বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কফি ব্র্যান্ড স্টারবাক্স তাদের শীর্ষ প্রযুক্তি নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনল। সংস্থাটি ঘোষণা করেছে যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অ্যামাজনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা অনন্দ ভারাদারাজনকে নতুন এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এই নিয়োগ আন্তর্জাতিক কর্পোরেট জগতে ভারতীয় প্রতিভার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে আবারও স্পষ্ট করে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিনির্ভর রিটেল ব্যবসায় যিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, সেই অনন্দ ভারাদারাজনের অভিজ্ঞতাকেই এবার কাজে লাগাতে চাইছে স্টারবাক্স।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কফি ব্র্যান্ড Starbucks আবারও প্রমাণ করল—প্রযুক্তি ও নেতৃত্বের দুনিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত পেশাদারদের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন কফি জায়ান্টটি সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং অ্যামাজনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা অনন্দ ভারাদারাজন-কে সংস্থার নতুন Executive Vice President (EVP) এবং Chief Technology Officer (CTO) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
এই নিয়োগ শুধু একটি কর্পোরেট সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি ও রিটেল ইন্ডাস্ট্রিতে ভারতীয় প্রতিভার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের একটি বড় উদাহরণ।
অনন্দ ভারাদারাজন প্রায় দুই দশক ধরে অ্যামাজনে কাজ করেছেন এবং সেখানে তিনি প্রযুক্তি ও অপারেশনাল ব্যবস্থাপনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। বিশেষ করে অ্যামাজনের গ্লোবাল গ্রোসারি ও রিটেল প্রযুক্তি ব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বিশাল গ্রাহকভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে কীভাবে প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে তাঁর গভীর অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতাই স্টারবাক্সের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত রূপান্তরে বড় সহায়ক হবে বলে মনে করছে সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্ব।
স্টারবাক্স বর্তমানে শুধুমাত্র একটি কফি বিক্রেতা সংস্থা নয়, বরং এটি একটি প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক রিটেল ব্র্যান্ড। বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার স্টোর, কোটি কোটি গ্রাহক এবং শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংস্থাটি প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডেটা ও লেনদেন পরিচালনা করে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার, ডিজিটাল পেমেন্ট, লয়ালটি প্রোগ্রাম, ডেলিভারি এবং ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলি এখন স্টারবাক্সের ব্যবসার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বিশাল প্রযুক্তি কাঠামোকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে তুলতেই নতুন CTO নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্টারবাক্সের নতুন দায়িত্বে অনন্দ ভারাদারাজন সংস্থার সামগ্রিক প্রযুক্তি কৌশল নির্ধারণ করবেন। স্টোর অপারেশন থেকে শুরু করে ডিজিটাল গ্রাহক অভিজ্ঞতা, সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি প্রয়োগ—সবকিছুর ওপরই তাঁর নজর থাকবে। তিনি সরাসরি সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে রিপোর্ট করবেন, যা থেকে স্পষ্ট যে প্রযুক্তি এখন স্টারবাক্সের ব্যবসায়িক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যামাজনের মতো সংস্থায় দীর্ঘদিন কাজ করার ফলে অনন্দ ভারাদারাজনের কাছে বড় স্কেলে প্রযুক্তি বাস্তবায়নের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজারে কীভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা যায়, তা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। স্টারবাক্সের ক্ষেত্রেও এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গ্রাহক পরিষেবা আরও দ্রুত, ব্যক্তিগত ও কার্যকর করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই নিয়োগ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পেশাদারদের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতাকেও তুলে ধরছে। ইতিমধ্যেই গুগল, মাইক্রোসফট, আইবিএমের মতো সংস্থায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইও ও শীর্ষ কর্মকর্তারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল স্টারবাক্সের মতো একটি বিশ্বব্যাপী পরিচিত ব্র্যান্ড। এতে ভারতীয় তরুণ প্রজন্মের জন্যও একটি স্পষ্ট বার্তা রয়েছে যে কঠোর পরিশ্রম, দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব।
স্টারবাক্সের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, সংস্থাটি প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহক অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে চায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং অটোমেশনের মাধ্যমে স্টোর পরিচালনা আরও দক্ষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এই সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনন্দ ভারাদারাজনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, স্টারবাক্সের নতুন CTO হিসেবে অনন্দ ভারাদারাজনের নিয়োগ শুধু একটি কর্পোরেট সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি প্রযুক্তি ও নেতৃত্বের দুনিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের একটি শক্তিশালী উদাহরণ। আগামী দিনে তাঁর নেতৃত্বে স্টারবাক্সের প্রযুক্তিগত রূপান্তর কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে বিশ্ব ব্যবসায়িক মহলের।
অনন্দ ভারাদারাজন একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ প্রযুক্তিবিদ, যিনি প্রায় দুই দশক ধরে অ্যামাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টে কাজ করেছেন। তার কর্মজীবনের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে—
বৃহৎ স্কেল টেক সিস্টেম ডিজাইন
গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন টেকনোলজি
গ্রোসারি ও রিটেল অটোমেশন
ক্লাউড, ডেটা এবং অপারেশনাল টেকনোলজি
অ্যামাজনে কাজ করার সময় তিনি এমন সব প্রযুক্তি প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেগুলি লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
স্টারবাক্স বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০টিরও বেশি দেশে হাজার হাজার স্টোর, ডিজিটাল অর্ডারিং, মোবাইল অ্যাপ, রিওয়ার্ড প্রোগ্রাম এবং সাপ্লাই চেইনের ওপর নির্ভর করে সংস্থার ব্যবসা।
বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জগুলো হল—
ডিজিটাল অর্ডার ও ডেলিভারি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ
স্টোর অপারেশন আরও স্মার্ট করা
AI ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করা
গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন আরও দক্ষ ও টেকনোলজি–ড্রিভেন করা
সাইবার সিকিউরিটি ও ডেটা সুরক্ষা জোরদার করা
এই সব লক্ষ্য পূরণে একজন অভিজ্ঞ, গ্লোবাল স্কেলে কাজ করা প্রযুক্তি নেতার প্রয়োজন ছিল—আর সেখানেই অনন্দ ভারাদারাজনের নাম উঠে আসে।
স্টারবাক্সে CTO হিসেবে অনন্দ ভারাদারাজনের দায়িত্ব হবে অত্যন্ত বিস্তৃত ও গুরুত্বপূর্ণ।
তার মূল দায়িত্বগুলির মধ্যে থাকবে—
স্টারবাক্সের সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত রোডম্যাপ নির্ধারণ
স্টোর, অ্যাপ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের টেক ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নয়ন
কফি সাপ্লাই চেইনে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ
AI, Machine Learning ও Automation ব্যবহার
গ্রাহকের অভিজ্ঞতা আরও ব্যক্তিগত ও দ্রুত করা
বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি টিম পরিচালনা
তিনি সরাসরি স্টারবাক্সের CEO ব্রায়ান নিকল-কে রিপোর্ট করবেন, যা বোঝায় যে প্রযুক্তি এখন সংস্থার কৌশলগত সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে।
অনন্দ ভারাদারাজনের অ্যামাজন–অভিজ্ঞতা স্টারবাক্সের জন্য একটি বড় সম্পদ।
অ্যামাজনে তিনি যে সব ক্ষেত্রে কাজ করেছেন—
অনলাইন ও অফলাইন রিটেলের সমন্বয়
বিশাল গ্রাহক ডেটা পরিচালনা
ফাস্ট স্কেলিং সিস্টেম
গ্রোসারি ও ফুড সাপ্লাই চেইন
এই অভিজ্ঞতা স্টারবাক্সের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়, কারণ স্টারবাক্সও আজ শুধুমাত্র কফি বিক্রি করে না—
? তারা একটি ডিজিটাল রিটেল ইকোসিস্টেম।
অনন্দ ভারাদারাজনের এই নিয়োগ আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—
বিশ্বব্যাপী বড় বড় কর্পোরেট সংস্থার প্রযুক্তি ও নেতৃত্বের আসনে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে।
এর আগে আমরা দেখেছি—
সুন্দর পিচাই – Google
সত্য নাদেলা – Microsoft
অরবিন্দ কৃষ্ণ – IBM
লীনা নায়ার – Chanel
পরাগ আগরওয়াল – Twitter (প্রাক্তন)
এই তালিকায় এখন যুক্ত হল স্টারবাক্সের CTO হিসেবে অনন্দ ভারাদারাজনের নাম।
অনেকে ভাবেন স্টারবাক্স মানেই শুধু কফি। কিন্তু বাস্তবে স্টারবাক্স আজ একটি টেক–ড্রিভেন ফুড ও রিটেল কোম্পানি।
স্টারবাক্সের প্রযুক্তি ব্যবহারের কিছু উদাহরণ—
মোবাইল অ্যাপ দিয়ে অর্ডার ও পেমেন্ট
AI দিয়ে গ্রাহকের পছন্দ বিশ্লেষণ
রিওয়ার্ড ও লয়ালটি প্রোগ্রাম
স্মার্ট ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট
স্টোর লেভেলে ডেটা অ্যানালিটিক্স
এই জায়গাগুলিকে আরও উন্নত করাই হবে নতুন CTO–র মূল লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনন্দ ভারাদারাজনের নেতৃত্বে স্টারবাক্সে আমরা দেখতে পারি—
আরও স্মার্ট ও দ্রুত মোবাইল অ্যাপ
AI–ভিত্তিক পার্সোনালাইজড অফার
স্টোরে অটোমেশন ও রোবোটিক প্রসেস
ডেলিভারি ও পিক–আপ সিস্টেমের উন্নয়ন
পরিবেশবান্ধব টেকনোলজি প্রয়োগ
এই নিয়োগ ভারতীয় তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
এটি প্রমাণ করে—
ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থা থেকে উঠে আসা মেধা বিশ্ব নেতৃত্ব দিতে পারে
প্রযুক্তি ও ম্যানেজমেন্টে দক্ষতা থাকলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুযোগ মিলবেই
ধৈর্য, দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা ও শেখার মানসিকতা সাফল্যের চাবিকাঠি
স্টারবাক্সের নতুন CTO হিসেবে অনন্দ ভারাদারাজনের নিয়োগ শুধু একটি কর্পোরেট নিউজ নয়—
এটি প্রযুক্তি, নেতৃত্ব এবং ভারতীয় প্রতিভার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি শক্তিশালী বার্তা।
আগামী দিনে স্টারবাক্সের প্রযুক্তিগত রূপান্তরে অনন্দ ভারাদারাজনের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়, সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে গোটা বিশ্ব।