MCX সিস্টেম বিকল, SEBI চেয়ারম্যানের কড়া বার্তা — “একই ভুল বারবার সহ্য করা হবে না” ভারতের অন্যতম প্রধান কমোডিটি এক্সচেঞ্জ MCX (Multi Commodity Exchange) আবারও বড়সড় প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়েছে। ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ট্রেডিং চলাকালীন সময়ে হঠাৎ করেই সিস্টেম বিকল হয়ে যায় এবং প্রায় চার ঘণ্টারও বেশি সময় সমস্ত ট্রেডিং বন্ধ থাকে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Securities and Exchange Board of India (SEBI)-এর চেয়ারম্যান তুহিন কান্ত পাণ্ডে। তিনি বলেন, “জুলাই মাসেও একই ধরনের সমস্যা ঘটেছিল। এত গুরুত্বপূর্ণ এক্সচেঞ্জে বারবার সিস্টেম ব্যর্থতা অগ্রহণযোগ্য।” SEBI জানিয়েছে, বাজারের নিরবচ্ছিন্নতা ও বিনিয়োগকারীর আস্থা বজায় রাখতে MCX-কে আরও শক্তিশালী প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। MCX-এর তরফে জানানো হয়েছে, সিস্টেমে capacity breach ঘটেছিল — অর্থাৎ একাধিক ক্লায়েন্ট কোড একসঙ্গে সক্রিয় থাকায় সার্ভারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। ডিজাস্টার রিকভারি (DR) সাইট চালু করার পরও ট্রেডিং স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার জেরে SEBI ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট ও এক সপ্তাহের মধ্যে Root Cause Analysis (RCA) চেয়েছে। পাশাপাশি, এক্সচেঞ্জগুলির জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে — যাতে প্রতি ছয় মাসে সাইবার সিকিউরিটি অডিট বাধ্যতামূলক করা হবে এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেম চালু রাখতে হবে। এই সমস্যার কারণে ট্রেডাররা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, বিশেষ করে সোনা ও রুপোর ট্রেডিং-এ। বিনিয়োগকারীদের সংগঠনগুলি এখন ক্ষতিপূরণ দাবি করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের আহ্বান জানিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ঘটনা ভারতের কমোডিটি ট্রেডিং ইকোসিস্টেমের প্রযুক্তিগত দুর্বলতা স্পষ্ট করেছে। তবে SEBI-র দ্রুত হস্তক্ষেপ বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, SEBI এখন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে — ভারতের আর্থিক বাজারে “টেকনিক্যাল রেজিলিয়েন্স”-ই হবে ভবিষ্যতের প্রধান ভিত্তি।
ভারতের অন্যতম প্রধান কমোডিটি এক্সচেঞ্জ MCX (Multi Commodity Exchange)-এর ট্রেডিং সিস্টেম আবারও বিকল হয়ে পড়েছে, যার ফলে দেশের বাজারে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ট্রেডিং সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এই ঘটনার পর Securities and Exchange Board of India (SEBI)-এর চেয়ারম্যান তুহিন কান্ত পাণ্ডে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, “বারবার একই ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা ঘটছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে — এটা অগ্রহণযোগ্য।”
এই বিপর্যয় ঘটে ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে, যখন হঠাৎ করেই MCX-এর প্রধান ট্রেডিং সিস্টেম স্থবির হয়ে যায়। বাজারে সোনা, রুপো, ক্রুড অয়েলসহ বিভিন্ন কমোডিটির ট্রেডিং বন্ধ হয়ে পড়ে।
কয়েক ঘণ্টা ধরে এক্সচেঞ্জের ডিজাস্টার রিকভারি (DR) সিস্টেম চালু করার চেষ্টা হলেও, সেটিও সঠিকভাবে কাজ করেনি। ফলে হাজার হাজার ট্রেডার এবং ব্রোকার ক্ষতির মুখে পড়েন।
MCX পরে এক বিবৃতিতে জানায়, “সার্ভারে একাধিক ক্লায়েন্ট কোড ও অর্ডার প্রোসেসিং সেশন সক্রিয় থাকায় capacity breach হয়েছে। ফলে ট্রেডিং কার্যক্রমে লোড বৃদ্ধি পেয়ে সিস্টেম সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়।”
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ SEBI চেয়ারম্যান তুহিন কান্ত পাণ্ডে বলেন,
“গত জুলাই মাসেও একই ধরনের সমস্যা হয়েছিল। এখন আবারও এমনটি হওয়া অগ্রহণযোগ্য। এক্সচেঞ্জগুলিকে প্রযুক্তিগত স্থায়িত্ব ও নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতা নিশ্চিত করতেই হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“বাজারের অবিচ্ছিন্নতা (Market Continuity) ও প্রযুক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতা (System Resilience) বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। বারবার সমস্যা হলে বিনিয়োগকারীরা নির্ভরশীলতা হারাবেন, যা আর্থিক বাজারের জন্য বিপজ্জনক।”
SEBI জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী MCX-কে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট ও এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত কারণ বিশ্লেষণ (Root Cause Analysis) জমা দিতে হবে।
রেগুলেটর সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর জরিমানা ও অপারেশনাল নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে।
MCX জানিয়েছে, তারা বর্তমানে SEBI-র নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাচ্ছে।
এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের মতে, “সিস্টেমে একাধিক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন চলছিল, যার মধ্যে কিছু অংশে সফটওয়্যার আপগ্রেড করা হচ্ছিল। এই আপডেটের সময় কিছু কনফিগারেশন ত্রুটি তৈরি হয়।”
এছাড়া, MCX জানিয়েছে তারা ইতিমধ্যেই নতুন Failover Mechanism ও Cloud Backup System চালু করছে, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের বিপর্যয় এড়ানো যায়।
তবুও, ট্রেডার সংগঠনগুলি দাবি করছে, MCX-কে এর দায় স্বীকার করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এই ঘটনার ফলে বহু ট্রেডার, বিশেষ করে সোনা ও রুপো ট্রেডাররা সময় মতো তাদের পজিশন বন্ধ করতে পারেননি। বাজার পুনরায় চালু হওয়ার পর দামের হঠাৎ পরিবর্তনে অনেকেরই বড় ক্ষতি হয়।
Commodity Traders Association of India (CTAI) জানিয়েছে, “MCX এখন দেশের সবচেয়ে বড় কমোডিটি এক্সচেঞ্জ। এই ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা যদি বারবার ঘটে, তাহলে তা শুধু ট্রেডার নয়, পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার উপর আঘাত।”
SEBI ইতিমধ্যেই সমস্ত এক্সচেঞ্জের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে —
1️⃣ প্রতিটি এক্সচেঞ্জকে তাদের সিস্টেমের রিয়েল-টাইম মনিটরিং চালু করতে হবে।
2️⃣ সাইবার সিকিউরিটি অডিট প্রতি ছয় মাসে বাধ্যতামূলকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
3️⃣ DR (Disaster Recovery) সাইটের লাইভ টেস্টিং রিপোর্ট সরাসরি SEBI-কে জমা দিতে হবে।
তুহিন কান্ত পাণ্ডে বলেন,
“আজকের বাজারে সাইবার নিরাপত্তা ও সিস্টেম স্থায়িত্ব সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা শুধু ডেটা নয়, বিনিয়োগকারীর আস্থা নষ্ট করে দেয়।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা MCX-এর প্রযুক্তিগত কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতার উপর বড় প্রশ্ন তুলেছে।
যদিও MCX ইতিমধ্যেই TCS ও CME Group-এর প্রযুক্তি দলের সঙ্গে নতুন সমাধান খুঁজছে, তবে বিনিয়োগকারীর আস্থা ফেরাতে সময় লাগবে।
অর্থনীতিবিদ অভিষেক মেহতা বলেন,
“MCX ভারতের কমোডিটি বাজারের মেরুদণ্ড। এর মতো প্ল্যাটফর্মে একাধিকবার এমন সমস্যা হলে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়বেন।”