Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হাদি-খুনে অভিযুক্তদের সীমান্ত পার করাতে সাহায্যের অভিযোগে শান্তিপুরে দালাল গ্রেফতার

কয়েক দিন আগে রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন হাদি-খুনের দুই অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীর। এসটিএফ সূত্রে খবর, ধৃতদের জেরা করতেই সামনে আসে ওই দালালের নাম।


হাদি হত্যা মামলা: সীমান্ত পার করাতে সাহায্যের অভিযোগে শান্তিপুরে গ্রেফতার দালাল

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ঘিরে তদন্তে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসছে। বাংলাদেশে সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর খুনের মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন দুই অভিযুক্ত ফয়সাল মাসুদ করিম এবং আলমগীর শেখ। তাদের জেরায় উঠে এসেছে সীমান্ত পারাপারের সঙ্গে যুক্ত এক দালালের নাম। সেই সূত্র ধরেই শনিবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেফতার করেছে ফিলিপ সাংমা নামে ওই দালালকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে নদিয়ার শান্তিপুর বাইপাস সংলগ্ন এলাকা থেকে ফিলিপকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবৈধ সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা করে দিতেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, ওসমান হাদি হত্যার ঘটনার পর অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীর তাঁর সাহায্যেই বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকে পড়েন।

তদন্তে নতুন মোড়

হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, এই মামলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণেই তদন্তের অগ্রগতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।

কয়েক দিন আগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দুই অভিযুক্ত ফয়সাল মাসুদ করিম এবং আলমগীর শেখ। বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারের পর তাদের জেরা করতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। সেই জেরাতেই উঠে আসে সীমান্ত পার করাতে সাহায্য করা এক দালালের নাম।

এসটিএফ সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফয়সাল ও আলমগীর স্বীকার করেন যে, তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢোকার জন্য এক দালালের সাহায্য নিয়েছিলেন। সেই দালালের নাম ফিলিপ সাংমা।

কী ভাবে সীমান্ত পার

তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বাংলাদেশের হালুরঘাট এলাকায় বসবাস করতেন ফিলিপ সাংমা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে অবৈধ পারাপারের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের ভারতে ঢোকানোর ক্ষেত্রে তাঁর একটি নেটওয়ার্ক ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

পুলিশের দাবি, হাদি হত্যাকাণ্ডের পরই ফয়সাল এবং আলমগীর যোগাযোগ করেন ফিলিপের সঙ্গে। এরপর ফিলিপ তাদের জন্য সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা করে দেন। তাঁর সাহায্যে তারা বাংলাদেশ থেকে মেঘালয়ের ডালুপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েন।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, সীমান্ত পারাপারের জন্য একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেওয়া হত। এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় কিছু লোকজনও জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।

গোপন সূত্রে অভিযান

এসটিএফ সূত্রে খবর, ফিলিপ সাংমার অবস্থান সম্পর্কে গোপন সূত্রে তথ্য পায় পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কয়েক দিন ধরে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। অবশেষে শনিবার ভোরে শান্তিপুর বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দাবি, ধৃতকে জেরা করে সীমান্ত পারাপার চক্র সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, এই নেটওয়ার্কে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে এবং কত দিন ধরে এই কাজ চলছে।

জেরায় স্বীকারোক্তি

পুলিশি জেরায় ফিলিপ সাংমা স্বীকার করেছেন যে তিনি টাকার বিনিময়ে সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা করতেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের হালুরঘাট এবং মেঘালয়ের ডালুপাড়া সীমান্ত ব্যবহার করে বহু মানুষকে অবৈধ ভাবে পার করানো হত।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, একই ভাবে ফয়সাল এবং আলমগীরকেও তিনি সীমান্ত পার করিয়ে দেন। এই কাজের জন্য তিনি একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন।

তবে শুধু এই দুই অভিযুক্তই নয়, আরও অনেককে তিনি একই ভাবে সীমান্ত পার করিয়েছেন বলে সন্দেহ পুলিশের।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনার পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিস্তৃত সীমান্ত এলাকায় এখনও অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে নজরদারি তুলনামূলক ভাবে কম। সেই সুযোগেই সক্রিয় থাকে এমন দালালচক্র।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় দালালদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। তারা টাকার বিনিময়ে অবৈধ ভাবে মানুষ, এমনকি কখনও কখনও অপরাধীদেরও সীমান্ত পার করিয়ে দেয়।

এই চক্র ভাঙতে গেলে শুধু গ্রেফতার করলেই হবে না, বরং গোটা নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তদন্তে আরও গ্রেফতারের সম্ভাবনা

এসটিএফ সূত্রে খবর, ফিলিপ সাংমাকে জেরা করে আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই সেই সূত্র ধরে তল্লাশি শুরু করেছেন। ফলে আগামী দিনে আরও কয়েকটি গ্রেফতারি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

news image
আরও খবর

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সীমান্ত পারাপার চক্রের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। তাদের ধরতে আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযান চালানো হতে পারে।

আদালতে তোলা হবে ধৃতকে

গ্রেফতারের পর ফিলিপ সাংমাকে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চাইবেন। কারণ, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাঁর কাছ থেকে পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষ করে হাদি হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা কী ভাবে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল এবং সেই পরিকল্পনায় কারা কারা যুক্ত ছিল, তা জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা।

চাঞ্চল্য সীমান্ত এলাকায়

ফিলিপ সাংমার গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এমন অবৈধ পারাপার চক্র সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু অনেক সময়ই তা প্রকাশ্যে আসে না।

তবে পুলিশের এই অভিযানের পর সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আরও কড়া নজরদারি চালানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তদন্তে নতুন দিশা

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ফিলিপ সাংমার গ্রেফতারিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। কারণ, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে খুনের পর অভিযুক্তদের পালানোর পুরো চক্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

তদন্তকারীদের মতে, সীমান্ত পারাপারের এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের চিহ্নিত করা গেলে পুরো চক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে।


চাঞ্চল্য সীমান্ত এলাকায়

ফিলিপ সাংমার গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বহু দিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পারাপার চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেই কার্যকলাপ আড়ালে থেকে যায় এবং খুব কম ক্ষেত্রেই তা প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনায় এক দালালের গ্রেফতারি নতুন করে সেই পুরনো অভিযোগগুলিকেই সামনে এনে দিয়েছে।

স্থানীয়দের কথায়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বহু জায়গা এমন রয়েছে যেখানে নদী, জঙ্গল বা গ্রামীণ রাস্তার কারণে নজরদারি করা তুলনামূলক কঠিন। সেই সব এলাকাকেই কাজে লাগায় দালালচক্র। টাকার বিনিময়ে তারা মানুষকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। কখনও শ্রমিক, কখনও ব্যবসায়ী, আবার কখনও অপরাধীদেরও এই পথেই সীমান্ত পার করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফিলিপ সাংমার গ্রেফতারের ঘটনাকে ঘিরে এখন সেই বিষয়টিই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক সময়ই এই ধরনের দালালরা স্থানীয় ভূগোল সম্পর্কে অত্যন্ত ভালো ভাবে অবগত থাকে। কোন রাস্তা দিয়ে গেলে নজরদারি এড়ানো সম্ভব, কোথায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টহল কম—এই সব বিষয় সম্পর্কে তারা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখে।

এই ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বরাবরই বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থেকেই অনেক সময় তারা নিজেদের কার্যকলাপ চালিয়ে যায়। ফলে তাদের চিহ্নিত করা সহজ হয় না।

স্থানীয়দের আশঙ্কা

সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা একটি বড় চক্রের কেবল এক সদস্য ধরা পড়েছে। আবার অনেকেই বলছেন, এই গ্রেফতারের পর তদন্ত আরও গভীরে পৌঁছতে পারে এবং এর সঙ্গে যুক্ত আরও অনেকের নাম সামনে আসতে পারে।

কিছু স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে সীমান্ত এলাকায় অচেনা মানুষের যাতায়াত মাঝে মধ্যেই দেখা যায়। যদিও সেই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না, তবু অনেক সময় সন্দেহের পরিবেশ তৈরি হয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চান না।

তাদের মতে, এই ধরনের চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে অনেকেই চুপ থাকাই নিরাপদ মনে করেন।

সীমান্ত এলাকায় দালালচক্রের কার্যকলাপ

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় দালালচক্রের অস্তিত্ব নতুন নয়। বহু বছর ধরেই বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চলে এমন নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। তারা মূলত টাকার বিনিময়ে সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা করে থাকে।

এই চক্র সাধারণত কয়েকটি ধাপে কাজ করে। প্রথমে যিনি সীমান্ত পার হতে চান, তিনি স্থানীয় কোনও দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই দালাল আবার অন্য একটি বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এরপর নির্দিষ্ট সময় এবং রুট ঠিক করা হয়।

Preview image