বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের ২৬ অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের কাছে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। বাপটলা থেকে বিশাখাপত্তনমের মধ্যে ইয়ানামের কাছাকাছি উপকূল অতিক্রমের সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫–১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার বেগ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি, প্রবল বাতাস এবং সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ পরিণত হয়েছে। সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও শক্তিশালী হতে পারে। এর ফলে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষ, মৎস্যজীবী এবং উপকূলবর্তী এলাকার ব্যবসায়ীদের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৮ অক্টোবর সকালে ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের কাছে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। ওই সময় ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছনোর আশঙ্কা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত, প্রবল বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং নিচু উপকূলীয় এলাকায় জল ঢোকার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তি পরিবর্তনশীল হওয়ায় সর্বশেষ সরকারি পূর্বাভাসের উপর নজর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছিল। সেই সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র ছিল প্রায় ১৫.৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ছিল ওড়িশার গোপালপুর থেকে প্রায় ৫৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৬১০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে এবং কাকিনাড়া থেকে প্রায় ৬৯০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে।
গত ছয় ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছিল। আবহাওয়া দফতরের হিসাব অনুযায়ী, এটি প্রথমে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এবং পরে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য আবহাওয়া দফতর উপগ্রহচিত্র, সমুদ্রের আবহাওয়ার তথ্য এবং বিভিন্ন পূর্বাভাস মডেল ব্যবহার করছে। এই সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হচ্ছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর সকালের দিকে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে।
সম্ভাব্য স্থলভাগে প্রবেশের অঞ্চল হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা থেকে বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ইয়ানামের কাছাকাছি এলাকায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঘূর্ণিঝড়টি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি নিয়ে উপস্থিত হতে পারে। সেই সময় ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস এবং সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এত শক্তিশালী বাতাসে দুর্বল বাড়িঘর, টিনের চাল, বিদ্যুতের খুঁটি, গাছপালা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর ক্ষতি হতে পারে। উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় সমুদ্রের ঢেউ এবং জলস্তরের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তবে কোন এলাকায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হবে, তা ঘূর্ণিঝড়ের প্রকৃত গতিপথ, স্থানীয় ভূপ্রকৃতি এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির উপর নির্ভর করবে।
২৬ অক্টোবরের আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব সোমবার মধ্যরাতের মধ্যে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর ২৭ অক্টোবর পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি অর্জন করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বৃদ্ধির পেছনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা, বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা এবং বাতাসের গতিবিধির মতো বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ জল থেকে ঘূর্ণিঝড় শক্তি সংগ্রহ করতে পারে। অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকলে এর কেন্দ্রীয় অংশ আরও সংগঠিত হয়ে বাতাসের গতিবেগ বাড়তে পারে।
তবে স্থলভাগে প্রবেশের আগে বা উপকূল অতিক্রমের সময় ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি কমতেও পারে। তাই বর্তমান পূর্বাভাসকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ঘটনা হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য পরিস্থিতির সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। কিছু অঞ্চলে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
বিশেষ করে কাকিনাড়া, কোনাসীমা, পূর্ব গোদাবরী, পশ্চিম গোদাবরী, এলুরু, কৃষ্ণা এবং সংলগ্ন এলাকাগুলিতে বৃষ্টির প্রভাব বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নিচু এলাকায় জল জমা, রাস্তা প্লাবিত হওয়া, যান চলাচলে সমস্যা এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
শহরাঞ্চলে নিকাশি ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই জল জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হতে পারে। গ্রামীণ এলাকায় কাঁচা রাস্তা এবং ছোট সেতুগুলির উপরও বাড়তি চাপ পড়তে পারে।
এছাড়া প্রবল বৃষ্টির ফলে কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ বাসিন্দাদেরও আগাম সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি ওড়িশার উপকূলীয় এলাকাগুলিতেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ ওড়িশায় ভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গোপালপুর ও সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে আবহাওয়ার পরিবর্তনের উপর নজর রাখা জরুরি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব উপকূল থেকে কিছুটা দূরের এলাকাতেও বৃষ্টিপাত বাড়াতে পারে।
প্রবল বৃষ্টির কারণে গ্রামীণ রাস্তা, কৃষিজমি এবং নিচু এলাকায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঝোড়ো বাতাসে গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে ওড়িশার সব জেলায় সমান প্রভাব পড়বে না। জেলা অনুযায়ী বৃষ্টি ও বাতাসের তীব্রতা আলাদা হতে পারে। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে উঁচু ঢেউ এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার কারণে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়া দফতর মৎস্যজীবীদের ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্র এলাকায় মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
যাঁরা ইতিমধ্যে সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে নিরাপদ বন্দরে ফিরে আসা উচিত।
শুধু মৎস্যজীবী নয়, সমুদ্রতটে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদেরও সতর্ক থাকতে হবে। প্রবল ঢেউয়ের সময় সমুদ্রের কাছাকাছি গিয়ে ছবি তোলা কিংবা ভিডিও করার চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে।
উপকূলীয় এলাকায় ছোট নৌকা, মাছ ধরার সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা প্রয়োজন।
শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সময় উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিক জোয়ারের পাশাপাশি ঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রের জলস্তর আরও বেড়ে যেতে পারে। এই ঘটনাকে স্টর্ম সার্জ বলা হয়।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের ক্ষেত্রেও নিচু উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রের জল ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ইয়ানাম এবং পূর্ব গোদাবরী উপকূলের কিছু অঞ্চলে ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
প্রবল বাতাস সমুদ্রের জল স্থলভাগের দিকে ঠেলে দিলে নদীর মোহনা ও নিচু বসতিগুলিতে জল ঢুকে পড়তে পারে।
এতে বাড়িঘর, কৃষিজমি, মৎস্যচাষের এলাকা এবং উপকূলীয় রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তবে জলস্তর কতটা বাড়বে, তা ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি, জোয়ারের সময় এবং উপকূলের গঠনের উপর নির্ভর করবে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের সম্ভাব্য স্থলভাগে প্রবেশের প্রধান অঞ্চল অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল। তবে বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে আশপাশের রাজ্যগুলির আবহাওয়াতেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত বা ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে পরবর্তী আবহাওয়া বুলেটিনে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
২৬ অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়বে বলে জানানো হয়নি।
তবে কলকাতা, পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং অন্যান্য উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নজর রাখা উচিত।
বিশেষ করে সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের জন্য সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ। মৎস্যজীবী ও সমুদ্রপথে চলাচলকারীদের সংশ্লিষ্ট এলাকার আবহাওয়া নির্দেশিকা মেনে চলা প্রয়োজন।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রবল বাতাস এবং ভারী বৃষ্টিপাত হলে উপকূলীয় এলাকায় কৃষিকাজে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে ধান, সবজি এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মাঠে অতিরিক্ত জল জমে গেলে ফসলের বৃদ্ধি ও সংগ্রহের কাজে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রবল বাতাসে গাছের ডাল ভেঙে পড়া এবং ফলের বাগানের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
নিচু কৃষিজমিতে দীর্ঘ সময় জল জমে থাকলে মাটির গুণমান এবং পরবর্তী চাষের পরিকল্পনাতেও প্রভাব পড়তে পারে।
সমুদ্রের নোনা জল কৃষিজমিতে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কৃষকদের স্থানীয় কৃষি দফতরের নির্দেশ অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সময় বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রবল বাতাসে গাছ ভেঙে বিদ্যুতের লাইনের উপর পড়তে পারে। কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তায় জল জমে যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। দুর্বল রাস্তা এবং সেতুর ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন।
এছাড়া পরিস্থিতি গুরুতর হলে বাস, ট্রেন কিংবা অন্যান্য পরিবহণ পরিষেবায় পরিবর্তন আনা হতে পারে।
তবে কোনও নির্দিষ্ট পরিবহণ পরিষেবা বন্ধ হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার উপর নির্ভর করবে।
ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপকূলীয় বাসিন্দাদের জরুরি নথিপত্র, প্রয়োজনীয় ওষুধ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, শুকনো খাবার এবং টর্চ নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে।
মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক চার্জ করে রাখা উচিত। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের পরিকল্পনা তৈরি করা দরকার।
বাড়ির বাইরে থাকা আলগা টিন, প্লাস্টিকের সামগ্রী এবং অন্যান্য জিনিস নিরাপদে সরিয়ে রাখা উচিত, যাতে প্রবল বাতাসে সেগুলি উড়ে গিয়ে ক্ষতি না করে।
যাঁরা নিচু এলাকায় কিংবা দুর্বল বাড়িতে বসবাস করেন, তাঁদের স্থানীয় প্রশাসনের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।
ঘূর্ণিঝড় চলার সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়ির বাইরে বেরোনো উচিত নয়।
বিশেষ করে বড় গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, আলগা নির্মাণসামগ্রী এবং দুর্বল ভবনের কাছাকাছি থাকা বিপজ্জনক হতে পারে।
রাস্তায় জল জমে থাকলে সেই জলের মধ্যে দিয়ে হাঁটা বা গাড়ি চালানোর চেষ্টা এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ জলের নিচে খোলা বৈদ্যুতিক তার, গর্ত কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা থাকতে পারে।
ঝড় সাময়িকভাবে শান্ত হয়ে গেলেও বাইরে বেরোনো নিরাপদ নাও হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের শান্ত অংশ অতিক্রম করার পরে আবার প্রবল বাতাস শুরু হতে পারে।
তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়।
যাঁরা নিয়মিত ওষুধ খান, তাঁদের কয়েক দিনের প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখা উচিত। শিশুদের খাবার, বিশুদ্ধ জল এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রীও নিরাপদে রাখতে হবে।
প্রবীণ বা চলাফেরায় অসুবিধা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের আগাম পরিকল্পনা করা দরকার।
কোনও এলাকায় জল জমে গেলে চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছনো কঠিন হয়ে যেতে পারে। তাই জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার যোগাযোগের তথ্য কাছে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঘূর্ণিঝড়ের সময় সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ছবি, ভিডিও এবং সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
অনেক সময় পুরনো ঘূর্ণিঝড়ের ছবি বর্তমান পরিস্থিতির বলে প্রচার করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক তৈরি হতে পারে।
তাই কোনও তথ্য অন্যদের পাঠানোর আগে সেটির উৎস যাচাই করা জরুরি।
আবহাওয়া সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের ওয়েবসাইট এবং রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা উচিত।
কোনও এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে আগামী কয়েক দিন অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
২৬ অক্টোবরের আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি ২৭ অক্টোবর আরও শক্তিশালী হয়ে ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে।
সেই সময় ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা বাতাস এবং ভারী থেকে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, শক্তি এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে। তাই পুরনো পূর্বাভাসের উপর নির্ভর না করে নিয়মিত সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে হবে।
উপকূলীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া, নিরাপদ স্থানে থাকা এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সচেতনতা, সময়মতো সতর্কতা এবং সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমেই ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।