‘তস্করি: দ্য স্মাগলারস’ ওয়েব সিরিজে কাস্টমস অফিসার মিতালি কামাথের চরিত্রে অম্রুতা খানবিলকরের অভিনয় ও এই চরিত্রের জন্য তাঁর অডিশনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলাপচারিতা।
ওয়েব সিরিজ ‘তস্করি: দ্য স্মাগলারস’-এ কাস্টমস অফিসার মিতালি কামাথ চরিত্রে অম্রুতা খানবিলকরের অভিনয় ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পর্দায় দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী এবং দায়িত্বশীল এক নারী অফিসারের ভূমিকায় তাঁকে দেখে অনেকেই চমকে গিয়েছেন। কারণ এই চরিত্রে শুধু আবেগ নয়, রয়েছে বাস্তবধর্মী অ্যাকশন, মানসিক দৃঢ়তা এবং পেশাদারিত্বের কঠিন পরীক্ষা। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় অম্রুতা এই চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা, অডিশনের গল্প, অ্যাকশন দৃশ্যের চ্যালেঞ্জ, কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট এবং কোভিড-পরবর্তী বদলে যাওয়া কাজের জগৎ নিয়ে অকপটে কথা বললেন।
ছোট চরিত্র থেকে মুখ্য ভূমিকায় যাত্রা
‘তস্করি: দ্য স্মাগলারস’-এ মিতালি কামাথের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ অম্রুতার জীবনে এসেছে একেবারেই অপ্রত্যাশিতভাবে। তিনি জানান, শুরুতে তিনি এই সিরিজের জন্য একটি ছোট চরিত্রের অডিশন দিতে গিয়েছিলেন। কাস্টিং ডিরেক্টর ভিকি সিদানা তখন তাঁকে জানিয়েছিলেন যে ছয় দিনের মতো একটি চরিত্র রয়েছে। অম্রুতার কথায়, “আমি ভেবেছিলাম, ছোট হলেও কাজটা ভালো হবে। কারণ নীরজ পাণ্ডে বা তাঁর টিমের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ সব সময় পাওয়া যায় না।”
কিন্তু সেই অডিশনের পরেই ঘটে যায় মোড় ঘোরানো ঘটনা। পরিচালক রাঘব জয়রথ এবং নীরজ পাণ্ডে তাঁর মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পান এবং তাঁকে মিতালি কামাথ চরিত্রের জন্য অডিশন দিতে বলেন। অম্রুতা সেই অডিশন দেন এবং নির্মাতাদের পছন্দ হয়ে যায়। ছোট চরিত্র থেকে মুখ্য ভূমিকায় এই রূপান্তর তাঁর কাছে ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত, কিন্তু একই সঙ্গে অত্যন্ত আনন্দের।
অম্রুতা বলেন, “আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ যে ওঁরা আমাকে এই সুযোগটা দিয়েছেন। কারণ মিতালির চরিত্রটা শুধু শক্তিশালী নয়, বরং খুব বাস্তবিক। একজন নারী অফিসার হিসেবে তাঁর লড়াই, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা—সবকিছুই খুব গভীরভাবে লেখা।”
বাস্তবধর্মী অ্যাকশনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
এই সিরিজে অম্রুতার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করা। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, এই ধরনের অ্যাকশন তাঁর জন্য প্রথম অভিজ্ঞতা। নীরজ পাণ্ডের ছবি বা সিরিজে অ্যাকশন দৃশ্য বরাবরই বাস্তবধর্মী হয়—অতিরঞ্জিত নয়, বরং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিশ্বাসযোগ্য। এই বাস্তবধর্মী অ্যাকশনই তাঁর কাছে ছিল সবচেয়ে কঠিন।
অম্রুতা বলেন, “আমি আগে কখনও এই ধরনের অ্যাকশন করিনি। কিন্তু নীরজ স্যারের কাজে মহিলা চরিত্ররা যখন অ্যাকশন করেন, সেটা খুব শক্তিশালী হয়, আবার বাস্তবিকও। সেই স্ট্যান্ডার্ডটা ধরে রাখা আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।”
তিনি জানান, শুটিংয়ের আগে তাঁকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছিল—শারীরিক প্রস্তুতি, স্টান্ট অনুশীলন এবং মানসিকভাবে নিজেকে চরিত্রটির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য। প্রতিটি দৃশ্যের আগে স্টান্ট কো-অর্ডিনেটরের সঙ্গে আলোচনা করে বুঝে নিতে হত কোন অ্যাকশন কীভাবে করতে হবে, কোথায় নিরাপত্তার বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জায়গায় আবেগের প্রকাশ দরকার।
অম্রুতার কথায়, “অ্যাকশন শুধু মারধর বা দৌড়ঝাঁপ নয়। এখানে চরিত্রের মানসিক অবস্থাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। মিতালি যখন অ্যাকশন করছে, সে আসলে নিজের দায়িত্ব পালন করছে। সেটা যেন দর্শক বুঝতে পারে, সেই দিকটা মাথায় রেখেই অভিনয় করতে হয়েছে।”
নীরজ পাণ্ডে ইউনিভার্সে কাজ করার অভিজ্ঞতা
নীরজ পাণ্ডের কাজ মানেই দর্শকের কাছে একটি নির্দিষ্ট মানের প্রত্যাশা থাকে—গভীর গল্প, শক্তিশালী চরিত্র এবং বাস্তবধর্মী উপস্থাপনা। অম্রুতা বলেন, এই ইউনিভার্সে কাজ করা তাঁর জন্য এক ধরনের সম্মান এবং একই সঙ্গে দায়িত্বও।
তিনি বলেন, “নীরজ স্যারের প্রজেক্টে কাজ করা মানে আপনি জানেন, এখানে কোনও কিছুই হালকা ভাবে নেওয়া হয় না। প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব গুরুত্ব আছে, প্রতিটি দৃশ্যের আলাদা মূল্য আছে। সেই জায়গায় নিজেকে প্রমাণ করতে পারাটা আমার কাছে খুব বড় ব্যাপার।”
পরিচালক রাঘব জয়রথের সঙ্গেও কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি বলেন, রাঘব খুব স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, তিনি কী চান এবং কেন চান। ফলে অভিনেতাদের জন্য চরিত্রের গভীরতা বুঝে নেওয়া সহজ হয়ে যায়।
‘রাজি’—কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট
অম্রুতার কেরিয়ারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল মেঘনা গুলজারের ছবি ‘রাজি’। আলিয়া ভাটের সঙ্গে অভিনয় করা এই ছবিতে তাঁর চরিত্রটি ছিল ছোট হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছবিটি মুক্তির পর সমালোচক এবং দর্শকদের কাছ থেকে প্রশংসা পান অম্রুতা। তিনি নিজেই স্বীকার করেন, ‘রাজি’ তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
অম্রুতার কথায়, “নিশ্চয়ই ‘রাজি’ আমার কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। শুধু আমার নয়, মেঘনা ম্যাম, আলিয়া, ভিকি—সবার জন্যই এই ছবিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ছবিটার সাফল্য আমাদের প্রত্যেকের কেরিয়ারে একটা নতুন দরজা খুলে দেয়।”
তিনি জানান, ‘রাজি’র পর থেকে তাঁর কাছে চরিত্রের অফার আসার ধরন বদলে যায়। শুধু গ্ল্যামার নয়, বরং শক্তিশালী ও অর্থবহ চরিত্রের প্রস্তাব বাড়তে থাকে। এই পরিবর্তন তাঁর অভিনয় জীবনে এক নতুন দিশা দেখায়।
কোভিডের আগে ও পরে: বদলে যাওয়া যাত্রা
অম্রুতা খোলাখুলি বলেন, কোভিডের আগে তাঁর কেরিয়ার গ্রাফ ছিল অত্যন্ত মসৃণ। তিনি বিশাল ভরদ্বাজ, মোহিত সুরি-সহ একাধিক বড় পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন। কাজের অভাব ছিল না, সুযোগেরও কমতি ছিল না। কিন্তু কোভিড মহামারি সবকিছু বদলে দেয়।
তিনি বলেন, “কোভিডের আগে আমি খুব লাকি ছিলাম। অনেক ভালো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছি। কিন্তু কোভিডের পরে পরিস্থিতি বদলে গেল। অনেক প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে গেল, অনেক কাজ পিছিয়ে গেল। তখন মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত রাখতে হয়েছে।”
এই সময়টায় ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা এবং নিজের উপর বিশ্বাস রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানান তিনি। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলে আবার কাজের সুযোগ আসতে থাকে। হংসাল মেহতার সঙ্গে ‘লুটেরে’, নীরজ পাণ্ডের সঙ্গে ‘তস্করি: দ্য স্মাগলারস’, এবং টিভিএফ-এর সঙ্গে একটি ওয়েব সিরিজ—এই সব কাজ তাঁর কেরিয়ারে নতুন প্রাণ এনে দেয়।
অম্রুতা বলেন, “এখন ভালো লাগছে যে জিনিসগুলো আবার সঠিক জায়গায় আসছে। ধীরে ধীরে কাজে ফিরেছি—এইটাই সবচেয়ে বড় কথা।”
ওয়েব সিরিজের যুগে অভিনেত্রীদের সুযোগ
অম্রুতা মনে করেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থান অভিনেত্রীদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। আগে যেখানে অনেক সময় মহিলা চরিত্রগুলি সীমিত পরিসরে আটকে থাকত, এখন সেখানে গভীরতা, বৈচিত্র্য এবং শক্তিশালী নারী চরিত্রের সুযোগ বেড়েছে।
তিনি বলেন, “ওয়েব সিরিজে চরিত্রের জায়গা অনেক বড়। আপনি একটা চরিত্রকে সময় নিয়ে গড়ে তুলতে পারেন। দর্শকও ধীরে ধীরে সেই চরিত্রের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। মিতালি কামাথের চরিত্রটা তারই একটা উদাহরণ।”
এই প্ল্যাটফর্মে অভিনেতাদের স্বাধীনতা বেশি বলেও মনে করেন তিনি। গল্প বলার ধরন, চরিত্রের নির্মাণ এবং অভিনয়ের জায়গা—সবকিছুতেই পরীক্ষানিরীক্ষার সুযোগ থাকে।
শক্তিশালী নারী চরিত্রে অভিনয়ের দায়িত্ব
মিতালি কামাথের মতো একজন কাস্টমস অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে অম্রুতা উপলব্ধি করেছেন, পর্দায় শক্তিশালী নারী চরিত্র দেখানো মানে শুধু অ্যাকশন বা দৃঢ়তা নয়, বরং সেই চরিত্রের মানবিক দিক, দুর্বলতা এবং মানসিক লড়াইও তুলে ধরা।
তিনি বলেন, “আমি চাই না আমার চরিত্র শুধু ‘স্ট্রং’ দেখাক। আমি চাই সে বাস্তবিক হোক। সে ভুল করুক, শিখুক, আবার দাঁড়াক। একজন নারী অফিসার হিসেবে তাঁর লড়াই শুধু অপরাধীদের সঙ্গে নয়, নিজের ভেতরের দ্বন্দ্বের সঙ্গেও।”
এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁর অভিনয়কে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
অ্যাকশনের প্রস্তুতি: শরীর ও মনের লড়াই
অম্রুতা জানান, এই সিরিজের জন্য তাঁকে শুধু শরীরচর্চা নয়, মানসিক প্রস্তুতিও নিতে হয়েছে। নিয়মিত জিমে ট্রেনিং, স্টান্ট রিহার্সাল এবং ফাইট কোরিওগ্রাফি অনুশীলনের পাশাপাশি তাঁকে চরিত্রের মানসিক অবস্থা বোঝার জন্য স্ক্রিপ্ট গভীরভাবে পড়তে হয়েছে।
তিনি বলেন, “অ্যাকশন দৃশ্যে শুধু শরীর নয়, মনও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি মানসিকভাবে চরিত্রের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকেন, তাহলে সেই অ্যাকশনটা ফাঁপা লাগবে।”
স্টান্ট করার সময় নিরাপত্তা তাঁর কাছে ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি জানান, প্রতিটি দৃশ্যের আগে সেফটি ব্রিফিং হত এবং সব ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হত।
সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা
‘তস্করি: দ্য স্মাগলারস’-এ অম্রুতার সহ-অভিনেতারাও অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান। তিনি বলেন, তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন। বিশেষ করে সিনিয়র অভিনেতাদের কাছ থেকে অভিনয়ের সূক্ষ্মতা এবং ক্যামেরার সামনে নিজেকে আরও ভালোভাবে প্রকাশ করার কৌশল শিখতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, “একটি ভালো টিম থাকলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। এখানে প্রত্যেকে একে অন্যকে সাহায্য করেছে, ফলে পুরো শুটিং প্রক্রিয়াটা খুব স্মুথ ছিল।”
দর্শকের প্রতিক্রিয়া ও প্রাপ্তি
সিরিজ মুক্তির পর দর্শকের প্রতিক্রিয়া অম্রুতার কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার। তিনি বলেন, অনেক দর্শক তাঁকে মেসেজ করে জানিয়েছেন, মিতালি কামাথের চরিত্র তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছে। বিশেষ করে নারী দর্শকেরা এই চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত করতে পেরেছেন বলে জানান।
অম্রুতা বলেন, “যখন কেউ বলে যে আমার চরিত্র দেখে তারা সাহস পেয়েছে বা অনুপ্রাণিত হয়েছে, তখন মনে হয়, আমার কাজটা সার্থক হয়েছে।”
সমালোচকরাও তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন, বিশেষ করে বাস্তবধর্মী অ্যাকশন এবং চরিত্রের আবেগী দিক ফুটিয়ে তোলার জন্য।
অভিনয়ের দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অম্রুতা নিজেকে শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন গল্পকথক হিসেবে দেখতে ভালোবাসেন। তাঁর মতে, অভিনয় মানে শুধু সংলাপ বলা নয়, বরং একটি চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকের কাছে একটি গল্প পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, “আমি চাই এমন চরিত্র করতে, যা আমাকে চ্যালেঞ্জ করবে, আমাকে ভাবতে বাধ্য করবে এবং দর্শকের মনে কিছু প্রশ্ন তুলে দেবে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত তিনি এমন কাজ করতে চান, যেখানে চরিত্রের গভীরতা থাকবে এবং গল্পের মধ্যে শক্তিশালী মানবিক দিক থাকবে। বড় বা ছোট পর্দা—মাধ্যম তাঁর কাছে মুখ্য নয়, বরং গল্প ও চরিত্রই আসল।
কোভিড-পরবর্তী মানসিক পরিবর্তন
কোভিড তাঁর জীবন ও কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এনেছে বলে জানান অম্রুতা। তিনি বলেন, আগে তিনি হয়তো কাজের পর কাজ করতে ব্যস্ত থাকতেন, কিন্তু এখন তিনি নিজের সময়কে বেশি গুরুত্ব দেন। মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজের পছন্দের কাজ করা—এই বিষয়গুলো তাঁর জীবনে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, “কোভিড আমাদের সবাইকে শিখিয়েছে যে জীবনে সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হয় না। তাই প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
নারী চরিত্রের বিবর্তন ও ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তন
অম্রুতা মনে করেন, ভারতীয় বিনোদন জগতে নারী চরিত্রের উপস্থাপনায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। আগে যেখানে অনেক সময় নারী চরিত্র শুধুই নায়কের ছায়া হয়ে থাকত, এখন সেখানে তারা নিজস্ব পরিচয় ও শক্তি নিয়ে গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, “আমি খুশি যে এখন নারী চরিত্রগুলোকে আর একমাত্রিক ভাবে দেখানো হয় না। তারা শক্তিশালী, দুর্বল, জটিল—সবই হতে পারে। মিতালি কামাথ তারই একটি উদাহরণ।”
এই পরিবর্তনকে তিনি ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক মনে করেন।
অভিনয় থেকে অনুপ্রেরণা
অম্রুতা জানান, তিনি বিভিন্ন অভিনেত্রী ও পরিচালক থেকে অনুপ্রেরণা পান। বিশেষ করে যাঁরা নিজেদের কাজের মাধ্যমে সামাজিক বার্তা পৌঁছে দেন, তাঁদের কাজ তাঁকে বেশি অনুপ্রাণিত করে।
তিনি বলেন, “আমি এমন কাজ করতে চাই, যা শুধু বিনোদন নয়, বরং মানুষের মনে কিছু ভাবনার জন্ম দেবে।”
পরিশ্রম, ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা
অম্রুতার কেরিয়ারের যাত্রা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—পরিশ্রম ও ধৈর্যের কোনও বিকল্প নেই। কোভিডের পর কাজ কমে গেলেও তিনি হাল ছাড়েননি। ধীরে ধীরে আবার নিজের জায়গা তৈরি করেছেন।
তিনি বলেন, “এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিদিন নতুন লড়াই। কিন্তু আপনি যদি নিজের উপর বিশ্বাস রাখেন এবং নিজের কাজটা সৎভাবে করেন, তাহলে সুযোগ আসবেই।”
তিনি তাঁর দর্শক, সহকর্মী এবং পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যাঁরা তাঁর কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।