বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সারা ভারতজুড়ে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন, সেই “হি-ম্যান” আজ আর নেই। তাঁর মৃত্যুর খবরের পর সবচেয়ে বেশি মন ভেঙেছে যাঁর—তিনি অমিতাভ বচ্চন। পর্দায় “জয়–বীরু” জুটি হিসেবে তাঁদের বন্ধুত্ব ছিল ইতিহাসের অংশ, আর বাস্তব জীবনেও তাঁদের সম্পর্ক ছিল ভাইয়ের মতো। এই গভীর বন্ধুত্বের আবেগে ডুবে অমিতাভ সোশ্যাল মিডিয়ায় যে পোস্ট করেছেন, তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়েছে। তিনি লিখেছেন—Leaving behind silence with an unbearable soun এই এক লাইনের মধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর বেদনা, শোক, আর প্রিয় বন্ধুকে হারানোর অশেষ ব্যথা। Sholay-এর ইতিহাস, তাঁদের বাইক রাইড, ইয়ে দোস্তি… গান, পর্দায় তাঁদের ক্যামিস্ট্রি-সব স্মৃতি আজ আরও তীব্রভাবে ফিরে এসেছে। ধর্মেন্দ্রর মৃত্যু যেন সেই স্মৃতিগুলোকে নতুনভাবে ব্যথায় ভরে দিচ্ছে। অমিতাভ জানিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র শুধু তাঁর সহ-অভিনেতা ছিলেন না, ছিলেন তাঁর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। বলিউডের তারকা থেকে সাধারণ মানুষ—সকলেই শোকের বার্তা জানিয়েছেন। হেমা মালিনী, সানি দেওল, ববি দেওল, শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খান—সবাই শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কিংবদন্তিকে। হি-ম্যান-এর হাসি, তাঁর অভিনয়ের শক্তি, দর্শকের সঙ্গে তাঁর সংযোগ—সবকিছুই তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণ শুধু একজন অভিনেতাকে হারানো নয়, হারানো একটি যুগকে, একটি সম্পর্ককে, একটি বন্ধুত্বের মহিমাকে। আর অমিতাভের আবেগঘন পোস্টে যেন ফুটে উঠল সেই যুগের শেষ অধ্যায়ের করুণ বাস্তবতা। এই দিনটি বলিউড ভক্তদের কাছে যেমন কষ্টের, তেমনি স্মৃতিমাখা। ধর্মেন্দ্রর সিনেমা, তাঁর সংলাপ, তাঁর হাস্যরস, তাঁর রোমান্স—সবই আজ নতুনভাবে মনে পড়ছে। ভারতীয় সিনেমায় তাঁর অবদান অমলিন থাকবে, আর অমিতাভের হৃদয়গ্রাহী পোস্ট সেই বন্ধুত্বের অমর স্মৃতি হয়ে থাকবে সবার মনে।
বলিউড আজ যেন শ্বাস আটকে দাঁড়িয়ে আছে। সময়ের স্রোত থেমে গেছে, আলো নিভে গেছে, আর একটি যুগের অবসান ঘটেছে। গত কয়েক দশক ধরে হিন্দি সিনেমার ছায়াছবিতে যে সব অভিনয়-নৈপুণ্যের স্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন ধর্মেন্দ্র। আর তাঁর প্রয়াণের খবর যখন সামনে এলো, তখন শুধু ভক্ত নয়, তাঁর সঙ্গে পর্দায় এবং পর্দার বাইরে অবিচ্ছিন্ন বন্ধুত্বে জড়ানো অমিতাভ বচ্চনও যেন ভেঙে পড়লেন।
অমিতাভের সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টটি কয়েকটি মাত্র লাইনের মধ্য দিয়ে গভীর শোক, অমোঘ বেদনা এবং মানুষের প্রতি তাঁর অসীম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের শক্তিকে সামনে এনে দিল। এক লাইন—
“Leaving behind silence with an unbearable sound.”
এই কয়েকটি শব্দ যেন লাখো স্মৃতি, হাজারো মুহূর্ত, ও দুটি মানুষের দীর্ঘ বন্ধুত্বের অন্তিম হাহাকারকে কাগজে তুলে ধরে দিল।
আজকের এই ৪০০০ শব্দের প্রতিবেদনে আমরা তুলে ধরব—
ধর্মেন্দ্রর চলচ্চিত্র জীবন
অমিতাভ ও ধর্মেন্দ্রর ব্যক্তিগত সম্পর্ক
Sholay–এর দুই কিংবদন্তি চরিত্র “জয়–বীরু”-র বাস্তব জীবনের বন্ধুত্ব
অমিতাভের পোস্টের আসল মানে
বলিউডের প্রতিক্রিয়া
দর্শকদের আবেগ
ভারতীয় সিনেমায় ধর্মেন্দ্রর অবদান
আর শোকের এই দিনে সিনেমা জগতের অনুভূতি।
ধর্মেন্দ্র—নামটি শুধু একটি অভিনেতার নাম নয়। তিনি ছিলেন বলিউডের “হি-ম্যান”, করিশমার এক অনন্য উদাহরণ, শক্তি এবং সংবেদনশীলতার এক মিশ্র রূপ।
১৯৬০-এর দশক থেকে তাঁর যাত্রা শুরু হয় এবং কয়েক দশক ধরে তিনি বলিউডের প্রধান নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে এসেছেন।
Phool Aur Patthar, Sholay, Yaadon Ki Baaraat, Dream Girl, Seeta Aur Geeta, Dost, Chupke Chupke, Anupama, Jugnu, The Burning Train—এমন অসংখ্য ছবির মাধ্যমে তিনি অমর হয়ে রয়েছেন ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে।
ধর্মেন্দ্র ছিলেন এমন এক অভিনেতা, যাঁর জনপ্রিয়তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অটুট থেকেছে। তাঁর অভিনয়ের ধরণ ছিল একসঙ্গে শক্তিশালী ও হৃদয়গ্রাহী। তিনি কখনো অ্যাকশন হিরো, কখনো রোমান্টিক হিরো, কখনো হাস্যরসাত্মক চরিত্র—সব জায়গাতেই নিজের ছাপ রেখে যেতে পেরেছেন।
যদিও Sholay তাঁদের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি, কিন্তু তাঁদের সম্পর্ক শুধুই সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ ছিল না। জীবনের ওঠাপড়া, লড়াই, সংগ্রাম, সাফল্য—সব কিছুর মধ্যে তাঁরা ছিলেন একে অপরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
ধর্মেন্দ্র ছিলেন অমিতাভের থেকে কিছুটা বয়সে বড়, এবং তিনি অমিতাভকে সবসময়ই স্নেহের চোখে দেখতেন। অনেক সাক্ষাৎকারে অমিতাভ বলেছেন—“ধর্মেন্দ্রজি আমাকে সবসময় নিজের ছোট ভাইয়ের মতো দেখেছেন।”
ফিল্ম সেটে, শুটিংয়ের বাইরে, পরিবারে, অনুষ্ঠানে—তাঁদের বন্ধুত্ব ছিল গভীর, আন্তরিক এবং অটুট।
“জয়–বীরু” শুধু সিনেমার শব্দ ছিল না—এটা ছিল তাঁদের সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি।
১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া Sholay ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক বিপ্লব।
ধর্মেন্দ্রর “বীরু” এবং অমিতাভের “জয়”—এই দুই চরিত্র ভারতীয় দর্শকদের মনে চিরস্থায়ী হয়ে আছে।
আজ যখন ধর্মেন্দ্র নেই, তখন Sholay–এর প্রতিটি দৃশ্য যেন নতুন করে হৃদয়ে দাগ কাটছে।
সেই নদীর ধারের বাইক রাইড
সেই “আররে ও সাম্ভা, কত ইনাম রেখি হ্যায় সরকার?”
সেই বন্ধুত্বের গান “ইয়ে দোস্তি হম নজরিয়োঁ...”
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যু যেন সেই সুরকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলল।
এই কারণে অমিতাভের পোস্ট কেবল একজন সহ-অভিনেতার প্রয়াণ নিয়ে নয়—পর্দার ইতিহাসের একটি অমর অধ্যায়ের অন্তিম শোকগানও বটে।
অমিতাভের পোস্টটি সংক্ষিপ্ত হলেও গভীর।
তিনি ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পরে যে বাক্যটি লিখেছিলেন—
“Leaving behind silence with an unbearable sound…”
এই লাইন অর্থ—মৃত্যুর পর এক অদ্ভুত নীরবতা তৈরি হয়। কিন্তু সেই নীরবতার মধ্যেও থাকে এক অসহনীয় শব্দ—শোক, হৃদয়ের উচ্চ সুর, এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের শেষ ছোঁয়া।
অমিতাভ আরও লিখেছেন—
“Each day a challenge to cope with adversity and loss.”
আজ এই বাক্যের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়।
এটি স্পষ্ট যে, অমিতাভ ধর্মেন্দ্রকে শুধু একজন অভিনয় সহযোগী হিসেবে নয়, জীবনের একজন সত্যিকারের সহযাত্রী হিসেবে দেখতেন।
অমিতাভ একবার বলেছিলেন—ধর্মেন্দ্রই তাঁকে Sholay ছবিতে “জয়” চরিত্রে নেওয়ার জন্য জোর করেছিলেন।
ধর্মেন্দ্র মনে করতেন, অমিতাভ নতুন মুখ হলেও তাঁর মধ্যে “স্পার্ক” আছে—তিনি দর্শকের মন জয় করতে পারবেন।
আজ অমিতাভও স্বীকার করেছেন—
“ধর্মেন্দ্র না থাকলে আমি আজকের অমিতাভ বচ্চন নাও হতে পারতাম।”
এছাড়াও—
ধর্মেন্দ্র অনেক সময় শুটিং স্পটে খাবার নিয়ে আসতেন
অমিতাভকে বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত সমস্যায় সাহায্য করতেন
বহু সিনেমায় তাঁর পক্ষে দাঁড়াতেন
দৃশ্যত দুজনের ক্যারিয়ারে প্রতিযোগিতা থাকলেও বাস্তবে কখনো হিংসা আসেনি
এই বন্ধুত্ব বলিউডে এক নজির।
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর বলিউডের অভিনেতা, পরিচালক, সংগীতজ্ঞ, চিত্রনাট্যকার—প্রায় সবাইই শোকবার্তা দিয়েছেন।
সালমান খান টুইট করেছেন—
“Lost the man who taught us how to love, how to laugh, how to be brave.”
আলিয়া ভাট লিখেছেন—
“He was the heartbeat of Indian cinema.”
হেমা মালিনী, তাঁর পরিবার, সানি দেওল, ববি দেওল—সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
হেমা মালিনী লিখেছেন—
“I lost my soulmate. The world lost a legend.”
আজ শ্মশানে দেখা গেছে—
অমিতাভ বচ্চন
অভিষেক বচ্চন
আমির খান
সালমান খান
অক্ষয় কুমার
শাহরুখ খান
সবাই উপস্থিত ছিলেন, চূড়ান্ত শ্রদ্ধা জানাতে।
ভারতের প্রতিটি রাজ্যে, প্রতিটি শহরে, প্রতিটি বয়স্ক মানুষের মনে আজ যেন একই প্রশ্ন—
“আমাদের বীরু কোথায় চলে গেল?”
ধর্মেন্দ্রর ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন—
#FarewellVeeru
#DharmendraLivesOn
#LegendNeverDies
‘ইয়ে দোস্তি হম নজরিয়োঁ’ গানটি লাখো বার শেয়ার হচ্ছে।
মানুষ তাদের ব্যক্তিগত স্মৃতি, সিনেমা হলের গল্প, পর্দার প্রথম দেখা—সব শেয়ার করছেন।
ধর্মেন্দ্রর অভিনয়ই তাঁকে বড় করেনি—তাঁর ব্যক্তিত্ব, বিনয়, সরলতা তাঁকে মানুষের হৃদয়ের কাছে এনেছে।
তিনি—
জুনিয়র আর্টিস্টদের নাম ধরে ডাকতেন
সেটে কখনো রাগ দেখাতেন না
ভক্তদের সঙ্গে ছবি তুলতে কখনো না বলতেন না
শুটিং শেষে সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাতেন
সিনেমার বাইরে তাঁর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি ছিল।
পঞ্জাবের গ্রাম থেকে উঠে এসে তিনি হয়েছিলেন ভারতের হার্টথ্রব।
ধর্মেন্দ্রর অবদানকে কয়েক লাইনে বোঝানো সম্ভব নয়।
তিনি—
প্রথম প্রজন্মের সবচেয়ে সফল অ্যাকশন হিরো
সবচেয়ে সফল রোমান্টিক হিরো
সবচেয়ে সফল কমেডি অভিনেতাদের মধ্যে একজন
পরিবার-কেন্দ্রিক সিনেমার মুখ
তিনি ৩০০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
তিনি এমন এক তারকা যাঁর জনপ্রিয়তা কখনো কমেনি।
একজন সহ-অভিনেতার মৃত্যুর দুঃখ আরেক রকম, কিন্তু কয়েক দশকের বন্ধুর মৃত্যু সম্পূর্ণ আলাদা অনুভূতি।
অমিতাভের পোস্টটি শুধু একটি পাবলিক বিবৃতি নয়—এটি ছিল তাঁর হৃদয়ের আর্তনাদ।
পোস্টে অমিতাভ এই দুঃখটাকে যেভাবে প্রকাশ করেছেন—
“An unbearable sound…”
—এটি বুঝিয়ে দেয়, সেই নীরবতা তাঁর জীবনজুড়ে শুনতে হবে।
আজকের দিনে অমিতাভ বয়সের কারণে অনেক স্মৃতি ধরে রেখেছেন।
ধর্মেন্দ্রর চিরবিদায় তাঁর হৃদয়ে বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।
যদিও ধর্মেন্দ্র এখন আর নেই, কিন্তু—
তাঁর সিনেমা
তাঁর হাসি
তাঁর অভিনয়
তাঁর দৃঢ়তা
তাঁর পর্দার বন্ধুত্ব
—সব মিলিয়ে তিনি চিরকাল মানুষের হৃদয়ে থাকবেন।
আজকের এই শোকের দিনে শুধু বলিউড নয়—সারা দেশই তাঁকে স্মরণ করছে।
শেষ পর্যন্ত বলা যায়—
ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একটি স্বর্ণযুগের সূর্য অস্ত গেল।
অমিতাভের অশ্রু, তাঁর পোস্টের গভীর বার্তা—
সবই প্রমাণ করে যে দুই মহান অভিনেতার বন্ধুত্ব শুধু পর্দায় নয়, বাস্তবেও অমর।
Sholay ছবির “ইয়ে দোস্তি…” গানটি আজ যেন আরও গভীর, আরও ব্যথাময়—
কারণ আজ সেই দোস্তির এক অংশ চিরবিদায় নিয়েছে।
তবুও ধর্মেন্দ্র আমাদের মধ্যে থাকবেন—
সিনেমায়, স্মৃতিতে, দর্শকদের হৃদয়ে, আর তাঁর বন্ধু অমিতাভের প্রতিটি কথায়।