Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অনেক শিশুর সর্দি কাশিতে কষ্টও পায় শীতে অ্যালার্জি শ্বাসকষ্ট বাড়ে কীভাবে সুস্থ রাখবেন

শীতকালে ঠান্ডা লাগলে শিশুর শ্বাসনালিতে মিউকাস জমে সর্দি ও গলা বসে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে, সেই সাথে চোখে জ্বালা এবং কনজাঙ্কটিভাইটিসও হতে পারে। শীতকালীন অ্যালার্জি থেকে শিশুকে সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত সর্দি-কাশি ম্যানেজমেন্ট, হালকা গরম পানি খাওয়ানো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ঠান্ডা থেকে দূরে রাখা উচিত।

শীতকাল আসতেই শিশুরা নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করে, বিশেষ করে যারা শীতের সময় অ্যালার্জির সমস্যায় আক্রান্ত থাকে তাদের জন্য এটি আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়া শ্বাসনালীকে আঘাত করে এবং এর ফলে অনেক শিশুর শ্বাসনালিতে মিউকাস জমে সর্দি, গলা বসে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। শিশুর শ্বাসনালী যখন শুষ্ক হয়ে যায় তখন সর্দি ও কাশি বাড়তে থাকে এবং গলা বসে যাওয়ার সমস্যা সৃষ্টি হয়। এছাড়া শীতের সময় চোখে জ্বালা, অশ্রু পড়া এবং কনজাঙ্কটিভাইটিসের মতো চোখের প্রদাহও সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

শীতকালে অ্যালার্জি সাধারণত শ্বাসনালী এবং চোখে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি ত্বকে র‌্যাশ এবং অন্যান্য সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। ঠান্ডা পরিবেশে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার কারণে শিশুর ত্বকে চুলকানি এবং র‌্যাশ দেখা দিতে পারে যা তাদের অসুবিধায় ফেলে। এসময় শিশুর শ্বাসনালী এবং ত্বক সংক্রমণ বা অ্যালার্জির কবলে পড়তে পারে।

এই সময়ে সঠিক নিয়ম মেনে চলা মা-বাবার জন্য অত্যন্ত জরুরি। শিশুকে শীতকালীন অ্যালার্জি থেকে রক্ষা করার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। প্রথমত, শিশুকে ঠান্ডা থেকে রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালে পোষাকের মাধ্যমে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখা উচিত এবং শ্বাসনালিকে ঠান্ডা বা গরমের পরিবর্তন থেকে রক্ষা করতে হবে। শিশুর ঘরটি পরিষ্কার রাখতে হবে যাতে ধূলিকণা, পোকামাকড়, পোষ্যের লোম এবং ফুলের রেণুর মতো অ্যালার্জেন কমে যায়।

এছাড়া শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়ানোর মাধ্যমে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা এবং শ্বাসনালী শুষ্ক হওয়ার ঝুঁকি কমানো উচিত। মা-বাবাদের শিশুর খাবারে ভিটামিন সি এবং অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান নিশ্চিত করতে হবে যাতে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকে। শীতকালে অ্যালার্জির সমস্যা যদি অনেক বেশি হয়ে যায় তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ চিকিৎসা ছাড়া শিশুর সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।

শীতকালে শিশুর সুস্থতা বজায় রাখতে এবং অ্যালার্জির সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মায়ের তত্ত্বাবধানে শিশুকে সঠিক যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শীতকালে অনেক শিশু শ্বাসকষ্ট সর্দি কাশির মতো সমস্যায় আক্রান্ত হয়। এর প্রধান কারণ হল ঠান্ডা আবহাওয়া যা শ্বাসনালীকে আঘাত করে। ঠান্ডা আবহাওয়া শ্বাসনালীকে শুষ্ক করে দেয় এবং মিউকাস জমে যাওয়ার ফলে সর্দি কাশির সমস্যা সৃষ্টি হয়। শীতকালে গরম ঠান্ডা পরিবেশের মধ্যে পরিবর্তনও শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে এবং অ্যালার্জি সৃষ্টি হয়। এসময় শিশুর শরীর ঠান্ডার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না এবং অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা হাঁপানি সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়া ঘরের ভিতরে জমে থাকা ধুলো পোকামাকড় পোষ্যের লোম ফুলের রেণু এবং বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা শিশুর অ্যালার্জির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে পোষ্যের লোম এবং ধুলিকণা শ্বাসনালিতে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করতে পারে। শীতকালেই বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায় এবং ঠান্ডা হাওয়ার কারণে শিশুর শ্বাসনালী শুষ্ক হয়ে যায়। শ্বাসনালী শুষ্ক হলে শিশুর শ্বাসে সমস্যা হয় এবং তা সর্দি কাশির প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।

শীতকালে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা অপর্যাপ্ত থাকতে পারে যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে শ্বাসনালী ও ত্বকেও অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে এবং শিশু সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। শীতকালে এই ধরনের সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শিশুর শ্বাসকষ্ট সর্দি কাশির জন্য সঠিক চিকিৎসা এবং বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শীতের সময়ে অ্যালার্জি মূলত দুইটি জায়গায় বেশি প্রভাব ফেলে: শ্বাসনালি ও ত্বক।
শ্বাসকষ্ট ও সর্দি: শীতকালে শিশুর শ্বাসনালীতে মিউকাস জমে সর্দি, গলা বসে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে। এই সময় কাশি এবং শ্বাসকষ্টও বাড়ে।
চোখের সমস্যা: চোখে জ্বালা বা কনজাঙ্কটিভাইটিস দেখা দিতে পারে। এটি একধরনের চোখের প্রদাহ যা শিশুর চোখে লাল ভাব সৃষ্টি করে এবং খুব খারাপ লাগে।
 ত্বকে র‌্যাশ: শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে র‌্যাশ হতে পারে। এতে শিশুর ত্বকে চুলকানি এবং ক্ষতও হতে পারে।

অ্যালার্জি থেকে শিশুকে সুস্থ রাখার উপায়

শীতকালীন অ্যালার্জি থেকে শিশুকে সুস্থ রাখার জন্য কিছু সহজ কিন্তু কার্যকরী নিয়ম মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চলুন জেনে নিই সেই নিয়মগুলো:

 ঠান্ডা থেকে শিশুকে রক্ষা করুন

শীতকালে শিশুকে ঠান্ডা লাগানো থেকে পুরোপুরি বিরত রাখতে হবে। ঠান্ডা পড়লেই পাখা বন্ধ রাখুন বা গতি কমিয়ে রাখুন, এসি চালানো থেকে বিরত থাকুন। ছোট বয়সে অনেক শিশুর কম বয়সে গরমের ধাত এবং ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ধাত একসঙ্গে থাকে। এই সময়ে পোষাকগুলোও সঠিকভাবে পরাতে হবে। শীতের সময় এমন পোশাক পরাবেন যা তাদের শরীরের তাপমাত্রাকে সঠিক রাখতে সহায়তা করবে।

ইনহেলার রাখুন

যদি শিশুর হাঁপানি বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিস থাকে তবে এক্ষেত্রে ইনহেলার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে নিয়মিত ইনহেলার নিতে হবে যাতে শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি সমস্যা বেশি না বাড়ে।

 ভিটামিন সি যুক্ত খাবার দিন

news image
আরও খবর

শীতকালীন অ্যালার্জি কমানোর জন্য ভিটামিন সি যুক্ত ফল, মরসুমি সবজি শিশুকে খাওয়ান। এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং শ্বাসকষ্ট বা সর্দি-কাশির প্রকোপ কমায়। এছাড়া শিশুকে জাঙ্ক ফুড বা তেলমশলার খাবার থেকে দূরে রাখুন।

 বাড়িতে ধূমপান থেকে বিরত থাকুন

বাড়িতে ধূমপান করবেন না। ধূমপান শিশুর শ্বাসনালীতে সমস্যা বাড়িয়ে দেয় এবং অ্যালার্জির সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে। যতটা সম্ভব শিশুকে ধূমপানের কুপ্রভাব থেকে দূরে রাখতে হবে।

জল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন

শিশুকে ছোট থেকেই বেশি করে জল খাওয়ার অভ্যাস করান। পর্যাপ্ত পানি খেলে শিশুর শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। খাবারে আদা, গোলমরিচ, হলুদের মতো মশলার ব্যবহার বেশি করে করুন, যা শ্বাসকষ্ট কমাতে সহায়তা করবে।

 মাস্ক পরান

যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট বা ধুলো থেকে অ্যালার্জি থাকে তবে রাস্তায় বেরোনোর সময় মাস্ক পরান। এতে শিশুর শ্বাসনালীতে অ্যালার্জেন প্রবেশ করতে পারবে না এবং সর্দি-কাশির প্রকোপ কমবে।

হেপা ফিল্টারযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন

শিশুর অ্যালার্জির সমস্যা শীতকালে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সময় ঠান্ডা আবহাওয়া এবং শ্বাসনালির শুষ্কতা অ্যালার্জির সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। শিশুদের শ্বাসনালী ও ত্বকে অ্যালার্জি বেশি দেখা যায় এবং শীতের কারণে এটি আরও তীব্র হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি, চোখের সমস্যা, ত্বকে র‌্যাশ, কনজাঙ্কটিভাইটিস দেখা দেয়। শিশুদের এই ধরনের অ্যালার্জির সমস্যা থেকে রক্ষা করতে মা-বাবাকে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

যদি শিশুর অ্যালার্জির সমস্যা বেশি হয় তবে বাড়িতে হেপা ফিল্টারযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি বাতাসে ভেসে থাকা ধূলিকণা এবং অ্যালার্জেন দূর করে বাতাসকে পরিষ্কার রাখে। এটি শিশুর শ্বাসনালীতে প্রবাহিত অ্যালার্জেন এবং ধূলিকণা কমিয়ে আনে এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা অনেকটা হ্রাস করে। তবে যদি উপরের সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরও শিশুর শ্বাসকষ্ট, সর্দি বা চোখের সমস্যা বৃদ্ধি পায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক সময় অ্যালার্জি বাড়তে পারে এবং চিকিৎসা ছাড়া সঠিকভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না।

শীতকালীন অ্যালার্জি থেকে শিশুকে সুস্থ রাখার জন্য মা-বাবাকে অবশ্যই কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রথমত, শিশুকে সঠিক পুষ্টি প্রদান করা উচিত। শীতকালীন খাবারে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল এবং মরসুমি সবজি দেওয়া জরুরি। এগুলি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং শ্বাসকষ্ট কমাতে সহায়তা করে।

এছাড়া শিশুকে শীত থেকে রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ঠান্ডা থেকে শিশুকে দূরে রাখতে হবে। বিশেষ করে ঠান্ডা আবহাওয়া বা গরম-ঠান্ডা পরিবেশের মধ্যে দ্রুত পরিবর্তন শিশুর শরীরে অ্যালার্জির প্রবণতা বাড়াতে পারে। তাই পোষাকের মাধ্যমে শিশুকে সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখার চেষ্টা করুন।

হালকা গরম পানি শিশুকে খাওয়ানোও উপকারী হতে পারে। এটি শ্বাসনালীকে শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে এবং সর্দি কাশির প্রকোপ কমায়। শিশুর ঘরে ধূমপান নিষিদ্ধ করতে হবে, কারণ ধূমপান শিশুর শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দেয় এবং অ্যালার্জির সমস্যা আরও বাড়ায়।

এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে শিশুর শীতকালীন অ্যালার্জি সমস্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। শিশুর শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জি সমস্যা যদি খুব গুরুতর হয়ে যায়, তবে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত যাতে শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করা যায়।

Preview image