Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বিদেশি ফুটবলার ছাড়াই কাশীর বিরুদ্ধে শুরু থেকেই গোলের লক্ষ্যে ইস্টবেঙ্গল

আইএসএলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শুক্রবার ইন্টার কাশীর মুখোমুখি হচ্ছে ইস্ট বেঙ্গল। পুনের বালেওয়াড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়াই লক্ষ্য হাবাসের দলের। ওমানের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু ম্যাচে আল সিবের বিরুদ্ধে নামার আগে জয় পেয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মরিয়া রশিদ, গিল ও রামিরেজরা।

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিসর্জনের বাজনায় বিষাদের সুর। শুভ বিজয়ার প্রণাম, কোলাকুলি এবং মিষ্টিমুখের পালা চলছে পাড়ায় পাড়ায়। দুর্গাপুজোর উৎসবের রেশ এখনও কাটেনি। বাঙালির ঘরে ঘরে চলছে উৎসব-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়। তবে উৎসবের আমেজের মধ্যেও ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন ইস্ট বেঙ্গলের দিকে। শুক্রবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (ISL) নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। প্রতিপক্ষ ইন্টার কাশী। পুনের বালেওয়াড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এই ম্যাচে তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়াই প্রধান লক্ষ্য ইস্ট বেঙ্গলের।

মরশুমের শুরুতেই পয়েন্ট সংগ্রহ করে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চায় কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব। একইসঙ্গে সামনে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আগামী মঙ্গলবার ওমানে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর ম্যাচে আল সিবের মুখোমুখি হওয়ার কথা ইস্ট বেঙ্গলের। ফলে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ম্যাচটি শুধুমাত্র আইএসএলের তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নামার আগে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোরও বড় সুযোগ।

ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জয়ের লক্ষ্যে ইস্ট বেঙ্গল

আইএসএলে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতিযোগিতার প্রথম দিকের ম্যাচগুলিতে পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারলে পরবর্তী সময়ে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে দলের আত্মবিশ্বাস এবং পরিকল্পনায়। সেই কারণেই ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে কোনওরকম গাফিলতি করতে চাইছে না ইস্ট বেঙ্গল শিবির।

শুক্রবারের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চাইবে লাল-হলুদ ব্রিগেড। প্রতিপক্ষকে বেশি সময় বলের দখল দিয়ে রাখার পরিবর্তে মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে দ্রুত আক্রমণে ওঠাই হতে পারে দলের অন্যতম কৌশল। ম্যাচের প্রথম দিকে গোল পেয়ে গেলে প্রতিপক্ষের উপর চাপ তৈরি করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা পাবে দল।

ফুটবলে ম্যাচের ফল নির্ধারণে শুরুটা অনেক সময় বড় ভূমিকা নেয়। দ্রুত গোল পেলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে রক্ষণ সামলাতে গিয়ে নিজেদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়। তাই ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই গোলের সুযোগ তৈরি করার দিকে নজর থাকবে ইস্ট বেঙ্গলের।

তবে শুধু আক্রমণ করলেই হবে না। প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণ সামলানো এবং রক্ষণে শৃঙ্খলা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আক্রমণে উঠে যাওয়ার সময় পিছনের জায়গা ফাঁকা পড়ে গেলে বিপদে পড়তে পারে দল। সেই কারণে আক্রমণ এবং রক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে ম্যাচের অন্যতম চাবিকাঠি।

উৎসবের আবহে ফুটবলের উত্তাপ

দুর্গাপুজো শেষ হলেও বাংলার মানুষের মন থেকে উৎসবের আমেজ এখনও মুছে যায়নি। বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা বিনিময়, প্রণাম, কোলাকুলি এবং মিষ্টিমুখের মধ্যেই চলছে দৈনন্দিন জীবনে ফেরার প্রস্তুতি। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের কাছে উৎসবের এই সময়েও প্রিয় দলের ম্যাচের গুরুত্ব আলাদা।

ইস্ট বেঙ্গলের সমর্থকদের কাছে প্রতিটি ম্যাচ আবেগের বিষয়। দলের জয় মানে আনন্দ, আর প্রত্যাশিত ফল না এলে হতাশাও কম নয়। সেই আবেগকে সঙ্গী করেই শুক্রবারের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন লাল-হলুদ সমর্থকেরা।

আইএসএলের দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেলে সমর্থকদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছবে। পাশাপাশি ওমান সফরের আগে দলের মধ্যে তৈরি হবে বাড়তি উদ্দীপনা। তাই ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে এই লড়াইকে ঘিরে প্রত্যাশা যথেষ্ট।

তিন পয়েন্টই প্রধান লক্ষ্য

আইএসএলে ভালো ফল করতে হলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। একটি ম্যাচে জয় পাওয়ার পর পরের ম্যাচেও একই মনোভাব নিয়ে মাঠে নামতে হয়। প্রতিপক্ষের শক্তি বা দুর্বলতা বিচার করে পরিকল্পনা তৈরি করা এবং মাঠে সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়নই সাফল্যের পথ তৈরি করে।

ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারলে লিগের যাত্রাপথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে ইস্ট বেঙ্গল। তবে ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে আনতে হলে গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি রক্ষণেও সতর্ক থাকতে হবে।

ফুটবলে অনেক সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকলেও গোলের সুযোগ নষ্ট করার কারণে পয়েন্ট হারাতে হয়। আবার প্রতিপক্ষের ছোট ভুল কাজে লাগিয়েও জয় নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই সুযোগ তৈরি করা এবং সেই সুযোগকে গোলে পরিণত করার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

ইস্ট বেঙ্গলের আক্রমণভাগের ফুটবলারদের উপর থাকবে বাড়তি দায়িত্ব। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার জন্য সঠিক সময়ে পাস, দ্রুত বলের আদানপ্রদান এবং জায়গা বুঝে দৌড় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একইসঙ্গে মাঝমাঠের ফুটবলারদেরও আক্রমণে সহায়তা করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গতিবিধির উপর নজর রাখতে হবে।

হাবাসের দলের সামনে কৌশলগত পরীক্ষা

ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ম্যাচটি ইস্ট বেঙ্গলের জন্য কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোন পদ্ধতিতে আক্রমণ করা হবে, মাঝমাঠে কীভাবে বলের নিয়ন্ত্রণ রাখা হবে এবং রক্ষণকে কতটা সংগঠিত রাখা যাবে, তার উপর ম্যাচের গতিপ্রকৃতি নির্ভর করতে পারে।

হাবাসের দলের লক্ষ্য থাকবে নিজেদের শক্তির জায়গাগুলি কাজে লাগানো। দ্রুত আক্রমণ, সঠিক পাসিং এবং প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নেওয়ার মতো বিষয়গুলি ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে প্রতিপক্ষের খেলার ধরন সম্পর্কে সতর্ক থাকাও প্রয়োজন।

ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলানোর ক্ষমতা একটি দলের সাফল্যের অন্যতম শর্ত। প্রথমার্ধে গোল না এলে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। আবার এগিয়ে গেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং রক্ষণকে আরও মজবুত করার দিকেও নজর দিতে হবে।

তবে মাঠে কোন ফুটবলার প্রথম একাদশে থাকবেন, কীভাবে দল সাজানো হবে কিংবা ম্যাচে কোন কৌশল নেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে দলের চূড়ান্ত পরিকল্পনার উপর।

রশিদ, গিল ও রামিরেজদের দিকে নজর

ইস্ট বেঙ্গলের ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে রশিদ, গিল এবং রামিরেজদের পারফরম্যান্সের দিকেও। দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়া যত ভালো হবে, আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাও তত সহজ হবে।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, সতীর্থদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ এবং চাপের মধ্যে শান্ত থাকা ফুটবলারদের বড় গুণ। ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে এই বিষয়গুলি কাজে লাগাতে পারলে ইস্ট বেঙ্গলের জয়ের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

একটি দল হিসেবে খেলাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত দক্ষতা ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে ঠিকই, কিন্তু ফুটবল শেষ পর্যন্ত দলগত খেলা। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে বল পৌঁছে দেওয়া, রক্ষণ থেকে আক্রমণে দ্রুত উঠে আসা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ আটকে দেওয়ার জন্য সব বিভাগকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সমর্থকদের প্রত্যাশা, দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলাররা নিজেদের সেরাটা দেবেন এবং ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে সাহায্য করবেন। তবে ম্যাচের ফল নির্ধারিত হবে মাঠের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই।

news image
আরও খবর

ওমান সফরের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সুযোগ

ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ম্যাচের গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর পরবর্তী লড়াইয়ের কারণে। আগামী মঙ্গলবার ওমানে আল সিবের বিরুদ্ধে মাঠে নামার কথা ইস্ট বেঙ্গলের। সেই ম্যাচে ভালো ফল করতে হলে দলের আত্মবিশ্বাস এবং প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অন্য দেশের দলের বিরুদ্ধে খেলতে গেলে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। প্রতিপক্ষের খেলার ধরন, মাঠের পরিবেশ এবং ম্যাচের চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় ফুটবলারদের। ফলে তার আগে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় জয় পেলে দলের মানসিক প্রস্তুতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জয় ইস্ট বেঙ্গলকে সেই আত্মবিশ্বাস দিতে পারে। দলের ফুটবলাররা যদি ভালো পারফরম্যান্স করেন, গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেন এবং রক্ষণে শৃঙ্খলা বজায় রাখেন, তাহলে ওমান সফরের আগে নিজেদের শক্তি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পাওয়া সম্ভব।

অন্যদিকে ম্যাচে ভুলত্রুটি থাকলে সেগুলি চিহ্নিত করে পরবর্তী প্রতিযোগিতার আগে সংশোধনের সুযোগও থাকবে। সেই দিক থেকে শুক্রবারের ম্যাচটি ইস্ট বেঙ্গলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির মঞ্চ।

আল সিবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর ম্যাচে আল সিবের বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা জিইয়ে রাখতে হলে জয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা দলের শিবিরে গুরুত্ব পাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে আইএসএলের ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। সামনে আন্তর্জাতিক ম্যাচ থাকলেও ইন্টার কাশীকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। কারণ বর্তমান ম্যাচে পয়েন্ট হারালে লিগের যাত্রাপথে চাপ বাড়তে পারে। আবার অতিরিক্ত চাপ নিয়ে খেললেও ফুটবলারদের স্বাভাবিক পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে।

তাই এক ম্যাচের পর আরেক ম্যাচের দিকে তাকানোর পরিবর্তে প্রতিটি ম্যাচকে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শুক্রবার ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে খেলার পরই আল সিবের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রস্তুতিতে আরও জোর দেওয়া যাবে।

দলের ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতা, ম্যাচের পর পুনরুদ্ধার এবং যাত্রার পরিকল্পনাও পরপর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়। কোচিং স্টাফকে সেই বিষয়গুলির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

প্রথম গোলের গুরুত্ব

ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথম গোলের গুরুত্ব অনেকটাই বেশি হতে পারে। কোনও দল শুরুতে গোল পেয়ে গেলে তাদের খেলার ধরন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে পিছিয়ে থাকা দলকে সমতা ফেরানোর জন্য আক্রমণে বেশি ঝুঁকি নিতে হয়।

ইস্ট বেঙ্গল যদি প্রথম দিকে গোল করতে পারে, তাহলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রথম গোলের পরেও সতর্ক থাকা জরুরি। ফুটবলে ব্যবধান ধরে রাখা সব সময় সহজ নয়। প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ দিলে শেষ মুহূর্তে চাপ বাড়তে পারে।

সেই কারণে গোল করার পাশাপাশি বলের দখল বজায় রাখা, অপ্রয়োজনীয় ফাউল এড়িয়ে চলা এবং প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করা প্রয়োজন। ম্যাচের শেষ দিকেও মনোযোগ ধরে রাখতে হবে ফুটবলারদের।

সমর্থকদের প্রত্যাশা এবং দলের দায়িত্ব

ইস্ট বেঙ্গল ভারতের অন্যতম পরিচিত ফুটবল ক্লাব। ক্লাবের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সমর্থকদের আবেগ প্রতিটি ম্যাচকে আলাদা মাত্রা দেয়। লাল-হলুদ জার্সি পরে মাঠে নামা ফুটবলারদের কাছ থেকে তাই স্বাভাবিকভাবেই ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা থাকে।

তবে সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে মাঠে পরিকল্পিত ফুটবল খেলতে হবে। শুধু আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়া নয়, ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলগত শৃঙ্খলা বজায় রাখাই হবে সাফল্যের অন্যতম উপায়।

শুক্রবারের ম্যাচে জয় এলে সমর্থকদের উৎসবের মরশুমে আনন্দের মাত্রা আরও বাড়বে। বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যেই ইস্ট বেঙ্গলের জয় নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। অবশ্য তার জন্য আগে মাঠে নিজেদের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে লাল-হলুদ ব্রিগেডকে।

আইএসএলে ধারাবাহিকতার চ্যালেঞ্জ

একটি প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করতে হলে প্রতিটি ম্যাচে পয়েন্ট সংগ্রহের চেষ্টা করতে হয়। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই তুলনামূলক কম পরিচিত বা নতুন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা জরুরি। কোনও দলকেই সহজ প্রতিপক্ষ ধরে নেওয়া যায় না।

ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গলের সামনে সেই পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখা, গোলের সুযোগ কাজে লাগানো এবং নিজেদের রক্ষণকে সংগঠিত রাখা গেলে কাঙ্ক্ষিত ফলের দিকে এগোনো সম্ভব।

লিগের শুরুতে পাওয়া পয়েন্ট পরবর্তী সময়ে দলের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সেই কারণে শুক্রবারের ম্যাচে জয় তুলে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চাইবে ইস্ট বেঙ্গল।

শেষ কথা

দুর্গাপুজোর আবহ কাটতে না কাটতেই ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের সামনে নতুন লড়াই। শুক্রবার আইএসএলে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়াই লাল-হলুদ ব্রিগেডের প্রধান লক্ষ্য। পুনের বালেওয়াড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এই ম্যাচে জয় পেলে লিগে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি আগামী মঙ্গলবার ওমানে আল সিবের বিরুদ্ধে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সুযোগ পাবে দল।

রশিদ, গিল, রামিরেজদের পারফরম্যান্স, আক্রমণভাগের কার্যকারিতা, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণের শৃঙ্খলা—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। শুরু থেকেই গোলের চেষ্টা করলেও প্রতিপক্ষকে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ দেওয়া চলবে না। তিন পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা ইস্ট বেঙ্গলের সামনে তাই দ্বিমুখী দায়িত্ব: আইএসএলে ভালো ফল করা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে নিজেদের প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করা।

এখন দেখার, উৎসবের মরশুমে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়ে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে কি না হাবাসের দল। লাল-হলুদ শিবিরের নজর আপাতত একটাই—মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়া এবং ওমান সফরের আগে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া।

Preview image