হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে— ১০০ দিনের কাজের যে অর্থ রাজ্যের পাওনা হিসেবে বকেয়া রয়েছে, তা নিয়ে কেন্দ্রকে বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গে অবিলম্বে ১০০ দিনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, এই প্রকল্পে রাজ্যের প্রাপ্য যে অর্থ বকেয়া রয়েছে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি এক মাস পরে হবে। শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ জারি করেছে।
রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যের পাওনা টাকা আটকে রেখেছে, ফলে হাজার হাজার শ্রমিক রোজগার হারাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে— প্রকৃত শ্রমিকদের বঞ্চিত করে অন্যদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে বলেই তহবিল বন্ধ করা হয়েছে।
এর আগেও হাই কোর্ট রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ চালুর নির্দেশ দিয়েছিল এবং জানিয়েছিল, কেন্দ্র চাইলে দুর্নীতি রোধে শর্ত আরোপ করতে পারে, কিন্তু প্রকল্প বন্ধ রাখা যাবে না। সেই নির্দেশকে কেন্দ্র চ্যালেঞ্জ করেছিল সুপ্রিম কোর্টে, যদিও শীর্ষ আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। ফলে মামলাটি ফের আসে হাই কোর্টে, যেখানে শুক্রবার আদালত পুনরায় কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেয়।
২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজের মজুরি দেওয়া বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। এই অভিযোগেই পশ্চিমবঙ্গ খেতমজুর সমিতি হাই কোর্টে মামলা করেছিল। তারা দাবি জানিয়েছে, বকেয়া মজুরি অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে এবং বিলম্বের জন্য সুদও দিতে হবে। একই বিষয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও পৃথক মামলা করেছিলেন, যেখানে তিনি সিবিআই তদন্তের আবেদন জানান।
কেন্দ্রের তরফে দাবি করা হয়, চারটি জেলা— হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, মালদহ এবং দার্জিলিং— এ প্রকল্পে ৫০ কোটি টাকারও বেশি দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। তবে হাই কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, সেই চার জেলা বাদ দিয়েও রাজ্যের বাকি অংশে প্রকল্প চালু করা সম্ভব। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ১০০ দিনের কাজ একটি দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যার অর্থ সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়। তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রকল্পটি দ্রুত শুরু করা জরুরি।