সিনেমার গান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ খ্যাত অভিজিৎ। অরিজিতের পর এবার কি প্লেব্যাক দুনিয়া ছাড়ার পথে তিনিও? জানুন কারণ।
‘ওরা আমাদের শোষণ করে!’ — অরিজিতের পরে এবার কি প্লেব্যাক গান ছাড়তে চান অভিজিৎ সাওয়ন্ত?
বলিউড সংগীত জগতে আবারও উত্তাল বিতর্ক। নতুন করে আর কোনও সিনেমার গান না গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অরিজিৎ সিংহ। তাঁর আগে থেকেই গায়কদের পারিশ্রমিক, স্বত্ব ও শিল্পীদের মর্যাদা নিয়ে সরব ছিলেন তিনি। এ বার সেই একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ খ্যাত গায়ক অভিজিৎ সাওয়ন্ত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি যেভাবে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির নিয়মকানুন এবং শিল্পীদের প্রতি আচরণ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, তা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে — বলিউডে কি সত্যিই গায়কদের ‘শোষণ’ করা হয়?
অভিজিতের বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত হতাশার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং তা গোটা সংগীত শিল্পের গোপন সমস্যাগুলিকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। কেন তাঁর মতো জনপ্রিয় শিল্পীও মনে করছেন প্লেব্যাক গান আর দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়? কেন তিনি দাবি করছেন, গায়কদের কাজের যথাযথ মূল্য দেওয়া হয় না? কেন পশ্চিমি দেশের শিল্পীরা গান থেকে রয়্যালটি পেয়ে সারাজীবন স্বচ্ছন্দে থাকতে পারেন, অথচ ভারতের শিল্পীরা সেই সুযোগ পান না? এই প্রতিবেদনে থাকছে সেই সব প্রশ্নের উত্তর, সঙ্গে অভিজিৎ সাওয়ন্তের মন্তব্যের বিশ্লেষণ, বলিউড সংগীত জগতের বাস্তব চিত্র এবং শিল্পীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্ভাব্য দিকনির্দেশ।
অভিজিৎ সাওয়ন্ত: ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ থেকে বলিউড প্লেব্যাকের পথচলা
২০০৪ সালে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর প্রথম সিজ়নে জয়ী হয়ে রাতারাতি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন অভিজিৎ সাওয়ন্ত। তাঁর মধুর কণ্ঠ এবং সাবলীল গায়কীতে মুগ্ধ হয়েছিল গোটা দেশ। ‘মহব্বতে লুটাউঙ্গা’, ‘আসা আসা’ থেকে শুরু করে বেশ কিছু মিউজ়িক ভিডিয়ো এবং মরাঠি ছবির গান—সব মিলিয়ে এক সময় বলিউড সংগীত জগতে তাঁর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিজিতের প্লেব্যাক গান কমে আসে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন মিউজ়িক শো, লাইভ কনসার্ট ও আঞ্চলিক ছবিতে কাজ করলেও বলিউডের মূলধারার সিনেমায় তাঁর কণ্ঠ খুব একটা শোনা যায়নি। এবার সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুললেন গায়ক নিজে—আর তাঁর বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
অরিজিতের সিদ্ধান্তে নতুন আলোচনার সূত্রপাত
সম্প্রতি অরিজিৎ সিংহ ঘোষণা করেন, তিনি নতুন করে আর কোনও সিনেমার গান না গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও তিনি পুরোপুরি সংগীত জগৎ ছাড়ছেন না, তবু প্লেব্যাক গান থেকে সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত শিল্পীমহলে আলোড়ন তোলে। অরিজিত এর আগেও একাধিকবার গায়কদের পারিশ্রমিক, স্বত্ব ও কাজের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে অভিজিৎ সাওয়ন্তের মন্তব্য যেন নতুন করে সেই পুরনো ক্ষতকে উসকে দিল। প্রশ্ন উঠল—এ কি নিছক ব্যক্তিগত হতাশা, নাকি এর পেছনে রয়েছে বলিউড সংগীত শিল্পের গভীর কাঠামোগত সমস্যা?
‘ওরা আমাদের শোষণ করে’ — অভিজিতের বিস্ফোরক অভিযোগ
এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ সাওয়ন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির নিয়মকানুন এমন, যেখানে গায়ককে শুষে নেওয়া হয়। এরা চায় না কোনও সিনেমার থেকে তার গান বড় হোক। সেই কারণেই গায়কদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়। কণ্ঠশিল্পীরা এখনও সিনেমায় গাওয়া গানের জন্য স্বত্ব পান না।”
এই বক্তব্যেই ফুটে উঠেছে তাঁর মূল ক্ষোভ। তাঁর দাবি, বলিউডে গান যতই জনপ্রিয় হোক না কেন, তার থেকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লাভ পান না শিল্পীরা। এককালীন পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, কিন্তু গানটি যতবারই বাজুক—রেডিও, টেলিভিশন, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বা কনসার্টে—গায়ক কোনও রয়্যালটি পান না।
পশ্চিম বনাম ভারত: রয়্যালটির ফারাক
অভিজিতের কথায়,
“পশ্চিমে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা কয়েকটা গান বানিয়ে শুধু স্বত্ব থেকেই উপার্জিত টাকায় বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারেন। আমাদের জীবিকানির্বাহের জন্য পর্যাপ্ত অর্থই পাই না।”
এই তুলনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকা ও ইউরোপের সংগীত শিল্পে গান তৈরি হলেই তার কপিরাইট ও রয়্যালটি শিল্পীদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। গান যতবার ব্যবহার হয়, ততবারই সংশ্লিষ্ট গায়ক, গীতিকার ও সুরকার রয়্যালটি পান। ফলে একটি হিট গান শিল্পীর ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
কিন্তু ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই সিনেমার গান মূলত প্রযোজনা সংস্থা ও মিউজ়িক লেবেলের সম্পত্তি বলে বিবেচিত হয়। গায়ককে এককালীন পারিশ্রমিক দিয়ে তাঁদের অধিকার কার্যত শেষ হয়ে যায়। ফলে গান যত জনপ্রিয়ই হোক, শিল্পীর আর্থিক লাভ সীমিতই থেকে যায়।
‘গায়করা নিজেরাই সুযোগসন্ধানী’ — আত্মসমালোচনাও করলেন অভিজিৎ
শুধু ইন্ডাস্ট্রির দিকেই আঙুল তোলেননি অভিজিৎ। বরং নিজের পেশার মানুষদের দিকেও সমালোচনার তির ছুড়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য,
“গায়করা নিজেরাই সুযোগসন্ধানী। তাঁরা জানেন, যদি কোনও তারকার ঠোঁটে কণ্ঠ দিতে পারেন, তা হলে ওই গানটি গোটা জীবন ব্যবহার করতে পারবেন। তাই অনেক সময় নিজেরাই টাকা চান না।”
অভিজিতের মতে, অনেক শিল্পী শুধু বড় প্রযোজনা সংস্থা বা নামী তারকার ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য পারিশ্রমিকের বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। ফলে ইন্ডাস্ট্রিতে কম পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রবণতা আরও জোরদার হয়। তাঁর কথায়,
“আমরা যা পাই, তাতেই সন্তুষ্ট হয়ে থাকি। কারণ, আমি কাজটা না করলে অন্য কেউ করে দেবেন।”
এই মনোভাবই নাকি শিল্পীদের সম্মিলিতভাবে নিজেদের অধিকার আদায়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা।
বলিউডে প্লেব্যাক সংস্কৃতি: গায়কদের জায়গা কোথায়?
ভারতীয় সিনেমায় প্লেব্যাক গান একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থা। অভিনেতারা পর্দায় অভিনয় করেন, আর তাঁদের হয়ে গলা মেলান পেশাদার গায়ক-গায়িকারা। একসময় লতা মঙ্গেশকর, কিশোর কুমার, রফি, আশা ভোঁসলের মতো কিংবদন্তিরা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অমরত্ব লাভ করেছিলেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বলিউড সংগীতের চরিত্র বদলেছে। এখন সিনেমার গান মানেই বিপুল বাজেট, বিপণন, ইউটিউব ভিউ, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে হিট হওয়া—সব মিলিয়ে গান একটি পণ্যে পরিণত হয়েছে। অথচ সেই পণ্যের অন্যতম প্রধান নির্মাতা—গায়ক—আজও সেই অর্থনৈতিক সুরক্ষা পান না, যা তাঁর প্রাপ্য।
অভিজিতের বক্তব্য সেই পুরনো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একরকম বিদ্রোহেরই প্রতিফলন।
ডিজিটাল যুগে গান, কিন্তু শিল্পীর লাভ কোথায়?
আজকের দিনে গান শোনা মানেই ইউটিউব, স্পটিফাই, জিওসাভন বা অ্যাপল মিউজিক। কোটি কোটি ভিউ ও স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে গান বিপুল আয় এনে দেয় প্রযোজনা সংস্থা ও মিউজ়িক লেবেলগুলিকে। অথচ সেই আয় থেকে গায়করা খুব সামান্যই পান, কিংবা অনেক ক্ষেত্রেই কিছুই পান না।
অভিজিতের মতে, এই ব্যবস্থাই গায়কদের হতাশার অন্যতম কারণ। গান যত জনপ্রিয়ই হোক, তার আর্থিক সুফল শিল্পীর কাছে পৌঁছয় না। ফলে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন—প্লেব্যাক গান আদৌ দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক পেশা কি না।
অরিজিতের পথেই কি হাঁটছেন অভিজিৎ?
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—অরিজিত সিংহের মতো অভিজিৎ সাওয়ন্তও কি সত্যিই প্লেব্যাক গান থেকে সরে দাঁড়াতে চলেছেন? যদিও তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করেননি, তবু তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট অসন্তোষ ফুটে উঠেছে।
অরিজিতের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই বহু তরুণ শিল্পীকে ভাবতে বাধ্য করেছে—সিনেমার গানের বাইরে কি অন্য কোনও পথ রয়েছে? স্বাধীন গান, লাইভ কনসার্ট, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ব্র্যান্ড সহযোগিতা—এসব ক্ষেত্রেই এখন অনেক শিল্পী নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন।
অভিজিতের মন্তব্য সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত বলে মনে করছেন অনেকেই।
স্বাধীন সংগীত বনাম বলিউড প্লেব্যাক
গত কয়েক বছরে ভারতে স্বাধীন সংগীত (Indie Music) আন্দোলন জোরদার হয়েছে। অনেক শিল্পী সিনেমার গানের বদলে নিজেদের গান তৈরি করে ইউটিউব ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করছেন। এতে তাঁরা নিজেদের সৃষ্টির উপর অধিক নিয়ন্ত্রণ পান এবং রয়্যালটির অংশীদারও হন।
অরিজিত নিজেও বহু স্বাধীন গান প্রকাশ করেছেন। অভিজিতও ভবিষ্যতে সেই পথে হাঁটতে পারেন বলে মনে করছেন সংগীত বিশ্লেষকেরা। এতে শিল্পীরা যেমন সৃজনশীল স্বাধীনতা পান, তেমনই আর্থিক দিক থেকেও দীর্ঘমেয়াদি লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
শিল্পীর সম্মান বনাম তারকাখ্যাতি
অভিজিতের অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—বলিউডে গানের চেয়ে ছবির তারকাখ্যাতিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাঁর মতে,
“এরা চায় না কোনও সিনেমার থেকে তার গান বড় হোক।”
অর্থাৎ, গান যেন ছবির প্রচারের হাতিয়ার হয়—তার চেয়ে বেশি কিছু নয়। ফলে গায়কের নাম অনেক সময়ই দর্শকের মনে তেমন দাগ কাটে না। অথচ গান জনপ্রিয় হলেও তার কৃতিত্ব মূলত অভিনেতা, পরিচালক বা প্রযোজকের ঝুলিতেই যায়।
এই প্রবণতাও গায়কদের হতাশার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অভিজিৎ।
সংগীত জগতে অধিকার আন্দোলনের প্রয়োজন
অভিজিতের মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে—ভারতে সংগীত শিল্পীদের অধিকার আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা। পশ্চিমি দেশগুলিতে শিল্পী ইউনিয়ন ও কপিরাইট সংস্থা রয়েছে, যারা শিল্পীদের রয়্যালটি ও স্বত্ব রক্ষার দায়িত্ব নেয়। ভারতে যদিও কিছু সংগঠন রয়েছে, তবু সেগুলির প্রভাব এখনও সীমিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি গায়ক, গীতিকার ও সুরকাররা সম্মিলিতভাবে নিজেদের অধিকার আদায়ের পথে এগিয়ে আসেন, তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। রয়্যালটি আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ হলে এবং শিল্পীদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষিত হলে হয়তো এমন হতাশা আর শোনা যাবে না।
ভক্তদের প্রতিক্রিয়া: সমর্থন নাকি দ্বিমত?
অভিজিতের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে শিল্পীরা যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তা অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে।
আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বলিউডে সুযোগ পাওয়াটাই বড় বিষয়, সেখানে পারিশ্রমিক নিয়ে অতিরিক্ত অভিযোগ করাটা ঠিক নয়। তবে অধিকাংশ সংগীতপ্রেমীই একমত—গায়কদের কাজের যথাযথ মূল্য ও স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।
ভবিষ্যতের বলিউড সংগীত: কোন পথে এগোচ্ছে শিল্প?
অরিজিত সিংহ ও অভিজিৎ সাওয়ন্তের মতো জনপ্রিয় শিল্পীদের এই অবস্থান ভবিষ্যতে বলিউড সংগীত শিল্পের রূপরেখা বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে—
✔ স্বাধীন সংগীতের প্রসার
✔ গায়কদের রয়্যালটি ও স্বত্বের দাবিতে আন্দোলন
✔ প্লেব্যাকের পাশাপাশি লাইভ পারফরম্যান্স ও ডিজিটাল কনটেন্টে জোর
✔ শিল্পীদের সঙ্গে প্রযোজনা সংস্থার চুক্তিতে নতুন শর্তাবলি
এই পরিবর্তনগুলি বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় সংগীত শিল্প আরও শিল্পীবান্ধব হয়ে উঠতে পারে।
অভিজিতের বক্তব্যের অন্তর্নিহিত বার্তা
অভিজিৎ সাওয়ন্তের কথায় শুধু হতাশা নয়, রয়েছে এক গভীর বার্তা—শিল্পীরা যদি নিজেদের মূল্য নিজে না বোঝেন, তবে কেউই তাঁদের সেই মূল্য দেবে না। তাঁর বক্তব্য,
“আমরা যা পাই, তাতেই সন্তুষ্ট হয়ে থাকি। কারণ, আমি কাজটা না করলে অন্য কেউ করে দেবেন।”
এই মানসিকতা বদলানোই নাকি সবচেয়ে জরুরি। শিল্পীরা যদি নিজেদের কাজের ন্যায্য মূল্য দাবি করেন, তবে ইন্ডাস্ট্রির কাঠামো বদলাতেও সময় লাগবে না।