা উচিত—এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের জ্ঞান বাড়ানো অত্যন্ত প্রয়োজন।

ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জন্য নিরাপদ অবকাঠামো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নির্মাণ প্রযুক্তি ও বিল্ডিং কোড কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় অপরিকল্পিত নির্মাণ, বন উজাড় এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসতি স্থাপন ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই প্রশাসন, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

পাশাপাশি জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ, নিয়মিত মহড়া এবং জনসচেতনতা কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্প মোকাবিলার প্রশিক্ষণ থাকলে দুর্যোগের সময় দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষেরও জানা উচিত ভূমিকম্পের সময় কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, কীভাবে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ রাখা যাবে এবং কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া যায়।

সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পের পাশাপাশি মায়ানমার, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া-সহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের ঘটনাগুলি দেখিয়ে দেয় যে এই অঞ্চলটি ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয়। এক অঞ্চলের ভূমিকম্পের প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে, যেমনটি কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলায় অনুভূত হয়েছিল মায়ানমারের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে। এই আন্তঃদেশীয় ভূতাত্ত্বিক সংযোগ ভবিষ্যতে আরও গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।

সব মিলিয়ে, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অনুভূত এই ভূমিকম্প বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না ঘটালেও এটি মানুষের মনে নতুন করে ভূমিকম্পের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। প্রকৃতির এই শক্তিশালী ও অনিয়ন্ত্রিত শক্তির সামনে মানুষ যে কতটা অসহায়, তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া, বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেওয়াই ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ। ভবিষ্যতে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে যেন প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়, সেই লক্ষ্যেই এখন থেকেই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

Preview image