Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

গোবিন্দার বক্স অফিসে বড় ভুল ২০১৭ সালের দুঃখজনক বিদায়

গোবিদার ক্যারিয়ারের পতনের কারণ এবং তাঁর ফেরার পথে বড় বাধা।

একসময় বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সুপারস্টার হিসেবে পরিচিত ছিলেন গোবিন্দা। নব্বইয়ের দশকে তাঁর অভিনয় এবং গানের সাথে সম্পর্কিত ছবির হিটের সংখ্যা ছিল বিস্ময়কর। তাঁর নাচ, কৌতুক অভিনয় এবং চলচ্চিত্রের মধ্যে অমিত ব্যক্তিত্বই ছিল, যার ফলে তিনি বলিউডে একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছিলেন। তবে, যখন শিল্পী হিসেবে সময়ের সাথে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এসেছিল, তখন গোবিন্দার জন্য যে পরিবর্তনগুলি প্রয়োজন ছিল, তা তিনি গ্রহণ করেননি। এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে জানব কীভাবে একজন বলিউড সুপারস্টারের পতন ঘটল এবং কেন আজ তাঁর ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব মনে হয়।

গোবিন্দার ক্যারিয়ারের উত্থান এবং জনপ্রিয়তা

১৯৮০র দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৯০এর দশকে গোবিন্দা বলিউডের সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন অভিনেতাদের মধ্যে ছিলেন। তার অসাধারণ কৌতুক অভিনয়, শক্তিশালী নৃত্য এবং অদ্ভুত স্টাইল তাকে অন্য অভিনেতাদের তুলনায় আলাদা করে তুলেছিল। গোবিন্দার প্রতি দর্শকদের ভালোবাসা এতটাই ছিল যে তার নামেই ছবি হিট হয়ে যেত। তার চেহারা এবং অভিনয়ের দক্ষতা তাকে বলিউডে সেরা পরিসরে স্থান দিয়েছিল। একদিকে যেমন তার নাচের ভঙ্গি ও গানের জনপ্রিয়তা, তেমনি তার চমৎকার কৌতুক অভিনয়ের জন্যও দর্শকরা তাকে পছন্দ করতেন। তখনকার সময়ে বলিউডে গোবিন্দার মতো অভিনেতা খুব কমই ছিল, যিনি দর্শকদের একত্রিত করে রাখতে পারতেন।

সময়ের সঙ্গে গোবিন্দার পরিবর্তন

যতই সময় পেরিয়ে যায়, ততই গোবিন্দার অভিনয়ের স্টাইলও বদলাতে শুরু করে। ২০০০ সালের পর থেকে গোবিন্দা অনেক ছবিতে অভিনয় করেছেন, তবে তার আগের কৌশল এবং দর্শকদের কাছে যে আকর্ষণ ছিল তা ক্রমশ ফিকে হয়ে যেতে থাকে। বেশ কিছু ছবির মধ্যে তাঁকে পুনরাবৃত্তি করতে দেখা যায়, কিন্তু তাতে তেমন সফলতা আসেনি। এই পরিবর্তনটি বোঝা যায় যখন দেখা যায় যে তিনি খুব তাড়াতাড়ি ২৫ বছর বয়সী চরিত্রে অভিনয় করতে থাকেন, যদিও তার চরিত্রটির বয়স ছিল অনেক বড়। তাছাড়া, সময়ের সঙ্গে গোবিন্দা নিজেকে নতুন ধরনের চরিত্রে উপস্থাপন করার জন্য কোনো ধরনের প্রচেষ্টা করেননি। যখন তার সহ অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত এবং অনিল কাপুর গুরুগম্ভীর চরিত্রে অভিনয় করছেন, তখন গোবিন্দা এমন চরিত্রে অভিনয় করতে ছিলেন না, যা বর্তমান সময়ের জন্য উপযুক্ত।

২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের সময়ে গোবিন্দার পতন

২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের দিকে, গোবিন্দা চেষ্টা করেছিলেন চলচ্চিত্রে ফিরে আসতে, কিন্তু সেই সময়ে ছবির দর্শক এবং বিনোদনের কনসেপ্ট পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। ২০১৭ সালের আ গয়া হিরো ছবিটি দিয়ে গোবিন্দা আবারও প্রত্যাবর্তন করার চেষ্টা করেন, তবে সে সময়ে তার পুরনো স্টাইলটি আর দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় ছিল না। একই ধরনের উজ্জ্বল রঙের পোশাক, পুরনো ধাঁচের অ্যাকশন দৃশ্য, এবং তার অভিনয়ের ধরন ছবির বক্স অফিসে ফ্লপ হয়ে যায়। ছবিটি বক্স অফিসে ভাল করতে না পারায়, গোবিন্দার সুপারস্টার স্ট্যাটাসও একপ্রকার শেষ হয়ে যায়। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ভুল।

গোবিন্দার ভুল এবং পতনের কারণ

গোবিন্দার মূল ভুল ছিল সময়ের সঙ্গে মানিয়ে না নেওয়া। শিল্পের জগত পরিবর্তনশীল, এবং অভিনেতাদেরও সময়ের সাথে নিজেদের কৌশল এবং অভিনয়ের ধরন পরিবর্তন করতে হয়। গোবিন্দা সে সময়ে নিজেকে পুরনো ফর্মুলায় আটকে রেখেছিলেন এবং নিজের পুরনো স্টাইলের প্রতি অনমনীয় ছিলেন, যা তার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষভাবে ২০১৭ সালের পরে, তিনি বেশ কিছু স্বল্প বাজেটের ছবিতে কাজ শুরু করেন, যা মূলত গোবিন্দার চিরন্তন চরিত্র থেকে একেবারে আলাদা ছিল। তিনি এমন কিছু ছবি করতে চেয়েছিলেন যেগুলিতে তিনি একক নায়ক হিসেবে অভিনয় করবেন, কিন্তু সে সব ছবিও সফল হয়নি।

পুনরাবৃত্তি চেষ্টা এবং বিতর্ক

গোবিন্দা চেষ্টা করেছিলেন ফেরার, কিন্তু নানা বিতর্কের কারণে তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার ভাগ্নে কৃষ্ণা অভিষেকের সঙ্গে পারিবারিক বিবাদ এবং প্রাক্তন পরিচালকদের বিরুদ্ধে করা মন্তব্যগুলি তার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। এছাড়াও, গোবিন্দা যখন বিতর্কের মধ্যে জড়িত থাকতেন, তখন তার ভাবমূর্তি নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতো।

ছোট পর্দায় গোবিন্দার উপস্থিতি

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরে আসার পর, গোবিন্দা ছোট পর্দায় উপস্থিত হতে শুরু করেন, বিশেষ করে ডান্স রিয়্যালিটি শোগুলোর বিচারক হিসেবে। তবে, ছোট পর্দায় তার উপস্থিতি তার বড় পর্দার তারকাখ্যাতিকে একেবারে ম্লান করে দেয়। দর্শকরা তাকে তার পুরনো চলচ্চিত্রের অঙ্গনে দেখতে আগ্রহী হলেও, তিনি সেই একই চিত্রে ফিরে আসতে পারেননি।

গোবিন্দার ফিরে আসার সম্ভাবনা

আজকের বলিউডে গোবিন্দার ফিরে আসা খুবই কঠিন। বর্তমান চলচ্চিত্রগুলো চিত্রনাট্য-নির্ভর এবং এদের মধ্যে নায়ক এবং অভিনেতার একীকরণ অপরিহার্য। গোবিন্দার যদি একটি শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন, যেমন অমিতাভ বচ্চন যেমন গুলাবো সিতাবো বা পা ছবিতে অভিনয় করেছেন, তবে হয়তো তিনি ফিরে আসতে পারেন। তবে, এটি এখন একটি স্বপ্নের মতো মনে হয়, কারণ গোবিন্দা নিজে থেকে এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে ইচ্ছুক নয়।

news image
আরও খবর

গোবিন্দার সাফল্য এবং প্রত্যাবর্তনের জন্য সুপারিশ

তবে একথা অস্বীকার করা যাবে না যে, গোবিন্দার ভক্তরা এখনও তার ফিরে আসার অপেক্ষায় আছেন। তিনি যদি এখনকার দর্শকের জন্য কিছু নতুন এবং বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন, তবে হয়তো তার দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হতে পারে।

গোবিন্দার ভক্তরা আজও তাঁর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, তিনি যদি নিজেকে পরিবর্তন করে নতুন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন, তবে হয়তো তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হতে পারে। বলিউডে অনেক অভিনেতাই সময়ের সঙ্গে নিজেদের রূপান্তর করেছেন, এবং গোবিন্দাও সেই পথে হাঁটতে পারেন, যদি তিনি সাহসী পদক্ষেপ নেন। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয় যে বহু সুপারস্টার যাদের ক্যারিয়ার একসময় ম্লান হয়ে গিয়েছিল, তারা এখন আবার দর্শকদের মনে স্থান করে নিয়েছেন। অমিতাভ বচ্চন, অনিল কাপুর, সঞ্জয় দত্ত, সাইফ আলী খান  এরা সবাই নিজেদের চরিত্রের ধরন পরিবর্তন করে সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছেন এবং সেই জন্য তারা আজও জনপ্রিয়।

গোবিন্দার ক্যারিয়ারে এমন কিছু সময় এসেছিল যখন তিনি শুধুমাত্র একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতেন। যদিও তার কৌতুক অভিনয় এবং নাচের দক্ষতা ছিল অপরিসীম, তবে সেই একই ধরনের ছবি দর্শকদের কাছে আর আগের মতো গ্রহণযোগ্য ছিল না। এই সময়ে, যখন গোবিন্দা তাঁর অভিনয়ের ধরন পরিবর্তন করেননি, তখন তার সহ অভিনেতারা, যেমন সঞ্জয় দত্ত, অনিল কাপুর এবং অজয় দেবগণ, নিজের অভিনয় এবং ক্যারিয়ারের পরিসীমা প্রসারিত করেছেন। তাঁরা নতুন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছেন, যা গোবিন্দার জন্য অনেক বড় একটি শিক্ষা হতে পারে।

বর্তমান বলিউডের দৃশ্যপটে, চিত্রনাট্য এবং চরিত্রে গভীরতা এবং বাস্তবতা একটি বড় প্রাধান্য পেয়েছে। আজকের ছবির মধ্যে, দর্শকরা এখন সেইসব অভিনেতাদের প্রতি আগ্রহী, যারা তাদের চরিত্রের গভীরতা এবং বাস্তবিকতার দিকে মনোযোগ দেন। গোবিন্দাকে যদি আজকের বলিউডে ফিরতে হয়, তবে তাকে এই পরিবর্তনগুলোকে গ্রহণ করতে হবে। তিনি যদি একক নায়ক হিসেবে ফিরে আসতে চান, তবে তাকে বড় পর্দায় বাস্তবিক এবং জটিল চরিত্রে অভিনয় করতে হবে, যেমন অমিতাভ বচ্চন করেছেন গুলাবো সিতাবো এবং পা ছবিতে। এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করার মাধ্যমে গোবিন্দা আবারও নিজেকে শিখিয়ে দিতে পারেন, এবং তার প্রতিভা নতুনভাবে প্রকাশ করতে পারেন।

গোবিন্দা এক সময় বলিউডের সবথেকে বড় হিট দেওয়া অভিনেতাদের মধ্যে ছিলেন, এবং তার জনপ্রিয়তা ছিল একদম আকাশচুম্বী। তবে, তার ক্যারিয়ারের পতন যেন এক গভীর শূন্যতার মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল। বর্তমানে, বলিউডে যে অভিনেতারা নিজেদের কেরিয়ার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন, তারা শুধুমাত্র অভিনয়েই নয়, তাদের চরিত্র এবং ছবি নির্বাচনেও ভিন্নতা এনেছেন। যেমন সঞ্জয় দত্ত, যিনি সূর্যবংশী এবং কেজিএফ ২এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, আবার তাঁর পুরনো দিনের সেই একগুঁয়ে চেহারা এবং অভিনয়ের ধরনেও পরিবর্তন এনেছেন। সেজন্য গোবিন্দার জন্য এখন সময় এসেছে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার।

আরেকটি বিষয় হলো, গোবিন্দার প্রভাব তার নাচের ওপর ছিল অবিশ্বাস্য। এক সময় তার নাচের ধারা অনেকের কাছে ছিল অনুকরণীয়। কিন্তু, আজকের সিনেমায় যে ধরনের নাচ এবং গানের সুর আছে, তা একেবারেই ভিন্ন ধরনের। গোবিন্দাকে এখন আধুনিক সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচের ধরন এবং তার অভিনয়েও পরিবর্তন আনতে হবে। এছাড়াও, তিনি যদি নিজের পুরনো জনপ্রিয় গানগুলোকে আধুনিক পরিবেশে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারেন, তবে তা তার ভক্তদের মনে পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে এবং তাকে আবারও মিডিয়ায় একটি নতুন স্থান দিতে সাহায্য করবে।

অবশ্যই, গোবিন্দার বড় প্রতিযোগিতা থাকবে বর্তমান সুপারস্টারদের সঙ্গে, যারা নিজেদের প্রচুর পরিশ্রম এবং অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে স্থান পেয়েছে। তবে, গোবিন্দার সবচেয়ে বড় শক্তি তার পেশাদারিত্ব এবং মানুষের মধ্যে হাসি আনার ক্ষমতা। যদি তিনি তার পুরনো কৌতুকের ধরনটিকে এক নতুন ধারায় এবং বাস্তব চরিত্রে আনতে পারেন, তবে তার প্রত্যাবর্তন কোনোভাবেই অসম্ভব নয়। গোবিন্দার ভক্তরা আজও তার উপর বিশ্বাস রাখেন, এবং তার প্রত্যাবর্তন হলে, তা অবশ্যই বলিউডে একটি আলোচিত বিষয় হয়ে উঠবে।

অতএব, গোবিন্দার জন্য সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তার অভিনয়ের নতুন ধারার দিকে মনোনিবেশ করলে, দর্শকদের জন্য কিছু অসাধারণ উপহার দিতে পারেন তিনি। শুধু তাঁর উপর নির্ভর করছে, তিনি কতটা প্রস্তুত এবং তার আগের জাদুকে নতুন করে জীবিত করতে কতটা সময় ও পরিশ্রম দিতে চান।

Preview image