Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কমছে শো, পরিবেশকের অনীহা—সংকটে প্রেক্ষাগৃহ, বাংলা ছবির ভরসায় টিকে হলমালিকেরা?

উৎসবের মরশুমে রাজ্য সরকারের নিয়মে প্রাইম টাইমে বাংলা ছবির দখল। আর তাতেই অসন্তোষ হিন্দি ছবির পরিবেশকদের চাপের মুখে হলমালিকেরা।

কমছে শো, পরিবেশকের অনীহা—সংকটে প্রেক্ষাগৃহ, বাংলা ছবির ভরসায় টিকে হলমালিকেরা?
বিনোদন

উৎসবের প্রাইম টাইমে বাংলা ছবি, ‘গোসা’ হিন্দি পরিবেশকদের—বেকায়দায় হলমালিকেরা?

উৎসব মানেই সিনেমা হলের সামনে লম্বা লাইন, হাউসফুল বোর্ড, নতুন ছবির পোস্টারে সাজানো প্রেক্ষাগৃহ। বিশেষ করে দুর্গাপুজো, বড়দিন কিংবা ঈদের সময় বাংলা ও হিন্দি—দুই শিল্পই মুখিয়ে থাকে দর্শক টানার জন্য। কিন্তু এ বার সেই উৎসবের আবহেই যেন তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত একটি প্রাইম টাইম শো বাংলা ছবিকে দিতে হবে। নিয়ম নতুন নয়। কিন্তু সমস্যার সূত্রপাত হয়েছে উৎসবের সময় একাধিক বাংলা ছবি মুক্তি পাওয়াকে ঘিরে।

শিল্প বাঁচাতে এই উদ্যোগ—এমনটাই দাবি একাংশের। অন্যদিকে, হিন্দি ছবির পরিবেশকদের অভিযোগ, বাংলায় তাঁদের ছবিকে ‘দুয়োরানি’ করা হচ্ছে। আর মাঝখানে পড়ে বিপাকে হলমালিকেরা।


নিয়মের উদ্দেশ্য: বাংলা ছবির সুরক্ষা

বাংলা ছবির বাজার বরাবরই সীমিত। মাল্টিপ্লেক্সের দৌলতে এখন কিছুটা প্রসার ঘটলেও এখনও সিঙ্গল স্ক্রিন হলগুলির উপরই নির্ভর করে ছবির ব্যবসার বড় অংশ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার বাংলা ছবিকে প্রাইম টাইমে জায়গা দিতে নির্দেশ দেয়। উদ্দেশ্য স্পষ্ট—দর্শক যেন সহজে বাংলা ছবি দেখতে পান এবং প্রযোজকেরা অন্তত ন্যূনতম ব্যবসা নিশ্চিত করতে পারেন।

সাধারণ সময়ে এই নিয়ম নিয়ে আপত্তি খুব একটা শোনা যায় না। দিনে একটি প্রাইম টাইম শো বাংলা ছবিকে দিলে হলের বাকি সময়গুলোয় হিন্দি বা অন্যান্য ভাষার ছবি চলতে পারে। সমস্যা বাঁধে উৎসবের মরশুমে।


উৎসব মানেই মুক্তির ভিড়

উৎসবের সময়ে দর্শক সংখ্যা বাড়ে। ফলে প্রযোজকেরা চান সেই সময়েই তাঁদের ছবি মুক্তি পাক। সাম্প্রতিক কালে দেখা যাচ্ছে, তিন-চারটি বাংলা ছবি একসঙ্গে মুক্তি পাচ্ছে। প্রত্যেকেই প্রাইম টাইম শো চাইছে। সরকারি নিয়মও বলছে, বাংলা ছবিকে প্রাধান্য দিতে হবে।

ফলে কী হচ্ছে? হিন্দি ছবির জন্য পড়ে থাকছে সকাল বা গভীর রাতের শো। বড় বাজেটের হিন্দি ছবির পরিবেশকেরা স্বাভাবিকভাবেই এতে আপত্তি তুলছেন। তাঁদের যুক্তি—প্রাইম টাইম ছাড়া বড় ছবির ব্যবসা সম্ভব নয়।


‘অনুযোগ’ থেকে ‘ব্যুমেরাং’?

খবরের সূত্র বলছে, কিছু হলমালিক উৎসবের সময়ে পুরোপুরি বাংলা ছবির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বড় বাজেটের হিন্দি ছবি তাঁরা নেননি। কিন্তু উৎসবের পরে যখন বাংলা ছবির সংখ্যা কমে গেল, তখন সেই হলগুলিতে হিন্দি ছবি দিতে নাকি অনীহা দেখিয়েছেন পরিবেশকেরা।

হলমালিকেরা ছবি চাইতে গেলে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে—“বাংলা ছবির পাশে দাঁড়ান”। এই অভিযোগ কতটা সত্য, তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। তবে কয়েকজন হলমালিক তাঁদের অসুবিধার কথা খোলাখুলি জানিয়েছেন।


শো কমে দুটো: সিঙ্গল স্ক্রিনের আক্ষেপ

শহরের প্রাচীন সিঙ্গল স্ক্রিন হলগুলির মধ্যে অন্যতম বিনোদিনী (সাবেক স্টার থিয়েটার)। মালিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগে দিনে চারটি শো চলত। এখন তা কমে দুটো হয়েছে। কারণ, পর্যাপ্ত নতুন বাংলা ছবি নেই।

হলের রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুতের বিল, কর্মীদের বেতন—সব মিলিয়ে ব্যয় বিপুল। শো কমলে আয় কমে যায়। তিনি স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতির সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন। প্রশ্ন তুলেছেন—চারটি শো চালাতে এখন কোন বাংলা ছবি দেখাবেন?

এই প্রশ্নই আজ অনেক সিঙ্গল স্ক্রিন মালিকের।


মাল্টিপ্লেক্স বনাম সিঙ্গল স্ক্রিন

মাল্টিপ্লেক্সে একাধিক স্ক্রিন থাকায় ভারসাম্য রাখা তুলনামূলক সহজ। একটি স্ক্রিনে বাংলা, অন্যটিতে হিন্দি—সমস্যা কম। কিন্তু সিঙ্গল স্ক্রিন হলে বিকল্প সীমিত।

অরিজিৎ দত্ত, নবীন চৌখানি, বিদিশা বসু—এই মালিকেরা জানিয়েছেন, এখনও চূড়ান্ত সংকটে পড়েননি। তবে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। উৎসবের সময় বাংলা ছবির ভিড়, আর উৎসবের পর ছবির অভাব—এই ওঠানামা ব্যবসার পক্ষে বিপজ্জনক।


ব্যবসার অঙ্ক

সিনেমা হল চালানো সহজ নয়। বিদ্যুৎ, এয়ার কন্ডিশনিং, প্রোজেকশন সিস্টেম, আসন রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা, কর্মী—সব মিলিয়ে মাসিক ব্যয় বিশাল। একটি শো বন্ধ মানেই সম্ভাব্য আয়ের ক্ষতি।

যদি প্রাইম টাইমে বাংলা ছবি দর্শক না টানে, তাহলে ক্ষতির মুখে পড়েন হলমালিক। আবার প্রাইম টাইম না দিলে সরকারি নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠতে পারে।

এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে ভারসাম্য রাখা কঠিন।


পরিবেশকদের যুক্তি

হিন্দি ছবির পরিবেশকদের বক্তব্য—তাঁদের ছবির জন্য বাংলাও গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বড় বাজেটের ছবি মুক্তির সময় সর্বত্র সমান গুরুত্ব প্রয়োজন। যদি প্রাইম টাইম না মেলে, তাহলে ব্যবসায় ক্ষতি হয়।

তাঁদের প্রশ্ন—বাংলা ছবির উন্নয়ন কি অন্য ভাষার ছবিকে কোণঠাসা করে?


স্ক্রিনিং কমিটির ভূমিকা

রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী উৎসবের সময়ে কতগুলি বাংলা ছবি মুক্তি পাবে তা নির্ধারণ করে স্ক্রিনিং কমিটি। জানা গিয়েছে, একটি সিনে ক্যালেন্ডার তৈরি করা হয়েছে, যাতে মুক্তির সময়সূচি নির্দিষ্ট থাকে।

তবে প্রযোজকেরা অনেক সময় উৎসবেই মুক্তি চাইছেন। ফলে ভিড় বাড়ছে নির্দিষ্ট সময়ে।


দর্শকের ভূমিকা কোথায়?

শেষ পর্যন্ত সিনেমা ব্যবসা দাঁড়িয়ে দর্শকের উপর। দর্শক যদি বাংলা ছবি দেখতে চান, হল ভরবে। কিন্তু যদি ছবির মান দুর্বল হয়, তাহলে প্রাইম টাইম দিয়েও লাভ হবে না।

উৎসবের পর যখন দর্শক সংখ্যা কমে, তখন ছবির মানই হয়ে ওঠে মুখ্য।


শিল্প বনাম ব্যবসা

এই বিতর্কের মূলে রয়েছে শিল্প রক্ষা বনাম মুক্ত বাজার। বাংলা ছবিকে বাঁচাতে প্রাইম টাইম নিশ্চিত করা প্রয়োজন—এ কথা অনেকেই মানেন। কিন্তু একই সঙ্গে হলমালিকদের ব্যবসায়িক বাস্তবতাও অস্বীকার করা যায় না।

যদি হলই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ছবি দেখাবেন কোথায়?


সামনে কী?

শোনা যাচ্ছে, কিছু হলমালিক ভাল বাংলা ছবি না পেলে সাময়িকভাবে হল বন্ধ রাখার কথাও ভাবছেন। পরিস্থিতি জটিল হলে প্রযোজক, পরিবেশক ও হলমালিক—তিন পক্ষকেই আলোচনায় বসতে হবে।

সমাধান হতে পারে সারা বছরে সমান হারে ছবিমুক্তি, উৎসবের ভিড় কমানো, এবং প্রাইম টাইমের ক্ষেত্রে নমনীয় নীতি।

টলিউডের আর্থিক বাস্তবতা: সংখ্যার অঙ্কে সংকট

বাংলা ছবির বাজার তুলনামূলক ছোট—এ কথা নতুন নয়। মুম্বই-কেন্দ্রিক বলিউড যেখানে সর্বভারতীয় বাজারকে লক্ষ্য করে, সেখানে টলিউডের প্রধান ভরসা পশ্চিমবঙ্গ এবং কিছুটা বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাঙালি দর্শক। ফলে আয়তনেই দুই শিল্পের মধ্যে তফাৎ বিশাল।

একটি বড় বাজেটের হিন্দি ছবি সারা দেশে হাজার হাজার স্ক্রিনে মুক্তি পায়। বিপরীতে, বাংলা ছবির মুক্তির স্ক্রিন সংখ্যা অনেক কম। এই সীমিত বাজারে যদি উৎসবের সময় একসঙ্গে একাধিক বাংলা ছবি মুক্তি পায়, তবে তারা নিজেদের মধ্যেই প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রত্যেকের ব্যবসাই ভাগ হয়ে যায়।

প্রাইম টাইম শো—সাধারণত সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে—সবচেয়ে বেশি দর্শক টানে। টিকিট বিক্রির বড় অংশ এই সময় থেকেই আসে। ফলে এই সময়ের শো নিয়ে টানাপড়েন স্বাভাবিক।

কিন্তু প্রশ্ন হল—প্রাইম টাইমে জায়গা পেলেই কি ছবি চলবে? নাকি ছবির মান, প্রচার এবং তারকার উপস্থিতিই আসল নির্ধারক?


উৎসব-কেন্দ্রিক মুক্তির প্রবণতা

বাংলা ছবির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রবণতা দেখা যায়—দুর্গাপুজো বা বড়দিনকে কেন্দ্র করে মুক্তির ঝোঁক। প্রযোজকেরা মনে করেন, এই সময় দর্শক হলমুখী হন বেশি। পারিবারিক পরিবেশ, ছুটির আবহ—সব মিলিয়ে সিনেমা দেখার উপযুক্ত সময়।

কিন্তু এর ফল কী হচ্ছে?

ফলে অনেক সময়ই কোনও ছবিই প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে পারে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সারা বছরে মুক্তি সমান ভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে প্রতিটি ছবিই পর্যাপ্ত সময় পাবে দর্শকের কাছে পৌঁছতে।


হলমালিকদের ‘দুই দিকের চাপ’

হলমালিকেরা একদিকে সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য। অন্যদিকে তাঁদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার দায়ও রয়েছে।

একটি সিঙ্গল স্ক্রিন হলে সাধারণত ৩০০ থেকে ৮০০ আসন থাকে। যদি একটি প্রাইম টাইম শো-তে গড়ে ৫০% আসনও ভরে, তবেই কিছুটা লাভের মুখ দেখা যায়। কিন্তু যদি দর্শক সংখ্যা ২০-২৫%-এ নেমে আসে, তাহলে সেই শো কার্যত লোকসানের।

উৎসবের সময় বাংলা ছবি চললেও উৎসব-পরবর্তী সময়ে যদি নতুন ছবি না থাকে, তাহলে পুরনো ছবি চালিয়ে দর্শক টানা কঠিন। তখন হিন্দি ছবির দিকে ঝুঁকতে হয়।

যদি সেই সময় পরিবেশকেরা সহযোগিতা না করেন, তাহলে হলমালিকের সামনে বিকল্প কমে যায়।

এই পরিস্থিতিকেই অনেকে বলছেন ‘ব্যুমেরাং’ প্রভাব।


সম্পর্কের রাজনীতি

চলচ্চিত্র ব্যবসা শুধু অঙ্কের খেলা নয়—এটি সম্পর্কের শিল্পও। প্রযোজক, পরিবেশক, হলমালিক—তিন পক্ষের পারস্পরিক বোঝাপড়াই বাজারকে সচল রাখে।

যদি কোনও পক্ষ মনে করে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, তাহলে সেই ক্ষোভ ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

অনেকে মনে করছেন, সমস্যার মূল জায়গা এখানেই। উৎসবের সময় ভারসাম্য রক্ষা না হলে পরবর্তী সময়ে সহযোগিতার অভাব দেখা দিতে পারে।


দর্শকের পছন্দের পরিবর্তন

বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থান সিনেমা হলের ব্যবসাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। দর্শক এখন ঘরে বসেই নতুন ছবি দেখতে অভ্যস্ত। ফলে হলমুখী দর্শক আগের তুলনায় কমেছে।

এই পরিস্থিতিতে হলমালিকদের জন্য প্রতিটি শো গুরুত্বপূর্ণ। যদি ছবির মান বা প্রচার দুর্বল হয়, তাহলে প্রাইম টাইম দিয়েও হল ভরানো যায় না।

দর্শক এখন বিষয়বস্তু-নির্ভর। গল্প, নির্মাণ, অভিনয়—এসবেই জোর বেশি। ভাষা দ্বিতীয়।

তাই শুধু নীতিগত সুরক্ষা দিয়ে শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন—গুণগত মানও সমান জরুরি।


বড় বাজেট বনাম কনটেন্ট-ড্রিভেন ছবি

বড় বাজেটের হিন্দি ছবি সাধারণত ব্যাপক প্রচার, তারকাবহুল কাস্ট এবং অ্যাকশন বা ভিএফএক্স নির্ভর। এগুলি প্রাইম টাইমে না পেলে ব্যবসায় প্রভাব পড়ে—এ যুক্তি পরিবেশকদের।

অন্যদিকে বাংলা ছবির অনেকগুলি কনটেন্ট-ড্রিভেন—গল্পনির্ভর। এদের ব্যবসা নির্ভর করে মুখে মুখে প্রচারের উপর।

এই দুই ধরনের ছবির ব্যবসায়িক কৌশল আলাদা। ফলে একই নীতিতে সবার জন্য সমান ফল নাও মিলতে পারে।


সরকারি নীতির সম্ভাব্য সংশোধন?

নীতিনির্ধারকদের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—

  • প্রাইম টাইমের বাধ্যতামূলক নিয়ম কি নমনীয় করা যায়?

  • উৎসবের সময় মুক্তির সংখ্যা কি সীমিত করা যায়?

  • বাংলা ছবির জন্য আলাদা প্রণোদনা কি দেওয়া যায়?

অনেকে প্রস্তাব দিয়েছেন—
১. সারা বছরের জন্য আগাম মুক্তির ক্যালেন্ডার বাধ্যতামূলক করা
২. উৎসবের সময় সর্বোচ্চ দুইটি বড় মুক্তি
৩. প্রাইম টাইম ভাগ করে নেওয়ার রোটেশন পদ্ধতি

এতে হয়তো ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে।


সিঙ্গল স্ক্রিনের ভবিষ্যৎ

এক সময় সিঙ্গল স্ক্রিন হলই ছিল সিনেমার প্রধান ভরসা। এখন মাল্টিপ্লেক্সের দাপটে তাদের সংখ্যা কমেছে।

যদি আর্থিক চাপ বাড়তেই থাকে, তাহলে আরও কিছু সিঙ্গল স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে বাংলা ছবিরই ক্ষতি—কারণ গ্রামীণ ও শহরতলির দর্শকের কাছে পৌঁছতে এই হলগুলিই কার্যকর।

তাই সিঙ্গল স্ক্রিন রক্ষা করা বাংলা শিল্পের স্বার্থেই জরুরি।


প্রযোজকদের দায়

শুধু নীতি নয়, প্রযোজকদেরও দায় রয়েছে।

  • পর্যাপ্ত প্রচার

  • মানসম্মত নির্মাণ

  • সঠিক মুক্তির সময় নির্বাচন

উৎসবের বাইরে সাহস করে মুক্তি দিলে হয়তো ছবির আয়ু বাড়বে।

সারা বছরে যদি সমানভাবে ছবি মুক্তি পায়, তাহলে হলমালিকদেরও ধারাবাহিক ব্যবসা নিশ্চিত হবে।

বাংলা ছবি বনাম হিন্দি ছবি—এই লড়াই নতুন নয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, শিল্প ও ব্যবসার ভারসাম্য না থাকলে সমস্যার সমাধান হবে না।

উৎসবের প্রাইম টাইমে বাংলা ছবি জায়গা পাক—এটা স্বাভাবিক দাবি। কিন্তু তার পরে হলমালিকেরা যেন ‘ভাঁড়ে মা ভবানী’ অবস্থায় না পড়েন, সে দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

টলিউডের অন্দরে এখন একটাই প্রশ্ন—পারস্পরিক সমঝোতায় কি মিলবে সমাধান? নাকি এই টানাপড়েন আরও গভীর হবে?

সময়ই বলবে, বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়।

Preview image