ডিজিটাল পর্দার উত্থান ও প্রসারের কারণে বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিশু গল্পের বইয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে। তবে, যদি বাবা-মায়েরা কিছুটা সচেতন হন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন, তাহলে ছোটদের পাঠের অভ্যাসে কোনো বাধা আসবে না।
বর্তমান সময়ে ডিজিটাল পর্দার প্রভাবে ছোটদের অনেকটাই বই পড়ার আগ্রহ কমে গেছে। মোবাইল, ট্যাবলেট, টিভি ও কম্পিউটার পর্দায় সময় কাটানোর কারণে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে না। তবে, সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে সহজেই ছোটদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব। কিছু কার্যকর কৌশল নিচে দেওয়া হল:
১০ মিনিটের বই পড়ার অভ্যাস: প্রতিদিন সারা দিনে ১০ মিনিট বই পড়ার অভ্যাস শিশুর জীবন ও মনের বড় পরিবর্তন আনতে পারে। রাতে শুতে যাওয়ার আগে বা দিনের ফাঁকা সময় একসঙ্গে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। বড়দের কাছে গল্প শোনালেও শিশুরা বই পড়তে আগ্রহী হতে পারে।
পাঠযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা: বই পড়ার জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ দরকার। পাঠার জন্য আলোকিত ঘর বা কোণ তৈরি করা যেতে পারে। সঠিক পরিবেশে বই পড়লে শিশুরা আরও বেশি সময় বইয়ের সঙ্গে কাটাবে।
পছন্দমতো বই পড়ার সুযোগ দেওয়া: ছোটদের পড়ার জন্য তাদের পছন্দের বই নির্বাচন করতে দিন, যেমন কমিকস বা কিশোর গল্প। এটি তাদের বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে সাহায্য করবে।
গল্প পড়ে শোনানো: শিশুকে গল্প পড়তে শুনানো যেতে পারে, এবং গল্পের চরিত্রের কণ্ঠস্বর বা অভিনয়ের ধরন দিয়ে পড়া আরও আকর্ষণীয় করা যেতে পারে। এর ফলে শিশুরা গল্পের প্রতি আগ্রহী হবে এবং তাদের পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে।
পাঠ শেষে উদ্যাপন: সন্তান যদি একটি অধ্যায় শেষ করে বা কয়েক পাতা বই পড়ে, তা উদ্যাপন করা উচিত। তাকে একটি বুকমার্ক উপহার দেওয়া যেতে পারে বা পরবর্তী বইয়ের পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। এর ফলে শিশুর মধ্যে পড়ার অভ্যাস বজায় থাকবে।
এই ৫টি কৌশল অনুসরণ করে সহজেই ছোটদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব।