Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

শূন্যের হ্যাটট্রিকের পরও সূর্যদের আস্থার কেন্দ্রে অভিষেক দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে রবিবার ভারতীয় দলে জোড়া বদলের সম্ভাবন

রবিবার সুপার এইটে ভারতের প্রথম ম্যাচে শক্ত প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নামছে ভারত বড় ম্যাচের গুরুত্ব বুঝেই দলে জোড়া বদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন গৌতম গম্ভীর ও সূর্যকুমার যাদব যাতে সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে নামা যায়

গ্রুপ পর্বে টানা চার ম্যাচ জিতে দুরন্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে সুপার এইটে প্রবেশ করেছে ভারত। তবে সাফল্যের পরও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। রবিবার সুপার এইটে ভারতের প্রথম ম্যাচ শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। বড় ম্যাচের চাপ, ভিন্ন কন্ডিশন এবং প্রতিপক্ষের শক্তি—সব মিলিয়ে দলে জোড়া বদলের ইঙ্গিত মিলছে। শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে একাদশ খেলেছিল, সেই পরীক্ষিত দলকেই আবার মাঠে নামাতে পারে ভারত।

গ্রুপ পর্বে ভারতের পারফরম্যান্স ছিল ভারসাম্যপূর্ণ। ব্যাটিং লাইনআপ ধারাবাহিক রান করেছে, বোলিং বিভাগও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলেছে। কিন্তু সুপার এইটের সমীকরণ একেবারেই আলাদা। এখানে প্রতিটি ম্যাচ কার্যত নকআউটের মতো গুরুত্ব বহন করে। একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা ব্যর্থ পারফরম্যান্সই টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে। তাই অভিজ্ঞতা ও বড় ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তাকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে দল।

অভিষেক শর্মার উপর অটুট আস্থা

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে তিনবার শূন্য রানে আউট হয়েছেন অভিষেক শর্মা। পরিসংখ্যান বলছে তিনি ‘শূন্যের হ্যাটট্রিক’ করেছেন, যা যে কোনও ব্যাটারের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দিতে পারে। তবুও ভারতীয় শিবিরে তাঁর জায়গা নিয়ে সংশয় নেই। কারণ টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে শুধুমাত্র গড় নয়, ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অভিষেকের আগ্রাসী মানসিকতা ও পাওয়ার প্লেতে দ্রুত রান তোলার সামর্থ্য দলকে বাড়তি সুবিধা দেয়।

আইসিসি টি টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর ব্যাটার হিসেবে তাঁর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। অনেক সময় ফর্ম সাময়িকভাবে খারাপ যায়, কিন্তু ক্লাস স্থায়ী—এই বিশ্বাসেই তাঁকে আরও একটি সুযোগ দিতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বড় মঞ্চে বড় খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রমাণ করেন—এই তত্ত্বেই আস্থা রাখছে ভারতীয় দল।

দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শুরুটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি অভিষেক দ্রুত ছন্দে ফেরেন, তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন তিনি। ফলে তাঁর উপর আস্থা রেখে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে আবারও ওপেনিংয়ের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হতে পারে তাঁর কাঁধে।

সব মিলিয়ে, সুপার এইটে নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে ভারত। গ্রুপ পর্বের সাফল্য পেছনে ফেলে এখন লক্ষ্য কেবল পরের ধাপে এগোনো। আর সেই যাত্রায় অভিষেক শর্মার প্রত্যাবর্তনই হতে পারে দলের সবচেয়ে বড় শক্তি।

ঈশান কিশনের দায়িত্ব আরও বাড়ছে

অভিষেক রান না পেলেও ওপেনিংয়ে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন ঈশান কিশন। পাওয়ার প্লেতে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। দক্ষিণ আফ্রিকার গতিময় পেস আক্রমণের বিরুদ্ধে আগ্রাসী শুরু করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে ভারতের জন্য। সেই দায়িত্ব ঈশানের কাঁধেই তুলে দেওয়া হচ্ছে।

তিলক বর্মার উপর আস্থা বজায়

গ্রুপ পর্বে এখনও পর্যন্ত বড় ইনিংস না এলেও তিলক বর্মার উপর আস্থা হারাচ্ছে না ভারতীয় শিবির। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অনেক সময় পরিসংখ্যান পুরো গল্পটা বলে না—এই বিশ্বাস থেকেই মিডল অর্ডারে তিলককে আরও সুযোগ দিতে প্রস্তুত টিম ম্যানেজমেন্ট। কারণ, ক্রিকেট শুধুমাত্র রান করার খেলা নয়, ম্যাচের গতি বোঝা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার ক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গাতেই তিলক বর্মা ভারতের কাছে বড় সম্পদ।

গ্রুপ পর্বে তিলকের ব্যাট থেকে বড় স্কোর না এলেও তিনি প্রতিটি ম্যাচেই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করার চেষ্টা করেছেন। উইকেট পড়লে ইনিংস সামলানো, আবার প্রয়োজন হলে স্ট্রাইক রোটেট করে চাপ কমানো—এই কাজগুলো নিঃশব্দে করে গিয়েছেন তিনি। মিডল অর্ডারে এমন ব্যাটার দলের ভারসাম্য রক্ষা করে, যিনি অযথা ঝুঁকি না নিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এই ভূমিকার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণ বরাবরই আক্রমণাত্মক ও গতিময়। পাশাপাশি স্পিন বিভাগেও তাদের রয়েছে বৈচিত্র্য। এই ধরনের আক্রমণের বিরুদ্ধে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। তিলক বর্মা সেই কাজটাই করতে পারেন—একদিকে উইকেট ধরে রেখে অন্যদিকে প্রয়োজন অনুযায়ী রান তুলতে পারেন।

বাঁহাতি ব্যাটার হিসেবে তিলকের উপস্থিতি ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারে আলাদা মাত্রা যোগ করে। ডানহাতি ব্যাটারদের ভিড়ে বাঁহাতি ব্যাটার থাকলে প্রতিপক্ষ বোলারদের লাইন ও লেন্থ বদলাতে হয়। এর ফলে বোলিং পরিকল্পনায় বাড়তি চাপ পড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এই কৌশলগত সুবিধাটাই কাজে লাগাতে চাইছে ভারত।

এছাড়াও, তিলকের মানসিক দৃঢ়তা টিম ম্যানেজমেন্টের নজর কেড়েছে। বড় মঞ্চে চাপের মধ্যে নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারাই একজন তরুণ ক্রিকেটারের সবচেয়ে বড় গুণ। এখনও পর্যন্ত বড় ইনিংস না এলেও তিনি ভেঙে পড়েননি, আত্মবিশ্বাস হারাননি। বরং প্রতিটি ম্যাচেই আরও পরিণত ব্যাটার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

news image
আরও খবর

সুপার এইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্বে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এমন তরুণদেরও প্রয়োজন, যারা ভয় না পেয়ে নিজেদের খেলাটা খেলতে পারে। তিলক বর্মা সেই তালিকাতেই পড়েন। টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করছে, বড় ম্যাচেই তাঁর মতো ক্রিকেটারের আসল মূল্য বোঝা যাবে। একবার যদি তিনি ছন্দ পেয়ে যান, তবে মিডল অর্ডারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।

সব মিলিয়ে, তিলক বর্মার উপর আস্থা রাখা নিছক আবেগের সিদ্ধান্ত নয়, বরং কৌশলগত ভাবনার ফল। সুপার এইটে প্রতিটি রান, প্রতিটি ওভার গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে একজন স্থির মনের ব্যাটারই হতে পারেন ভারতের গোপন অস্ত্র। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচে তিলকের ব্যাট থেকেই আসতে পারে সেই প্রয়োজনীয় ইনিংস, যা ভারতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিতে পারে বিশ্বকাপে।

সূর্যকুমার যাদবই মূল অস্ত্র

ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বর্তমানে দুরন্ত ফর্মে। গ্রুপ পর্বেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন তিনি। সুপার এইটের মতো বড় মঞ্চে তাঁর ব্যাটেই সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখছে দল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মাঝের ওভারগুলোতে ম্যাচের রং বদলে দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র সূর্যরই আছে।

হার্দিক পাণ্ড্য অলরাউন্ড ভরসা

ব্যাট হাতে এখনও পর্যন্ত বড় বিধ্বংসী ইনিংস না এলেও বল হাতে কার্যকরী হার্দিক পাণ্ড্য। ডেথ ওভারে তাঁর বোলিং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতাও রয়েছে তাঁর।

শিবম দুবের ফিনিশিং ভূমিকা

শিবম দুবে এই বিশ্বকাপে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন। বড় শট খেলতে পারেন এবং স্পিনারদের বিরুদ্ধে তাঁর শক্তি সুপরিচিত। ফিনিশারের ভূমিকায় দুবের উপরেই ভরসা রাখছে ভারত।

বেঞ্চে বসতে পারেন দুই ক্রিকেটার

যা ইঙ্গিত মিলছে, তাতে সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে দুই ক্রিকেটারকে বেঞ্চে বসতে হতে পারে। গ্রুপ পর্বে টানা চার ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হলেও টিম ম্যানেজমেন্ট জানে, সুপার এইট মানেই সম্পূর্ণ আলাদা লড়াই। এখানে প্রতিটি ম্যাচ কার্যত নকআউটের মতো। তাই পরীক্ষানিরীক্ষার জায়গা কম, বরং পরীক্ষিত কম্বিনেশনেই ভরসা রাখতে চাইছে ভারতীয় শিবির।

রবিবার সুপার এইটে প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপ বরাবরই ভয়ঙ্কর। উপরের দিক থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার পর্যন্ত একাধিক হার্ডহিটার রয়েছে তাদের দলে। এই কারণেই বোলিং কম্বিনেশন নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পেস বোলার বা অভিজ্ঞ বোলার খেলানোর দিকেই ঝুঁকতে পারে তারা।

শুধু বোলিং নয়, ফিল্ডিংয়ের মানও এই ম্যাচে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে। সুপার এইটের মতো মঞ্চে এক বা দুই রান বাঁচানো কিংবা কঠিন ক্যাচ ধরাই ম্যাচের ফলাফল বদলে দিতে পারে। সেই কারণেই যারা ফিল্ডিংয়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। এর ফলে কিছু ক্রিকেটারকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বেঞ্চে বসতে হতে পারে।

ইঙ্গিত অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে একাদশ খেলেছিল ভারত, সেই দলই আবার মাঠে নামতে পারে। কারণ ওই ম্যাচে চাপের মধ্যেও দল নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে। বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নিয়েছে, আবার ব্যাটাররাও প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব নিয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করছে, বড় ম্যাচে পরীক্ষিত কম্বিনেশনই সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প।

গ্রুপ পর্বে ভারতের পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই ভারসাম্য বজায় রেখে জয় এসেছে। কিন্তু সুপার এইটে এসে সেই হিসেব নতুন করে শুরু হয়। এখানে প্রতিপক্ষও শক্তিশালী, কন্ডিশনও ভিন্ন হতে পারে। তাই আত্মবিশ্বাস থাকলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ ভারতীয় শিবির।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এই ম্যাচই অনেকটা নির্ধারণ করে দেবে, বিশ্বকাপে ভারত কতটা দূর যেতে পারে। জিতলে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে, হারলে কঠিন সমীকরণের সামনে পড়তে হবে। সেই কারণেই একাদশ নির্বাচন থেকে শুরু করে মাঠের কৌশল—সব ক্ষেত্রেই নিখুঁত পরিকল্পনার উপর জোর দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থাকার সাফল্য এখন অতীত। সুপার এইটে নতুন করে শুরু করতে চাইছে ভারত। আত্মবিশ্বাস আছে, অভিজ্ঞতাও আছে, কিন্তু কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় দল। রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচই বলে দেবে—এই বিশ্বকাপে ভারতের যাত্রা ঠিক কোন পথে এগোতে চলেছে।

Preview image