Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

টিম ইন্ডিয়ায় ফের চোটের ধাক্কা শ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন তারকা

শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে ফের চোটের ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে। তারকা ক্রিকেটারের ছিটকে যাওয়ায় টেস্ট সিরিজের আগে বাড়ল চিন্তা।

শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে ফের চোটের ধাক্কা, দ্বিতীয় টেস্টেও অনিশ্চিত ওয়াশিংটন সুন্দর

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হওয়ার আগেই একের পর এক চোটের সমস্যায় জর্জরিত ভারতীয় ক্রিকেট দল। জশপ্রীত বুমরাহ, নীতীশ কুমার রেড্ডি, হর্ষিত রানা এবং সাই সুদর্শনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এবার সেই তালিকায় আরও একটি বড় নাম যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর। তাঁর চোটের অবস্থা এবং দ্বিতীয় টেস্টে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে এখন সংশয় তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্বিতীয় টেস্টে তাঁকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম এবং টিম ম্যানেজমেন্টও তাঁকে নিয়ে কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ১৫ আগস্ট গল-এ। এরপর ২৩ আগস্ট কলম্বোয় শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। অর্থাৎ প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় টেস্টের আগে হাতে থাকবে খুব বেশি সময় নয়। এই অল্প সময়ের মধ্যে সুন্দর সম্পূর্ণ ফিট হয়ে ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় পৌঁছতে পারবেন কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

ওয়াশিংটন সুন্দর ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার মতো উপমহাদেশীয় পরিবেশে তাঁর অফস্পিন এবং কার্যকর ব্যাটিং দলের ভারসাম্য অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে তাঁকে না পাওয়া গেলে শুধু একজন ক্রিকেটারকে হারানো নয়, দলের কম্বিনেশন নিয়েও নতুন করে ভাবতে হতে পারে নির্বাচকদের।

শ্রীলঙ্কা সফরের আগেই কেন এত চোট?

শ্রীলঙ্কা সফরকে সামনে রেখে ভারতীয় দল যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই চোটের সমস্যা একের পর এক সামনে এসেছে। শুরু থেকেই দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন ছিল। জশপ্রীত বুমরাহকে সিরিজে না পাওয়ার বিষয়টি ভারতীয় দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। এরপর নীতীশ কুমার রেড্ডি ও হর্ষিত রানার মতো ক্রিকেটারদের নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সর্বশেষ সাই সুদর্শনও চোটের কারণে সিরিজ থেকে ছিটকে যান। তাঁর পরিবর্তে স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন সরফরাজ খান।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রথম থেকেই তাঁর চোটের বিষয়টি ভারতীয় দলের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছিল। জুলাইয়ের শেষ দিকে জানা গিয়েছিল যে তিনি প্রথম টেস্টের জন্য উপলব্ধ থাকবেন না। তখন দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর খেলার সম্ভাবনা তাঁর ফিটনেসের উপর নির্ভর করছে বলে জানানো হয়েছিল।

কিন্তু সময় যত এগিয়েছে, পরিস্থিতি ততটা আশাব্যঞ্জক থাকেনি। সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলো বলছে, দ্বিতীয় টেস্টে সুন্দরকে পাওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট কমে গিয়েছে। তাঁর হ্যামস্ট্রিং চোট পুরোপুরি সেরে না উঠলে তাঁকে মাঠে নামানোর ঝুঁকি নিতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট।

প্রথম টেস্টে নেই সুন্দর, দ্বিতীয় টেস্টেও কি অনিশ্চিত?

ভারতীয় দলের জন্য ওয়াশিংটন সুন্দরের অনুপস্থিতি নতুন বিষয় নয়। সিরিজের প্রথম টেস্ট থেকেই তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর চোটের কারণে প্রথম ম্যাচে তাঁকে বাইরে রাখতে হয়েছে। মূল লক্ষ্য ছিল পরবর্তী ম্যাচের আগে তাঁকে সম্পূর্ণ ফিট করে তোলা।

প্রথম টেস্ট ১৫ আগস্ট থেকে গল-এ শুরু হওয়ার কথা। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ২৩ আগস্ট কলম্বোয়। অর্থাৎ প্রথম ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে খুব বেশি সময় পাওয়া যাবে না। এই সময়ের মধ্যে সুন্দরকে ম্যাচ ফিট করে তোলা কঠিন হতে পারে।

এখানেই তৈরি হয়েছে ভারতের চিন্তা। একজন ক্রিকেটার চোট থেকে সদ্য ফিরলে অনুশীলন করতে পারা এবং আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচে চার-পাঁচ দিন ধারাবাহিকভাবে খেলার মতো ফিট থাকা—দুটি এক বিষয় নয়। টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং করতে হয়। হ্যামস্ট্রিংয়ের মতো চোট থাকলে দীর্ঘ সময় মাঠে থাকা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সেই কারণেই ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট সুন্দরকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না। সাম্প্রতিক রিপোর্টেও তাঁর দ্বিতীয় টেস্টে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকে খুবই কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হ্যামস্ট্রিং চোটই বড় সমস্যা

সুন্দরের বর্তমান সমস্যাটি হ্যামস্ট্রিং-সংক্রান্ত। এর আগে রিপোর্টে জানা গিয়েছিল, ইংল্যান্ড সফরের সাদা বলের ম্যাচগুলির সময় চোট পেয়েছিলেন তিনি। সেই চোটের কারণেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট থেকে তাঁকে বাইরে রাখতে হয়েছিল।

হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট ক্রিকেটারদের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দৌড়, দ্রুত দিক পরিবর্তন, বোলিংয়ের সময় শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ফিল্ডিং—সব ক্ষেত্রেই পায়ের পেশির উপর চাপ পড়ে। একজন অলরাউন্ডারের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁকে শুধু একজন ব্যাটার বা বোলার হিসেবে নয়, দুই বিভাগেই অবদান রাখতে হয়।

সুন্দর যদি পুরোপুরি ফিট না হয়ে মাঠে নামেন, তাহলে পুরনো চোট আরও গুরুতর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে। সেই কারণেই টিম ম্যানেজমেন্ট সম্ভবত কোনও অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিতে চাইছে না। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁকে পাওয়া গেলে তা অবশ্যই ভারতের জন্য ভালো খবর হবে, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল ক্রিকেটারটির সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা।

শ্রীলঙ্কার মাটিতে সুন্দর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ওয়াশিংটন সুন্দরের গুরুত্ব শুধু তাঁর অলরাউন্ড দক্ষতার কারণে নয়। শ্রীলঙ্কার মাটিতে স্পিনারদের ভূমিকা সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ম্যাচ যত এগোয়, পিচের চরিত্র বদলাতে পারে এবং স্পিন বোলিং ম্যাচের ফলাফলে বড় ভূমিকা নিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে একজন বাঁহাতি ব্যাটার এবং ডানহাতি অফস্পিনার হিসেবে সুন্দর ভারতীয় দলের জন্য অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প।

তিনি নতুন বলেও বোলিং করতে পারেন, মাঝের ওভারে রান আটকাতে পারেন এবং দীর্ঘ স্পেল করার ক্ষমতাও রাখেন। পাশাপাশি ব্যাট হাতে দলের নিচের সারিতে গুরুত্বপূর্ণ রান করার সামর্থ্য রয়েছে তাঁর।

ভারতের স্কোয়াডে ইতিমধ্যেই একাধিক স্পিন বিকল্প রয়েছে। রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি কুলদীপ যাদবের মতো ভিন্ন ধরনের স্পিনারও দলের পরিকল্পনায় থাকতে পারেন। কিন্তু সুন্দর আলাদা, কারণ তিনি একজন প্রকৃত অলরাউন্ডার হিসেবে ব্যাটিং-বোলিং দু’দিকেই ভারসাম্য তৈরি করতে পারেন।

তাই তাঁকে পাওয়া গেলে দলের কম্বিনেশন আরও নমনীয় হয়। একজন অতিরিক্ত ব্যাটার কিংবা অতিরিক্ত বোলার খেলানোর প্রয়োজন কমে যায়। সুন্দর নিজেই দুই বিভাগে কিছুটা ভার বহন করতে পারেন।

ভারতের কম্বিনেশনে কী প্রভাব পড়বে?

ওয়াশিংটন সুন্দর না থাকলে ভারতের টিম কম্বিনেশন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। বিশেষ করে যদি শ্রীলঙ্কার পিচ স্পিন সহায়ক হয়, তাহলে একাধিক স্পিনার খেলানোর সম্ভাবনা থাকবে। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে ব্যাটিং লাইন-আপ এবং বোলিং আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।

সুন্দর থাকলে ভারত সহজেই একজন অতিরিক্ত স্পিনিং অলরাউন্ডারকে খেলাতে পারে। কিন্তু তিনি না থাকলে অধিনায়ক ও কোচিং স্টাফকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—দলে একজন অতিরিক্ত ব্যাটার রাখা হবে, নাকি আরও একজন বিশেষজ্ঞ বোলারকে নেওয়া হবে।

এই সমস্যা আরও বড় হয়ে উঠেছে কারণ ভারত ইতিমধ্যেই একাধিক ক্রিকেটারকে চোটের কারণে হারিয়েছে। জশপ্রীত বুমরাহর অনুপস্থিতি ভারতের পেস আক্রমণে প্রভাব ফেলবে। সাই সুদর্শনের না থাকা টপ অর্ডারের পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন এনেছে। নীতীশ রেড্ডি এবং হর্ষিত রানার মতো ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি দলের গভীরতাকে আরও কমিয়ে দিয়েছে।

অর্থাৎ সুন্দর যদি শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় টেস্ট থেকেও বাইরে থাকেন, তাহলে ভারতকে একাধিক বিভাগে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

সাই সুদর্শনের চোটও বড় ধাক্কা

সুন্দরের চোটের খবরের সঙ্গে ভারতীয় শিবিরে আরও একটি বড় ধাক্কা এসেছে সাই সুদর্শনের চোটের কারণে। ভারতীয় টপ অর্ডারে জায়গা করে নেওয়া এই বাঁহাতি ব্যাটারকে শ্রীলঙ্কা সিরিজের জন্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর চোটের কারণে সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়ার খবর ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে এবং সরফরাজ খান তাঁর পরিবর্তে স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন।

সুদর্শনের অনুপস্থিতি ভারতের ব্যাটিং পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করবে। এর সঙ্গে যদি সুন্দরও দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে না পারেন, তাহলে ব্যাটিং এবং বোলিং—দুই বিভাগেই পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে দলের রিজার্ভ বেঞ্চের গুরুত্ব আরও বেড়ে যাচ্ছে। নতুন ক্রিকেটারদের উপর দায়িত্ব বাড়ছে। একই সঙ্গে অধিনায়ক এবং কোচিং স্টাফকে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও নমনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বুমরাহকে না পাওয়াও বড় সমস্যা

ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলির একটি অবশ্যই জশপ্রীত বুমরাহর অনুপস্থিতি। তিনি ভারতের পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। নতুন বল হোক বা পুরনো বল, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতার কারণে বুমরাহর গুরুত্ব অপরিসীম।

শ্রীলঙ্কার মাটিতে স্পিনাররা গুরুত্বপূর্ণ হলেও পেসারদের ভূমিকা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় নয়। নতুন বলে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের টপ অর্ডারকে চাপে ফেলার ক্ষমতা ভারতীয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

news image
আরও খবর

বুমরাহকে সিরিজে না পাওয়ার খবর ইতিমধ্যেই ভারতীয় দলের চোট-সমস্যাকে আরও প্রকট করেছে।

এর পর যদি সুন্দরও বাইরে থাকেন, তাহলে ভারতের স্কোয়াডের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়বে।

টিম ম্যানেজমেন্ট কেন ঝুঁকি নিতে চাইছে না?

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনও ক্রিকেটারকে চোট থেকে তাড়াহুড়ো করে ফেরানো অনেক সময় উল্টো ফল দিতে পারে। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে পরিস্থিতি আরও কঠিন। একটি টেস্ট ম্যাচে একজন ক্রিকেটারকে কয়েক ঘণ্টা মাঠে থাকতে হয়। ব্যাটিং করলে দীর্ঘ সময় ক্রিজে দাঁড়াতে হয়, আবার বোলিং করলে বারবার রান-আপ নিতে হয়।

সুন্দর একজন অলরাউন্ডার। অর্থাৎ তিনি দলে থাকলে শুধু ব্যাটিংয়ের জন্য তাঁকে ব্যবহার করা হবে না। তাঁর কাছ থেকে বোলিংও প্রত্যাশা করা হবে। ফলে পুরোপুরি ম্যাচ ফিট না হলে তাঁকে খেলানোর ঝুঁকি আরও বেশি।

টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে তাই পরিষ্কার সিদ্ধান্ত—সুন্দর যদি সম্পূর্ণ ফিট হন, তবেই তাঁকে বিবেচনা করা হবে। শুধু দ্বিতীয় টেস্টে তাঁকে পাওয়া যাবে বলে তাড়াহুড়ো করে মাঠে নামানোর সম্ভাবনা কম।

সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলোতেও তাঁর দ্বিতীয় টেস্টে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকে খুবই কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের সামনে এখন কী বিকল্প?

সুন্দর না থাকলে ভারতকে তাঁর ভূমিকা ভাগ করে নিতে হতে পারে। একজন ক্রিকেটার দিয়ে যে কাজটি করা যেত, সেটি হয়তো দুই বা তিনজন ক্রিকেটারের মাধ্যমে করতে হবে।

যদি দল মনে করে স্পিনিং অলরাউন্ডারের প্রয়োজন বেশি, তাহলে অন্য কোনও স্পিনিং অলরাউন্ডারকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। স্কোয়াডে সরনশ জৈনের মতো স্পিনিং অলরাউন্ডারও রয়েছেন, যিনি প্রথমবার ভারতের টেস্ট দলে জায়গা পেয়েছেন।

অন্যদিকে যদি ব্যাটিং শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে অতিরিক্ত একজন ব্যাটারকে খেলানো হতে পারে। আর পিচের পরিস্থিতি যদি পেসারদের সুবিধা দেয়, তাহলে বোলিং আক্রমণেও আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব।

সবকিছু নির্ভর করবে প্রথম টেস্টের অভিজ্ঞতা, গলের পিচের চরিত্র এবং দলের প্রয়োজনের উপর।

কলম্বো টেস্টে নজর থাকবে সুন্দরকে ঘিরে

দ্বিতীয় টেস্টের আগে ভারতীয় দলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হবে ক্রিকেটারদের ফিটনেস রিপোর্ট। প্রথম টেস্ট শেষ হওয়ার পর দলের মেডিক্যাল টিম এবং সাপোর্ট স্টাফরা ক্রিকেটারদের অবস্থা মূল্যায়ন করবেন।

সুন্দর সেই সময় পর্যন্ত কতটা সুস্থ হন, সেটাই দেখার। যদি তিনি অনুশীলনে পুরোপুরি অংশ নিতে পারেন এবং মেডিক্যাল টিম সবুজ সংকেত দেয়, তাহলে শেষ মুহূর্তে তাঁর নাম বিবেচনায় আসতে পারে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা খুব উজ্জ্বল নয়।

২৩ আগস্ট কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হওয়ার কথা। ফলে তার আগে সুন্দরকে ম্যাচ ফিট হওয়ার জন্য খুব বেশি সময় হাতে নেই।

ভারতের চোট-সমস্যা কি সিরিজের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে?

এখনই এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ ভারতীয় ক্রিকেট দলের বেঞ্চ শক্তিশালী এবং একাধিক আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার স্কোয়াডে রয়েছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের একসঙ্গে হারালে দলের পরিকল্পনায় প্রভাব পড়বেই।

একজন পেসার, একজন ব্যাটার এবং একজন অলরাউন্ডার—তিনটি আলাদা বিভাগে চোটের প্রভাব পড়লে দলের মূল পরিকল্পনা বদলাতে হয়। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে তাই শুধু প্রথম একাদশ নয়, পুরো সিরিজের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে।

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজটি দুই ম্যাচের হলেও প্রতিটি ম্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টেস্ট ক্রিকেটে দুই ম্যাচের সিরিজে একটি ম্যাচে হার বা ড্রয়ের প্রভাব সিরিজের ফলাফলে বড় হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রেক্ষাপটে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তাই চোট থাকা অবস্থায় কোনও ক্রিকেটারকে খেলিয়ে তাঁকে আরও বড় সমস্যায় ফেলে দেওয়া ভারতীয় দলের জন্য মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত হবে না।

সুন্দরকে নিয়ে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—তিনি কবে সম্পূর্ণ ম্যাচ ফিট হচ্ছেন। শুধু চোটের জায়গায় ব্যথা কমেছে কি না, সেটিই যথেষ্ট নয়। তাঁকে দৌড়ানো, বোলিং, ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং—সবকিছু স্বাভাবিকভাবে করতে সক্ষম হতে হবে।

তারপর দেখতে হবে দীর্ঘ সময়ের অনুশীলনে তাঁর শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া করছে। কারণ টেস্ট ম্যাচে চাপ অনেক বেশি।

ভারতীয় দলের জন্য তাই সুন্দরকে নিয়ে কোনওরকম তাড়াহুড়ো না করাই যুক্তিযুক্ত। তাঁর মতো গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডারকে দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজন। একটি ম্যাচের জন্য তাঁকে ঝুঁকিতে ফেলে ভবিষ্যতের সিরিজে আরও বড় সমস্যার মুখে পড়া উচিত নয়।

শেষ কথা

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ শুরু হওয়ার আগেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের চোট-সমস্যা যেন থামছেই না। জশপ্রীত বুমরাহ থেকে সাই সুদর্শন—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার ইতিমধ্যেই সমস্যায় পড়েছেন। এবার ওয়াশিংটন সুন্দরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।

প্রথম টেস্টে তাঁর অনুপস্থিতি আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। কিন্তু এখন দ্বিতীয় টেস্টেও তাঁকে পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে দ্রুত ফিরে আসা সহজ নয়। বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচের মতো কঠিন ফরম্যাটে সম্পূর্ণ ম্যাচ ফিট না হলে একজন অলরাউন্ডারকে মাঠে নামানো ঝুঁকিপূর্ণ।

সুন্দরকে পাওয়া গেলে ভারতের দলীয় ভারসাম্য নিঃসন্দেহে আরও শক্তিশালী হবে। তাঁর অফস্পিন শ্রীলঙ্কার পিচে কার্যকর হতে পারে, আবার ব্যাট হাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের জন্য তাঁর স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয় টেস্ট ২৩ আগস্ট কলম্বোয় শুরু হওয়ার আগে ভারতীয় শিবিরে তাই নজর থাকবে মেডিক্যাল আপডেটের দিকে। শেষ পর্যন্ত সুন্দর যদি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাহলে তিনি দলের জন্য বড় সংযোজন হতে পারেন। আর যদি তাঁকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে ভারতের বেঞ্চের ক্রিকেটারদেরই সেই ঘাটতি পূরণ করতে হবে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত চিত্র হল—সুন্দরকে নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট এবং দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর খেলা নিয়ে সংশয় যথেষ্ট গভীর। ভারতের জন্য এটি নিঃসন্দেহে আরও একটি বড় ধাক্কা। তবে চোটের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে ক্রিকেটারকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফেরানোই দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে ভারতের আসল পরীক্ষা তাই শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও। একের পর এক চোটের মধ্যেও কীভাবে সেরা কম্বিনেশন তৈরি করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেটাই এখন অধিনায়ক, কোচ এবং নির্বাচকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Preview image