বহু বছর ধরে ক্রিকেটে অবহেলিত থাকা আমোল মুজুমদার অবশেষে পেলেন তার প্রাপ্য সম্মান। ভারতের নারী দলের বিশ্বকাপ জয়ে তাঁর কোচিং দক্ষতা ও নিষ্ঠা ফের আলোচনায় এনে দিল সেই ভালোবাসা, যা তিনি ক্রিকেটকে সারাজীবন দিয়ে এসেছেন।
ক্রিকেট তাঁকে একসময় দিয়েছে অসংখ্য স্মৃতি, আবার কেড়েও নিয়েছে বহু প্রাপ্য সুযোগ। আমোল মুজুমদার—ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের 'সবচেয়ে দুর্ভাগা প্রতিভা'দের অন্যতম। জাতীয় দলে যথাযথ সুযোগ না পেলেও, তাঁর ব্যাটে ফুটে উঠত ক্লাসিক স্ট্রোকপ্লে, আর তাঁর ক্রিকেট-বুদ্ধি সর্বত্র ছিল প্রশংসিত। আর আজ, ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন ফিরে এসেছে তাঁর জীবনে সেই হারানো ভালোবাসা।
"আনলাকিয়েস্ট ক্রিকেটার" থেকে "সফল কোচ"
একসময় রণজি ট্রফিতে রেকর্ড সৃষ্টিকারী এই ব্যাটসম্যানকে প্রায় ভুলেই গিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট প্রতিষ্ঠান। ১০,০০০-এর বেশি প্রথম শ্রেণির রান করেও মাত্র ২৫টি টেস্টে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি—যা অনেকের কাছেই ছিল অবিচারের উদাহরণ। কিন্তু ভাগ্য এবার অন্যভাবে সুযোগ দিল। ভারতীয় নারী দলের [পদবী উল্লেখ করুন—যেমন: ব্যাটিং কনসালট্যান্ট/কোচিং স্টাফ] হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মুজুমদার বদলে দিতে শুরু করেন দলের মানসিকতা।
তিন স্তম্ভের ওপর গড়ে উঠল সফলতা
অনুশীলনে কঠোর শৃঙ্খলা, খেলায় অটুট আত্মবিশ্বাস, এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি অকুণ্ঠ বিশ্বাস—এই তিন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে তিনি তৈরি করলেন এক সুসংবদ্ধ এবং আত্মবিশ্বাসী দল। বিশ্বকাপের পথে ভারতীয় দল যে ধারাবাহিক এবং পরিপক্ব পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা শুধু খেলোয়াড়দের দক্ষতারই নয়, মুজুমদারের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিরও ফসল।
তাঁর অধীনে হারমানপ্রীত কৌর, শেফালি ভার্মা, স্মৃতি মান্ধানা এবং অন্যান্য খেলোয়াড়রা যেন খুঁজে পেয়েছেন নতুন উদ্যম। প্রতিটি ম্যাচে তাদের খেলা ছিল এক অনুপ্রেরণার গল্প—যেখানে দক্ষতার সঙ্গে মিশেছে মানসিক দৃঢ়তা।
"নিয়ারেস্ট আমং নিয়ারলি মেন" থেকে "চ্যাম্পিয়নের স্থপতি"
আজ যখন সারা দেশজুড়ে নারী ক্রিকেটের জয়ধ্বনি, তখন ক্রিকেটজগৎ স্বীকার করছে—যে মানুষটি একদিন ছিলেন টিম ইন্ডিয়ার "নিয়ারেস্ট আমং দ্য নিয়ারলি মেন" (প্রায় নির্বাচিত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে কাছের মানুষ), তিনিই এখন ভারতীয় ক্রিকেটের এক অনন্য প্রতীক।
আমোল মুজুমদার আবারও প্রমাণ করলেন—সত্যিকারের প্রতিভা এবং ভালোবাসা কখনও হারিয়ে যায় না। হয়তো সময় লাগে, হয়তো পথ ভিন্ন হয়—কিন্তু একদিন না একদিন তা ফিরে আসেই। তাঁর গল্প আজ শুধু ব্যক্তিগত প্রাপ্তির নয়, বরং এক বিশাল বার্তা—"সময়ই ঠিক করে কার কী প্রাপ্য।"