নতুন বাড়ি কিনে ফেললেন সেলিম খানের কনিষ্ঠ পুত্র আরবাজ় খান। মুম্বইয়ের যোগেশ্বরী এলাকায় নতুন বাসস্থান কিনলেন তিনি। বাড়ির দাম ২.৭৮ কোটি টাকা।অসুস্থ সেলিম খান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। উদ্বেগে গোটা বলিউড। পরিবারে টালমাটাল অবস্থা। এর মধ্যেই নতুন বাড়ি কিনে ফেললেন সেলিম খানের কনিষ্ঠ পুত্র আরবাজ় খান। মুম্বইয়ের যোগেশ্বরী এলাকায় নতুন বাসস্থান কিনলেন তিনি। দাম ২.৭৮ কোটি টাকা!
জানা যাচ্ছে, ২৭ তলা আবাসনে আরবাজ়ের ফ্ল্যাট। সেটি আয়তনে ১২৪৩ বর্গফুট। বিলাসবহুল এলাকায় এই বাড়িটির নীচে রয়েছে দু’টি পার্কিং স্পেস। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এই ফ্ল্যাটটি কেনার সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন আরবাজ়। ১৬ লক্ষ টাকার একটি স্ট্যাম্প ডিউটি ও ৩০ হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ খরচ করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছর আরবাজ়ের পরিবার বেড়েছে। ৫ অক্টোবর দ্বিতীয় বার বাবা হয়েছেন অভিনেতা তথা প্রযোজক। ২০১৭ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় আরবাজ়-মলাইকা অরোরার। এর পর লম্বা সময় একাই ছিলেন। ২০২৩ সালে রূপটানশিল্পী সুরা খানকে বিয়ে করেন অভিনেতা। বিয়ের বছর ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে দেন সুখবর। কন্যাসন্তানের বাবা-মা হন দম্পতি।এ দিকে, গত মঙ্গলবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জেরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বাবা সেলিম খান। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছেন তিনি। তাঁরা আশ্বস্ত করে জানান, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলেও তার পরিমাণ খুবই সামান্য। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়েনি। তবে তাতেও উদ্বেগ কমেনি বলিউডের তারকাদের। হাসপাতালে সেলিম খানকে দেখতে এসেছিলেন শাহরুখ খান, আমির খান, সলমন খান, মলাইকা অরোরা।
গত মঙ্গলবার হঠাৎ করেই বলিউড মহলে নেমে আসে উদ্বেগের ছায়া। প্রখ্যাত চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক এবং বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বাবা সেলিম খান মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জেরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন—এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তাঁর পরিবার, ঘনিষ্ঠ মহল এবং অসংখ্য অনুরাগী। যদিও চিকিৎসকেরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আশ্বস্ত করেন যে রক্তক্ষরণের পরিমাণ খুবই সামান্য, তবুও ‘খান’ পরিবারের এই স্তম্ভকে ঘিরে উদ্বেগ কমেনি এতটুকুও।
সেলিম খান নামটা শুধু একজন মানুষের পরিচয় নয়—এটা ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৭০–৮০ দশকে হিন্দি ছবির ধারা বদলে দেওয়া ‘সেলিম–জাভেদ’ জুটির অর্ধেক তিনি। তাঁর লেখা গল্প, চিত্রনাট্য এবং সংলাপ ভারতীয় মূলধারার সিনেমাকে নতুন ভাষা দিয়েছে। সেই মানুষটিই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি—স্বাভাবিকভাবেই খবরটা আবেগতাড়িত করে গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে আচমকাই শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন সেলিম খান। প্রথমে মাথা ঘোরা ও অস্বস্তি থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি গুরুতর মনে হওয়ায় তাঁকে দ্রুত মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর মস্তিষ্কে সামান্য রক্তক্ষরণ হয়েছে—মেডিক্যাল ভাষায় যাকে ‘মাইল্ড ব্রেন হেমোরেজ’ বলা হয়।
খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া, সংবাদমাধ্যম এবং বলিউড মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। যদিও চিকিৎসকেরা স্পষ্ট করে দেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং আতঙ্কের কোনও কারণ নেই, তবুও পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত হয়ে পড়েন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সেলিম খানকে আইসিইউতে না রেখে বিশেষ পর্যবেক্ষণ কক্ষে রাখা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার নিয়মিত স্ক্যান, নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষা এবং রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন—
রক্তক্ষরণের পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য
অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি
ওষুধ ও পর্যবেক্ষণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
বয়সজনিত কারণে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে
চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো হাসপাতালে আনা হয়েছিল বলেই বড় বিপদ এড়ানো গেছে। আগামী কয়েকদিন তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, তারপরই ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সেলিম খান শুধু একজন কিংবদন্তি চিত্রনাট্যকার নন—তিনি খান পরিবারের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর অসুস্থতার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন পরিবারের সকল সদস্য।
সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন তাঁর পুত্ররা—সলমন খান, আরবাজ খান এবং সোহেল খান। শুটিং, পেশাগত ব্যস্ততা সব সরিয়ে রেখে তাঁরা বাবার পাশে থাকেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠদের মতে, সলমন খান ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
মা সেলমা খান এবং হেলেনও হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাঁরা বাইরে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া না দেখালেও ভিতরে ভিতরে গভীরভাবে চিন্তিত।
সেলিম খানের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর একে একে হাসপাতালে পৌঁছতে থাকেন বলিউডের প্রথম সারির তারকারা। এতে স্পষ্ট হয়ে যায়—তিনি শুধু একজন সফল লেখক নন, ইন্ডাস্ট্রির কাছে তিনি অভিভাবকতুল্য।
শাহরুখ খানের আগমন
বলিউডের ‘কিং খান’ শাহরুখ খান হাসপাতালে এসে সেলিম খানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। সলমন খানের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব–বিরোধ–পুনর্মিলনের গল্প ইন্ডাস্ট্রিতে বহুল চর্চিত, কিন্তু সংকটের মুহূর্তে সেই ব্যক্তিগত ইতিহাস কোনও গুরুত্ব পায়নি।
শাহরুখ খান চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং খান পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে খুব সংক্ষিপ্তভাবে বলেন—
“আঙ্কল ফাইটার। উনি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
আমির খানের উপস্থিতি
‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানও হাসপাতালে উপস্থিত হন। তিনি সেলিম খানের সঙ্গে বহু বছর ধরে পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। আমিরের মতে, সেলিম খান শুধু একজন লেখক নন—তিনি পুরো প্রজন্মকে গল্প বলার নতুন দিশা দেখিয়েছেন।
তিনি পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে রিপোর্ট শোনেন।
সলমন খানের পাশে প্রাক্তন পরিবার
অভিনেত্রী মলাইকা অরোরাও হাসপাতালে আসেন সেলিম খানের খোঁজ নিতে। আরবাজ খানের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হলেও খান পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখনও সৌহার্দ্যপূর্ণ—এই উপস্থিতি সেই প্রমাণই দেয়।
তিনি সেলিম খানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন।
শুধু হাসপাতালে উপস্থিত তারকারাই নন—সোশ্যাল মিডিয়ায়ও বহু অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক সেলিম খানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
অনেকে লেখেন—
“বলিউডের স্তম্ভ সুস্থ হয়ে ফিরুন”
“আপনার লেখা সংলাপে আমরা বড় হয়েছি”
“ইন্ডাস্ট্রি আপনার কাছে ঋণী”
এই প্রতিক্রিয়াগুলি প্রমাণ করে, তাঁর অবদান কতটা গভীর।
সেলিম খানের অসুস্থতার খবর সামনে আসতেই আবার আলোচনায় উঠে আসে সেলিম–জাভেদ জুটির সোনালি যুগ। জাভেদ আখতারের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি যে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, তা আজও বলিউডের ইতিহাসে অনন্য।
তাঁদের লেখা উল্লেখযোগ্য ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে—
শোলে
দিওয়ার
জঞ্জির
ডন
ত্রিশূল
এই ছবিগুলিই ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ ইমেজ তৈরি করে অমিতাভ বচ্চনকে সুপারস্টার বানায়।
সংলাপ, চরিত্র নির্মাণ, সামাজিক ক্ষোভ—সব মিলিয়ে তাঁদের লেখনী ভারতীয় বাণিজ্যিক সিনেমাকে নতুন রাজনৈতিক ও আবেগঘন মাত্রা দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। উচ্চ রক্তচাপ, রক্তনালির দুর্বলতা, ডায়াবেটিস—এগুলো বড় কারণ হতে পারে।
সেলিম খানের ক্ষেত্রেও বয়সজনিত কারণকে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই চিকিৎসকেরা তাঁকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
যে পরিবার সবসময় মিডিয়ার আলোয় থাকে, তাদের ব্যক্তিগত সংকটও জনসমক্ষে চলে আসে। এতে মানসিক চাপ আরও বাড়ে।
খান পরিবার যদিও মিডিয়ার সামনে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবুও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়—
সলমন খান অত্যন্ত চিন্তিত
আরবাজ ও সোহেল হাসপাতালে নিয়মিত
পরিবারের সবাই পালা করে থাকছেন
মুম্বইয়ের হাসপাতালের বাইরে ভক্তদের ভিড়ও লক্ষ্য করা যায়। কেউ ফুল নিয়ে এসেছেন, কেউ প্রার্থনা করছেন, কেউ কোরআন পাঠ করছেন—এই দৃশ্য প্রমাণ করে সেলিম খান শুধু তারকা পরিবারের কর্তা নন, জনমানসে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি।
হাসপাতাল সূত্রে সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী—
সেলিম খান স্থিতিশীল
রক্তক্ষরণ বাড়েনি
সাড়া দিচ্ছেন
ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ডায়েটে ফিরছেন
চিকিৎসকেরা আশাবাদী যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন।
সেলিম খানের অসুস্থতা যেন সবাইকে মনে করিয়ে দিল—বলিউড আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, তার ভিত গড়ে দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের একজন তিনি।
আজকের বহু লেখক, পরিচালক স্বীকার করেন—
হিরোর সংলাপ বলার ধরন
ভিলেন নির্মাণ
সামাজিক রাগের উপস্থাপনা
সবই সেলিম–জাভেদ স্কুল থেকে শেখা।
এই ঘটনায় আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—বলিউডে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থাকলেও সংকটে সবাই একসঙ্গে দাঁড়ায়।
শাহরুখ, আমির, সলমন—তিন খানের একসঙ্গে উপস্থিতি সেই ঐক্যেরই প্রতীক।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন—
আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে
নিয়মিত স্ক্যান হবে
বাড়ি ফেরার পরও বিশ্রাম জরুরি
জনসমক্ষে উপস্থিতি সীমিত রাখতে হবে
পরিবারও চাইছে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কাজ বা সামাজিক ব্যস্ততা এড়িয়ে চলুন।
সেলিম খানের অসুস্থতা বলিউডকে নাড়িয়ে দিলেও স্বস্তির খবর—পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলেও তা সামান্য, অস্ত্রোপচার লাগেনি, চিকিৎসকেরা আশাবাদী—এই তথ্য ভক্তদের স্বস্তি দিয়েছে।
তবুও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। কারণ তিনি শুধু একজন কিংবদন্তি লেখক নন—তিনি একটি পরিবারের আবেগ, একটি ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাস, এবং বহু প্রজন্মের সিনেমাপ্রেমীর স্মৃতির অংশ।
হাসপাতালের করিডোরে তারকাদের আনাগোনা, পরিবারের উদ্বেগ, ভক্তদের প্রার্থনা—সব মিলিয়ে যেন একটাই বার্তা শোনা যাচ্ছে—
“সেলিম সাহেব, আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরুন। বলিউড এখনও আপনার ছায়াতেই নিশ্চিন্ত।”