Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

“অপরা জিত: টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা বুধবার ইডেনে নিউ জ়িল্যান্ডের বিপক্ষে মার্করামের লড়াই

এক মাত্র অপরাজিত দল হিসাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলতে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা। রবিবার সুপার এইট পর্বের শেষ ম্যাচে জ়িম্বাবোয়েকে হারালেন এডেন মার্করামেরা।

অপরাজিত থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলতে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা। টানা সাতটি ম্যাচ জিতলেন এডেন মার্করামেরা। রবিবার সুপার এইটের শেষ ম্যাচে জ়িম্বাবোয়েকে ৫ উইকেটে হারালেন তাঁরা। প্রথমে ব্যাট করে সিকন্দর রাজারা করেন ৭ উইকেটে ১৫৩। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৭.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৪। কাজে এল না রাজার অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। আগামী বুধবার ইডেন গার্ডেন্সে প্রথম সেমিফাইনালে নিউ জ়িল্যান্ডের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা।

জয়ের জন্য ১৫৪ রান তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ভাল হয়নি। ১৪ রানে ২ উইকেট হারান মার্করামেরা। ওপেন করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক করেন ৪। আবার ব্যর্থ কুইন্টন ডি কক (০)। পরিস্থিতি সামাল দেন তিন নম্বরে নামা রায়ান রিকলটন এবং চার নম্বরে নামা ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। রিকলটন ৪টি ছয়ের সাহায্যে করেন ২২ বলে ৩১। ব্রেভিসের ব্যাট থেকে এসেছে ১৮ বলে ৪২ রান। ২টি চার এবং ৪টি ছয় মারেন তিনি। ২টি চার এবং ২টি ছয়ের সাহায্যে ডেভিড মিলার করেন ১৬ বলে ২২। শেষ পর্যন্ত ক্রিজ়ে থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় নিশ্চিত করেন জর্জ লিন্ডে এবং স্ট্রিস্টান স্টাবস। লিন্ডে ২১ বলে ৩০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। মারেন ২টি চার এবং ১টি ছয়। স্টাবসের ব্যাট থেকে এসেছে ২৪ বলে ২১ রানের অপরাজিত ইনিংস।

দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম বোলার রাজা ২৯ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। তাঁর বল খেলতে বেশ সমস্যায় পড়েছেন প্রোটিয়া ব্যাটারেরা। এ ছাড়া ২২ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন ব্র্যাড ইভান্স। ৩২ রানে ১ উইকেট ব্লেসিং মুজ়ারাবানির।

টস জিতে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন রাজা। প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি জ়িম্বাবোয়ের ব্যাটারেরা। ২৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চমকে দেওয়া জ়িম্বাবোয়ে। দুই ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি (৭) এবং ব্রায়ান বেনেট (১৫) দ্রুত আউট হয়ে যান। রান পাননি তিন নম্বরে নামা ডিয়ন মেয়ার্সও (১১)। চার নম্বরে নেমে দলের ইনিংসের হাল ধরেন অধিনায়ক রাজা। তিনি ২২ গজের এক দিকে লক্ষ্যে অবিচল থাকলেও অন্য দিকে ধারাবাহিক ভাবে উইকেট হারাতে থাকে জ়িম্বাবোয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে পারেননি রায়ান বার্ল (৫), টনি মুনিয়ঙ্গাও (২)।

রাজাকে কিছুটা সঙ্গ দেন সাত নম্বরে নামা ক্লাইভ মাডান্ডে। তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ২০ বলে ২৬ রান করে। তবে দলকে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দেন রাজাই। ৪৩ বলে ৭৩ রান করেন জ়িম্বাবোয়ের অধিনায়ক। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৮টি চার এবং ৪টি ছক্কা। আর কেউ ব্যাট হাতে বলার মতো কিছু করেননি। 

বিশ্বকাপের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের অবিশ্বাস্য সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছে। একের পর এক জয় অর্জন করে তারা পৌঁছে গেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। টানা সাতটি ম্যাচ জিতে এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথে তারা রবিবার জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে শেষ সুপার এইট ম্যাচে ৫ উইকেটে জয় লাভ করেছে। এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য জয় পাওয়ার পথে একাধিক চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু মার্করামের দল তা অতিক্রম করে সফলভাবে সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে।

ম্যাচের আগে ও প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত
প্রথমে ব্যাটিং করতে নামেন জ়িম্বাবোয়ের অধিনায়ক সিকন্দর রাজা, যিনি দলের শিরোনামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রাজার নেতৃত্বে জ়িম্বাবোয়ে ৭ উইকেটে ১৫৩ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এই স্কোর তাদের জন্য যথেষ্ট ছিল না, কারণ দক্ষিণ আফ্রিকা মাত্র ১৭.৫ ওভারেই এই লক্ষ্য পেরিয়ে ৫ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে।

প্রথমে ব্যাটিং করতে নামার পর, শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে জ়িম্বাবোয়ে। তাদের ওপেনাররা দ্রুত আউট হয়ে যান। তাদিওয়ানাশে মারুমানি (৭) এবং ব্রায়ান বেনেট (১৫) দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ার পর, দলের ব্যাটিং ক্রমেই ধীর হয়ে যায়। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা ডিয়ন মেয়ার্সও ১১ রান করে আউট হয়ে যান। তবে অধিনায়ক রাজা অটল থাকেন এবং ৪৩ বল খেলে ৭৩ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি চার এবং ৪টি ছক্কা। তবে দলের বাকি সদস্যরা কোনভাবেই রাজার কাছ থেকে উদাহরণ নিতে পারেননি। এই অবস্থায়, জ়িম্বাবোয়ে ১৫৩ রান পর্যন্ত পৌঁছায়।

news image
আরও খবর

দক্ষিণ আফ্রিকার চ্যালেঞ্জের শুরু
দক্ষিণ আফ্রিকা যখন তাদের ১৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়াতে নামে, তখন তাদের শুরুটা খুবই খারাপ হয়। ১৪ রানে তারা ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে। ওপেনিংয়ে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এডেন মার্করাম খুব একটা সুবিধে করতে পারেননি। তিনি ৪ রান করে আউট হয়ে যান। এরপর কুইন্টন ডি ককও (০) আউট হয়ে যান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

তবে, এই কঠিন পরিস্থিতিতে রায়ান রিকলটন এবং ডেওয়াল্ড ব্রেভিস অবিশ্বাস্যভাবে পরিস্থিতি সামলান। রিকলটন ২২ বলে ৩১ রান করেন, যাতে ৪টি ছয় ছিল। অপরদিকে, ব্রেভিস ১৮ বলে ৪২ রান করেন, যার মধ্যে ২টি চার এবং ৪টি ছয় ছিল। এরপর, ডেভিড মিলার ১৬ বলে ২২ রান করেন, যাতে ২টি চার এবং ২টি ছয় ছিল।

শেষ পর্যন্ত, জর্জ লিন্ডে এবং স্ট্রিস্টান স্টাবস দলের জয় নিশ্চিত করেন। লিন্ডে ২১ বলে ৩০ রান করেন এবং ২টি চার ও ১টি ছয় মারেন। স্টাবস ২৪ বলে ২১ রান করেন এবং অপরাজিত থাকেন। এভাবে, দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ উইকেটে ১৫৪ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং পারফরম্যান্স
এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের পারফরম্যান্সও প্রশংসনীয় ছিল। রাজা, যিনি জ়িম্বাবোয়ের অধিনায়ক, তিনি ৩ উইকেট নেন, যার মধ্যে তার ব্যতিক্রমী বোলিং দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের জন্য একাধিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তিনি ২৯ রানে ৩ উইকেট নেন, যা ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। ব্র্যাড ইভান্স ২২ রানে ১ উইকেট নেন, এবং ব্লেসিং মুজ়ারাবানি ৩২ রানে ১ উইকেট নেন। এই তিনটি উইকেট জিম্বাবোয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে তারা দলকে জয় এনে দিতে পারেনি।

আগামী সেমিফাইনালের প্রস্তুতি
এখন দক্ষিণ আফ্রিকা একেবারে প্রস্তুত সেমিফাইনালে পৌঁছানোর জন্য। বুধবার, তারা ইডেন গার্ডেন্সে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম সেমিফাইনালে খেলবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দল খেলতে নামবে, যাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে শক্তিশালী ব্যাটসম্যান এবং বোলাররা আছেন। তবে, দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের দুর্দান্ত ফর্ম ও অবিশ্বাস্য দলের ঐক্যের মাধ্যমে এই প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাস্ত করার জন্য প্রস্তুত।

এটি ছিল এক অবিস্মরণীয় ম্যাচ, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের জয়ের ধারা ধরে রেখেছে এবং বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস আরও শক্তিশালী করেছে এবং তারা ইডেন গার্ডেন্সে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে আরও ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে প্রস্তুত।

বিশ্বকাপের পথে দক্ষিণ আফ্রিকার দল এবং মার্করামের নেতৃত্ব
এডেন মার্করাম দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলেছে এক দুর্দান্ত ক্রিকেট। তিনি শুধু ব্যাটিং এবং ফিল্ডিংয়ে দারুণ করেছেন, পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে দলের মনোবলও চাঙ্গা রেখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত, যেখানে তারা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেছে এবং পুরো দলের পারফরম্যান্সই তাদের ভবিষ্যতের প্রতি এক ভালো ইঙ্গিত দেয়।

শেষ কথা
এই ম্যাচটি ছিল এক স্মরণীয় লড়াই, যেখানে জ়িম্বাবোয়ে কিছুটা আশা জাগিয়ে রেখেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের দারুণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জয়ী হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা এখন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে, আর তাদের সামনে সুযোগ রয়েছে প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতার। এভাবে, ক্রিকেট বিশ্বের এই মহাযুদ্ধের পরবর্তী অধ্যায় আরও রোমাঞ্চকর হতে চলেছে।

Preview image