Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বাড়িতে পা রাখলেই মন হবে প্রসন্ন! অগোছালো ঘর গুছিয়ে নিতে শিখুন জাপানি কায়দা

অগোছালো ঘর শুধু দেখতে খারাপ লাগে না, মনেও তৈরি করতে পারে অস্বস্তি। জাপানি কায়দায় ঘর গুছিয়ে কীভাবে বাড়িতে আনবেন পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও প্রশান্তির ছোঁয়া, জেনে নিন সহজ কিছু কৌশল।

বাড়িতে ঢুকেই যদি চোখে পড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জামাকাপড়, টেবিলের উপর অপ্রয়োজনীয় জিনিস, এলোমেলো বইপত্র কিংবা রান্নাঘরে জমে থাকা নানা সামগ্রী, তাহলে অজান্তেই মন খারাপ হয়ে যেতে পারে। বাড়ি আমাদের বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা। দিনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ এবং নানা চিন্তার পর ঘরে ফিরে যদি চারপাশে অগোছালো পরিবেশ দেখা যায়, তাহলে মনের উপরও তার প্রভাব পড়ে। তাই ঘর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সেটিকে পরিকল্পিতভাবে গুছিয়ে রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাপানি জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা এবং প্রয়োজনীয় জিনিসকে গুরুত্ব দেওয়া। জাপানে ঘর গোছানোর ক্ষেত্রে শুধু পরিষ্কার করাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না, বরং কোন জিনিস সত্যিই প্রয়োজন এবং কোনটি অপ্রয়োজনীয়, সেটিও বিবেচনা করা হয়। এই ভাবনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘কম জিনিস, বেশি স্বস্তি’ ধরনের একটি জীবনদর্শন।

অগোছালো ঘরকে সুন্দর ও পরিপাটি করে তুলতে তাই জাপানি কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে। এর জন্য একদিনে পুরো বাড়ি বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। বরং ধীরে ধীরে প্রতিটি জায়গা গুছিয়ে তোলা, অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলা এবং প্রতিটি জিনিসের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

প্রথমেই অপ্রয়োজনীয় জিনিস চিহ্নিত করুন

ঘর গোছানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হল শুধু জিনিসপত্র এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে রাখা। এতে ঘর সাময়িকভাবে পরিষ্কার দেখালেও কিছুদিন পর আবার একই সমস্যা তৈরি হয়। জাপানি পদ্ধতিতে তাই প্রথমেই গুরুত্ব দেওয়া হয় অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাছাই করার উপর।

ঘরের প্রতিটি জিনিস হাতে নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করুন—এই জিনিসটি কি সত্যিই ব্যবহার করি? গত কয়েক মাসে এটি কি প্রয়োজন হয়েছে? এটি কি আমার জন্য কোনও বাস্তব মূল্য বহন করে? যদি উত্তর বারবার ‘না’ হয়, তাহলে সেই জিনিসটি রেখে দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি না, তা ভাবুন।

পুরনো কাগজপত্র, ব্যবহার না করা পোশাক, ভাঙা সামগ্রী, অতিরিক্ত প্লাস্টিকের পাত্র, অপ্রয়োজনীয় সাজসজ্জার জিনিস কিংবা বহুদিন ধরে ব্যবহার না করা বিভিন্ন সামগ্রী ধীরে ধীরে আলাদা করা যেতে পারে।

তবে আবেগের সঙ্গে যুক্ত জিনিসের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করাই ভালো। কোনও পুরনো ছবি, উপহার বা স্মৃতিচিহ্ন যদি সত্যিই আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে সেটি অবশ্যই রাখা যায়। মূল লক্ষ্য হল এমন জিনিস সরানো, যা প্রয়োজন ছাড়াই জায়গা দখল করে আছে।

‘কম জিনিস, বেশি জায়গা’ ভাবনা

বাড়িতে যত বেশি অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমতে থাকে, ঘর তত দ্রুত অগোছালো হয়ে পড়ে। একটি ছোট ঘরেও যদি প্রয়োজনীয় জিনিসের সংখ্যা সীমিত রাখা যায়, তাহলে সেটি অনেক বেশি প্রশস্ত এবং শান্তিপূর্ণ দেখাতে পারে।

এই কারণে জাপানি ঘর গোছানোর দর্শনে প্রয়োজনীয় জিনিসের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিটি জিনিসের আলাদা ব্যবহার থাকলে সেটিকে রাখা সহজ হয়। কিন্তু শুধু ‘কখনও কাজে লাগতে পারে’ ভেবে বছরের পর বছর কোনও জিনিস রেখে দিলে ধীরে ধীরে ঘরে অপ্রয়োজনীয় জিনিসের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

তাই নতুন কোনও জিনিস কেনার আগে ভাবুন, সেটি সত্যিই প্রয়োজন কি না। একই ধরনের একাধিক সামগ্রী থাকলে সেগুলির মধ্যে সবচেয়ে ব্যবহারযোগ্যটি বেছে নেওয়া যেতে পারে।

প্রতিটি জিনিসের নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করুন

ঘর অগোছালো হওয়ার অন্যতম কারণ হল জিনিসপত্রের নির্দিষ্ট জায়গা না থাকা। চাবি কখনও টেবিলে, কখনও রান্নাঘরে, কখনও আবার সোফার পাশে পড়ে থাকলে তা খুঁজতে সময় লাগে। একইভাবে জামাকাপড়, বই, জুতো, কাগজপত্র কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রীও নির্দিষ্ট জায়গায় রাখলে ঘর অনেক সহজে গোছানো যায়।

জাপানি পদ্ধতিতে প্রতিটি জিনিসের জন্য একটি ‘বাড়ি’ তৈরি করার ধারণাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ যে জিনিস যেখানে ব্যবহার করা হয় বা যেখানে সহজে পাওয়া যায়, সেটির জন্য সেখানেই একটি নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করা।

যেমন দরজার কাছে একটি ছোট জায়গায় চাবি রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বইয়ের জন্য আলাদা তাক, গুরুত্বপূর্ণ নথির জন্য ফোল্ডার এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসের জন্য নির্দিষ্ট ড্রয়ার রাখা যায়।

এতে ঘর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় জিনিস খুঁজে পাওয়ার ঝামেলাও কমে।

ঘর গোছানোর সময় একসঙ্গে সবকিছু নয়

অনেকেই ছুটির দিনে পুরো বাড়ি একসঙ্গে পরিষ্কার করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর ক্লান্ত হয়ে কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। জাপানি কায়দায় বরং ধাপে ধাপে কাজ করার ধারণা অনুসরণ করা যেতে পারে।

প্রথম দিন শুধু পোশাকের আলমারি। দ্বিতীয় দিন বই ও কাগজপত্র। তৃতীয় দিন রান্নাঘর। এরপর বাথরুম, বসার ঘর, স্টোররুম—এভাবে একেকটি জায়গা আলাদা করে গুছিয়ে নেওয়া যায়।

এতে কাজের চাপ কম মনে হয় এবং প্রতিটি জায়গাকে ভালোভাবে সাজানোর সুযোগ পাওয়া যায়।

পোশাকের আলমারি গুছিয়ে রাখুন

বাড়ির সবচেয়ে দ্রুত অগোছালো হয়ে পড়া জায়গাগুলির মধ্যে একটি হল আলমারি। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পোশাক থাকলে সেগুলি ঠিকভাবে সাজিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যায়।

প্রথমে সব পোশাক বের করে ব্যবহার অনুযায়ী ভাগ করুন। নিয়মিত পরেন, বিশেষ অনুষ্ঠানে পরেন, মৌসুমি পোশাক এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করেননি—এভাবে আলাদা করা যেতে পারে।

যে পোশাক দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয়নি, সেটি সত্যিই প্রয়োজন কি না ভেবে দেখুন। ভালো অবস্থায় থাকলে দান করা যেতে পারে। নষ্ট পোশাক পুনর্ব্যবহার বা অন্য কাজে ব্যবহার করার কথাও ভাবা যায়।

পোশাক ভাঁজ করার সময় এমনভাবে রাখুন যাতে প্রতিটি পোশাক সহজে দেখা যায়। এতে একটি পোশাক বের করতে গিয়ে গোটা আলমারি এলোমেলো হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

রান্নাঘরেও একই নিয়ম

রান্নাঘরে অপ্রয়োজনীয় পাত্র, বোতল, প্লাস্টিকের কৌটো এবং বিভিন্ন রান্নার সরঞ্জাম জমতে জমতে জায়গার অভাব তৈরি করতে পারে।

একই ধরনের একাধিক পাত্র থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলি বেছে রাখুন। যেসব পাত্র নিয়মিত ব্যবহার হয়, সেগুলি সহজে হাতের কাছে রাখুন। কম ব্যবহৃত সামগ্রী আলাদা তাক বা ক্যাবিনেটে রাখা যেতে পারে।

মশলার কৌটো, রান্নার সরঞ্জাম এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিস আলাদা করে রাখলে রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা সহজ হয়।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রান্নাঘরের কাউন্টার। যতটা সম্ভব কাউন্টার খালি রাখার চেষ্টা করুন। কারণ খালি ও পরিষ্কার কাউন্টার পুরো রান্নাঘরকেই অনেক বেশি পরিপাটি দেখাতে পারে।

বসার ঘরে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমান

বসার ঘর বাড়ির এমন একটি জায়গা যেখানে পরিবারের সদস্যরা সময় কাটান এবং অতিথিরাও বসেন। তাই এই ঘরটি অতিরিক্ত জিনিসে ভরে না রাখাই ভালো।

সোফার উপর জামাকাপড়, টেবিলে অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা খেলনা ঘরকে দ্রুত অগোছালো করে তুলতে পারে।

news image
আরও খবর

সোফা, টেবিল, টেলিভিশন ইউনিট এবং বইয়ের তাক—প্রতিটি জায়গার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করুন। ব্যবহার শেষ হলে জিনিসটি তার জায়গায় ফেরত রাখার অভ্যাস তৈরি করলে প্রতিদিন আলাদা করে অনেক সময় দিয়ে ঘর গোছাতে হয় না।

‘ব্যবহার করলেই জায়গায় ফেরত’ অভ্যাস

ঘর দীর্ঘসময় পরিষ্কার রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়গুলির একটি হল কোনও জিনিস ব্যবহার করার পর সেটিকে আবার নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দেওয়া।

বই পড়লে বইয়ের তাকে রাখুন। জামা বদলালে পরিষ্কার জামা আলমারিতে এবং ব্যবহৃত জামা নির্দিষ্ট ঝুড়িতে রাখুন। চাবি ব্যবহার করার পর নির্দিষ্ট জায়গায় রাখুন।

এই ছোট অভ্যাসগুলি ধীরে ধীরে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেলে ঘর অগোছালো হওয়ার সুযোগ কমে যায়।

ঘর গোছানোর সঙ্গে মানসিক প্রশান্তির সম্পর্ক

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অনেকের কাছেই স্বস্তিদায়ক বলে মনে হয়। চারপাশে অতিরিক্ত জিনিস না থাকলে ঘরকে তুলনামূলকভাবে শান্ত ও আরামদায়ক মনে হতে পারে। কাজের সময় প্রয়োজনীয় জিনিস সহজে পাওয়া গেলে সময়ও বাঁচে।

তাই ঘর গোছানোকে শুধু সৌন্দর্যের বিষয় হিসেবে না দেখে জীবনযাপনের একটি অভ্যাস হিসেবে দেখা যেতে পারে। একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত বাড়ি দৈনন্দিন কাজের রুটিনকে আরও সহজ করে তুলতে পারে।

জাপানি ‘কনমারি’ দর্শনের মূল ভাবনা

ঘর গোছানোর সঙ্গে জাপানি সংগঠক মেরি কোন্ডোর নাম বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর জনপ্রিয় ‘KonMari’ পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় জিনিস বাছাই করার পাশাপাশি কোন জিনিস নিজের কাছে আনন্দ বা মূল্য তৈরি করে, সেটিও বিবেচনা করা হয়।

এই পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল জিনিসপত্রকে ঘরের বিভিন্ন জায়গা ধরে নয়, বরং নির্দিষ্ট ধরনের জিনিস ধরে সাজানো। যেমন প্রথমে পোশাক, এরপর বই, কাগজপত্র, বিভিন্ন ছোটখাটো জিনিস এবং শেষে স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত সামগ্রী।

এর ফলে একই ধরনের সব জিনিস একসঙ্গে দেখা যায় এবং কোনটি রাখা দরকার, কোনটি বাদ দেওয়া যায়—সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

শুধু পরিষ্কার নয়, গোছানোও জরুরি

অনেক সময় বাড়ি পরিষ্কার থাকলেও অগোছালো দেখায়। এর কারণ হল জিনিসপত্রের সঠিক বিন্যাস না থাকা। মেঝে পরিষ্কার, ধুলো নেই—তবুও টেবিলের উপর যদি অনেক জিনিস পড়ে থাকে বা আলমারি থেকে পোশাক বেরিয়ে থাকে, তাহলে ঘর পরিপাটি মনে হয় না।

তাই পরিষ্কার করার পাশাপাশি জিনিসপত্রের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।

একই ধরনের জিনিস একসঙ্গে রাখা, উল্লম্বভাবে সংরক্ষণ করা, ছোট বাক্স বা ডিভাইডার ব্যবহার করা এবং খোলা জায়গা তৈরি করা—এই কয়েকটি সহজ কৌশল ঘরের চেহারা বদলে দিতে পারে।

ছোট ঘরকে বড় দেখানোর কৌশল

অপ্রয়োজনীয় আসবাব কমিয়ে এবং মেঝের জায়গা যতটা সম্ভব খালি রাখলে ছোট ঘরও তুলনামূলকভাবে বড় দেখাতে পারে। জানালার সামনে অতিরিক্ত জিনিস না রাখা, হালকা রঙের ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক আলো ঢোকার সুযোগ রাখা ঘরকে আরও খোলামেলা অনুভূতি দিতে পারে।

একই সঙ্গে প্রয়োজনের তুলনায় বড় আসবাব ব্যবহার না করাই ভালো। একটি ছোট ঘরে অনেক বড় সোফা বা অতিরিক্ত ক্যাবিনেট রাখলে জায়গা আরও সংকীর্ণ মনে হতে পারে।

শিশুদের ঘরও শেখান গুছিয়ে রাখতে

শুধু বড়দের নয়, ছোটদেরও ছোট বয়স থেকেই জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার অভ্যাস শেখানো যেতে পারে। খেলনা ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট বাক্সে রাখা, বই পড়ার পর তাকে ফেরত রাখা এবং জামাকাপড় নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার মতো সহজ নিয়ম তৈরি করা যায়।

এটি শুধু বাড়িকে পরিষ্কার রাখতেই সাহায্য করবে না, বরং শিশুদের দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলার অভ্যাসও তৈরি করতে পারে।

প্রতিদিন অল্প সময় দিন

ঘর পরিষ্কার রাখার জন্য প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দিনের শেষে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট ঘরের জিনিসপত্র নিজেদের জায়গায় ফিরিয়ে রাখার অভ্যাস করা যেতে পারে।

সকালে বিছানা গুছিয়ে নেওয়া, ব্যবহৃত কাপড় নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা, টেবিল পরিষ্কার করা এবং রান্নাঘরের কাউন্টার মুছে রাখা—এই ছোট কাজগুলি নিয়মিত করলে বাড়িতে বড়সড় অগোছালো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

কেনাকাটার ক্ষেত্রেও সচেতনতা জরুরি

ঘর গুছিয়ে রাখার পর আবার যদি নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা শুরু করা হয়, তাহলে কিছুদিন পর একই সমস্যা ফিরে আসবে।

তাই নতুন কোনও সামগ্রী কেনার আগে ভাবুন সেটি কোথায় রাখা হবে। বাড়িতে একই ধরনের জিনিস আগে থেকেই আছে কি না, সেটিও দেখুন। শুধু অফার বা আকর্ষণীয় প্যাকেজ দেখে জিনিস কেনার বদলে প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো।

পুরনো জিনিসের নতুন ব্যবহার

সব পুরনো জিনিস ফেলে দিতে হবে এমন নয়। কিছু সামগ্রী অন্যভাবে ব্যবহার করা যায়। পুরনো কাচের বোতল ছোট গাছ রাখার কাজে, বাক্স স্টোরেজে কিংবা পুরনো কাপড় পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে ‘পুনর্ব্যবহার করব’ বলে অপ্রয়োজনীয় জিনিসের পাহাড় তৈরি করাও ঠিক নয়। যে জিনিস সত্যিই কাজে লাগবে, সেটিই রেখে দেওয়া উচিত।

ঘর গুছিয়ে রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

জাপানি কায়দায় ঘর গোছানোর মূল উদ্দেশ্য শুধু সুন্দর বাড়ি তৈরি করা নয়। বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে প্রয়োজনীয় জিনিস সহজে পাওয়া যায়, অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ভিড় থাকে না এবং প্রতিদিনের জীবনযাপন আরও স্বচ্ছন্দ হয়।

বাড়ি নিখুঁতভাবে সাজানো না থাকলেও সমস্যা নেই। গুরুত্বপূর্ণ হল ঘরটি যেন আপনার জীবনযাপনের সঙ্গে মানানসই হয়। পরিবারের প্রয়োজন, বাড়ির আকার এবং প্রত্যেকের অভ্যাস অনুযায়ী নিয়ম তৈরি করা যেতে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা, ঘর গোছানোকে একদিনের প্রকল্প না বানিয়ে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। অল্প অল্প করে জিনিস বাছাই করা, ব্যবহার শেষে জায়গায় রাখা এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জিনিস না কেনার অভ্যাস তৈরি হলেই বাড়ি অনেক বেশি পরিপাটি রাখা সম্ভব।

দিনের শেষে নিজের বাড়িতে ফিরে যদি চারপাশে পরিচ্ছন্ন, শান্ত এবং গোছানো পরিবেশ দেখতে পান, তাহলে সেই বাড়িই হয়ে উঠতে পারে আপনার সবচেয়ে স্বস্তির জায়গা। তাই অগোছালো ঘর নিয়ে বিরক্ত হওয়ার বদলে আজ থেকেই শুরু করতে পারেন ছোট একটি পরিবর্তন। একটি ড্রয়ার, একটি তাক কিংবা একটি আলমারি দিয়ে শুরু করুন। ধীরে ধীরে সেই অভ্যাস গোটা বাড়িতে ছড়িয়ে দিন।

জাপানি ঘর গোছানোর দর্শনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে—প্রয়োজনীয় জিনিসকে জায়গা দিন, অপ্রয়োজনীয় জিনিসকে বিদায় জানান এবং আপনার বাড়িকে এমনভাবে সাজান, যাতে সেখানে ঢুকলেই মন শান্ত হয়।

Preview image