Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

প্রিয়ঙ্কা হাতব্যাগে রাখেন ‘এপিপেন’! থাকে ‘হনুমান চালিশা’ও, কেন এ সব সঙ্গে নিয়ে ঘোরেন?

প্রিয়ঙ্কা নিজের ব্যাগে রাখেন ‘হনুমান চালিশা’, কালো সুতোর সঙ্গে রাখেন ‘এপিপেন’। কী এই বস্তু, কেনই বা তিনি কাছে রাখেন? আর কী কী থাকে তাঁর ব্যাগে?বলিউড ছেড়েছেন ১২ বছর হল। আমেরিকায় এখন তাঁর বাসস্থান, সেখানেই তাঁর কর্মক্ষেত্র। পাকাপাকি ভাবে বিদেশে থেকেও মনের দিক থেকে একেবারে ভারতীয় তিনি। সেই কারণে প্রিয়ঙ্কা নিজের ব্যাগে রাখেন ‘হনুমান চালিশা’, কালো সুতোর সঙ্গে রাখেন ‘এপিপেন’। তবে প্রিয়ঙ্কা কেন বললেন, তাঁকে যে কেউ মেরে ফেলতে পারে?

প্রিয়ঙ্কা হাতব্যাগে রাখেন ‘এপিপেন’! থাকে ‘হনুমান চালিশা’ও, কেন এ সব সঙ্গে নিয়ে ঘোরেন?
Bollywood News

প্রিয়ঙ্কা নিজের ব্যাগে এমন কিছু জিনিস রাখেন যেটা তাঁর নিত্য কাজে লাগে। স্বাভাবিক ভাবে তাঁর অনুরাগীরা জানতে আগ্রহী, প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরীর ব্যাগে আসলে কী কী থাকে। তার পরেই জানা গেল প্রিয়ঙ্কার স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত এক চমকপ্রদ তথ্য। প্রিয়ঙ্কা কুনজর বা সুনজরে বিশ্বাস রাখেন। সেই কারণে ব্যাগে রাখেন কালো সুতো। এর পাশপাশি রাখেন ‘ইভিল আই’। প্রিয়ঙ্কার কথায়, ‘‘এই দুটো জিনিস অশুভ দৃষ্টি থেকে আমাকে রক্ষা করে।’’

পাশাপাশি, তিনি প্রতিদিন না হলেও প্রায়ই ‘হনুমান চালিশা’ পাঠ করেন। প্রিয়ঙ্কার বিশ্বাস, এই বই তাঁকে যে কোনও বিপদ থেকে রক্ষা করে। একই সঙ্গে নিজের জীবন রক্ষা করতে ব্যাগে রাখেন ‘এপিপেন’। এটি একপ্রকার স্বয়ংক্রিয় ইনজেক্টর। প্রিয়ঙ্কার কথায়, ‘‘আমার সম্প্রতি অ্যার্লাজি ধরা পড়েছে। তাই এই ‘এপিপেন’ রাখি। তবে কোন জিনিস থেকে আমার অ্যালার্জি হয়, সেটা প্রকাশ্যে বলতে চাই না। কারণ সেটা বললে যে কেউ আমাকে মেরে ফেলার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।’’ এ ছাড়াও প্রিয়ঙ্কা ব্যাগে রাখেন ‘টাইড পেন’। যদি কোথাও গিয়ে পোশাকে দাগ লাগে, তখন এই পেন দিয়েই সহজে ঢেকে ফেলেন সেই দাগ-ছোপ।

বলিউড থেকে হলিউড—দুই দুনিয়াতেই নিজের অভিনয় দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব এবং আত্মবিশ্বাস দিয়ে আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন Priyanka Chopra। প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী হিসেবে যেমন তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত, তেমনই একজন স্টাইল আইকন হিসেবেও তাঁর জনপ্রিয়তা অসীম। তাঁর ফ্যাশন সেন্স, জীবনযাপন, এমনকি ব্যক্তিগত অভ্যাস নিয়েও ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি তাঁর ব্যাগে কী কী জিনিস থাকে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, এবং সেই তালিকায় এমন কিছু বিষয় উঠে এসেছে যা যেমন আকর্ষণীয়, তেমনই চিন্তারও বিষয়।

প্রথমেই বলা যায়, প্রিয়ঙ্কার ব্যাগ শুধুমাত্র প্রসাধনী বা প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার জায়গা নয়, বরং এটি তাঁর ব্যক্তিত্ব, বিশ্বাস এবং জীবনদর্শনেরও প্রতিফলন। সাধারণ মানুষের মতোই তিনি তাঁর দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস সঙ্গে রাখেন, কিন্তু সেই তালিকায় কিছু ব্যতিক্রমী জিনিসও রয়েছে যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

প্রিয়ঙ্কার বিশ্বাসের জায়গাটি বেশ গভীর। তিনি কুনজর বা অশুভ দৃষ্টির উপর বিশ্বাস রাখেন। ভারতীয় সংস্কৃতিতে এই ধারণাটি খুবই প্রচলিত—অনেকেই মনে করেন অন্যের খারাপ দৃষ্টি জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি নিজের ব্যাগে রাখেন একটি কালো সুতো এবং একটি ‘ইভিল আই’। ‘ইভিল আই’ বা নজরদোষ কাটানোর প্রতীকটি বহু সংস্কৃতিতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি সাধারণত একটি নীল রঙের চোখের মতো চিহ্ন, যা নেতিবাচক শক্তিকে দূরে রাখে বলে মনে করা হয়।

প্রিয়ঙ্কার নিজের কথায়, এই দুটি জিনিস তাঁকে মানসিকভাবে শক্তি দেয় এবং তাঁকে সুরক্ষিত অনুভব করায়। যদিও আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়গুলোর কোনো প্রমাণ নেই, তবুও মানুষের বিশ্বাস এবং মানসিক স্বস্তির ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রতীকী জিনিসের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।

এর পাশাপাশি, প্রিয়ঙ্কার আধ্যাত্মিক দিকটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রায়ই পাঠ করেন Hanuman Chalisa। এটি একটি হিন্দু ধর্মীয় স্তোত্র যা ভগবান হনুমানের উদ্দেশ্যে রচিত এবং শক্তি, সাহস ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রিয়ঙ্কার বিশ্বাস, এই স্তোত্র তাঁকে যেকোনো বিপদ থেকে রক্ষা করে এবং মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে সাহায্য করে।

এখানে লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, প্রিয়ঙ্কা একজন গ্লোবাল সেলিব্রিটি হওয়া সত্ত্বেও নিজের শিকড় এবং সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রয়েছেন। আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার এই মেলবন্ধনই তাঁকে আরও অনন্য করে তোলে।

তবে তাঁর ব্যাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং চমকপ্রদ জিনিসটি হলো EpiPen। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় ইনজেক্টর যা গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার সময় ব্যবহৃত হয়। প্রিয়ঙ্কা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তাঁর একটি অ্যালার্জি ধরা পড়েছে, এবং সেই কারণে তিনি সবসময় এই ডিভাইসটি সঙ্গে রাখেন।

এপিপেন মূলত এমন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয় যখন শরীরে হঠাৎ করে তীব্র অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া (anaphylaxis) শুরু হয়, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে। এই অবস্থায় দ্রুত ইনজেকশন দেওয়া জরুরি, এবং এপিপেন সেই কাজটিই সহজ করে দেয়। এটি ব্যবহারে কোনো চিকিৎসা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না, তাই জরুরি পরিস্থিতিতে এটি জীবন বাঁচাতে পারে।

প্রিয়ঙ্কার এই সতর্কতা তাঁর বাস্তববাদী চিন্তাভাবনার পরিচয় দেয়। একজন আন্তর্জাতিক তারকা হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে অত্যন্ত সচেতন এবং প্রস্তুত। তবে তিনি তাঁর অ্যালার্জির উৎস সম্পর্কে কিছু জানাননি। তাঁর মতে, এই তথ্য প্রকাশ্যে এলে কেউ তা অপব্যবহার করতে পারে, যা তাঁর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এই মন্তব্যটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখায়—ব্যক্তিগত তথ্য সবসময় সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত নয়।

এছাড়াও, তাঁর ব্যাগে থাকে একটি ‘টাইড পেন’। এটি একটি ছোট দাগ তোলার পেন, যা কাপড়ে হঠাৎ দাগ লাগলে তা দ্রুত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে প্রিয়ঙ্কার সবসময় পরিপাটি থাকা জরুরি, এবং এই ছোট্ট জিনিসটি তাঁর সেই প্রয়োজন মেটায়।

news image
আরও খবর

এই সমস্ত জিনিস একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, প্রিয়ঙ্কার ব্যাগ শুধু একটি ফ্যাশন অ্যাক্সেসরি নয়, বরং এটি তাঁর জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে যেমন রয়েছে বিশ্বাস, তেমনই রয়েছে বাস্তবতা; যেমন রয়েছে আধ্যাত্মিকতা, তেমনই রয়েছে আধুনিক বিজ্ঞান।

প্রিয়ঙ্কার এই অভ্যাসগুলি আমাদের জন্যও শিক্ষণীয়। আমরা অনেক সময় ভাবি সেলিব্রিটিরা সাধারণ মানুষের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা জীবনযাপন করেন, কিন্তু এই ধরনের উদাহরণ আমাদের দেখায় যে তাঁদের জীবনেও রয়েছে সাধারণ মানুষের মতোই চিন্তা, ভয়, বিশ্বাস এবং প্রয়োজন।

বিশেষ করে স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়টি এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেক সময় ছোটখাটো সমস্যাকে গুরুত্ব দিই না, কিন্তু প্রিয়ঙ্কার মতো একজন ব্যস্ত মানুষও নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে এতটা সতর্ক—এটি আমাদেরও অনুপ্রাণিত করে।

একই সঙ্গে, মানসিক শান্তি এবং আত্মবিশ্বাসের জন্য কিছু বিশ্বাস বা আধ্যাত্মিক চর্চা থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও এখানে স্পষ্ট। এটি শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, বরং এটি একটি মানসিক শক্তির উৎস, যা কঠিন পরিস্থিতিতেও আমাদের স্থির থাকতে সাহায্য করে।

সবশেষে বলা যায়, প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার ব্যাগের এই ছোট ছোট জিনিসগুলি আসলে তাঁর জীবনের বড় বড় দিকগুলির প্রতিফলন—বিশ্বাস, সতর্কতা, আত্মবিশ্বাস এবং প্রস্তুতি। এই সবকিছুর মিশ্রণই তাঁকে শুধু একজন সফল অভিনেত্রী নয়, বরং একজন শক্তিশালী এবং অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তুলেছে।

এই গল্পটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবনে সফল হতে গেলে শুধু প্রতিভা নয়, বরং সচেতনতা, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের উপর বিশ্বাসও সমানভাবে প্রয়োজন।

প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার ব্যাগের এই বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, তাঁর প্রতিটি নির্বাচনই অত্যন্ত সচেতন এবং বাস্তবসম্মত। একজন গ্লোবাল আইকন হিসেবে তাঁর জীবন সবসময়ই ব্যস্ত, অনিশ্চিত এবং চাপপূর্ণ। তাই এমন কিছু জিনিস সঙ্গে রাখা, যা তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুরক্ষিত রাখে, তা একেবারেই স্বাভাবিক।

বিশেষ করে Priyanka Chopra-র ক্ষেত্রে এই প্রস্তুতিটা আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁকে প্রায়ই বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে হয়, বিভিন্ন পরিবেশে কাজ করতে হয়, এবং সবসময় জনসমক্ষে থাকতে হয়। এই ধরনের লাইফস্টাইলে ছোট একটি সমস্যাও বড় হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই একটি এপিপেন সঙ্গে রাখা তাঁর জন্য শুধুমাত্র একটি সাবধানতা নয়, বরং এটি তাঁর নিরাপত্তার একটি অপরিহার্য অংশ।

এছাড়া, তাঁর ব্যাগে থাকা ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক উপাদানগুলি তাঁর ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। আজকের আধুনিক যুগে, যেখানে অনেকেই নিজেদের শিকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, সেখানে প্রিয়ঙ্কা নিজের বিশ্বাস এবং সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। Hanuman Chalisa পাঠ করা বা ‘ইভিল আই’ ও কালো সুতো রাখা—এই সবই তাঁর সেই গভীর বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।

একই সঙ্গে, তাঁর এই অভ্যাসগুলি মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই জীবনে নানা ধরনের চাপ, অনিশ্চয়তা এবং প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে যাই। এই পরিস্থিতিতে এমন কিছু জিনিস বা অভ্যাস, যা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় বা নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়, তা খুবই কার্যকর হতে পারে। প্রিয়ঙ্কার ক্ষেত্রে এই জিনিসগুলি সেই ভূমিকাই পালন করে।

অন্যদিকে, ‘টাইড পেন’-এর মতো ছোট কিন্তু কার্যকরী জিনিস তাঁর বাস্তববাদী মনোভাবকে তুলে ধরে। এটি দেখায় যে তিনি শুধুমাত্র বড় বিষয়েই নয়, ছোটখাটো সমস্যার সমাধানেও সমানভাবে গুরুত্ব দেন। একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে তাঁর প্রতিটি উপস্থিতিই গুরুত্বপূর্ণ, এবং সেই জায়গায় এই ধরনের প্রস্তুতি তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

সব মিলিয়ে, প্রিয়ঙ্কার ব্যাগে থাকা প্রতিটি জিনিসই একটি গল্প বলে—একজন নারীর, যিনি একই সঙ্গে আধুনিক, বাস্তববাদী এবং নিজের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর এই ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনই তাঁকে আরও অনুপ্রেরণাদায়ী করে তোলে এবং আমাদেরও শেখায় কীভাবে ছোট ছোট বিষয়গুলির মাধ্যমে বড় পরিবর্তন আনা যায়।

Preview image