Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

গ্র্যামির মঞ্চে অরিজিৎ সিং! ‘ধুরন্ধর’-এর সুরে এবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লড়াই

৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের একাধিক বিভাগে জমা পড়েছে ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাউন্ডট্র্যাক। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এবার অরিজিৎ সিংয়ের গাওয়া গান ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ।

অরিজিৎ সিংয়ের ‘ফিরসে’ গান গ্র্যামির বিবেচনায়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ‘ধুরন্ধর’ সাউন্ডট্র্যাক

বক্স অফিসে সাফল্যের পর এবার আন্তর্জাতিক সংগীতমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজি। আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ এবং ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ছবির সাউন্ডট্র্যাককে ঘিরে এবার তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত অরিজিৎ সিংয়ের গাওয়া ‘ফিরসে’ (Phir Se) গানটি ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের বিবেচনার জন্য জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। খবরটি সামনে আসতেই ভারতীয় সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস।

টি-সিরিজ এবং বি৬২ স্টুডিওসের যৌথ উদ্যোগে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর সংগীতকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার প্রচেষ্টা ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। শুধু একটি গান নয়, ছবির সামগ্রিক সাউন্ডট্র্যাককে বিশ্বের বিভিন্ন সংগীত বিভাগের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। এর ফলে সিনেমার সংগীত, গানের কথা এবং সুরের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এই প্রসঙ্গে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের জন্য কোনও গান জমা দেওয়া, মনোনয়নের তালিকায় জায়গা পাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত পুরস্কার জেতা—এই তিনটি আলাদা পর্যায়। ‘ফিরসে’ গানটি বিবেচনার জন্য জমা পড়েছে বলে যে খবর সামনে এসেছে, তার অর্থ এই নয় যে গানটি ইতিমধ্যেই গ্র্যামির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছে। বরং এই জমা দেওয়ার উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংগীতমহলে গানটিকে বিবেচনার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অরিজিৎ সিংয়ের পোস্ট ঘিরে সংগীতপ্রেমীদের আগ্রহ

ভারতীয় সংগীতজগতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠ অরিজিৎ সিং। তাঁর গাওয়া গান বহু বছর ধরেই শ্রোতাদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। রোম্যান্টিক গান থেকে শুরু করে আবেগঘন সুর, বিচ্ছেদ কিংবা জীবনের নানা অনুভূতিকে ঘিরে তৈরি গান—বিভিন্ন ধরনের সংগীতেই তাঁর কণ্ঠ শ্রোতাদের আকৃষ্ট করেছে। সেই অরিজিতের গাওয়া ‘ফিরসে’ গানটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারের বিবেচনার জন্য জমা পড়ার খবর তাই স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অরিজিৎ সিং জানিয়েছেন, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর ‘ফিরসে’ গানটি ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার জন্য লেখা সেরা গানের বিভাগে গ্র্যামি মনোনয়নের বিবেচনার জন্য জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি শ্রোতাদের অবিরাম ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এই বার্তার মধ্য দিয়ে শিল্পী তাঁর শ্রোতাদের সঙ্গে এই উদ্যোগের খবর ভাগ করে নিয়েছেন। কোনও শিল্পীর কাছে শ্রোতাদের সমর্থন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই আন্তর্জাতিক সংগীতমঞ্চে নিজের কাজকে তুলে ধরার সুযোগও তাৎপর্যপূর্ণ। অরিজিতের পোস্ট সামনে আসার পর ‘ফিরসে’ গানটি নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে।

তবে গ্র্যামির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মনোনয়ন বা পুরস্কার জয়ের বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিয়ম, জমা পড়া কাজের মূল্যায়ন এবং ভোটের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়েই চূড়ান্ত মনোনয়ন ও বিজয়ী নির্ধারিত হয়। ফলে এই মুহূর্তে খবরটির মূল গুরুত্ব রয়েছে গানটির বিবেচনার জন্য জমা পড়া এবং আন্তর্জাতিক স্তরে সেটিকে তুলে ধরার উদ্যোগে।

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর ‘ফিরসে’ গান কেন আলোচনায়?

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর সঙ্গে যুক্ত ‘ফিরসে’ গানটি গ্র্যামির বিবেচনার জন্য জমা পড়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর ছবির সংগীত নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একটি সিনেমার সাফল্যের পিছনে অভিনয়, পরিচালনা, চিত্রনাট্য ও দৃশ্যায়নের পাশাপাশি সংগীতেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। অনেক সময় কোনও গানের সুর বা কথা দর্শকের মনে ছবির দৃশ্যের মতোই দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।

চলচ্চিত্রের গান কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়। গল্পের আবেগ প্রকাশ করা, চরিত্রের অনুভূতি তুলে ধরা এবং কোনও বিশেষ মুহূর্তকে দর্শকের মনে গেঁথে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই কারণেই সিনেমার সংগীতকে আলাদা করে মূল্যায়ন করার সুযোগ তৈরি হলে তা সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের কাজকে বৃহত্তর পরিসরে পরিচিত করার পথ খুলে দিতে পারে।

‘ফিরসে’ গানটিকে ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার জন্য লেখা সেরা গানের বিভাগে বিবেচনার জন্য জমা দেওয়ার উদ্যোগও সেই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। এই বিভাগে গানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দৃশ্যভিত্তিক কাজের সম্পর্ক এবং গানের কথার সৃজনশীল ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তবে কোনও গানের চূড়ান্ত যোগ্যতা বা মনোনয়ন নির্ভর করে গ্র্যামির নির্দিষ্ট নিয়ম ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার উপর।

অরিজিৎ সিংয়ের মতো পরিচিত শিল্পীর কণ্ঠ এই গানকে ঘিরে শ্রোতাদের আগ্রহ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে গানের সুরকার, গীতিকার এবং প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য শিল্পীদের অবদানও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সংগীত তৈরি একটি সম্মিলিত সৃজনশীল প্রক্রিয়া। একজন গায়কের কণ্ঠ যেমন গানকে প্রাণ দেয়, তেমনই সুর, কথা, সংগীতায়োজন এবং রেকর্ডিংয়ের গুণমান একটি গানের সামগ্রিক পরিচয় তৈরি করে।

শুধু একটি গান নয়, গোটা সাউন্ডট্র্যাককে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার উদ্যোগ

টি-সিরিজ এবং বি৬২ স্টুডিওসের উদ্যোগে ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাউন্ডট্র্যাককে আন্তর্জাতিক সংগীতমহলে তুলে ধরার পরিকল্পনাও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট খবর অনুযায়ী, বিশ্বসংগীত, এশিয়ান পপ, গীতিকার, র‍্যাপ, ডান্স এবং ইলেকট্রনিক রেকর্ডিংসের মতো একাধিক বিভাগের জন্য ছবির সংগীতকে বিবেচনার উদ্দেশ্যে জমা দেওয়া হয়েছে।

একটি সিনেমার সাউন্ডট্র্যাকের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সংগীতধারা থাকতে পারে। কোনও গান তার সুরের জন্য আলাদা পরিচিতি পায়, কোনও গান জনপ্রিয় হয় গায়কির জন্য, আবার কোনও গানের বিশেষত্ব থাকে তার কথায় কিংবা সংগীতায়োজনে। ফলে একটি অ্যালবামের বিভিন্ন গানকে আলাদা আলাদা বিভাগে তুলে ধরার প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক পুরস্কারের পরিসরে ভিন্ন ভিন্ন সৃজনশীল দিককে সামনে আনতে পারে।

তবে কোন গান ঠিক কোন বিভাগে জমা পড়েছে, সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। জমা দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে আসা মানেই সংশ্লিষ্ট সব বিভাগে গানগুলি আনুষ্ঠানিক যোগ্যতা অর্জন করেছে বা চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছে, এমন নয়। গ্র্যামির নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই ও পরবর্তী মূল্যায়নের ধাপগুলি গুরুত্বপূর্ণ।

এই ধরনের উদ্যোগের আরেকটি দিক হল, ভারতীয় চলচ্চিত্রের সংগীতকে দেশের বাইরের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ভারতীয় সিনেমার গান দীর্ঘদিন ধরেই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের কাছে পৌঁছেছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার সেই যোগাযোগ আরও সহজ করেছে। এখন একটি গান মুক্তির পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শ্রোতা সেটি শুনতে পারেন, নিজেদের পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন এবং সামাজিক মাধ্যমে গানটি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।

আন্তর্জাতিক পুরস্কারের জন্য জমা দেওয়ার উদ্যোগ সেই পরিচিতিকে আরও বিস্তৃত করার একটি সম্ভাব্য পথ। তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি শিল্পমান, বিভাগের নির্দিষ্ট মানদণ্ড এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস: জমা দেওয়া ও মনোনয়নের মধ্যে পার্থক্য

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস আন্তর্জাতিক সংগীতজগতের অন্যতম পরিচিত পুরস্কার। বিভিন্ন ধরনের সংগীত, গায়ক-গায়িকা, সুরকার, গীতিকার, প্রযোজক এবং রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত পেশাদারদের কাজকে এই পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সংগীতের বিভিন্ন ধারাকে আলাদা বিভাগে মূল্যায়ন করা হয়, যাতে সংশ্লিষ্ট কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিচার করা সম্ভব হয়।

কোনও গান গ্র্যামির জন্য জমা পড়লে সাধারণত তার পরবর্তী পথ নির্ভর করে নির্দিষ্ট বিভাগের যোগ্যতার শর্ত এবং মূল্যায়নের উপর। প্রথমে জমা দেওয়া কাজের প্রাসঙ্গিক নিয়ম ও যোগ্যতা যাচাই করা হয়। তার পরে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ভোট ও মূল্যায়নের মাধ্যমে চূড়ান্ত মনোনয়নের তালিকা তৈরি হতে পারে। সেই তালিকা থেকে পরবর্তী পর্যায়ে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।

এই কারণে ‘ফিরসে’ গানটির গ্র্যামি-সংক্রান্ত খবরের ক্ষেত্রে সঠিক শব্দ ব্যবহার করা জরুরি। গানটি বিবেচনার জন্য জমা পড়েছে—এটাই বর্তমানে প্রকাশিত তথ্যের মূল বিষয়। চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত গানটিকে গ্র্যামি-মনোনীত বলা ঠিক হবে না। একইভাবে পুরস্কার জয়ের বিষয়টিও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা, নিশ্চিত ঘটনা নয়।

এই পার্থক্যটি পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সংবাদ শিরোনামে ‘গ্র্যামিতে জমা’, ‘গ্র্যামির বিবেচনায়’, ‘গ্র্যামি মনোনয়ন’ এবং ‘গ্র্যামি জয়’—এই শব্দবন্ধগুলির অর্থ এক নয়। সঠিক তথ্য তুলে ধরলে যেমন খবরের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় থাকে, তেমনই পাঠকের কাছেও বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর সংগীতকে আন্তর্জাতিক পুরস্কারের পরিসরে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা তাই আপাতত একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য সামনে এলে গানটির গ্র্যামি-যাত্রা নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

আদিত্য ধর, রণবীর সিং এবং ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সংগীত

আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ এর সঙ্গে যুক্ত পরিচিত অভিনেতাদের উপস্থিতি। রণবীর সিং, সঞ্জয় দত্ত, আর মাধবন এবং অক্ষয় খান্নার মতো শিল্পীদের নাম ছবির আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি একটি ছবির আবহসংগীত ও গান কীভাবে গল্পের সঙ্গে মিশে যায়, সেটিও দর্শকের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে।

news image
আরও খবর

বড় পরিসরের সিনেমায় সংগীতের ভূমিকা অনেক সময় পর্দার বাইরেও বিস্তৃত হয়। ছবির কোনও গান সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে, শ্রোতাদের ব্যক্তিগত প্লেলিস্টে জায়গা পেতে পারে কিংবা ছবির সঙ্গে যুক্ত বিশেষ আবেগের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। ফলে সিনেমার সংগীতের জনপ্রিয়তা শুধু প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকে না।

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর ‘ফিরসে’ গানকে গ্র্যামির বিবেচনার জন্য জমা দেওয়ার উদ্যোগ এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই আলোচনায় এসেছে। গানটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ পেলে তার সঙ্গে যুক্ত সৃজনশীল কাজ সম্পর্কে আরও বিস্তৃত পরিসরে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে ছবির অভিনেতাদের জনপ্রিয়তা এবং গানের পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা দুটি পৃথক বিষয়। কোনও ছবির বাণিজ্যিক সাফল্য বা অভিনেতাদের পরিচিতি নিজে থেকেই গ্র্যামি মনোনয়ন নিশ্চিত করে না। শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সংগীতকর্মের যোগ্যতা, বিভাগ এবং মূল্যায়নের নিয়মই নির্ধারক।

এই দিক থেকে ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সংগীতকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার উদ্যোগকে ছবির প্রচারের বাইরেও একটি সংগীতকেন্দ্রিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

ভারতীয় সংগীতের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ানোর সম্ভাবনা

ভারতীয় সংগীতের ঐতিহ্য অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। শাস্ত্রীয় সংগীত, লোকসংগীত, আধুনিক বাংলা গান, হিন্দি চলচ্চিত্রের গান, আঞ্চলিক ভাষার সংগীত, স্বাধীন সংগীত এবং বিভিন্ন ধরনের ফিউশন—সব মিলিয়ে ভারতীয় সংগীতের জগৎ বিস্তৃত। চলচ্চিত্রের গান এই বৈচিত্র্যের একটি জনপ্রিয় অংশ, যা বহু দশক ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেছে।

বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে ভারতীয় সংগীত পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বেশি। অনলাইন স্ট্রিমিং পরিষেবা, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক মাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংগীত উৎসব শিল্পীদের কাজকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। ফলে কোনও ভারতীয় গানের জনপ্রিয়তা শুধু একটি দেশের বাজারে সীমাবদ্ধ থাকছে না।

গ্র্যামির মতো আন্তর্জাতিক পুরস্কারের জন্য কোনও ভারতীয় সংগীতকর্ম জমা দেওয়ার উদ্যোগও এই বৃহত্তর যোগাযোগের অংশ হতে পারে। এর মাধ্যমে গানটির সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের কাজ আন্তর্জাতিক সংগীতমহলে আলোচনায় আসার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংগীতধারার মধ্যে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের সম্ভাবনাও বাড়ে।

অরিজিৎ সিংয়ের ‘ফিরসে’ গানকে ঘিরে তৈরি হওয়া আগ্রহ সেই দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতীয় চলচ্চিত্রের গান কীভাবে আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের পরিচিতি আরও বিস্তৃত করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে কোনও একটি গান জমা পড়ার ঘটনাকে সামগ্রিক ভারতীয় সংগীতের আন্তর্জাতিক সাফল্যের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটিকে বৃহত্তর সম্ভাবনার একটি ধাপ হিসেবে দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক পুরস্কারের প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা নিজেদের কাজ তুলে ধরেন। সেখানে ভাষা, সংগীতের ধরন, প্রযোজনার মান এবং গানের সৃজনশীল বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারতীয় শিল্পীদের জন্য এই ধরনের মঞ্চে অংশগ্রহণের সুযোগ বিশ্বসংগীতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

গানের কথা ও সুরের স্বীকৃতি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

চলচ্চিত্রের গান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কণ্ঠশিল্পীর ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গীতিকার ও সুরকারের অবদানও অপরিহার্য। একটি গানের কথা গল্পের আবেগকে প্রকাশ করতে পারে, চরিত্রের মানসিক অবস্থার সঙ্গে শ্রোতাকে পরিচিত করতে পারে কিংবা ছবির মূল ভাবনাকে আরও গভীর করে তুলতে পারে। অন্যদিকে সুর ও সংগীতায়োজন সেই কথাকে শ্রোতার কাছে অনুভবযোগ্য করে তোলে।

ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার জন্য লেখা সেরা গানের মতো বিভাগে গানের কথা এবং দৃশ্যভিত্তিক কাজের সঙ্গে তার সম্পর্ক বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ চলচ্চিত্র, টেলিভিশন বা অন্য দৃশ্যভিত্তিক মাধ্যমে ব্যবহৃত গান অনেক সময় গল্পের অংশ হিসেবেই কাজ করে। একটি নির্দিষ্ট দৃশ্যের আবেগ, চরিত্রের অনুভূতি কিংবা কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ বাঁক গানের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হতে পারে।

‘ফিরসে’ গানটিকে এই বিভাগের বিবেচনার জন্য জমা দেওয়ার খবর তাই শুধু অরিজিৎ সিংয়ের গায়কিকে ঘিরে নয়, গানটির সামগ্রিক সৃজনশীল পরিচয় নিয়েও আগ্রহ তৈরি করেছে। কোনও গানকে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে তার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি শিল্পীর কাজকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এখানে গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, রেকর্ডিং ও প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত পেশাদারদের অবদানও প্রাসঙ্গিক। পুরস্কারের নিয়ম অনুযায়ী কারা কোনও নির্দিষ্ট বিভাগের জন্য যোগ্য হবেন, তা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্ধারিত শর্তের উপর নির্ভর করে।

টি-সিরিজ ও বি৬২ স্টুডিওসের উদ্যোগের তাৎপর্য

একটি সংগীতকর্মকে আন্তর্জাতিক পুরস্কারের পরিসরে তুলে ধরতে শুধু গান প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট কাজকে যথাযথ বিভাগে উপস্থাপন করা, যোগ্যতার নিয়ম মেনে জমা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সংগীতজগতের কাছে সেটির পরিচিতি তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাউন্ডট্র্যাককে ঘিরে টি-সিরিজ ও বি৬২ স্টুডিওসের উদ্যোগ সেই দিক থেকে আলোচনায় এসেছে। একাধিক বিভাগে সংগীতকর্ম জমা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে অ্যালবামের বিভিন্ন সৃজনশীল দিককে আলাদা করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিটি বিভাগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

এই ধরনের প্রচেষ্টা চলচ্চিত্রের সংগীতকে আরও বৃহত্তর শ্রোতৃসমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক স্তরে সংগীতের বাজার ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ায় বিভিন্ন দেশের প্রযোজনা সংস্থা ও শিল্পীরা নিজেদের কাজকে নতুন শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরতে আগ্রহী।

তবে প্রচারমূলক উদ্যোগ এবং পুরস্কারের চূড়ান্ত ফলাফলকে এক করে দেখা উচিত নয়। কোনও গান বা অ্যালবামকে আন্তর্জাতিক পুরস্কারের জন্য জমা দেওয়া একটি প্রক্রিয়ার সূচনা মাত্র। তার পরে মূল্যায়ন, যোগ্যতা যাচাই এবং মনোনয়নের মতো ধাপ রয়েছে। ফলে এই উদ্যোগের গুরুত্ব থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফলের বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

এখন নজর গ্র্যামির পরবর্তী ঘোষণায়

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর ‘ফিরসে’ গানকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা এখন মূলত তার গ্র্যামি-সংক্রান্ত জমা দেওয়ার খবরকে কেন্দ্র করে। অরিজিৎ সিংয়ের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার উদ্যোগ এই খবরকে আরও পরিচিতি দিয়েছে। ভারতীয় সংগীতপ্রেমীরা এখন জানতে আগ্রহী, পরবর্তী পর্যায়ে গানটি কীভাবে এগোয়।

তবে পরবর্তী পর্যায়ের কোনও ঘোষণা সামনে না আসা পর্যন্ত গানটির চূড়ান্ত মনোনয়ন বা পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত দাবি করা যাবে না। গ্র্যামির নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে ছবির সাউন্ডট্র্যাককে ঘিরে আন্তর্জাতিক আগ্রহ তৈরি হওয়া ভারতীয় চলচ্চিত্রের সংগীতের জন্য একটি আলোচনাযোগ্য ঘটনা। সিনেমার জনপ্রিয় গান কীভাবে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছতে পারে এবং পুরস্কারের মঞ্চে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে, তা এই উদ্যোগের মাধ্যমে সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর ‘ফিরসে’ গানকে গ্র্যামির বিবেচনার জন্য জমা দেওয়ার খবর অরিজিৎ সিংয়ের অনুরাগী এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রের সংগীতপ্রেমীদের কাছে আগ্রহের বিষয়। টি-সিরিজ ও বি৬২ স্টুডিওসের বৃহত্তর উদ্যোগও ছবির সংগীতকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। এখন দেখার, নির্ধারিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় গানটি পরবর্তী পর্যায়ে জায়গা করে নিতে পারে কি না।

প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই: ‘৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস’, ‘ফিরসে’ গানের জমা দেওয়ার খবর, সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং অন্যান্য ট্র্যাকের বিভাগভিত্তিক জমার তথ্য আনুষ্ঠানিক সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। জমা দেওয়াকে চূড়ান্ত মনোনয়ন হিসেবে উল্লেখ করবেন না।

Preview image