Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বুকে ব্যথা ছাড়াও হৃদ্‌রোগের লক্ষণ

বুকে ব্যথা না থাকলেও কি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি থাকতে পারে? অল্পতেই হাঁপিয়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড়, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ঘাম বা কাঁধ-বাহুতে ব্যথার মতো উপসর্গকে অনেকেই সাধারণ বলে এড়িয়ে যান। অথচ এগুলিই হতে পারে হার্টের সমস্যার আগাম সংকেত।

বুকে ব্যথা ছাড়াও হৃদ্‌রোগের লক্ষণ
health and wellness
  1. হৃদ্‌রোগ মানেই শুধু বুকে তীব্র ব্যথা—এমন ধারণা অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের উপসর্গ এক রকম নাও হতে পারে। কখনও বুকে ব্যথা বা চাপের মতো পরিচিত লক্ষণ দেখা দিতে পারে, আবার কখনও অল্পতেই হাঁপিয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বুক ধড়ফড়, অতিরিক্ত ঘাম, বমি ভাব কিংবা কাঁধ ও বাহুতে অস্বস্তির মতো তুলনামূলক সাধারণ উপসর্গ দিয়েও সমস্যার ইঙ্গিত মিলতে পারে। তাই শরীরে হঠাৎ কোনও পরিবর্তন দেখা দিলে সেটিকে শুধুমাত্র বয়স, ক্লান্তি বা দৈনন্দিন পরিশ্রমের ফল বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।

    হৃদ্‌রোগ শুধু বেশি বয়সের মানুষের সমস্যা—এই ধারণাটিও পুরোপুরি ঠিক নয়। কম বয়সেও বিভিন্ন কারণে হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাইরে থেকে একজন মানুষকে সম্পূর্ণ সুস্থ, সক্রিয় ও ফিট মনে হলেও তাঁর শরীরে এমন কিছু ঝুঁকি থাকতে পারে, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। নিয়মিত জিম করা, শরীরচর্চা করা বা দেখতে তরতাজা হওয়া মানেই হৃদ্‌যন্ত্রের কোনও সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই, এমনটাও বলা যায় না। তাই বয়স কম হলেও শরীরের অস্বাভাবিক সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    বুকে ব্যথা না থাকলেও কি হৃদ্‌রোগ হতে পারে?

    বুকে ব্যথা হৃদ্‌রোগের অন্যতম পরিচিত লক্ষণ হলেও সব রোগীর ক্ষেত্রে একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায় না। বিশেষ করে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ তুলনামূলক মৃদু হতে পারে। ফলে তাঁরা বুঝতেই পারেন না যে শরীর কোনও সতর্কবার্তা দিচ্ছে।

    আগে যে দূরত্ব অনায়াসে হেঁটে যাওয়া যেত, এখন সেই একই দূরত্ব হাঁটতে গিয়ে যদি অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হয়, অথবা সামান্য সিঁড়ি উঠলেই আগের তুলনায় বেশি হাঁপিয়ে যেতে হয়, তা হলে বিষয়টি লক্ষ্য করা প্রয়োজন। একই ভাবে, যে শারীরিক পরিশ্রম আগে সহজেই করা যেত, সেই কাজ করতে হঠাৎ অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অস্বস্তি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

    এ ধরনের উপসর্গের পেছনে হৃদ্‌রোগ ছাড়াও আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। তাই শুধু একটি লক্ষণ দেখেই হৃদ্‌রোগ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। তবে উপসর্গটি যদি নতুন হয়, বার বার হয় অথবা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তা হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ।

    অল্পতেই হাঁপিয়ে যাওয়া কি সতর্কবার্তা?

    শারীরিক পরিশ্রমের পর সামান্য হাঁপিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু আগে যে কাজ করতে কোনও সমস্যা হত না, সেই কাজেই যদি এখন শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তা হলে পরিবর্তনটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    যেমন, আগে অনায়াসে কয়েক তলা সিঁড়ি উঠে যেতেন, কিন্তু এখন দুই-চারটি সিঁড়ি উঠতেই হাঁপিয়ে যাচ্ছেন—এমন পরিবর্তন বার বার হলে কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। একই ভাবে অল্প দূরত্ব হাঁটার পরেই যদি শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি আসে, সেটিও উপেক্ষা করা ঠিক নয়।

    তবে শ্বাসকষ্টের কারণ শুধুমাত্র হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা নয়। ফুসফুসের অসুখ, রক্তস্বল্পতা, সংক্রমণ, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক সক্ষমতার পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তাই নিজের মতো করে রোগ নির্ণয় না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

    বুক ধড়ফড় বা হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যাওয়া

    হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা বা নিজের হৃদ্‌স্পন্দন স্পষ্ট অনুভব করাও অনেকের ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত পরিশ্রম, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত ক্যাফেইনসহ নানা কারণেও বুক ধড়ফড় হতে পারে। কিন্তু যদি কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বার বার বুক ধড়ফড় করে, অথবা এর সঙ্গে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট বা বুকে অস্বস্তি থাকে, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    বিশেষ করে শরীরচর্চার সময় বা শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে বুক ধড়ফড়ের সমস্যা নিয়মিত দেখা দিলে সেটিকে সাধারণ বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন হৃদ্‌স্পন্দনের কোনও অস্বাভাবিকতা রয়েছে কি না।

    বুকে ব্যথা না হয়ে অন্য জায়গায় অস্বস্তি

    হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার ক্ষেত্রে অস্বস্তি সব সময় শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এমন নয়। কাঁধ, বাহু বা শরীরের উপরের অংশে ব্যথা বা চাপের মতো অনুভূতিও কিছু ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে এই ধরনের অস্বস্তির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঘাম, বমি ভাব বা দুর্বলতা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি হতে পারে।

    তবে কাঁধ বা বাহুতে ব্যথারও অসংখ্য কারণ থাকতে পারে। পেশিতে টান, আঘাত, দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকা বা অন্য শারীরিক সমস্যার কারণেও এমন ব্যথা হতে পারে। তাই শুধু বাহুতে ব্যথা হলেই হৃদ্‌রোগ ধরে নেওয়ার কারণ নেই। কিন্তু নতুন ধরনের অস্বস্তি হঠাৎ শুরু হলে বা অন্যান্য সতর্কবার্তার সঙ্গে দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

    অস্বাভাবিক ক্লান্তিও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত

    সারাদিন কাজ করার পর ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই যদি আগের তুলনায় অনেক বেশি ক্লান্তি অনুভূত হয়, দৈনন্দিন কাজ করতে কষ্ট হয় বা সামান্য পরিশ্রমেই শরীর ভেঙে পড়ার মতো লাগে, তা হলে বিষয়টি নজরে রাখা দরকার।

    অনেকেই এই ধরনের উপসর্গকে ঘুম কম হওয়া, কাজের চাপ বা বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন বলে ধরে নেন। কিন্তু ক্লান্তি যদি নতুনভাবে শুরু হয়, দীর্ঘদিন থাকে বা অন্য কোনও উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    অতিরিক্ত ঘাম ও বমি ভাব

    অতিরিক্ত গরমে, ব্যায়ামের সময় বা পরিশ্রমের পরে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম, অস্বাভাবিক ঘাম, বমি ভাব বা শরীরে অস্বস্তি দেখা দিলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়—বিশেষ করে যদি একই সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুকের চাপ, দুর্বলতা বা অন্য কোনও উপসর্গ থাকে।

    হৃদ্‌যন্ত্রের জরুরি সমস্যার ক্ষেত্রে উপসর্গ কখনও খুব নাটকীয় নাও হতে পারে। তাই হঠাৎ শরীর খারাপ লাগাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

    ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির ক্ষেত্রে কিছু শারীরিক অবস্থা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকা এবং স্থূলত্ব দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

    সমস্যা হল, এগুলির অনেকগুলিই দীর্ঘ সময় কোনও স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। ফলে একজন ব্যক্তি নিজেকে সুস্থ মনে করলেও তাঁর শরীরে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা তাই গুরুত্বপূর্ণ।

    কম বয়সে হার্টের সমস্যা নিয়ে কেন সতর্ক থাকা দরকার?

    হার্টের সমস্যা শুধু বয়স্কদের মধ্যেই হয়—এমন ধারণার কারণে অনেক তরুণ-তরুণী শরীরের অস্বাভাবিক উপসর্গকে গুরুত্ব দেন না। নিয়মিত জিম করা বা শরীরচর্চা করার পরেও কেউ যদি অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা বা বুকে চাপ অনুভব করেন, তা হলে সেই উপসর্গের কারণ জানা দরকার।

    news image
    আরও খবর

    শরীরচর্চা অবশ্যই সুস্থ থাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু শরীরচর্চার সময় কোনও নতুন বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে জোর করে ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে তীব্র বুকের অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

    কোন পরিস্থিতিতে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে?

    হঠাৎ তীব্র বুকের ব্যথা বা চাপ, শ্বাস নিতে মারাত্মক কষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত। একই ভাবে বুকে অস্বস্তির সঙ্গে বাহু, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা বা চাপের অনুভূতি থাকলেও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

    এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিজের গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার সাহায্য নেওয়া বেশি নিরাপদ হতে পারে। কারণ গুরুতর হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কী ভাবে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করবেন?

    হৃদ্‌যন্ত্রকে সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী অভ্যাস।

    একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকাও এড়ানো দরকার। অফিসে বা বাড়িতে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটা বা শরীর নাড়াচাড়া করার অভ্যাস করা যেতে পারে। তবে নতুন করে ব্যায়াম শুরু করার আগে নিজের বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা ঠিক করা উচিত।

    ধূমপান ও হৃদ্‌স্বাস্থ্য

    ধূমপান হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে ধূমপান ছেড়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যারা দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করেন, তাঁদের জন্য প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

    খাবারের দিকেও নজর

    হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দৈনন্দিন খাবারের মান গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত লবণ, অতিরিক্ত চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবারের পরিমাণ কমিয়ে শাকসবজি, ফল, পূর্ণশস্য, ডাল এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। ব্যক্তিভেদে খাদ্যাভ্যাসের প্রয়োজন আলাদা হতে পারে, বিশেষ করে ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উপকারী।

    নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন জরুরি?

    অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের মতো ঝুঁকির কারণ প্রথম দিকে বোঝা যায় না। তাই বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    বিশেষ করে পরিবারের কারও অল্প বয়সে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস থাকলে, ডায়াবিটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিংবা ধূমপানের অভ্যাস থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে নিজের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

    সব উপসর্গের অর্থ হৃদ্‌রোগ নয়

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, বুক ধড়ফড় বা কাঁধে ব্যথা হলেই যে হৃদ্‌রোগ হয়েছে, তা নয়। একই উপসর্গের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই ইন্টারনেটে কোনও উপসর্গ পড়ে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় করা উচিত নয়।

    তবে কোনও উপসর্গ যদি নতুন হয়, বার বার ফিরে আসে, ধীরে ধীরে বাড়ে বা দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতায় পরিবর্তন আনে, তা হলে বিষয়টি চিকিৎসকের কাছে জানানো দরকার। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করতে পারবেন।

    শরীরের ছোট পরিবর্তনকে অবহেলা নয়

    হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের কোনও পরিবর্তনকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু সেটিকে একেবারে উপেক্ষাও করা উচিত নয়। বিশেষ করে আগে যে কাজ অনায়াসে করা যেত, এখন সেই কাজ করতে গিয়ে যদি অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, ক্লান্তি বা চাপ অনুভূত হয়, তা হলে কারণটি খুঁজে দেখা দরকার।

    বুকে ব্যথা হৃদ্‌রোগের একটি পরিচিত লক্ষণ হলেও সেটিই একমাত্র লক্ষণ নয়। তাই বয়স কম হোক বা বেশি, শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, স্থূলত্ব বা ধূমপানের মতো ঝুঁকি থাকলে আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

    অবশেষে মনে রাখা দরকার, হৃদ্‌রোগের উপসর্গ ব্যক্তি ভেদে আলাদা হতে পারে। আচমকা তীব্র উপসর্গ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত। আর তুলনামূলক মৃদু হলেও নতুন বা বার বার হওয়া উপসর্গকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। সময়মতো সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

     

 

 

 

Preview image