Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

‘লক্ষ্মীছাড়া’র নতুন গানে প্রেম আর অনুভূতির নতুন রং

বাংলা ব্যান্ড সংগীতপ্রেমীদের কাছে পরিচিত নাম ‘লক্ষ্মীছাড়া’। এই নাম শুনলেই অনেকের মনে জেগে ওঠে নস্টালজিয়ার সুর ও পুরনো দিনের গান।

‘লক্ষ্মীছাড়া’র নতুন গানে প্রেম আর অনুভূতির নতুন রং
বিনোদন

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যেগুলি শুধু গান নয়, একটা সময়কে চিহ্নিত করে। কলেজ ক্যান্টিনের আড্ডা, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বিকেলবেলা গিটার হাতে গলা ছেড়ে গান ধরা, রাতভর শহরের অলিগলিতে হাঁটতে হাঁটতে প্রিয় ব্যান্ডের গান শোনা — এই সব স্মৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে কিছু ব্যান্ডের নাম। ঠিক তেমনই একটি নাম ‘লক্ষ্মীছাড়া’। যাঁরা বাংলা ব্যান্ডের গান শুনে বড় হয়েছেন, তাঁদের কাছে এই নাম শুনলেই একরাশ নস্টালজিয়া ফিরে আসে। আর সেই নস্টালজিয়াকে সঙ্গী করেই ফের নতুন কাজ নিয়ে হাজির হয়েছে জনপ্রিয় এই ব্যান্ড। সদ্য মুক্তি পেয়েছে তাঁদের নতুন মিউজিক ভিডিও — পদবী

এই গান শুধুই একটি নতুন রিলিজ নয়, বরং সময়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, সমাজে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার দৌড়, নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলার ভয় — এই সব কিছুকে নতুন করে প্রশ্ন করার এক সংগীতপ্রয়াস। ক্যাফে ওয়্যারহাউজে আয়োজিত মিউজিক লঞ্চ অনুষ্ঠানে ব্যান্ডের সদস্যদের কথাবার্তায় যেমন উঠে এসেছে তাঁদের শিল্পভাবনার কথা, তেমনই দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে দেখা গিয়েছে দীর্ঘদিন পর প্রিয় ব্যান্ডের নতুন কাজ পাওয়ার উচ্ছ্বাস।


নস্টালজিয়ার নাম: ‘লক্ষ্মীছাড়া’

নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের শুরুর দিকে বাংলা ব্যান্ড সংস্কৃতির যে উত্থান, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘লক্ষ্মীছাড়া’। শহরের কলেজ ফেস্ট, ছোট ছোট কনসার্ট, ক্যাসেট ও সিডির দোকান — সর্বত্রই তখন শোনা যেত তাঁদের গান। প্রেম, বিচ্ছেদ, জীবনের টানাপোড়েন, সমাজের অসঙ্গতি — এই সব বিষয় তাঁদের গানে উঠে আসত সহজ অথচ গভীর ভাষায়। ফলে খুব দ্রুতই তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে এক আত্মিক যোগাযোগ তৈরি করে ফেলেছিল ব্যান্ডটি।

অনেকের কাছেই ‘লক্ষ্মীছাড়া’ মানে শুধু একটি ব্যান্ড নয়, বরং একটা সময়ের অনুভূতি। কলেজ জীবনের সেই অনাবিল দিনগুলি — ক্যান্টিনে বসে চা খেতে খেতে আড্ডা, হোস্টেলের ঘরে গভীর রাতে গিটার হাতে গান ধরা, পরীক্ষার আগের রাতে বন্ধুদের সঙ্গে হালকা আড্ডা — এই সব মুহূর্তের সঙ্গে তাঁদের গান যেন এক অদ্ভুতভাবে মিশে গিয়েছে। তাই দীর্ঘদিন নতুন কাজ না এলেও, এই ব্যান্ডের নাম শুনলেই অনেকের মনে ফিরে আসে সেই সময়ের উষ্ণ স্মৃতি।


নতুন গান ‘পদবী’: কী বলতে চায় এই গান?

‘লক্ষ্মীছাড়া’র নতুন গান ‘পদবী’ শুধুই নস্টালজিয়ায় ভর করে তৈরি কোনও কাজ নয়। বরং এটি বর্তমান সময়ের বাস্তবতা, সমাজের কাঠামো এবং মানুষের মানসিক অবস্থার প্রতি এক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। গানটির মূল ভাবনা ঘোরে একটি শব্দকে কেন্দ্র করে — পদবী। অর্থাৎ সমাজে পরিচিতি, মর্যাদা, সাফল্যের তকমা। এই পদবী পাওয়ার দৌড়ে আমরা কি ধীরে ধীরে নিজেদের হারিয়ে ফেলছি না?

মিউজিক লঞ্চ অনুষ্ঠানে ব্যান্ডের মুখ্য গায়ক রাজীব মিত্র বলেন,

“যেসব জিনিসে অভ্যস্ত হয়ে আমরা নিজেদের ভুলতে বসেছি, ‘পদবী’ সেসবকে প্রশ্ন করতে শেখায়।”

এই একটি বাক্যেই ধরা পড়ে গানটির মূল সুর। আজকের দিনে মানুষ নিজের নামের আগে-পরে জুড়ে দেওয়া পদবি, ডিগ্রি, পদমর্যাদা, সামাজিক পরিচয়ের ভিড়ে কোথাও যেন নিজের আসল সত্তাটাকেই হারিয়ে ফেলছে। গানটি সেই আত্মবিস্মৃতির বিপক্ষে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তোলে — আমরা কি সত্যিই যা হতে চেয়েছিলাম, তাই হয়ে উঠতে পেরেছি? নাকি শুধুই সমাজের প্রত্যাশা পূরণের চাপে নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়েছি?


সংগীত ভাবনা ও নির্মাণশৈলী

‘পদবী’-র সংগীতায়োজনেও দেখা যায় ‘লক্ষ্মীছাড়া’র চেনা স্টাইলের সঙ্গে নতুনত্বের মেলবন্ধন। কীবোর্ড শিল্পী দেবাদিত্য বলেন,

“আমাদের ব্যান্ড সব সময়ই অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলেছে। এই গানেও সৎভাবে সে প্রচেষ্টাই করা হয়েছে।”

গানের শুরুতেই একটি শান্ত, ভাবুক সুর শ্রোতাকে টেনে নিয়ে যায়। ধীরে ধীরে তাতে যুক্ত হয় গিটার ও ড্রামসের শক্তিশালী বিট, যা গানের কথার গভীরতাকে আরও বেশি করে তুলে ধরে। সুরের ওঠানামা যেন প্রতীকীভাবে তুলে ধরে মানুষের মনের দ্বন্দ্ব — একদিকে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে নিজের স্বপ্ন ও অনুভূতির টান।

গানটির কথা যেমন সহজ, তেমনই গভীর। কোনও ভারী শব্দচয়ন ছাড়াই জীবনের বড় প্রশ্নগুলো তুলে ধরেছে ব্যান্ড। ফলে গানটি একদিকে যেমন সহজে গুনগুন করা যায়, তেমনই মনোযোগ দিয়ে শুনলে তার অর্থ আরও গভীরভাবে হৃদয়ে দাগ কাটে।


মিউজিক ভিডিও: গল্প বলার নতুন ভঙ্গি

‘পদবী’-র মিউজিক ভিডিওতেও রয়েছে এক আলাদা ভাবনা। এখানে কোনও চমকপ্রদ ভিজুয়াল এফেক্ট বা ঝাঁ চকচকে সেটের বদলে দেখা যায় এক সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছবি। অফিসে যাওয়ার ভিড়, ট্রেনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ, কম্পিউটারের সামনে বসে ক্লান্ত মুখ — এই সব দৃশ্যের মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে সেই অচেনা পরিচয়ের গল্প, যেখানে মানুষ নিজের স্বপ্নের কথা ভুলে গিয়ে কেবলমাত্র সামাজিক দায়িত্বের চাপে এগিয়ে চলে।

ভিডিওর নির্মাতারা ইচ্ছাকৃতভাবেই শহরের বাস্তব চিত্র ব্যবহার করেছেন, যাতে দর্শক নিজের জীবনের সঙ্গে সহজেই মিল খুঁজে পান। কোথাও কোনও অতিনাটকীয়তা নেই — বরং বাস্তবতার সরলতাই এখানে সবচেয়ে বড় শক্তি। ফলে গান শোনা ও ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা মিলেমিশে এক আবেগঘন যাত্রায় পরিণত হয়।


মিউজিক লঞ্চ অনুষ্ঠান: স্মৃতি ও ভবিষ্যতের মিলন

ক্যাফে ওয়্যারহাউজে আয়োজিত মিউজিক লঞ্চ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যান্ডের সদস্যরা, সংগীতপ্রেমী বন্ধু-বান্ধব ও বহু পুরনো অনুরাগী। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক উষ্ণ আবহ — যেন বহুদিন পর পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দ।

অনুষ্ঠানে রাজীব মিত্র, দেবাদিত্য ছাড়াও অন্যান্য সদস্যরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তাঁরা জানান, বহুদিন পর নতুন কাজ নিয়ে ফিরলেও তাঁদের মূল দর্শন বদলায়নি। গান তাঁদের কাছে এখনও সমাজের সঙ্গে কথা বলার একটি মাধ্যম — কখনও প্রশ্ন করার, কখনও প্রতিবাদ করার, আবার কখনও নিছক অনুভূতির প্রকাশ ঘটানোর।

অনুরাগীদের অনেকেই বলছিলেন, ‘লক্ষ্মীছাড়া’র নতুন গান মানেই শুধু নতুন সুর নয়, বরং পুরনো দিনের স্মৃতির সঙ্গে নতুন সময়ের বাস্তবতার এক সুন্দর মেলবন্ধন। কেউ কেউ আবার তাঁদের কলেজ জীবনের গল্প ভাগ করে নেন, কীভাবে এই ব্যান্ডের গান তাঁদের জীবনের নানা মুহূর্তের সঙ্গী ছিল।


বাংলা ব্যান্ড সংগীতের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘পদবী’

বর্তমানে বাংলা সংগীতজগতে নানা ধারার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে — ইন্ডি পপ থেকে ফিউশন, র‍্যাপ থেকে লোকসংগীতের আধুনিক রূপান্তর। এই বৈচিত্র্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে ‘লক্ষ্মীছাড়া’র মতো ব্যান্ডের নতুন কাজ এক ধরনের স্থিতি ও গভীরতার প্রতিনিধিত্ব করে।

‘পদবী’ প্রমাণ করে, সময় বদলালেও মানুষের মৌলিক প্রশ্নগুলো বদলায় না। পরিচয়, স্বপ্ন, সামাজিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত সুখ — এই সব দ্বন্দ্ব আজও যেমন প্রাসঙ্গিক, তেমনই ছিল এক দশক আগেও। শুধু বদলেছে প্রকাশের ভাষা ও মাধ্যম।

এই গান নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে যেমন সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তেমনই পুরনো অনুরাগীদের জন্য এটি এক আবেগঘন প্রত্যাবর্তন। কারণ এখানে রয়েছে পরিচিত সুরের আবেশ, আবার রয়েছে সমসাময়িক ভাবনার স্পর্শ।


‘পদবী’ ও সমসাময়িক সমাজের প্রতিচ্ছবি

আজকের সমাজে সাফল্যের সংজ্ঞা অনেকটাই নির্ধারিত — ভালো চাকরি, উচ্চ বেতন, সামাজিক মর্যাদা, পরিচিতির বাহুল্য। এই সংজ্ঞার বাইরে থাকা মানুষদের অনেক সময় ব্যর্থ বলে চিহ্নিত করা হয়। অথচ এই তথাকথিত সাফল্যের দৌড়ে অংশ নিতে গিয়ে বহু মানুষ নিজের ভালোবাসার কাজ, সৃজনশীল স্বপ্ন কিংবা ব্যক্তিগত সুখকে বিসর্জন দেয়।

‘পদবী’ এই দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রশ্ন করে। গানটি যেন বলে —
আমরা কি সত্যিই নিজেদের ইচ্ছায় এই পথ বেছে নিয়েছি, নাকি সমাজের চাপে?
আমরা কি আমাদের আসল পরিচয় জানি, নাকি কেবল পদবীর আড়ালে লুকিয়ে থাকি?

news image
আরও খবর

এই প্রশ্নগুলোর কোনও সহজ উত্তর নেই। কিন্তু গানটি সেই চিন্তার দরজা খুলে দেয়, শ্রোতাকে নিজের জীবনের দিকে একবার তাকাতে বাধ্য করে।


গানের কথায় লুকিয়ে থাকা দর্শন

‘পদবী’-র কথা শুনলে বোঝা যায়, এটি কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির গল্প নয় — বরং এটি সমষ্টিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। অফিসযাত্রী, ছাত্র, শিল্পী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী — সবাই কোনও না কোনওভাবে এই পদবীর খেলায় জড়িয়ে পড়েন। কেউ তাতে স্বস্তি খুঁজে পান, কেউ আবার শ্বাসরুদ্ধ বোধ করেন।

গানের প্রতিটি স্তবকে যেন এই দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়। কোথাও নেই সরাসরি উপদেশ বা নৈতিক ভাষণ। বরং রয়েছে একধরনের নীরব প্রশ্ন — “তুমি কি সুখী? তুমি কি নিজের মতো করে বাঁচছ?” এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে শ্রোতা নিজের ভেতরের অজানা কোণগুলোর মুখোমুখি হন।


রাজীব মিত্র ও দেবাদিত্য: সৃষ্টির পেছনের মানুষ

রাজীব মিত্র বহু বছর ধরেই ‘লক্ষ্মীছাড়া’র কণ্ঠস্বর। তাঁর গলায় এক ধরনের মোলায়েম অথচ দৃঢ় আবেগ রয়েছে, যা গানের কথাকে সরাসরি হৃদয়ে পৌঁছে দেয়। ‘পদবী’-তেও তাঁর কণ্ঠ সেই একই আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, আবার আশ্বাসও দেয়।

অন্যদিকে, কীবোর্ড শিল্পী দেবাদিত্যর সংগীত ভাবনায় বরাবরই দেখা যায় নতুনত্ব ও পরীক্ষার সাহস। তিনি বলেন, “আমরা সব সময়ই অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলেছি।” এই ‘অস্বস্তি’ আসলে শিল্পের অন্যতম শক্তি — যা মানুষকে ভাবতে বাধ্য করে, স্থির ধারণাগুলোকে নাড়িয়ে দেয়।

এই দুই শিল্পীর পাশাপাশি ব্যান্ডের অন্যান্য সদস্যদের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গিটার, ড্রামস, বেস — সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক পূর্ণাঙ্গ সংগীত অভিজ্ঞতা, যা গানটিকে শুধু শোনা নয়, অনুভব করার মতো করে তোলে।


পুরনো অনুরাগী ও নতুন প্রজন্ম: দুই প্রজন্মের সেতুবন্ধন

‘লক্ষ্মীছাড়া’র নতুন গান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বাংলা ব্যান্ড সংগীতের শ্রোতাদের মধ্যে একটি প্রজন্মগত পরিবর্তন ঘটছে। নব্বইয়ের দশকে যাঁরা কলেজে পড়তেন, তাঁরা আজ কর্মজীবনের নানা স্তরে প্রতিষ্ঠিত। আবার নতুন প্রজন্মের শ্রোতারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বেড়ে উঠেছেন, যাঁদের কাছে গান মানেই ইউটিউব, স্ট্রিমিং অ্যাপ ও সোশ্যাল মিডিয়া।

‘পদবী’ এই দুই প্রজন্মের মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে। পুরনো শ্রোতারা এতে ফিরে পান পরিচিত সুর ও অনুভূতির আবেশ। নতুন শ্রোতারা এতে খুঁজে পান সমসাময়িক প্রশ্ন ও বাস্তবতার প্রতিফলন। ফলে গানটি একসঙ্গে নস্টালজিক ও আধুনিক — এক বিরল সমন্বয়।


ডিজিটাল যুগে ব্যান্ড সংগীতের নতুন যাত্রা

আজকের দিনে গান মুক্তির ধরনও বদলেছে। এক সময় ক্যাসেট বা সিডির দোকানে অপেক্ষা করতে হতো নতুন অ্যালবামের জন্য। এখন এক ক্লিকেই গান পৌঁছে যায় বিশ্বজুড়ে। ‘পদবী’-র ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

অনেকে লিখেছেন, এই গান তাঁদের কলেজ জীবনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, গানটি শুনে তাঁরা নিজেদের বর্তমান জীবনের সঙ্গে তুলনা করতে বাধ্য হয়েছেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলি প্রমাণ করে, ‘পদবী’ কেবল একটি গান নয় — এটি এক আবেগঘন সংলাপ, যা শিল্পী ও শ্রোতার মধ্যে তৈরি হচ্ছে।


বাংলা ব্যান্ড সংস্কৃতিতে ‘লক্ষ্মীছাড়া’র স্থান

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে ‘লক্ষ্মীছাড়া’র অবদান অনস্বীকার্য। তাঁরা এমন এক সময়ে উঠে এসেছিলেন, যখন বাংলা গান নতুন ভাষা ও নতুন ভঙ্গির খোঁজে ছিল। রোমান্টিক গান, প্রতিবাদী গান, জীবনমুখী গান — সব ক্ষেত্রেই তাঁরা নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে পেরেছেন।

‘পদবী’ সেই ধারাবাহিকতারই নতুন অধ্যায়। এটি প্রমাণ করে, ব্যান্ডটি শুধু অতীতের গৌরব নিয়ে বসে নেই, বরং বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের শিল্পভাবনাকে নতুন করে গড়ে তুলছে।


নস্টালজিয়া ও বাস্তবতার মেলবন্ধন

‘লক্ষ্মীছাড়া’র নতুন কাজের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এই যে, এটি একসঙ্গে নস্টালজিক ও সমসাময়িক। একদিকে এটি শ্রোতাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় কলেজ জীবনের সেই দিনগুলোতে — ক্যান্টিনে বসে গান শোনা, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা, স্বপ্ন দেখার নির্ভীকতা। অন্যদিকে এটি বর্তমান জীবনের বাস্তবতাকে সামনে এনে দাঁড় করায় — দায়িত্ব, চাপ, সামাজিক প্রত্যাশা ও নিজের সঙ্গে আপস করার গল্প।

এই দ্বৈত অনুভূতির মিশেলই ‘পদবী’-কে আলাদা করে তোলে। এটি কেবল অতীতের স্মৃতিতে ডুবে থাকার গান নয়, আবার নিছক বর্তমান সময়ের হতাশার গল্পও নয়। বরং এটি অতীত ও বর্তমানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর এক সংগীত-প্রয়াস।


গানটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

‘পদবী’ গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি এমন এক প্রশ্ন তোলে, যা আজকের সমাজে খুব কম শিল্পকর্মেই সরাসরি উঠে আসে — আমরা কি নিজেদের মতো করে বাঁচছি, নাকি কেবল সমাজের দেওয়া পরিচয়ের আড়ালে নিজেদের হারিয়ে ফেলছি?

এই প্রশ্নের কোনও সহজ উত্তর নেই। কিন্তু শিল্পের কাজই তো প্রশ্ন তোলা, চিন্তার খোরাক জোগানো। সেই দায়িত্ব ‘পদবী’ নিঃসন্দেহে পালন করেছে।


শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া

গান মুক্তির পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ লিখছেন, “এই গান শুনে মনে পড়ে গেল কলেজ জীবনের সেই দিনগুলো।” কেউ আবার বলছেন, “গানটা শুনে নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছি।”

অনেকে প্রশংসা করেছেন গানটির কথা ও সুরের সহজ অথচ গভীর ভাবনার জন্য। আবার কেউ কেউ মিউজিক ভিডিওর বাস্তবধর্মী চিত্রায়ণকে আলাদা করে উল্লেখ করেছেন। এই সব প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে বোঝা যায়, ‘পদবী’ শ্রোতাদের মনে দাগ কাটতে পেরেছে।

ভবিষ্যতের পথে ‘লক্ষ্মীছাড়া’

‘পদবী’ মুক্তির মাধ্যমে ‘লক্ষ্মীছাড়া’ যেন ইঙ্গিত দিল, তাঁরা এখনও থেমে যাননি। সামনে আরও নতুন কাজ নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ব্যান্ডের সদস্যরা জানিয়েছেন। তাঁরা চান, তাঁদের গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম না হয়ে উঠুক চিন্তার খোরাক ও অনুভূতির আশ্রয়।

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ধরনের দায়িত্বশীল ও গভীর ভাবনার গান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই ‘লক্ষ্মীছাড়া’র আগামী কাজগুলির দিকেও স্বাভাবিকভাবেই নজর থাকবে সংগীতপ্রেমীদের।

Preview image