ভোরবেলা হঠাৎ বুকে ধড়ফড়, মাথা ঘোরা ও তীব্র ক্লান্তি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন শ্যামলবাবু। পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তাঁর রক্তের পিএইচ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম।
মুখে ঘা, বারবার গলা জ্বালা, বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তি — এই উপসর্গগুলো আমরা অনেক সময় আলাদা আলাদা সমস্যা বলে মনে করি। কখনও অ্যাসিডিটি, কখনও গ্যাস, আবার কখনও সাধারণ দুর্বলতা ভেবে উপেক্ষা করি। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্ত লক্ষণের নেপথ্যে একটি সাধারণ কারণ লুকিয়ে থাকতে পারে — শরীরের পিএইচ বা অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্যের গোলমাল।
পরামর্শে এন আর এস মেডিকেল কলেজের ইএনটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ ইন্দ্রনীল খাটুয়া জানাচ্ছেন, আজকের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও জল কম খাওয়ার প্রবণতার ফলে শরীরের ভিতরের রাসায়নিক ভারসাম্য ক্রমশ বিঘ্নিত হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে মুখগহ্বর থেকে শুরু করে গলা, শ্বাসযন্ত্র, হজম প্রক্রিয়া এমনকি হৃদযন্ত্রের উপরও।
এই প্রতিবেদনে জানব —
✔️ পিএইচ কী ও কেন গুরুত্বপূর্ণ
✔️ শরীরের পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট হলে কী কী সমস্যা দেখা দেয়
✔️ মুখের ঘা ও গলা জ্বালার সঙ্গে পিএইচ-এর সম্পর্ক
✔️ কীভাবে সহজ অভ্যাসে এই সমস্যাগুলি প্রতিরোধ করা যায়
ঘটনা ১: আচমকা অসুস্থতা ও পিএইচ-এর রহস্য
মঙ্গলবার ভোর। ঘুম ভেঙে যায় শ্যামলবাবুর বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা ও চরম ক্লান্তিতে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক পরীক্ষায় হার্ট অ্যাটাক বা বড় কোনও জটিলতার লক্ষণ মেলেনি। কিন্তু রক্ত পরীক্ষায় দেখা যায়, তাঁর রক্তের পিএইচ স্বাভাবিক মাত্রার থেকে কিছুটা কম।
চিকিৎসকেরা জানান, দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ভাজাভুজি ও অ্যাসিডিক খাবার, সঙ্গে জল কম খাওয়ার ফলে শরীরের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে হৃদযন্ত্রের গতি ও স্নায়ুতন্ত্রে।
শ্যামলবাবুর ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা শুরু হওয়ায় বড় বিপদ এড়ানো গেছে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের সমস্যা আজকাল ক্রমশ বাড়ছে, বিশেষ করে শহুরে জীবনযাত্রায়।
ঘটনা ২: মুখের ঘা ও গলা জ্বালার পিছনের কারণ
অন্যদিকে, তরুণী অবন্তিকা দীর্ঘদিন ধরে মুখে ঘা, গলা জ্বালা ও মাঝে মাঝে স্বর ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘরোয়া টোটকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করেও কোনও স্থায়ী সমাধান হচ্ছিল না।
শেষমেশ ইএনটি বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে জানা যায়, তাঁর মুখগহ্বর ও গলার পিএইচ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি অ্যাসিডিক হয়ে গেছে। পাকস্থলীর অ্যাসিড উপরের দিকে উঠে এসে মুখ ও গলার শ্লৈষ্মিক আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর ফলেই ঘা, জ্বালা ও সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে।
পিএইচ কী? সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা
পিএইচ-এর পুরো নাম Potential of Hydrogen বা Power of Hydrogen। এটি কোনও দ্রবণের অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের মাত্রা বোঝায়।
পিএইচ স্কেল সাধারণত ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত হয়।
| ৭-এর নিচে | অ্যাসিডিক |
| ৭ | নিরপেক্ষ |
| ৭-এর উপরে | ক্ষারীয় |
মানুষের শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ ও তরলের জন্য নির্দিষ্ট পিএইচ থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে রক্তের পিএইচ সাধারণত ৭.৩৫ থেকে ৭.৪৫-এর মধ্যে থাকা দরকার। সামান্য হেরফের হলেও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব পড়তে পারে।
ডাঃ ইন্দ্রনীল খাটুয়ার কথায়,
“পিএইচ ঠিক না থাকলে এনজাইম কাজ করতে পারে না, কোষে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলেই একের পর এক শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।”
পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট হলে কী ঘটে?
অ্যাসিডোসিস (Acidosis)
যখন রক্তের পিএইচ ৭.৩৫-এর নিচে নেমে যায়, তখন তাকে অ্যাসিডোসিস বলা হয়।
এর সম্ভাব্য কারণ —
ডায়াবেটিস
কিডনির সমস্যা
শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত অসুখ
অতিরিক্ত অ্যাসিডিক খাবার গ্রহণ
দীর্ঘদিন জল কম খাওয়া
লক্ষণ:
ক্লান্তি
মাথা ঘোরা
বমি ভাব
শ্বাসকষ্ট
হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
অ্যালকালোসিস (Alkalosis)
যখন রক্তের পিএইচ ৭.৪৫-এর উপরে চলে যায়, তখন তাকে অ্যালকালোসিস বলা হয়।
এর কারণ হতে পারে —
অতিরিক্ত বমি
বেশি অ্যান্টাসিড গ্রহণ
ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা
লক্ষণ:
পেশিতে খিঁচুনি
মাথা ঘোরা
অস্থিরতা
হৃদস্পন্দনে গোলমাল
রক্ত কীভাবে পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করে?
শরীর অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে রক্তের পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করে তিনটি প্রধান ব্যবস্থার মাধ্যমে —
বাফার সিস্টেম
রক্তে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ সাময়িকভাবে অ্যাসিড বা ক্ষার শোষণ করে পিএইচ-এর হঠাৎ ওঠানামা ঠেকায়।
ফুসফুস
শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে দিয়ে শরীরের অম্লত্ব কমাতে সাহায্য করে।
কিডনি
কিডনি অতিরিক্ত অ্যাসিড বা ক্ষার প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়।
এই তিনটি ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করেই শরীরের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু দীর্ঘদিন ভুল জীবনযাপন হলে এই ব্যবস্থাগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে।
মুখগহ্বরে পিএইচ-এর ভূমিকা
আমরা অনেকেই জানি না যে মুখের ভিতরের পরিবেশও একটি নির্দিষ্ট পিএইচ বজায় রাখে। সাধারণত মুখগহ্বরের স্বাভাবিক পিএইচ থাকে প্রায় ৬.৫ থেকে ৭.৫-এর মধ্যে।
কিন্তু কিছু অভ্যাস এই ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় —
অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার
সফট ড্রিঙ্কস ও এনার্জি ড্রিঙ্ক
অতিরিক্ত কফি ও মদ্যপান
ঘন ঘন স্ন্যাকস খাওয়া
দাঁতের ঠিকমতো পরিষ্কার না রাখা
এই সবের ফলে মুখের পিএইচ অ্যাসিডিক হয়ে যায়। তখন মুখের ভিতরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
দাঁতের এনামেল ক্ষয়
ক্যাভিটি বা গর্ত তৈরি
মাড়ির রোগ
মুখে দুর্গন্ধ
মুখে ঘা ও জ্বালা
লালারসের ভূমিকা ও জল খাওয়ার গুরুত্ব
লালারস মুখের পিএইচ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মুখের ভিতরের অ্যাসিড নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে এবং ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমায়।
কিন্তু জল কম খেলে বা শরীর ডিহাইড্রেটেড হলে —
লালারস কমে যায়
মুখ শুকিয়ে যায়
সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়
ঘা ও আলসার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে
ডাঃ খাটুয়ার মতে,
“অনেকেই মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা দুর্গন্ধকে তুচ্ছ সমস্যা মনে করেন। কিন্তু এগুলি আসলে শরীরের ভিতরের পিএইচ ভারসাম্য বিগড়ে যাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।”
নাক-কান-গলা অঞ্চলে পিএইচ-এর প্রভাব
মুখের পিছনে অবস্থিত ফ্যারিংক্স এবং ল্যারিংক্স বা স্বরযন্ত্রেও একটি নির্দিষ্ট পিএইচ বজায় থাকা জরুরি। সাধারণত এই অংশগুলির পিএইচ থাকে প্রায় ৭.০ থেকে ৮.০-এর মধ্যে।
কিন্তু যখন পাকস্থলীর অ্যাসিড উপরের দিকে উঠে আসে, তখন এই অঞ্চলের পিএইচ আচমকা কমে যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় —
ল্যারিঙ্গোফ্যারিঞ্জিয়াল রিফ্লাক্স (LPR)
এতে দেখা দিতে পারে —
দীর্ঘক্ষণ কাশি
গলা ভেঙে যাওয়া
কথা বলতে সমস্যা
গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি
বারবার গলা পরিষ্কার করার প্রবণতা
দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে হতে পারে —
ফ্যারিঞ্জাইটিস
ল্যারিঞ্জাইটিস
ভোকাল কর্ডে সিস্ট বা নডিউল
এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে
মুখের ঘা-আলসারের সঙ্গে পিএইচ-এর সম্পর্ক
মুখের ভিতরে ছোট ছোট যন্ত্রণাদায়ক ঘা বা আলসার হওয়া খুব সাধারণ সমস্যা। কিন্তু যখন এগুলি বারবার হয় বা দীর্ঘদিন সারে না, তখন এর নেপথ্যে পিএইচ ভারসাম্যহীনতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
অতিরিক্ত অ্যাসিডিক পরিবেশে —
মুখের শ্লৈষ্মিক আবরণ দুর্বল হয়ে পড়ে
ছোট ক্ষত সহজে তৈরি হয়
সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে
ঘা সারতে দেরি হয়
বিশেষ করে যাঁরা —
খুব ঝাল ও ভাজা খাবার খান
অতিরিক্ত চা-কফি পান করেন
জল কম খান
ধূমপান বা মদ্যপান করেন
তাঁদের ক্ষেত্রে মুখের ঘা হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যায়।
হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রে পিএইচ-এর প্রভাব
শ্যামলবাবুর ঘটনার মতো, রক্তের পিএইচ সামান্য কমে গেলেও হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে, বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
কারণ —
পিএইচ পরিবর্তনে হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যাহত হয়
রক্তে অক্সিজেন পরিবহন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়
স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়
অনেক সময় এগুলিকে আমরা প্যানিক অ্যাটাক বা সাধারণ দুর্বলতা বলে ধরে নিই। কিন্তু রক্তের পিএইচ পরীক্ষা করলে প্রকৃত কারণ ধরা পড়তে পারে।
পিএইচ-এর তারতম্য বোঝার উপায়
যদি নিচের উপসর্গগুলি নিয়মিত দেখা যায়, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি —
মুখে বারবার ঘা
মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা দুর্গন্ধ
দীর্ঘদিন গলা জ্বালা বা স্বর পরিবর্তন
বুক ধড়ফড়
মাথা ঘোরা
অস্বাভাবিক ক্লান্তি
বারবার অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা
এই ক্ষেত্রে অবশ্যই —
✔️ ইএনটি চিকিৎসক
✔️ গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট
✔️ অথবা মেডিসিন বিশেষজ্ঞের
পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২৪ ঘণ্টার পিএইচ মনিটরিং পরীক্ষা
এই পরীক্ষার মাধ্যমে পাকস্থলীর অ্যাসিড উপরের দিকে উঠে আসছে কি না এবং গলা বা খাদ্যনালিতে পিএইচ কতটা পরিবর্তিত হচ্ছে, তা নির্ণয় করা যায়।
খাদ্যাভ্যাসে কী পরিবর্তন আনলে পিএইচ ঠিক থাকবে?
ডাঃ ইন্দ্রনীল খাটুয়ার মতে, খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেই শরীরের পিএইচ ভারসাম্যের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
যা খাবেন বেশি
পর্যাপ্ত জল (দিনে অন্তত ২.৫–৩ লিটার)
সবুজ শাকসবজি
ফলমূল (বিশেষ করে কলা, আপেল, পেয়ারা, তরমুজ)
দই ও প্রোবায়োটিক খাবার
ভাত, ওটস, হোল গ্রেন
যা কম খাবেন
অতিরিক্ত ভাজা ও ঝাল খাবার
সফট ড্রিঙ্কস ও কার্বোনেটেড পানীয়
অতিরিক্ত কফি ও চা
ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার
মদ্যপান ও ধূমপান
মুখের পরিচ্ছন্নতা ও পিএইচ ভারসাম্য
মুখের পিএইচ ঠিক রাখতে শুধু খাবার নয়, মুখের পরিচ্ছন্নতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
✔️ দিনে অন্তত দু’বার দাঁত মাজুন
✔️ ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করুন
✔️ খাবারের পর মুখ কুলি করুন
✔️ অতিরিক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
✔️ নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ করান
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মাউথওয়াশ অতিরিক্ত অ্যাসিডিক বা অ্যালকোহলযুক্ত হলে মুখের স্বাভাবিক পিএইচ নষ্ট করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন কোনও বিশেষ মাউথওয়াশ ব্যবহার না করাই ভালো।
জীবনযাপনে কোন অভ্যাসগুলি জরুরি?
পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখতে ও মুখ-গলা সংক্রান্ত সমস্যা প্রতিরোধে কিছু সহজ অভ্যাস বড় ভূমিকা নিতে পারে —
✔️ নিয়মিত শরীরচর্চা
✔️ পর্যাপ্ত ঘুম
✔️ স্ট্রেস কমানো
✔️ সময়মতো খাওয়া
✔️ জল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা
স্ট্রেস বাড়লে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা হজম প্রক্রিয়া ও অ্যাসিড নিঃসরণে প্রভাব ফেলে। তাই মানসিক সুস্থতাও পিএইচ ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কখন অবহেলা করবেন না?
নিচের লক্ষণগুলি দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত —
মুখের ঘা ২ সপ্তাহেও না সারলে
গলা জ্বালা বা স্বর ভেঙে যাওয়া দীর্ঘদিন চললে
বুক ধড়ফড়ের সঙ্গে মাথা ঘোরা হলে
গিলতে কষ্ট হলে
হঠাৎ ওজন কমে গেলে
মুখে রক্তপাত বা অস্বাভাবিক ক্ষত দেখা দিলে
কারণ অনেক সময় সাধারণ সমস্যা থেকেও বড় জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সহজেই প্রতিরোধযোগ্য।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
ডাঃ ইন্দ্রনীল খাটুয়া বলেন,
“মুখের শুষ্কতা, দুর্গন্ধ, বারবার গলা ব্যথা বা স্বরের পরিবর্তন কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। এগুলি শরীরের ভিতরের রাসায়নিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জল পান ও সময়মতো চিকিৎসাই পারে বড় বিপদ ঠেকাতে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে শহুরে জীবনে দ্রুত খাবার, দেরিতে ঘুম, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ও স্ট্রেসের কারণে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ও পিএইচ সংক্রান্ত সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। তাই সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।