Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

১০ বছরেও মেয়েকে আড়ালেই রেখেছেন রানি-আদিত্য, আদিরার ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী

মেয়ে আদিরা বড় হয়ে অভিনয় নয় ব্যবসার জগতে যাবে কি না, তা নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করলেন রানি মুখোপাধ্যায়।

১০ বছরেও মেয়েকে আড়ালেই রেখেছেন রানি-আদিত্য, আদিরার ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী
বিনোদন

বলিউডের দুনিয়ায় যেখানে তারকাসন্তানদের জন্ম থেকেই ক্যামেরার ফ্ল্যাশে বড় হওয়া প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে, সেখানে রানি মুখোপাধ্যায় ও আদিত্য চোপড়া সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন। ২০১৫ সালে মা হওয়ার পর থেকেই রানি সচেতনভাবে নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রেখেছেন। তাঁদের মেয়ে আদিরার বয়স এখন ১০ বছর। এত বছর কেটে গেলেও সমাজমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে মেয়েকে প্রকাশ্যে আনেননি তাঁরা। অনেকেই জানেন, আদিত্য চোপড়া বরাবরই প্রচারবিমুখ। সেই মনোভাবই তিনি মেয়ের ক্ষেত্রেও বজায় রাখতে চান। রানি নিজেও বিশ্বাস করেন, শিশুর শৈশব হওয়া উচিত স্বাভাবিক ও নির্ভার—যেখানে ক্যামেরার চাপ, পরিচিতির ভার বা তারকাসন্তান হওয়ার তকমা তাকে গ্রাস করবে না।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রানি মুখোপাধ্যায় মেয়ে আদিরার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন। প্রশ্ন উঠেছিল—আদিরা কি বড় হয়ে মায়ের মতো অভিনেত্রী হবে, না কি বাবার মতো ব্যবসার গুরুদায়িত্ব সামলাবে? উত্তরে রানি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কখনও মেয়ের উপর নিজের স্বপ্ন বা পেশার বোঝা চাপাতে চান না। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আদিরা যেন জীবনে খুশি থাকে, আত্মবিশ্বাসী হয় এবং নিজের পছন্দের পথ বেছে নিতে পারে।

কেন লোকচক্ষুর আড়ালে আদিরা?

রানি ও আদিত্য—দু’জনেই মনে করেন, তারকাসন্তান হওয়াটা কোনও বিশেষ সুবিধা নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা শিশুর উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করে। বাবা-মা খ্যাতনামী হলে তাঁদের আলোয় সন্তানও স্বাভাবিক ভাবেই নজরে আসে। অনেক শিশুকে ছোটবেলা থেকেই ভিআইপি ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়—স্কুলে আলাদা নজর, সমাজমাধ্যমে অতিরিক্ত পরিচিতি, ক্যামেরার সামনে বেড়ে ওঠা। এই বিষয়টিকেই একেবারেই অপছন্দ করেন রানি।

তিনি মনে করেন, শৈশব হওয়া উচিত স্বাধীন, নির্ভার এবং সাধারণ অভিজ্ঞতায় ভরা। রানি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি চান তাঁর মেয়ে যেন বন্ধুদের সঙ্গে সাধারণ শিশুর মতো খেলাধুলা করুক, পড়াশোনা করুক, ভুল করুক, শিখুক—সব কিছুই যেন স্বাভাবিক গতিতে ঘটে। তারকাসন্তান হওয়ার তকমা যেন আদিরার ব্যক্তিত্ব গঠনে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।

আদিত্য চোপড়াও এই বিষয়ে একমত। নিজে প্রচারবিমুখ মানুষ হওয়ায় তিনি জানেন, ব্যক্তিগত জীবনকে গোপন রাখা মানসিক শান্তির জন্য কতটা জরুরি। তাই মেয়েকেও সেই একই পরিবেশে বড় করতে চান তিনি—যেখানে পরিচিতি নয়, মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই হবে মুখ্য।

রানি মুখোপাধ্যায়: মা হিসেবে নতুন পরিচয়

রানি মুখোপাধ্যায় বরাবরই শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত। ‘ব্ল্যাক’, ‘হিচকি’, ‘মর্দানি’ সিরিজ় থেকে শুরু করে বহু ছবিতে তিনি নারীশক্তির ভিন্ন ভিন্ন রূপ তুলে ধরেছেন। কিন্তু বাস্তব জীবনে মা হওয়ার পর তাঁর জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই বদলেছে। তিনি নিজেই একাধিকবার জানিয়েছেন, মা হওয়া তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়।

২০১৫ সালে আদিরার জন্মের পর রানি ধীরে ধীরে অভিনয়ে ফিরে আসেন। কিন্তু কাজের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে তিনি বরাবরের মতোই সচেতন। মেয়ের পড়াশোনা, মানসিক বিকাশ এবং সুখ তাঁর কাছে অগ্রাধিকার পেয়েছে সব কিছুর উপরে।

রানি বলেন, মা হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেছেন, শিশুর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—নিরাপত্তা, ভালোবাসা এবং সমর্থন। সন্তান যদি জানে যে বাবা-মা সব সময় তার পাশে রয়েছে, তবে সে নিজের পথ খুঁজে নিতে অনেক বেশি সাহসী হয়। সেই কারণেই তিনি আদিরাকে কোনও নির্দিষ্ট পেশার দিকে ঠেলে দিতে চান না।

অভিনেত্রী না ব্যবসায়ী—আদিরার ভবিষ্যৎ কী?

স্বাভাবিক ভাবেই অনেকেই কৌতূহলী—রানি মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে কি একদিন ক্যামেরার সামনে আসবে? নাকি বাবার মতো প্রযোজনা সংস্থার দায়িত্ব সামলাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে রানি বলেন, “আমি কখনও চাই না, আমার মেয়ে শুধু আমাদের পরিচয়ের কারণে কোনও নির্দিষ্ট পথে হাঁটুক। ও যা ভালোবাসবে, যা করতে চাইবে, আমি সেটাকেই সমর্থন করব।”

রানি জানান, বর্তমানে আদিরা লেখালেখিতে আগ্রহী। তার লেখার হাত নাকি বেশ ভালো। এ ছাড়া, মেয়ে এখন তাইকোন্ডো শিখছে। রানি বলেন, “ও মানসিক ভাবে দৃঢ় মানুষ হয়ে উঠছে। আত্মবিশ্বাসী হচ্ছে। ও জীবনে যা-ই করুক না কেন, আমি ওর পাশে থাকব।”

এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, রানি মেয়েকে শুধু সফল নয়, বরং আত্মবিশ্বাসী ও সুখী মানুষ হিসেবে দেখতে চান। তাঁর কাছে খ্যাতি বা পেশাগত সাফল্যের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—ব্যক্তিগত সন্তুষ্টি ও মানসিক শান্তি।

যশ চোপড়ার ছায়া আদিরার মধ্যে?

রানি আরও জানান, মেয়ের মধ্যে তিনি তাঁর শ্বশুর, কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার যশ চোপড়ার ছায়া দেখতে পান। যশ চোপড়া শুধু একজন সফল নির্মাতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক অসাধারণ গল্পকারও। রানি বলেন, আদিরার কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতায় তিনি সেই উত্তরাধিকার দেখতে পান।

যশ চোপড়ার নাম ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর রোমান্টিক গল্প বলার ধরণ, চরিত্র নির্মাণের গভীরতা এবং আবেগের সূক্ষ্ম প্রকাশ আজও দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। রানি মনে করেন, আদিরার লেখালেখির প্রতি আগ্রহ হয়তো সেই সৃজনশীল উত্তরাধিকার থেকেই এসেছে।

তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, এই প্রতিভাকে কোনও নির্দিষ্ট পথে চালিত করার চেষ্টা তিনি করবেন না। বরং মেয়েকে নিজের মতো করে বেড়ে উঠতে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।

তারকাসন্তান ও সমাজমাধ্যমের চাপ

বর্তমান যুগে সমাজমাধ্যম এমন এক বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে পরিচিতি পাওয়া অনেক সময়েই সহজ হয়ে যায়। বহু তারকাসন্তান ছোটবেলা থেকেই ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠে। অনেকে আবার বাবা-মায়ের খ্যাতির জোরে অভিনয়ে সুযোগও পেয়ে যায়।

কিন্তু রানি ও আদিত্য এই প্রবণতাকে একেবারেই সমর্থন করেন না। তাঁরা চান, আদিরা যেন নিজের পরিচয় নিজেই গড়ে তোলে—তার বাবা-মায়ের পরিচয়ের ছায়ায় নয়। রানি মনে করেন, অতিরিক্ত প্রচার শিশুর মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ছোট বয়সে সমালোচনা, তুলনা কিংবা প্রত্যাশার চাপ সামলানো কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই কারণেই তাঁরা মেয়েকে সমাজমাধ্যম থেকে দূরে রেখেছেন। আদিরা কোনও পাবলিক প্ল্যাটফর্মে নেই। তাঁর ছবি খুব কমই প্রকাশ্যে আসে। এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই প্রশংসনীয় বলে মনে হয়েছে, কারণ এটি শিশুর গোপনীয়তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাবের পরিচয় দেয়।

‘সাধারণ’ শৈশবের গুরুত্ব

news image
আরও খবর

রানি বারবার ‘সাধারণ জীবন’-এর কথা বলেন। তাঁর মতে, শিশুর জীবনে সবচেয়ে জরুরি হল—স্বাভাবিকতা। বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা করা, পড়াশোনা নিয়ে চাপ অনুভব করা, কখনও ভালো নম্বর পাওয়া, কখনও ব্যর্থ হওয়া—এই সব অভিজ্ঞতাই শিশুর চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তারকাসন্তানদের ক্ষেত্রে অনেক সময় এই স্বাভাবিক অভিজ্ঞতাগুলি সীমিত হয়ে যায়। অতিরিক্ত সুরক্ষা, নিরাপত্তা, বিশেষ সুযোগ—সব মিলিয়ে তারা অনেক সময় বাস্তব জীবনের সাধারণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে না। রানি চান না, আদিরা এমন পরিবেশে বড় হোক। বরং তিনি চান, মেয়ে যেন জীবনকে যেমন আছে, তেমনভাবেই অনুভব করতে শেখে।

মা হিসেবে রানি, বাবা হিসেবে আদিত্য

রানি মুখোপাধ্যায় ও আদিত্য চোপড়া—দু’জনেই পেশাগত জীবনে অত্যন্ত সফল। কিন্তু বাবা-মা হিসেবে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা করে নজর কেড়েছে। তাঁরা সন্তানকে বড় করার ক্ষেত্রে কোনও প্রতিযোগিতা বা প্রদর্শনমূলক মানসিকতায় বিশ্বাস করেন না। তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—আদিরার মানসিক সুস্থতা ও সুখ।

রানি বলেন, “আমি চাই, আমার মেয়ে যেন নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে শেখে। ও যেন জানে, ভুল করা স্বাভাবিক, ব্যর্থতা জীবনের অংশ। কিন্তু সেই ব্যর্থতা থেকেই শেখার সুযোগ রয়েছে।” এই দৃষ্টিভঙ্গি আদিরাকে মানসিক ভাবে শক্তিশালী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলেই বিশ্বাস করেন তিনি।

আদিত্য চোপড়া, যিনি নিজে ক্যামেরার সামনে খুব কমই আসেন, মেয়ের ক্ষেত্রেও সেই একই গোপনীয়তা বজায় রাখতে চান। তিনি বিশ্বাস করেন, ব্যক্তিগত জীবন ব্যক্তিগতই থাকা উচিত। সেই কারণেই আদিরাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না এনে, সাধারণ জীবনের সুযোগ করে দিতে চান তিনি।

তারকাসন্তান ও প্রত্যাশার চাপ

তারকাসন্তানদের জীবনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে একটি হল—প্রত্যাশার চাপ। বাবা-মা যদি সফল হন, তবে সমাজ স্বাভাবিক ভাবেই আশা করে সন্তানও সেই সাফল্যের ধারা বজায় রাখবে। কেউ কেউ অভিনয়ে আসবে, কেউ ব্যবসা সামলাবে, কেউ খেলাধুলায় নামবে—কিন্তু যাই হোক না কেন, প্রত্যাশার বোঝা থাকে বিশাল।

রানি এই চাপ থেকে মেয়েকে দূরে রাখতে চান। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রত্যাশা শিশুর স্বপ্ন দেখার ক্ষমতাকে সংকুচিত করে দিতে পারে। বরং যদি তাকে নিজের মতো করে ভাবতে, খুঁজতে ও ভুল করতে দেওয়া হয়, তবে সে নিজের প্রকৃত আগ্রহ ও প্রতিভা আবিষ্কার করতে পারবে।

এই কারণেই তিনি আদিরার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা বলেন না। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—মেয়ের খুশি থাকা।

খুশি থাকাটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য

রানি মুখোপাধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি মনে করি, জীবনে খুশি থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। কেউ যদি নিজে খুশি থাকে, তবেই সে আশেপাশের মানুষকে খুশি রাখতে পারে।” এই দর্শনই তিনি মেয়ের জীবনেও প্রয়োগ করতে চান।

তার কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা শুধু পেশাগত অর্জন নয়। বরং মানসিক শান্তি, আত্মতৃপ্তি এবং ভালোবাসা দেওয়া-নেওয়ার ক্ষমতাই প্রকৃত সাফল্য। আদিরা যদি বড় হয়ে এই মূল্যবোধগুলো ধারণ করতে পারে, তবেই তিনি নিজেকে সফল মা হিসেবে মনে করবেন—এমনটাই জানিয়েছেন রানি।

বলিউডে তারকাসন্তানদের ভিন্ন ভিন্ন পথ

বলিউডে বহু তারকাসন্তান রয়েছেন, যাঁরা বাবা-মায়ের পথ অনুসরণ করে অভিনয়ে এসেছেন। কেউ কেউ আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছেন। যেমন—কেউ ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন, কেউ লেখালেখি বা পরিচালনায়, কেউ আবার একেবারেই ভিন্ন ক্ষেত্রে পা রেখেছেন।

রানি এই বৈচিত্র্যকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। তাঁর মতে, প্রত্যেক মানুষের জীবন আলাদা। প্রত্যেকের স্বপ্ন, আগ্রহ ও প্রতিভা আলাদা। তাই সন্তানদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের উচিত তাদের সেই স্বাতন্ত্র্যকে সম্মান করা।

এই মনোভাব থেকেই তিনি আদিরার ক্ষেত্রে কোনও চাপ সৃষ্টি করতে চান না। অভিনেত্রী হওয়ার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই, ব্যবসায় যোগ দেওয়ারও নয়। আদিরা যদি বিজ্ঞানী হতে চায়, শিল্পী হতে চায়, শিক্ষক হতে চায় বা অন্য কোনও পথে যেতে চায়—সব ক্ষেত্রেই তিনি সমর্থন জানাবেন।

সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

রানি মুখোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমে বহু মানুষ তাঁর প্রশংসা করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের চিন্তাভাবনা আধুনিক অভিভাবকদের জন্য অনুপ্রেরণার। তারকাসন্তানদের উপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে তাঁদের স্বাভাবিক শৈশব উপভোগ করতে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

অনেকে মন্তব্য করেছেন, বলিউডে যেখানে নেপোটিজ়ম নিয়ে বিতর্ক চলে, সেখানে রানি ও আদিত্য তাঁদের মেয়েকে আলোচনার বাইরে রেখে বড় করার সিদ্ধান্ত নিয়ে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এটি শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক বার্তাও বহন করে—সন্তানদের জীবনে স্বাধীনতা ও স্বাভাবিকতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে

আদিরার বয়স এখন মাত্র ১০ বছর। সামনে তাঁর দীর্ঘ জীবন ও অসংখ্য সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে। তিনি কোন পথে হাঁটবেন, কী করবেন—তা এখনই বলা সম্ভব নয়। কিন্তু এটুকু নিশ্চিত যে, রানি ও আদিত্য তাঁকে এমন এক পরিবেশ দিতে চাইছেন, যেখানে সে নিজের মতো করে বেড়ে উঠতে পারবে।

এই পরিবেশে থাকবে ভালোবাসা, সমর্থন, স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা। থাকবে না অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ বা প্রচারের ঝলকানি। এই দৃষ্টিভঙ্গি হয়তো আদিরাকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী, আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

Preview image