আসামের প্রযুক্তি বিপ্লব: ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর মানচিত্রে জায়গা করে নিচ্ছে ভারত গুয়াহাটি, ৯ নভেম্বর ২০২৫ — উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য আসাম এখন ভারতের প্রযুক্তি উন্নয়নের এক নতুন কেন্দ্র হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) ঘোষণা করেছেন, আসাম ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে যুক্ত হবে। এই প্রকল্পের মূল কেন্দ্র হলো জাগিরোড (Jagiroad), যেখানে Tata Electronics ₹২৭,০০০ কোটি টাকার এক বিশাল সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি ও টেস্ট (OSAT) প্ল্যান্ট গড়ে তুলছে। এই প্রকল্প চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৪৮ মিলিয়ন চিপ উৎপাদনের ক্ষমতা তৈরি হবে। সরকারের অনুমান অনুযায়ী, এই কারখানা থেকে ১৫,০০০-এরও বেশি সরাসরি এবং প্রায় ১৩,০০০ পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। অর্থমন্ত্রী পরিদর্শনের সময় বলেন, “এই প্রকল্প শুধুমাত্র একটি শিল্প কারখানা নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য এক নতুন দিগন্ত।” বিশেষজ্ঞদের মতে, আসামের এই পদক্ষেপ শুধু স্থানীয় অর্থনীতি নয়, পুরো ভারতের প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। এটি দেশের ‘Make in India’ ও ‘Viksit Bharat 2047’ উদ্যোগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। প্রকল্পের সঙ্গে থাকবে গবেষণা কেন্দ্র, দক্ষতা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং স্থানীয় MSME ইউনিটগুলির অংশগ্রহণ। স্থানীয় শিক্ষার্থীরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে চিপ ডিজাইন, রোবোটিক্স, ও মাইক্রোইলেকট্রনিক্স খাতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। অর্থনৈতিকভাবে এটি আসামকে ভারতের প্রযুক্তি মানচিত্রে নতুন অবস্থান এনে দেবে। অবকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন, ও পরিবহন খাতে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি ঘটবে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয় — দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, সরবরাহ চেইন ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা এই প্রকল্পের সাফল্যের মূল বাধা হতে পারে। তবুও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ করছে এই বাধাগুলো দূর করার জন্য। অর্থমন্ত্রী বলেন, “উত্তর-পূর্ব ভারতের এই উদ্যোগ কেবল ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত।”
আসামের প্রযুক্তি বিপ্লব: ২০২৬ সালের মধ্যেই বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে যুক্ত হতে চলেছে ভারত
গুয়াহাটি, ৯ নভেম্বর ২০২৫ — উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য আসাম এবার দেশের প্রযুক্তি মানচিত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) ঘোষণা করেছেন, আসাম ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমের অংশ হতে চলেছে। এই উদ্যোগের মূল ভিত্তি হলো Jagiroad-এ Tata Electronics-এর ₹২৭,০০০ কোটি টাকার সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি ও টেস্ট (OSAT) প্রকল্প, যা ভারতের অন্যতম বৃহত্তম চিপ উৎপাদন কেন্দ্র হতে চলেছে।
অর্থমন্ত্রী সীতারামন সম্প্রতি জাগিরোডের প্রকল্পটি পরিদর্শন করে জানান,
“এটি শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রকল্প নয়—এটি আসামের ভবিষ্যৎ, উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রযুক্তি সক্ষমতার প্রতীক।”
এই সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প সম্পূর্ণরূপে চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৪৮ মিলিয়ন চিপ উৎপাদনের ক্ষমতা থাকবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে Tata Electronics Pvt. Ltd., এবং এটি ভারতের সেমিকন্ডাক্টর মিশনের অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫,০০০-এরও বেশি সরাসরি এবং ১১,০০০–১৩,০০০ পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। শুধু রাজ্যের অর্থনীতিতেই নয়, এর প্রভাব পড়বে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা ক্ষেত্রেও।
এই ₹২৭,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ শুধু কারখানা গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর অন্তর্ভুক্ত—
উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র (R&D Hub)
উন্নতমানের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বিকাশ ইনস্টিটিউট
ইলেকট্রনিক সাপ্লাই চেইন উন্নয়ন
স্থানীয় MSME ইউনিটগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব
এর মাধ্যমে আসাম ধীরে ধীরে ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও চিপ উৎপাদন মানচিত্রে একটি কৌশলগত অবস্থান অর্জন করবে।
ভারত ইতিমধ্যেই ২০৪৭ সালের মধ্যে “ভিক্সিত ভারত (Viksit Bharat)” গড়ার লক্ষ্যে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ওপর জোর দিচ্ছে। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সেই দৃষ্টিকোণের অন্যতম স্তম্ভ।
বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ চিপ উৎপাদন হয় তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ভারতের লক্ষ্য হলো—
স্থানীয়ভাবে চিপ উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমানো,
প্রযুক্তি শিল্পে আত্মনির্ভর হওয়া,
বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে স্থায়ী অংশীদার হওয়া।
Production Linked Incentive (PLI) স্কিম এবং India Semiconductor Mission (ISM)-এর আওতায় এই প্রকল্পগুলির জন্য বিশেষ ভর্তুকি, কর ছাড়, এবং অবকাঠামোগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
জাগিরোডে এই সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প চালু হলে উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রথমবারের মতো এমন উচ্চ প্রযুক্তি শিল্প গড়ে উঠবে।
এতে রাজ্যের শিক্ষার্থীরা ইঞ্জিনিয়ারিং, রোবোটিক্স, এবং মাইক্রোইলেকট্রনিক্স খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। IIT গৌহাটি এবং অন্যান্য টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটগুলির সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামও চালু করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র শিল্প গড়া নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম তৈরি করা—যেখানে স্থানীয় যুবক-যুবতীরা নেতৃত্ব দেবে।”
এই প্রকল্পের অর্থনৈতিক প্রভাব বহুমাত্রিক —
স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি: নির্মাণ, লজিস্টিক্স, খাদ্য, আবাসন, এবং পরিবহন খাতে প্রবল চাহিদা তৈরি হবে।
দক্ষতা উন্নয়ন: স্থানীয় শ্রমিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
নারী কর্মসংস্থান: প্রকল্পে ৩০% পর্যন্ত নারী কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্রামীণ উন্নয়ন: Jagiroad এবং আশপাশের অঞ্চলে নতুন রাস্তা, হাউজিং, এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
Tata Electronics-এর এই ইউনিটে থাকবে আধুনিক AI-চালিত ও মেশিন অটোমেশন সিস্টেম, যা চিপ অ্যাসেম্বলি, টেস্টিং, ও প্যাকেজিংয়ে গুণমান এবং দক্ষতা নিশ্চিত করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ ভারতের প্রযুক্তি শিল্পে একটি “Turning Point” হতে পারে। এটি শুধু বিদেশি প্রযুক্তির বিকল্প নয়, বরং “Make in India” প্রকল্পের বাস্তব প্রতিফলন।
এই বিশাল প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ অবশ্যই রয়েছে —
দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি,
বৈশ্বিক চিপ বাজারের দামের ওঠানামা,
সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা,
এবং পরিবেশগত অনুমোদনের প্রক্রিয়া।
তবে কেন্দ্র সরকার ও আসাম রাজ্য প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে এই সব সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য।
নির্মলা সীতারামন বলেন,
“উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন মানেই ভারতের উন্নয়ন। আসামের এই উদ্যোগ ভারতের প্রযুক্তি সক্ষমতার এক উজ্জ্বল প্রতীক হতে চলেছে।”
তিনি স্থানীয় তরুণদের উদ্দেশে বলেন,
“এখনই সময় নিজস্ব ব্যবসা ও উদ্ভাবনের পথ বেছে নেওয়ার—আসাম এখন ভারতের নতুন টেক হাব।”