কাজল, আইশ্যাডো ও মাস্কারার সঠিক ব্যবহারে চোখের সাজ হয়ে উঠুক আরও গভীর ও আকর্ষণীয়। জেনে নিন চোখের মেকআপের সহজ কৌশল।
দুর্গাপুজো মানেই নতুন পোশাক, পছন্দের গয়না, সুন্দর করে চুল বাঁধা আর সাজগোজের নানা আয়োজন। ষষ্ঠী থেকে দশমী, প্রতিটি দিনেই সাজে থাকে নতুনত্বের ছোঁয়া। কখনও সাবেকি শাড়ির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সাজ, কখনও আবার ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে আধুনিক মেকআপ। তবে সাজের বাকি উপকরণ যতই সুন্দর হোক না কেন, চোখের মেকআপ ঠিকঠাক না হলে গোটা সাজটাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কারণ, চোখের ভাষাই অনেক সময়ে ব্যক্তিত্বকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। আর সেই চোখকে গভীর, উজ্জ্বল ও আবেদনময় করে তুলতে কাজল, আইশ্যাডো ও মাস্কারার জুড়ি মেলা ভার।
চোখের সাজ মানেই যে শুধু কালো কাজল আর আইলাইনার, তা কিন্তু নয়। সময়ের সঙ্গে বদলেছে মেকআপের ধরন। এখন কালো কাজলের পাশাপাশি নীল, সবুজ, বেগুনি, গেরুয়া কিংবা সোনালি রঙের আইলাইনার ও কাজলও বেশ জনপ্রিয়। কেউ পছন্দ করেন গাঢ় স্মোকি আই, কেউ আবার চোখের কোণে হালকা রঙের ছোঁয়া দিয়েই সাজে আনতে চান নতুনত্ব। আবার উৎসবের সন্ধ্যায় মেটালিক আইশ্যাডো ব্যবহার করে চোখকে করে তোলা যায় আরও উজ্জ্বল।
পুজোর সকালে অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে যাওয়ার সময় হোক কিংবা সপ্তমী বা নবমীর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরোনো, চোখের সাজ হতে পারে আপনার মেকআপের অন্যতম আকর্ষণ। তবে কোন পোশাকের সঙ্গে কেমন চোখের মেকআপ মানাবে, কী ভাবে কাজল লাগালে চোখের আকার আরও সুন্দর দেখাবে এবং স্মোকি আই তৈরি করতে কোন ধাপগুলি অনুসরণ করা প্রয়োজন, তা জেনে রাখা জরুরি।
চোখের সাজে কাজলের জনপ্রিয়তা বহু দিনের। সাধারণ সাজেও চোখের পাতায় এক টান কালো কাজল চেহারায় আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারে। কিন্তু কাজল লাগানোরও রয়েছে কিছু কৌশল। চোখের আকার, পোশাকের রং এবং মেকআপের ধরন বুঝে কাজল ব্যবহার করলে সাজ আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।
প্রথমে চোখের পাতার উপরে অল্প পরিমাণে আই প্রাইমার লাগিয়ে নিন। প্রাইমার না থাকলে চোখের পাতার ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। এতে আইশ্যাডো লাগানো এবং তা সমান ভাবে মিশিয়ে নেওয়া সহজ হয়। তার পরে একটি নরম ব্রাশে অল্প ম্যাট ব্রাউন আইশ্যাডো নিয়ে উপরের ল্যাশ লাইনের বরাবর আলতো করে টানুন। চোখের মাঝখান থেকে বাইরের কোণ পর্যন্ত এই রং ছড়িয়ে দিন। এতে চোখের বাইরের অংশে সামান্য গভীরতা তৈরি হবে।
এর পরে বাদামি আইশ্যাডোর রেখা অনুসরণ করে কাজল লাগান। চোখের বাইরের কোণ পর্যন্ত রেখাটি টেনে নিয়ে সামান্য উপরের দিকে তুলে দিলে উইঙ্গড আইয়ের মতো চেহারা তৈরি হতে পারে। তবে দুই চোখের কোণের রেখা যেন খুব বেশি আলাদা না হয়ে যায়, সে দিকে খেয়াল রাখুন। প্রথমবার এই ধরনের সাজ করলে ছোট করে রেখা টেনে শুরু করাই ভাল। পরে প্রয়োজন বুঝে রেখাটি আরও স্পষ্ট করা যায়।
যাঁরা প্রতিদিনের মেকআপে স্বাভাবিক সাজ পছন্দ করেন, তাঁরা চোখের উপরের পাতা বরাবর সরু করে কাজল লাগাতে পারেন। আর সন্ধ্যার জমকালো সাজের ক্ষেত্রে কাজলের রেখা একটু গাঢ় রাখা যায়। তবে চোখের আকারের সঙ্গে মানানসই করে কাজল লাগানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কালো কাজল সব সময়েই জনপ্রিয়। কিন্তু পুজোর সাজে একটু অন্য রকম কিছু করতে চাইলে বেছে নিতে পারেন রঙিন আইলাইনার বা কাজল। নীল, সবুজ, বেগুনি কিংবা গেরুয়া রঙের ছোঁয়ায় সাধারণ চোখের সাজেও আসতে পারে উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে এক রঙের শাড়ি, কুর্তি কিংবা সাধারণ পোশাকের সঙ্গে রঙিন আইলাইনার বেশ মানানসই হতে পারে।
সবুজ আই পেনসিল দিয়ে চোখের নীচের পাতার ভিতরের কোণ থেকে বাইরের দিকে রেখা টেনে নিতে পারেন। চাইলে চোখের নীচের পাতার অর্ধেক পর্যন্ত সবুজ রং ব্যবহার করে উপরের পাতায় কালো কাজল লাগাতে পারেন। দুই রঙের এই মিশ্রণ চোখের সাজে এনে দেবে আলাদা বৈশিষ্ট্য। তবে রং দু’টি যেন একে অপরের সঙ্গে মানানসই হয়, সে দিকে খেয়াল রাখুন।
নীল আইলাইনারের সঙ্গে হালকা বাদামি আইশ্যাডো ব্যবহার করলে সাজে আধুনিকতার ছোঁয়া আসতে পারে। আবার বেগুনি বা গাঢ় সবুজ আইলাইনারের সঙ্গে নিরপেক্ষ রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করলে রঙিন রেখাটিই হয়ে উঠবে মেকআপের মূল আকর্ষণ।
রঙিন কাজল ব্যবহার করার সময় পোশাকের রং মিলিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে পোশাকের রঙের সঙ্গে একেবারে হুবহু মিল রাখতেই হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। বরং পরস্পরের সঙ্গে মানানসই দু’টি রং বেছে নিলে সাজ আরও আকর্ষণীয় দেখাতে পারে। দিনের বেলায় হালকা রঙের কাজল এবং রাতের সাজে একটু গাঢ় বা ধাতব আভাযুক্ত রং বেছে নেওয়া যেতে পারে।
পুজোর সন্ধ্যায় চোখের সাজে নাটকীয়তা আনতে চাইলে স্মোকি আই হতে পারে আদর্শ পছন্দ। এই মেকআপে চোখের চারপাশে গাঢ় রঙের ব্যবহার করা হয়। তবে শুধু কালো রং লাগিয়ে দিলেই স্মোকি আই তৈরি হয় না। বিভিন্ন রঙের আইশ্যাডোকে এমন ভাবে মিশিয়ে নিতে হয়, যাতে কোনও রেখা অতিরিক্ত স্পষ্ট না দেখায় এবং রঙের মধ্যে স্বাভাবিক পরিবর্তন থাকে।
প্রথমে চোখের পাতা পরিষ্কার করে আই প্রাইমার লাগিয়ে নিন। এর পরে চোখের পাতায় কালো বা গাঢ় খয়েরি আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। চোখের বাইরের কোণে তুলনামূলক গাঢ় রং রাখুন। তার পরে একটি পরিষ্কার ব্লেন্ডিং ব্রাশ দিয়ে রংটি আলতো করে মিশিয়ে নিন। রং যেন চোখের পাতায় জমাট বেঁধে না থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এ বার মাঝারি খয়েরি আইশ্যাডো নিয়ে গাঢ় রঙের বাইরের সীমানায় ধীরে ধীরে মিশিয়ে দিন। এতে কালো বা গাঢ় খয়েরি রঙের সঙ্গে ত্বকের স্বাভাবিক রঙের পরিবর্তন মসৃণ দেখাবে। চোখের উপরের দিকে রং মেশানোর সময় ভ্রুর খুব কাছে অতিরিক্ত গাঢ় রং না লাগানোই ভাল।
চোখের নীচের পাতার বাইরের অংশেও অল্প খয়েরি বা কালো আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। তবে নীচের পাতায় অতিরিক্ত গাঢ় রং লাগালে চোখের চারপাশে মেকআপ ভারী দেখাতে পারে। তাই প্রথমে অল্প রং ব্যবহার করুন। প্রয়োজন হলে পরে তা বাড়িয়ে নিন।
এর পরে উপরের ল্যাশ লাইনে কালো কাজল বা আইলাইনার লাগান। চাইলে চোখের বাইরের কোণে সামান্য উইং তৈরি করা যায়। সবশেষে মাস্কারা ব্যবহার করুন। এতে চোখের পাতা আরও স্পষ্ট দেখাবে এবং স্মোকি আইয়ের সঙ্গে সাজের ভারসাম্য তৈরি হবে।
যাঁরা প্রথম বার স্মোকি আই করবেন, তাঁরা কালো রঙের বদলে বাদামি, ব্রোঞ্জ বা ধূসর রং দিয়ে শুরু করতে পারেন। এই রংগুলি দিয়ে তুলনামূলক নরম স্মোকি লুক তৈরি করা যায়। বিশেষ করে দিনের বেলায় বা অষ্টমীর সকালে এই ধরনের সাজ বেশ মানানসই হতে পারে।
দুর্গাপুজোর রাতের সাজে একটু ঝলমলে ভাব আনতে চাইলে মেটালিক আইশ্যাডো বেছে নিতে পারেন। সোনালি, ব্রোঞ্জ, কপার, রুপোলি কিংবা শ্যাম্পেন রঙের আইশ্যাডো চোখের সাজে উজ্জ্বলতা যোগ করতে পারে। শাড়ি, লেহঙ্গা কিংবা জমকালো কুর্তার সঙ্গে এই ধরনের মেকআপ বিশেষ ভাবে মানানসই।
মেটালিক স্মোকি আই তৈরি করতে প্রথমে চোখের পাতায় উপযুক্ত বেস লাগিয়ে নিন। তার পরে চোখের বাইরের কোণে গাঢ় খয়েরি বা কালো আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। চোখের মাঝের অংশে সোনালি বা ব্রোঞ্জ রঙের মেটালিক আইশ্যাডো লাগান। দুই রঙের সংযোগস্থল একটি নরম ব্রাশ দিয়ে মিশিয়ে নিলে চোখের পাতায় সুন্দর রঙের পরিবর্তন তৈরি হবে।
চোখের ভিতরের কোণে অল্প শ্যাম্পেন বা হালকা সোনালি আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। এতে চোখের ওই অংশে আলোর ঝলক দেখা যাবে। তবে খুব বেশি ঝলমলে রং ব্যবহার না করে পরিমিত ভাবে লাগানোই ভাল। কারণ, চোখের মেকআপে একাধিক গাঢ় ও উজ্জ্বল রং একসঙ্গে ব্যবহার করলে সাজ ভারী হয়ে যেতে পারে।
মেটালিক আইশ্যাডোর সঙ্গে কালো কাজল ব্যবহার করলে চোখের আকৃতি আরও স্পষ্ট দেখাতে পারে। আবার একটু আধুনিক সাজের জন্য গাঢ় নীল বা সবুজ আইলাইনারও বেছে নিতে পারেন। তবে চোখের সাজ যদি বেশ ঝলমলে হয়, তা হলে ঠোঁটে হালকা রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করলে মুখের মেকআপে ভারসাম্য বজায় থাকবে।
চোখের মেকআপে আইশ্যাডো ও কাজলের পাশাপাশি মাস্কারারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মাস্কারা চোখের পাতা স্পষ্ট করে এবং চোখের মেকআপকে আরও পরিপূর্ণ করে তোলে। তবে মাস্কারা লাগানোর সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন।
প্রথমে মাস্কারার ব্রাশটি চোখের পাতার গোড়ায় রাখুন। তার পরে ধীরে ধীরে উপর দিকে টেনে আনুন। ব্রাশটি সামান্য এদিক-ওদিক নাড়ালে চোখের পাতার বিভিন্ন অংশে মাস্কারা সমান ভাবে লাগানো সহজ হতে পারে। তবে খুব বেশি মাস্কারা একসঙ্গে ব্যবহার করবেন না। এতে চোখের পাতা জোড়া লেগে যেতে পারে কিংবা দলা তৈরি হতে পারে।
চোখের নীচের পাতায় মাস্কারা লাগাতে চাইলে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করুন। বিশেষ করে স্মোকি আইয়ের ক্ষেত্রে নীচের পাতায় বেশি মাস্কারা দিলে চোখের চারপাশের মেকআপ অতিরিক্ত গাঢ় দেখাতে পারে।
যাঁরা চোখের পাতাকে একটু বেশি বাঁকানো দেখাতে চান, তাঁরা মাস্কারা লাগানোর আগে উপযুক্ত আইল্যাশ কার্লার ব্যবহার করতে পারেন। তবে কার্লার ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকতে হবে এবং মাস্কারা লাগানোর পরে কার্লার ব্যবহার না করাই ভাল।
চোখের সাজের জন্য জল-প্রতিরোধী মাস্কারা ব্যবহার করা যেতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে। তবে রাতে মেকআপ তোলার সময় চোখের জন্য উপযুক্ত রিমুভার ব্যবহার করে মাস্কারা ভাল করে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
পুজোর সাজে পোশাকের সঙ্গে চোখের মেকআপের সামঞ্জস্য থাকলে গোটা চেহারায় একটি সুন্দর ছন্দ তৈরি হয়। তবে একই রকম মেকআপ সব পোশাকের সঙ্গে মানাবে, এমন নয়। পোশাকের ধরন, রং এবং দিনের কোন সময়ে সাজছেন, তা বুঝে চোখের মেকআপ বেছে নেওয়া যেতে পারে।
সাবেকি শাড়ির সঙ্গে: লাল-সাদা শাড়ি কিংবা অন্য কোনও ঐতিহ্যবাহী শাড়ির সঙ্গে কালো কাজল, সরু আইলাইনার এবং মাস্কারা বেশ মানানসই। চাইলে চোখের পাতায় হালকা সোনালি বা ব্রোঞ্জ আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। এতে সাবেকি সাজে উৎসবের ছোঁয়া আসবে।
কালো বা গাঢ় রঙের পোশাকের সঙ্গে: কালো, নেভি ব্লু কিংবা গাঢ় সবুজ পোশাকের সঙ্গে স্মোকি আই মেকআপ বেছে নেওয়া যায়। তবে পোশাকের রং গাঢ় হলে চোখের মেকআপেও অতিরিক্ত গাঢ় রং ব্যবহার করতেই হবে, এমন নয়। বাদামি স্মোকি আইয়ের সঙ্গে হালকা ঠোঁটের মেকআপও সুন্দর দেখাতে পারে।
হালকা রঙের পোশাকের সঙ্গে: সাদা, প্যাস্টেল গোলাপি, আকাশি বা হালকা হলুদ পোশাকের সঙ্গে নরম বাদামি আইশ্যাডো এবং রঙিন আইলাইনার ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ধরনের সাজে চোখের মেকআপ খুব ভারী না করেও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব।
ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে: জাম্পস্যুট, গাউন কিংবা ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে উইঙ্গড আইলাইনার বা মেটালিক স্মোকি আই বেছে নিতে পারেন। সাজে আধুনিকতা আনতে নীল বা বেগুনি আইলাইনারও ব্যবহার করা যেতে পারে।
পুজোর সকালে ঠাকুর দেখতে বেরোনোর সময় সাধারণত হালকা মেকআপ বেশি স্বচ্ছন্দ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চোখের পাতায় হালকা বাদামি আইশ্যাডো, সরু করে কাজল এবং এক স্তর মাস্কারা ব্যবহার করা যায়। রঙিন লাইনার ব্যবহার করতে চাইলে নীল বা সবুজের মতো রং বেছে নিতে পারেন।
অন্য দিকে সন্ধ্যা বা রাতের সাজে চোখের মেকআপ একটু গাঢ় করা যেতে পারে। স্মোকি আই, মেটালিক আইশ্যাডো কিংবা উইঙ্গড আইলাইনার রাতের সাজে আকর্ষণীয় দেখাতে পারে। তবে সব কিছুর সঙ্গে ভারী মেকআপ করার প্রয়োজন নেই। চোখকে সাজের মূল আকর্ষণ করতে চাইলে ঠোঁটের মেকআপ তুলনায় হালকা রাখা যায়। আবার গাঢ় লিপস্টিক ব্যবহার করতে চাইলে চোখের সাজে একটু সংযত রং বেছে নেওয়া যেতে পারে।
পুজোর দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ সুন্দর রাখার জন্য কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলুন।
প্রথমত, মেকআপ করার আগে মুখ ও চোখের চারপাশ পরিষ্কার করে নিন। চোখের পাতায় অতিরিক্ত তেল থাকলে আইশ্যাডো সহজেই ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই ত্বক পরিষ্কার করে শুকনো অবস্থায় মেকআপ শুরু করুন।
দ্বিতীয়ত, আই প্রাইমার ব্যবহার করলে আইশ্যাডো বসানো সহজ হতে পারে। তবে খুব বেশি প্রাইমার লাগাবেন না। অল্প পরিমাণে সমান ভাবে লাগিয়ে নিন।
তৃতীয়ত, আইশ্যাডো একবারে বেশি না লাগিয়ে ধাপে ধাপে রং বাড়ান। এতে রং নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সাজ বদলানোও যাবে।
চতুর্থত, চোখের চারপাশে মেকআপ ছড়িয়ে গেলে পরিষ্কার ব্রাশ বা উপযুক্ত মেকআপ রিমুভার দিয়ে আলতো করে ঠিক করুন। বারবার ঘষাঘষি করবেন না।
সবশেষে, চোখের প্রসাধনী ব্যবহারের সময় পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিন। অন্যের সঙ্গে কাজল, মাস্কারা বা আইলাইনার ভাগ করে ব্যবহার না করাই ভাল। চোখে জ্বালা, লালচে ভাব বা অস্বস্তি হলে সংশ্লিষ্ট প্রসাধনী ব্যবহার বন্ধ করুন।
সারাদিনের পুজো পরিক্রমা শেষে বাড়ি ফিরে চোখের মেকআপ ভাল করে তুলে ফেলুন। বিশেষ করে স্মোকি আই, জল-প্রতিরোধী কাজল কিংবা মাস্কারা ব্যবহার করলে মেকআপ না তুলে ঘুমিয়ে পড়বেন না।
চোখের জন্য উপযুক্ত মেকআপ রিমুভার তুলো বা নরম প্যাডে নিয়ে চোখের পাতার উপরে কিছুক্ষণ আলতো করে ধরে রাখুন। তার পরে ঘষাঘষি না করে ধীরে ধীরে মেকআপ তুলে নিন। চোখের পাতার নীচে বা চোখের কোণে প্রসাধনী জমে থাকলে সতর্ক ভাবে পরিষ্কার করুন। চোখের ভিতরে রিমুভার ঢোকাবেন না।
মেকআপ তোলার পরে মুখ পরিষ্কার করে ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। চোখের চারপাশের ত্বক খুব সংবেদনশীল হওয়ায় এই অংশে জোরে ঘষা বা টান দেওয়া এড়িয়ে চলুন।
দুর্গাপুজোর সাজে চোখের মেকআপের কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। কেউ কালো কাজলের চিরাচরিত সাজে স্বচ্ছন্দ, কেউ আবার রঙিন লাইনারে নতুনত্ব খুঁজে পান। আবার কারও পছন্দ গাঢ় স্মোকি আই, কারও পছন্দ সোনালি বা ব্রোঞ্জের মেটালিক আভা।
তাই চোখের মেকআপ বেছে নেওয়ার সময় নিজের পছন্দ, পোশাকের ধরন এবং কোথায় যাচ্ছেন, তা মাথায় রাখুন। প্রথমবার স্মোকি আই করতে চাইলে হালকা বাদামি রং দিয়ে শুরু করুন। রঙিন কাজল ব্যবহার করতে চাইলে পোশাকের সঙ্গে মানানসই একটি রং বেছে নিন। আর চোখের সাজে ঝলমলে ভাব আনতে চাইলে মেটালিক আইশ্যাডো ব্যবহার করুন পরিমিত ভাবে।
মনে রাখবেন, সুন্দর চোখের মেকআপের জন্য প্রচুর প্রসাধনী প্রয়োজন হয় না। সঠিক ভাবে কাজল লাগানো, আইশ্যাডো মিশিয়ে নেওয়া এবং মাস্কারার পরিমিত ব্যবহারই সাজে আনতে পারে বিশেষ মাত্রা। সপ্তমীর রাত হোক বা অষ্টমীর সকাল, আপনার চোখের সাজ হয়ে উঠুক পুজোর লুকের অন্যতম আকর্ষণ।