Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

Asha Bhosle-কে ঘিরে পাকিস্তানে বিতর্ক! ‘ধুরন্ধর’ ইস্যুতে সাংবাদিকদের তোপ

ভারতীয় সংগীতজগতের কিংবদন্তি Asha Bhosle কে ঘিরে বিশ্বজুড়ে শোকের আবহ, কিন্তু পাকিস্তানে নাকি ভিন্ন চিত্র! ধুরন্ধর ইস্যুর জেরে গায়িকার মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন নেপথ্যে ঠিক কী কারণ?

Asha Bhosle-কে ঘিরে পাকিস্তানে বিতর্ক! ‘ধুরন্ধর’ ইস্যুতে সাংবাদিকদের তোপ
বিনোদন

উপমহাদেশের সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, কিংবদন্তি গায়িকা Asha Bhosle-কে ঘিরে সম্প্রতি তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত বিতর্ক, যা সীমান্ত পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছে আন্তর্জাতিক আলোচনায়। বিশ্বজুড়ে যেখানে শিল্পীর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, সেখানে পাকিস্তানে ঠিক উল্টো ছবি—সংবাদমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ ঘিরেই তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক, এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থার তরফে জারি হয়েছে নোটিস। প্রশ্ন উঠছে—শিল্প কি তবে আজও রাজনৈতিক সীমারেখার কাছে পরাজিত?

ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতে Asha Bhosle এক অনন্য নাম। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য ভাষায় হাজার হাজার গান গেয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে। তাঁর কণ্ঠে যেমন ছিল রোম্যান্স, তেমনই ছিল গভীরতা, ছিল এক অদ্ভুত বহুমাত্রিকতা যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। সেই কারণেই তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভারত থেকে শুরু করে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা—সব জায়গাতেই শিল্পী, রাজনীতিবিদ, সাধারণ মানুষ সকলেই শোকজ্ঞাপন করেন।

কিন্তু এই শোকবার্তার মাঝেই হঠাৎ করেই উঠে আসে এক বিতর্কিত খবর—পাকিস্তানে নাকি তাঁর মৃত্যুসংবাদ প্রচার করাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে সমস্যা। পাকিস্তানের ইলেকট্রনিক মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা Pakistan Electronic Media Regulatory Authority (পেমরা) একটি বেসরকারি সংবাদচ্যানেলকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন পাকিস্তানের এক সংবাদমাধ্যম প্রধান, আজ়হার আব্বাস। তিনি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দাবি করেছেন, তাঁর চ্যানেল Asha Bhosle-র প্রয়াণ নিয়ে প্রতিবেদন সম্প্রচার করায় পেমরার তরফে নোটিস পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীর মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানানো সংবাদমাধ্যমের স্বাভাবিক দায়িত্ব। বরং তিনি মনে করেন, এমন শিল্পীদের কাজ ও অবদান আরও বেশি করে তুলে ধরা উচিত ছিল।

আজ়হার আব্বাস তাঁর বক্তব্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন—শিল্প ও সংস্কৃতি কখনও রাজনৈতিক সীমানার মধ্যে আটকে থাকতে পারে না। তাঁর মতে, শিল্পীরা সবসময়ই মানুষকে একত্রিত করেন, বিভাজন নয়। এই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জীবিতাবস্থায় Asha Bhosle একাধিকবার পাকিস্তানের কিংবদন্তি গায়িকা Noor Jehan-এর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে ‘বড় বোন’ বলেও সম্বোধন করেছেন।

শুধু তাই নয়, ভারত ও পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ইতিহাসে Nusrat Fateh Ali Khan-এর সঙ্গে তাঁর কাজও এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। এই সব উদাহরণ তুলে ধরে আব্বাস প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে শিল্পীরা নিজেরাই সীমান্ত ভুলে একে অপরকে সম্মান জানিয়েছেন, সেখানে আজ কেন সেই সম্মানকে বাধা দেওয়া হচ্ছে?

এই ঘটনার পর পাকিস্তানের সাংবাদিক মহলেও ক্ষোভের সুর শোনা যাচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন প্রবীণ ও বিশ্ববিখ্যাত শিল্পীর প্রয়াণের খবর প্রকাশ করাকে কীভাবে ‘অপরাধ’ হিসেবে দেখা যেতে পারে? সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

এই বিতর্কের নেপথ্যে আরেকটি প্রসঙ্গও উঠে আসছে—ভারতের সাম্প্রতিক কিছু সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কনটেন্ট পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হওয়া। উদাহরণ হিসেবে অনেকেই উল্লেখ করছেন Pushpa: The Rule ছবির কথা, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তি পেলেও পাকিস্তানে প্রদর্শিত হয়নি। ফলে অনেকের মতে, এই ঘটনাগুলির মধ্যে একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক টানাপোড়েন কাজ করছে।

এখানেই এসে প্রশ্নটা আরও জটিল হয়ে ওঠে—এটা কি শুধুই একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক মনোভাব? “ধুরন্ধর” বা তথাকথিত সাংস্কৃতিক প্রভাব—যা এক দেশের সফট পাওয়ার হিসেবে কাজ করে—তা কি অন্য দেশের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে?

ভারতীয় সঙ্গীত ও চলচ্চিত্রের প্রভাব উপমহাদেশে বরাবরই প্রবল। Asha Bhosle-র মতো শিল্পীরা শুধু ভারতের নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। তাঁর গান পাকিস্তানেও সমান জনপ্রিয়। সেই জায়গা থেকেই এই বিতর্ক আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এই প্রসঙ্গে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বন্ধ করে দেওয়া কখনওই দীর্ঘমেয়াদে কোনও দেশের পক্ষে লাভজনক নয়। বরং এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ে। শিল্প, সংগীত, সিনেমা—এই সবই মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করার অন্যতম মাধ্যম।

আজ়হার আব্বাস তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সংঘাতের সময়েও শিল্প ও শিল্পীদের বলি দেওয়া উচিত নয়। বরং তাঁরাই পারেন ঘৃণা ও বিভাজনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। এই বক্তব্যে অনেকেই সমর্থন জানিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। আবার কেউ কেউ এটিকে প্রশাসনিক নিয়মের অংশ বলেও ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন।

সব মিলিয়ে, Asha Bhosle-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক শুধুমাত্র একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক রাজনীতি, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং শিল্পের সার্বজনীনতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—শিল্প কি সত্যিই সীমান্ত মানে? নাকি রাজনীতিই বারবার শিল্পকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করে? এই বিতর্ক হয়তো তারই আরেকটি উদাহরণ, যেখানে একজন কিংবদন্তি শিল্পীর প্রয়াণও রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে থাকতে পারল না।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে—ডিজিটাল যুগে তথ্য প্রবাহকে কতটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? আজকের দিনে সংবাদমাধ্যম শুধু টেলিভিশন বা সংবাদপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব, ব্লগ, আন্তর্জাতিক নিউজ পোর্টাল—সব মিলিয়ে একটি বহুমাত্রিক তথ্যব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। ফলে কোনও একটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ নীতি থাকলেও, তা পুরোপুরি কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

news image
আরও খবর

Asha Bhosle-এর মতো একজন বিশ্বব্যাপী পরিচিত শিল্পীর প্রয়াণের খবর কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া স্বাভাবিক। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে কোনও নির্দিষ্ট দেশে সেই খবরকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা অনেকের কাছেই অবাস্তব এবং অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ বরং উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি করে—যা সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও প্রশ্ন আরও বাড়িয়ে তোলে।

এখানে আরেকটি দিক উল্লেখযোগ্য—সাংস্কৃতিক কূটনীতি বা ‘কালচারাল ডিপ্লোমেসি’। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক সময় রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে কিছুটা হলেও নরম রাখে। এই জায়গা থেকেই অনেকেই মনে করছেন, Asha Bhosle-এর মতো শিল্পীদের ঘিরে বিতর্ক তৈরি হওয়া সেই নরম সেতুটিকেও দুর্বল করে দিতে পারে।

ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বরাবরই জটিল। ইতিহাস, রাজনীতি, সীমান্ত সমস্যা—সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বহুদিন ধরেই। কিন্তু এই সমস্ত কিছুর মধ্যেও সংগীত, সিনেমা এবং সাহিত্য বারবার সেই দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করেছে। বলিউডের গান পাকিস্তানে যেমন জনপ্রিয়, তেমনই পাকিস্তানি গজল ও কাওয়ালি ভারতের শ্রোতাদের মন জয় করেছে। এই পারস্পরিক গ্রহণযোগ্যতা দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আবেগগত সংযোগ তৈরি করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে Nusrat Fateh Ali Khan-এর মতো শিল্পীদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর সংগীত ভারতেও বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল এবং দুই দেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি করেছিল। একইভাবে Asha Bhosle-র গান পাকিস্তানেও বহু বছর ধরে সমানভাবে সমাদৃত। ফলে তাঁর প্রয়াণকে কেন্দ্র করে এমন বিতর্ক তৈরি হওয়া অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হয়ে দাঁড়ায়—সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা কী হওয়া উচিত? সংবাদমাধ্যম কি শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশ মেনে চলবে, নাকি সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে সত্য ও তথ্য তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করবে? এই দ্বন্দ্ব নতুন নয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আবারও সামনে এসেছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের একাংশ ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে। তাঁদের মতে, একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীর প্রয়াণের খবর প্রকাশ করা কোনওভাবেই বিতর্কিত বা নিষিদ্ধ হওয়া উচিত নয়। বরং এটি একটি মৌলিক সাংবাদিকতার দায়িত্ব। এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মানুষও সরব হয়েছেন।

এখানে উল্লেখযোগ্য যে, এই ধরনের বিতর্ক কেবল একটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। আন্তর্জাতিক মহলেও এর প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে যখন বিষয়টি একজন বিশ্বখ্যাত শিল্পীকে ঘিরে, তখন তা আরও বেশি নজর কাড়ে। ফলে এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

এছাড়া, এই ঘটনাটি ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক প্রভাবের ধারণাকেও নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। একটি দেশের সংস্কৃতি, সংগীত, সিনেমা বা সাহিত্য অন্য দেশে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে—তা আজকের বিশ্বায়নের যুগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Asha Bhosle-র মতো শিল্পীরা সেই সফট পাওয়ারের অন্যতম প্রতীক। তাঁদের কাজ সীমান্ত পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।

এই কারণেই অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই ধরনের বিতর্ক আসলে সেই সাংস্কৃতিক প্রভাবের প্রতিক্রিয়া হিসেবেও দেখা যেতে পারে। যখন কোনও দেশের সংস্কৃতি অন্য দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, তখন তা কখনও কখনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তবে এই সমস্ত বিতর্কের মধ্যেও একটি বিষয় স্পষ্ট—শিল্প ও সংস্কৃতির শক্তি অপরিসীম। রাজনৈতিক বাধা, প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা বা সীমান্তের কাঁটাতার—কিছুই শেষ পর্যন্ত মানুষের অনুভূতিকে সম্পূর্ণভাবে আটকে রাখতে পারে না। সংগীতের মতো একটি সার্বজনীন মাধ্যম সব সময়ই মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, বিভাজন নয়।

Asha Bhosle-এর দীর্ঘ সংগীতজীবন সেই সত্যেরই প্রমাণ। তাঁর গান আজও বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের মনে সমানভাবে প্রভাব ফেলে। তাঁর কণ্ঠে যে আবেগ, যে শিল্পগুণ—তা ভাষা বা দেশের সীমা মানে না।

এই বিতর্ক হয়তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে থেমে যাবে, নতুন কোনও খবর এসে তা ঢেকে দেবে। কিন্তু এটি যে প্রশ্নগুলো সামনে এনে দিয়েছে—তা এত সহজে মুছে যাবে না। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিল্পের সার্বজনীনতা—এই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকবে।

সবশেষে আবারও ফিরে আসা যাক সেই মূল প্রশ্নে—শিল্প কি সীমান্ত মানে? হয়তো না। কারণ ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যখনই মানুষ বিভক্ত হয়েছে, তখনই শিল্প তাদের একত্রিত করার চেষ্টা করেছে। আর সেই চেষ্টার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে মানবতার আসল শক্তি।

এই কারণেই Asha Bhosle-এর মতো শিল্পীরা শুধুমাত্র একজন গায়ক বা শিল্পী নন—তাঁরা একটি সময়, একটি সংস্কৃতি এবং একটি আবেগের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁদের উত্তরাধিকার কোনও দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা গোটা বিশ্বের সম্পদ।

এই বিতর্কের মধ্য দিয়েই হয়তো আবারও প্রমাণিত হচ্ছে—রাজনীতি যতই বিভাজন তৈরি করুক না কেন, শিল্প শেষ পর্যন্ত মানুষের হৃদয়কে একত্রিত করার পথ খুঁজে নেয়।

Preview image