Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বিশ্নোইয়ের থেকে হুমকিবার্তা, কড়া হয়েছে নিরাপত্তা! এর মাঝে দীপিকাকে নিয়ে কোথায় গেলেন রণবীর?

১০ কোটি টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয় রণবীর সিংহকে। এই ঘটনার দিনকয়েকের মধ্যে স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোনকে সঙ্গে নিয়ে কোথায় গেলেন রণবীর?সলমন খান, রোহিত শেট্টীর পরে লরেন্স বিশ্নোইয়ের নিশানায় রণবীর সিংহ। দিনকয়েক আগেই বিশ্নোইয়ের তরফ থেকেই খুনের হুমকি পেয়েছেন নায়ক, শোনা যাচ্ছিল এমনই। রণবীরের আপ্তসহায়কের হোয়াট্‌সঅ্যাপে এসেছিল একটি ভয়েস নোট। সেখানে ১০ কোটি টাকা দাবিও করা হয়। এ বিষয়ে মুখ না খুললেও স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা গেল রণবীরকে?

শুক্রবার তারকাদম্পতির দেখা মিলল ধীরুভাই অম্বানি ইন্টারন্যাশন্যাল স্কুলের অনুষ্ঠানে। সেখানে সম্মানিত করা হবে দীপিকার বাব, তারকা ব্যাডমিন্টন খেলোয়ার প্রকাশ পাড়ুকোনকে। দীপিকা ও রণবীরের সঙ্গে দেখা যায় অভিনেত্রীর শাশুড়িকে। গোটা পরিবারকে খোশমেজাজেই দেখা যায়। হুমকিবার্তা পেলেও ভয়ের চিহ্ন নেই দম্পতির চোখেমুখে। বরং তাঁরা ব্যস্ত নিজেদের জীবনের বিশেষ মুহূর্ত নিয়ে।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে মুক্তি পেয়েছে রণবীরের ‘ধুরন্ধর’। ছবির সাফল্য উপভোগ করছিলেন অভিনেতা। এর মধ্যেই হুমকিবার্তা। মুম্বই পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, আমেরিকার একটি ফোন নম্বর থেকে এসেছিল এই হুমকিবার্তা। আমেরিকার তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে এই নম্বর সম্পর্কে বিশদে জানার চেষ্টা করে মুম্বই পুলিশ। জানা যায়, ওই ফোন নম্বর হ্যারি বক্সার নামে একজনের। তিনি নাকি লরেন্স বিশ্নোইয়ের ঘনিষ্ঠ। তিনিই নাকি ১০ কোটি টাকা চেয়ে খুনের হুমকি দিয়েছেন রণবীরকে। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।

শুক্রবার মুম্বইয়ের অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধীরুভাই অম্বানি ইন্টারন্যাশন্যাল স্কুলে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তারকাখচিত উপস্থিতি নজর কাড়ল সকলের। অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ ছিলেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের জীবন্ত কিংবদন্তি প্রকাশ পাড়ুকোন, যাঁকে তাঁর ক্রীড়া-অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয়। কন্যা দীপিকা পাড়ুকোন ও জামাতা রণবীর সিং স্বাভাবিকভাবেই উপস্থিত ছিলেন এই গর্বের মুহূর্তের সাক্ষী হতে। তাঁদের সঙ্গে দেখা যায় দীপিকার শাশুড়িকেও। গোটা পরিবারকে একসঙ্গে হাসিখুশি, স্বতঃস্ফূর্ত এবং গর্বভরা আবহে দেখা যায়—যেন এ এক পারিবারিক সাফল্যের দিন।

পারিবারিক গর্বের মুহূর্ত

প্রকাশ পাড়ুকোন ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। অল ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা আজও অনুপ্রেরণা জোগায় প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। তাঁর ক্রীড়া-জীবনের অবদান শুধু পদকজয়েই সীমাবদ্ধ নয়—ভারতে ব্যাডমিন্টনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতেও তাঁর ভূমিকা অসামান্য। ফলে তাঁকে সম্মান জানাতে এমন এক মঞ্চের আয়োজন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

এই সম্মাননা অনুষ্ঠানে দীপিকার উপস্থিতি ছিল আবেগঘন। বহু সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তাঁর বাবা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাজ করা সত্ত্বেও নিজের শিকড়ের প্রতি দীপিকার টান বরাবরই স্পষ্ট। বাবার সম্মাননা গ্রহণের মুহূর্তে তাঁর চোখেমুখে গর্ব ও আবেগ ধরা পড়ে।

রণবীর সিংও ছিলেন সমান উচ্ছ্বসিত। শ্বশুরের সাফল্যকে তিনি নিজের পরিবারের অর্জন হিসেবেই দেখেন—এমনটাই ঘনিষ্ঠ মহলের মত। অনুষ্ঠানে তাঁকে অত্যন্ত আন্তরিক, প্রাণবন্ত মেজাজে দেখা যায়।

হুমকিবার্তার মধ্যেও স্বাভাবিকতা

এই পারিবারিক আনন্দঘন মুহূর্তকে ঘিরে অন্য এক গম্ভীর প্রেক্ষাপটও রয়েছে। সম্প্রতি রণবীর সিং খুনের হুমকি পেয়েছেন—এমন খবর সামনে আসে। কিন্তু সেই হুমকির ছায়া এদিন দম্পতির আচরণে বিশেষ প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হয়নি। বরং তাঁরা নিজেদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে উদযাপনেই বেশি মনোযোগী ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা জানান, রণবীর ও দীপিকা দু’জনেই অত্যন্ত স্বাভাবিক আচরণ করেন। কারও সঙ্গে ছবি তোলা, আলাপচারিতা—সবকিছুই ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। কোনও ভয়ের ছাপ তাঁদের মুখে চোখে ধরা পড়েনি।

এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের এই স্থিরতা অনেকের কাছেই প্রশংসনীয়। জনসমক্ষে আতঙ্ক না ছড়িয়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত দায়িত্ব সামলানোর এই মানসিক দৃঢ়তাকে অনেকে তারকাসুলভ পরিপক্বতা হিসেবেই দেখছেন।

‘ধুরন্ধর’ সাফল্যের রেশ

গত ডিসেম্বরে মুক্তি পায় রণবীর সিং অভিনীত ছবি ‘ধুরন্ধর’। ছবিটি বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায় এবং সমালোচকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পায়। দীর্ঘদিন পর রণবীরকে এক শক্তিশালী, কনটেন্ট-চালিত ভূমিকায় দেখে দর্শকরা উচ্ছ্বসিত হন।

ছবির সাফল্যের রেশ তখনও কাটেনি। বিভিন্ন ইভেন্ট, সাফল্য উদযাপন, ইন্ডাস্ট্রির শুভেচ্ছা—সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন অভিনেতা। ঠিক এই সময়েই আসে হুমকিবার্তা, যা স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

হুমকির উৎস: বিদেশি নম্বর

মুম্বই পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, হুমকিবার্তাটি আসে আমেরিকার একটি ফোন নম্বর থেকে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ থাকায় তদন্তে বিদেশি সংস্থার সহায়তাও নেওয়া হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, নম্বরটি ‘হ্যারি বক্সার’ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি নাকি কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

চাঁদাবাজির অভিযোগ

তদন্তে উঠে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, রণবীর সিংয়ের কাছে ১০ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দিলে খুনের হুমকি দেওয়া হয়—এমনটাই পুলিশ সূত্রে খবর।

বলিউডে তারকাদের লক্ষ্য করে চাঁদাবাজির চেষ্টা নতুন নয়। অতীতে বহু অভিনেতা, প্রযোজক এমন হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। তবে প্রতিটি ঘটনাই নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন তোলে।

মুম্বই পুলিশের তৎপরতা

ঘটনার পরপরই মুম্বই পুলিশ তদন্তে নামে। কল ডিটেল রেকর্ড, আন্তর্জাতিক ট্র্যাকিং, সাইবার নজরদারি—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ইন্টারপোল বা মার্কিন তদন্তকারী সংস্থার সহযোগিতাও নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে মুম্বই পুলিশ বরাবরই সতর্ক। হুমকির মাত্রা বিচার করে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। রণবীর সিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা যায়।

news image
আরও খবর

বলিউড ও আন্ডারওয়ার্ল্ড: পুরনো যোগসূত্র

বলিউড ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগাযোগ নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। নব্বইয়ের দশকে এই প্রভাব ছিল সবচেয়ে প্রকট। প্রযোজনা, বিতরণ, ফাইন্যান্স—বিভিন্ন স্তরে অপরাধ জগতের প্রভাবের কথা সামনে এসেছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলালেও সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি হুমকি বা চাঁদাবাজির ঘটনা। ডিজিটাল যুগে ফোন, ইন্টারনেট, ভার্চুয়াল নম্বর ব্যবহার করে অপরাধীরা নতুন কৌশল নিচ্ছে।

তারকাদের মানসিক চাপ

এ ধরনের হুমকি শুধু নিরাপত্তা নয়, মানসিক চাপও তৈরি করে। প্রকাশ্যে সবসময় হাসিখুশি থাকলেও ব্যক্তিগত পরিসরে উদ্বেগ কাজ করে—এমনটা স্বাভাবিক।

তবে দীপিকা ও রণবীরের প্রকাশ্য উপস্থিতিতে সেই চাপের ছাপ দেখা যায়নি। বরং তাঁরা প্রমাণ করেছেন, ব্যক্তিগত ভয়কে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের উপর প্রভাব ফেলতে দেননি।

দীপিকা: পরিবারের মেরুদণ্ড

দীপিকা পাড়ুকোন শুধু আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রীই নন, পরিবারের প্রতিও সমান দায়িত্বশীল। বাবার সম্মাননা অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি সেই পারিবারিক মূল্যবোধকেই সামনে আনে।

ক্যারিয়ারের ব্যস্ততা, আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট, ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট—সবকিছুর মাঝেও পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া তাঁর ব্যক্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

রণবীর: শক্তির উৎস পরিবার

রণবীর সিং বরাবরই পরিবারমুখী মানুষ হিসেবে পরিচিত। স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রকাশ্যে বহুবার ধরা পড়েছে। শ্বশুরের সম্মাননা অনুষ্ঠানে তাঁর উচ্ছ্বাস সেই সম্পর্কের গভীরতাই বোঝায়।

নিরাপত্তা বনাম স্বাভাবিক জীবন

তারকাদের জীবনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—নিরাপত্তা বজায় রেখেও স্বাভাবিক জীবনযাপন। সর্বক্ষণ নিরাপত্তার বলয়ে থাকা সত্ত্বেও জনসংযোগ বজায় রাখা কঠিন।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি দেখায়, ভয় তাঁদের জনজীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেনি।

শিল্পীসত্তা ও সাহস

শিল্পীদের জীবনে আবেগ বড় চালিকাশক্তি। ভয়, চাপ, বিতর্ক—সবকিছুর মাঝেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার মানসিক শক্তি প্রয়োজন। রণবীর বর্তমানে কাজ নিয়েও সমান ব্যস্ত।

তদন্তের অগ্রগতি

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ চলছে। ভিওআইপি কল, ভার্চুয়াল নম্বর, আন্তর্জাতিক সার্ভার—সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধী চক্রের বিস্তার বোঝার চেষ্টা চলছে।

জনমতের প্রতিক্রিয়া

সোশ্যাল মিডিয়ায় দম্পতির অনুষ্ঠানে উপস্থিতির ছবি ভাইরাল হয়। অনেকেই লেখেন—“ভয়কে জিততে দেননি।” আবার কেউ বলেন—“স্টারডম মানেই মানসিক শক্তি।”

মিডিয়ার ভূমিকা

ঘটনাটি সামনে আসতেই জাতীয় সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়। তবে পরিবারকে ঘিরে ইতিবাচক মুহূর্তও সমান গুরুত্ব পায়—যা ভারসাম্যপূর্ণ কভারেজের উদাহরণ।

উপসংহার

একদিকে পারিবারিক গর্ব, অন্যদিকে নিরাপত্তা হুমকি—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহ একইসঙ্গে উপস্থিত ছিল এই ঘটনাপ্রবাহে। কিন্তু দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং দেখালেন, ভয় নয়—জীবনের মূল্যবান মুহূর্তই শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে ওঠে।

প্রকাশ পাড়ুকোনের সম্মাননা শুধু একজন ক্রীড়াবিদের প্রাপ্তি নয়, এক পরিবারের গর্ব, এক দেশের কৃতজ্ঞতা। আর সেই গর্বের দিনে উপস্থিত থেকে দম্পতি যেন বার্তা দিলেন—হুমকি আসতে পারে, কিন্তু জীবন থেমে থাকে না।

তদন্ত চলছে, সত্য সামনে আসবে। কিন্তু এই ঘটনার মানবিক দিক—পরিবার, সম্মান, সাহস—সেটিই শেষ পর্যন্ত বেশি উজ্জ্বল হয়ে রইল।


 

Preview image