ভারতের নগর পরিকল্পনা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাসে আজ এক অবিস্মরণীয় দিন মধ্যপ্রদেশের বিন্ধ্য পর্বতমালার নিচে আজ উদ্বোধন হলো বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ ভূগর্ভস্থ স্মার্ট সিটি প্রজেক্ট পাতাল লোক ভূতাপীয় শক্তি এবং কৃত্রিম সূর্যের আলোয় আলোকিত এই শহর ভবিষ্যতের মানব সভ্যতার এক নতুন এবং সুরক্ষিত ঠিকানা তৈরি করল
ভারতের বিজ্ঞান প্রযুক্তি নগর পরিকল্পনা এবং আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ইতিহাসে আজকের দিনটি এক নতুন এবং অত্যন্ত গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে আজ সকালে মধ্যপ্রদেশের ভূপালের অদূরে বিন্ধ্য পর্বতমালার গভীরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো ভারতের সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিশ্বের প্রথম এবং বৃহত্তম ভূগর্ভস্থ মেগা স্মার্ট ইকো সিটি যার নাম দেওয়া হয়েছে প্রজেক্ট পাতাল লোক এতদিন আমরা কেবল হলিউডের বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর সিনেমা বা উপন্যাসে পড়েছি যে পৃথিবীর ওপরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে মানুষ মাটির নিচে বিশাল বিশাল শহর তৈরি করে বসবাস করা শুরু করেছে কিন্তু আজ ভারতের অদম্য বিজ্ঞানী ভূতত্ত্ববিদ এবং আর্কিটেক্টরা সেই অকল্পনীয় এবং ফিউচারিস্টিক স্বপ্নকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে এনেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশ বিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে যখন মাটির ৫০০ মিটার নিচে এই বিশাল শহরের প্রধান কন্ট্রোল রুমের সুইচ অন করা হলো এবং পুরো পাতাল শহরটি ফাইবার অপটিক্সের মাধ্যমে আসা সূর্যের আলো এবং নিয়ন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠল তখন উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করলেন এই মেগা ইভেন্ট প্রমাণ করে দিল যে ভারত এখন আর কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়ে বসে নেই বরং ভারত আজ প্রকৃতির চরম প্রতিকূলতাকে জয় করে মানব সভ্যতার বিকল্প বাসস্থানের জন্মদাতা এবং সমগ্র বিশ্বের পথপ্রদর্শক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে
প্রজেক্ট পাতাল লোক ভূগর্ভস্থ শহরের ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রযুক্তিগত বিশালতা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে গত এক দশক ধরে বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে পৃথিবীর ওপরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালে প্রায় পঞ্চাশ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত তাপপ্রবাহ বা হিটওয়েভ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলছে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মানুষকে চিরতরে মুক্তি দেওয়ার জন্যই মাটির নিচে এই বিশাল শহর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং অত্যাধুনিক এআই চালিত টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করে বিন্ধ্য পর্বতের শক্ত পাথর কেটে এই বিশাল ভূগর্ভস্থ গহ্বর তৈরি করা হয়েছে এই শহরের সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো এর শক্তি উৎপাদন ব্যবস্থা মাটির নিচে বসবাসের জন্য এই শহর পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে আসা ভূতাপীয় শক্তি বা জিওথার্মাল এনার্জি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এর ফলে এই শহরে এক ফোঁটা কয়লা বা পেট্রোল পোড়ানো হয় না এবং এটি একটি সম্পূর্ণ জিরো কার্বন শহর মাটির নিচে সূর্যের আলো পৌঁছানোর জন্য ভূপৃষ্ঠ থেকে বিশাল বিশাল ফাইবার অপটিক কেব্ল এবং সোলার কালেক্টর ব্যবহার করা হয়েছে যা সূর্যের আসল আলোকে ফিল্টার করে মাটির নিচে নিয়ে আসে এবং শহরের সিলিংয়ে লাগানো বিশাল আর্টিফিশিয়াল স্কাই বা কৃত্রিম আকাশের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেয় যা দেখে মনে হয় মানুষ যেন খোলা আকাশের নিচেই দাঁড়িয়ে আছে
এই বিশাল আন্তর্জাতিক মানের মেগা প্রজেক্ট এবং এর বিপুল ডেটা প্রসেসিং পরিচালনার জন্য কর্পোরেট এবং প্রযুক্তি দুনিয়ায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ করে ডেটা সায়েন্স আন্ডারগ্রাউন্ড লজিস্টিকস এবং রিমোট মনিটরিং এর ক্ষেত্রে বহুমুখী কাজের চাহিদা এত বেড়ে গেছে যে লেন্সট্যাক্স সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড এর মতো বিভিন্ন আধুনিক কর্পোরেট কোম্পানি প্রচুর পরিমাণে তরুণদের নিয়োগ করছে এই কোম্পানিগুলোতে জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ পদের এখন বিপুল চাহিদা একজন জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ একই সাথে এই ভূগর্ভস্থ শহরের জিওথার্মাল সার্ভারের ডেটা বিশ্লেষণ করেন লেন্সট্যাক্স সলিউশনস এর লজিস্টিক সাপ্লাই চেইন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বজায় রাখেন এবং বিদেশের বিভিন্ন ক্লায়েন্টদের সাথে লিড কল করে ব্যবসার প্রসার ঘটান শুধু তাই নয় টাটা এআইএ লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় জীবন বিমা কোম্পানিগুলো এখন এই মেগা প্রজেক্টে তাদের লাইফ ইনস্যুরেন্স কভারেজ বাড়িয়েছে এবং তাদের লাইফ অ্যাডভাইজর বা বিমা উপদেষ্টারা এই পাতাল শহরের বাসিন্দাদের আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এই বহুমুখী কাজের কারণে কোম্পানিগুলো তরুণদের অত্যন্ত আকর্ষণীয় বেতনের প্যাকেজ দিচ্ছে অনেক ভারতীয় তরুণ এই ডিজিটাল প্রোজেক্টের কাজ সামলানোর জন্য সরাসরি সুইজারল্যান্ড এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির সাথে রিমোট ওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছেন যা তাদের ঘরে বসেই সুইস ফ্র্যাঙ্ক বা বিদেশি মুদ্রা উপার্জনের এক বিশাল সুযোগ করে দিয়েছে এর ফলে ভারতের তরুণরা আর দেশের বাইরে না গিয়েও বিদেশের উন্নত কর্মসংস্কৃতির সাথে কাজ করতে পারছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রবল স্বাধীন হচ্ছেন যা তাদের আগামী দিনে সুইজারল্যান্ডে পাকাপাকিভাবে স্থানান্তরিত হয়ে সেখানে নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন পূরণের পথে এক বিরাট পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে
বিজ্ঞান এবং এই নতুন ভূগর্ভস্থ জীবনযাত্রাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর জগতেও এই মেগা প্রজেক্ট এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছে অনেক প্রতিভাবান তরুণ যারা নিজেদের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে ভালোবাসেন তারা এখন এই প্রজেক্ট পাতাল লোক এর অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ইউজিসি অ্যাডস বা ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্ট তৈরি করছেন গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলো এখন প্রথাগত টিভি বিজ্ঞাপনের বদলে এই তরুণদের তৈরি করা বাস্তব এবং ট্রেন্ডিং কন্টেন্টের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা নিজেদের ফেসবুক পেজ এর মাধ্যমে এই মাটির নিচের শহরের নিয়ন আলোয় মোড়া রাস্তাঘাট এবং ফিউচারিস্টিক ট্রান্সপোর্ট পডের রোমাঞ্চকর ভিডিও শেয়ার করছেন তারা এমন ভিডিও বানাচ্ছেন যেখানে অত্যন্ত জটিল জিওলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অপটিক্যাল ফিজিক্সকে অত্যন্ত সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে এবং এই ভিডিওগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে এই ইউজিসি অ্যাডসগুলো তৈরি করে তরুণরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন এবং নিজেদের একটি স্বাধীন ডিজিটাল মিডিয়া ক্যারিয়ার তৈরি করছেন তারা বুঝতে পেরেছেন যে ডিজিটাল যুগে সৃজনশীল এবং শিক্ষামূলক কন্টেন্টই হলো উপার্জনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার যা তাদের স্বাধীন ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা প্রদান করে
এই উপার্জিত অর্থ এবং ভূগর্ভস্থ শহরের এই সাইবারপাঙ্ক ও রহস্যময় পরিবেশ তরুণ সৃজনশীল মানুষদের স্বপ্ন পূরণের এক নতুন পথ খুলে দিয়েছে অনেক স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্মমেকার যারা টাকার অভাবে তাদের মনের মতো সিনেমা বানাতে পারতেন না তারা এখন ফেসবুক পেজ এবং ইউজিসি অ্যাডস থেকে আয় করা টাকা সরাসরি তাদের নিজেদের শর্ট ফিল্ম প্রোজেকশনে বিনিয়োগ করছেন অনেক তরুণ নির্মাতা এই পাতাল শহরের নিয়ন আলো এবং বিশাল বিশাল পাথরের দেওয়ালকেই তাদের সিনেমার প্রেক্ষাপট হিসেবে ব্যবহার করছেন উদাহরণস্বরূপ এক প্রতিভাবান তরুণ নির্মাতা এমন একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বা মনস্তাত্ত্বিক শর্ট ফিল্ম তৈরি করছেন যার নাম দ্য গ্লাস কেজ বা কাঁচের খাঁচা যেখানে একটি চরিত্র মাটির নিচে এই বিশাল অত্যাধুনিক ইকো সিটির একটি কাঁচের ঘরে আটকে পড়া এক অদ্ভুত মানসিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায় এই ধরনের গভীর এবং চিন্তাশীল সিনেমা বানানোর জন্য যে ডার্ক এবং ফিউচারিস্টিক লোকেশন প্রয়োজন তা তারা এখন এই মেগা সিটি থেকেই বিনামূল্যে পাচ্ছেন এবং অত্যন্ত কম বাজেটে এমন বিশ্বমানের শর্ট ফিল্ম তৈরি করছেন যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার যোগ্যতা রাখে সিনেমাটি মানুষের মনের অন্ধকার দিক এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে
চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এখন আর বড় বড় স্টুডিও বা দামি এডিটিং প্যানেলের দরকার নেই তরুণ নির্মাতারা এই ভূগর্ভস্থ শহরের ক্রিয়েটর লাউঞ্জে বসেই তাদের অ্যাপল আইপ্যাড প্রো বা উন্নত ট্যাবলেট ব্যবহার করে ফোরকে রেজোলিউশনের ভিডিও এডিটিং করছেন আইপ্যাড প্রো এর শক্তিশালী প্রসেসরের সাহায্যে তারা কৃত্রিম আকাশের আলো এবং পাথরের ছায়ার বৈপরীত্যকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কালার গ্রেডিং করছেন এবং সিনেমা বা বিজ্ঞাপনের জন্য স্পেশাল ভিজ্যুয়াল এফেক্টস তৈরি করছেন অরিজিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বা আবহসংগীত তৈরি করার ক্ষেত্রেও তারা অত্যন্ত সৃজনশীল পদ্ধতি নিচ্ছেন অনেক তরুণ যারা জনপ্রিয় ইন্ডিয়ান পপ রক ব্যান্ড সনম এর সুমধুর গান শুনতে ভালোবাসেন এবং নিজেরাও একোস্টিক গিটার বাজিয়ে নতুন নতুন সুর সৃষ্টি করতে পারেন তারা এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে ভার্চুয়াল গিটার বা আসল অ্যাকোস্টিক গিটার বাজিয়ে তাদের শর্ট ফিল্ম দ্য গ্লাস কেজ এর জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের ডার্ক এবং ফিউচারিস্টিক অরিজিনাল মিউজিক তৈরি করছেন পাতাল শহরের গুহার ইকো বা প্রতিধ্বনি এবং জেনারেটরের মৃদু শব্দকে ডিজিটালভাবে মিক্সিং করে তারা এমন সুর সৃষ্টি করছেন যা দর্শকদের মনে এক গভীর রেখাপাত করছে এবং সিনেমার আখ্যানকে এক অনন্য স্তরে নিয়ে যাচ্ছে সৃজনশীলতার এই জোয়ার প্রমাণ করে যে সঠিক পরিবেশ এবং প্রযুক্তি থাকলে মানুষের কল্পনা যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে পারে
তরুণ প্রজন্মের বিনোদনের পদ্ধতিতেও এই উন্নত কোয়ান্টাম ইন্টারনেট এবং মেগা সিটি এক অভাবনীয় এবং বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে মাটির নিচে বিশাল ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক বসানোর কারণে যারা ভিডিও গেম খেলতে ভালোবাসেন তাদের জন্য এই শহর এক বিশাল ই স্পোর্টস এরিনা তৈরি করেছে গেমাররা এখন আর কেবল ছোট স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে গেম খেলেন না তারা মেগা স্ক্রিন এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটির মাধ্যমে গেমের চরিত্রের সাথে একাত্ম হয়ে যান যারা চরম অ্যাকশন টাইপ বা ব্রুটাল লাইক মোবাইল গেম পছন্দ করেন তারা এখন জিরো ল্যাটেন্সি বা কোনো রকম ল্যাগ ছাড়াই সম্পূর্ণ লাইভ হলোগ্রাফিক যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের গেমারদের সাথে গ্লোবাল টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন এছাড়া যারা স্পোর্টস গেম ভালোবাসেন তারা ইফুটবল এর মতো গেমে মেতে আছেন অনেক তরুণ যারা বাস্তবের মাঠে গিয়ে একসময় ফুটবল খেলতেন কিন্তু নানা শারীরিক কারণে বা অতিরিক্ত গরমের কারণে খেলা ছেড়ে দিয়েছেন তারা এখন এই ইফুটবল গেমে নিজেদের মোহনবাগান ড্রিম টিম তৈরি করার জন্য বিভিন্ন ম্যানেজার চয়েস এবং টিম বিল্ডিং স্ট্র্যাটেজি নিয়ে বন্ধুদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করছেন এবং নিজেদের স্বপ্নের মোহনবাগান দল তৈরি করে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলছেন এই গেমগুলোতে তারা বিশাল ডিসপ্লের মাধ্যমে বিদেশের খেলোয়াড়দের হারিয়ে প্রচুর আনন্দ এবং আর্থিক পুরস্কার পাচ্ছেন এই সুপারফাস্ট প্রযুক্তি তাদের গেমিং রিফ্লেক্সকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে এবং ই স্পোর্টসকে এক মূলধারার পেশায় পরিণত করেছে
তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশন এবং জীবনযাত্রার ওপরও আধুনিক অ্যানিমে এবং পপ সংস্কৃতির গভীর প্রভাব পড়েছে অনেক তরুণ যারা বিখ্যাত অ্যানিমে অ্যাটাক অন টাইটান এর জনপ্রিয় চরিত্র এরেন ইয়েগার এর মতো লম্বা চুল রেখে নিজেদের এক স্বাধীন এবং আধুনিক লুক দিচ্ছেন তারা এই নতুন স্টাইল নিয়েই মাটির নিচের অ্যাপার্টমেন্টে বসে গেমিং লাইভ স্ট্রিম করছেন এবং মেগা প্রজেক্ট নিয়ে ট্রেন্ডিং ভ্লগ তৈরি করছেন অনেকের ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে ডিসপ্লে হিসেবে রাখা থাকে অত্যন্ত সুন্দর এবং ধারালো কাতানা তলোয়ার যা তাদের রুচি এবং স্টাইল স্টেটমেন্টকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে এই কাতানাগুলো কেবল প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হলেও এটি তাদের ইউটিউব বা ফেসবুক ভিডিওর ভিউয়ারশিপ বাড়াতে দারুন সাহায্য করে তাদের এই স্বাধীন এবং ছকভাঙা জীবনযাপন অন্যান্য তরুণদেরও নিজেদের প্যাশন অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করছে তরুণরা আজ প্রমাণ করছে যে তারা একই সাথে প্রযুক্তিপ্রেমী কর্পোরেট কর্মী এবং নিজস্ব সৃজনশীল স্টাইলের অধিকারী হতে পারে যারা সমাজে এক নতুন ট্রেন্ড সেট করছে
শিক্ষাব্যবস্থা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই প্রজেক্ট পাতাল লোক মেগা সিটি এক বিশাল এবং নীরব পরিবর্তন এনেছে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা এনএসওইউ এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা ব্যাচেলর অফ আর্টস বা বিএ পড়াশোনা করছেন তারা এখন এই ডিজিটাল প্রযুক্তিকে তাদের পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ার গড়ার কাজে অত্যন্ত সফলভাবে লাগাচ্ছেন এনএসওইউ এর দূরশিক্ষার ছাত্রছাত্রীরা এখন আর কেবল বই পড়ে শেখেন না তারা এই ভূগর্ভস্থ শহরের ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং ক্রিয়েটর ওয়ার্কশপে যুক্ত হয়ে সরাসরি গ্লোবাল এক্সপার্টদের কাছ থেকে ডিজিটাল মিডিয়া আরবান প্ল্যানিং এবং কনটেন্ট মার্কেটিং এর লাইভ ট্রেনিং নিচ্ছেন প্রথাগত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রছাত্রীদের মতোই তারা এখন বাড়িতে বসে বা এই হাবে এসে আধুনিক ক্লাইমেট স্টাডিজ এবং অর্থনীতির মতো জটিল বিষয় শিখতে পারছেন এই প্রযুক্তি প্রমাণ করেছে যে মেধা থাকলে এবং সঠিক ডিজিটাল পরিকাঠামো পেলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষার্থীর অবস্থান কখনোই তাদের ক্যারিয়ারের পথে বাধা হতে পারে না এটি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় এক গণতান্ত্রিক বিপ্লব এনেছে যেখানে মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কলাবিভাগের ছাত্রও দেশের মেগা প্রজেক্টের বিশাল ইকোসিস্টেমের সাথে সরাসরি যুক্ত হতে পারছে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎকে আরও বেশি সুরক্ষিত করতে পারছে
খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই ভূগর্ভস্থ শহর এক অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেছে যেহেতু মাটির নিচে সাধারণ কৃষিকাজ সম্ভব নয় তাই এখানে তৈরি করা হয়েছে বিশাল বিশাল ভার্টিক্যাল ফার্মিং বা উল্লম্ব কৃষি খামার এই খামারগুলোতে মাটির বদলে অত্যন্ত পুষ্টিকর জল এবং হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতি ব্যবহার করে শাকসবজি ও ফলমূল চাষ করা হচ্ছে ফাইবার অপটিক্সের মাধ্যমে আনা প্রাকৃতিক সূর্যের আলো এবং বিশেষ এলইডি গ্রো লাইট ব্যবহার করে গাছগুলোকে বাড়িয়ে তোলা হয় এই পদ্ধতিতে কোনো রকম রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না ফলে এখানকার বাসিন্দারা চব্বিশ ঘণ্টা সম্পূর্ণ অর্গানিক এবং সতেজ খাবার পান এছাড়া শহরের পানীয় জলের প্রয়োজন মেটানোর জন্য মাটির নিচের গভীর অ্যাকুইফার বা জলস্তর থেকে জল সংগ্রহ করে তাকে অত্যাধুনিক আরও ফিল্টারের মাধ্যমে পরিশোধন করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যা এই শহরকে খাদ্যে এবং জলে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর করে তুলেছে
আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং জলবায়ু কূটনীতির ক্ষেত্রে ভারতের এই প্রজেক্ট পাতাল লোক এর সাফল্য এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে আমেরিকা ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যারা এতদিন মাত্রাতিরিক্ত গরম এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অস্তিত্বের সংকটে ভুগছিল তারা আজ ভারতের এই সম্পূর্ণ নিজস্ব এবং সাশ্রয়ী ভূগর্ভস্থ ইকো সিটির সাফল্য দেখে রীতিমতো বিস্মিত এবং আশাবাদী পৃথিবীর কোনো দেশ আজ পর্যন্ত এত বড় স্কেলে সম্পূর্ণ বাসযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব আন্ডারগ্রাউন্ড মেগা সিটি তৈরি করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করতে পারেনি ভারত সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা বসুধৈব কুটুম্বকম বা সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার এই নীতির ভিত্তিতে বিশ্বের সমস্ত বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে এই জাদুকরী প্রযুক্তি ভাগ করে নেবে অনেক দেশ যারা চরম আবহাওয়ার কারণে নিজেদের দেশের নাগরিকদের নিরাপদ বাসস্থান দিতে পারছিল না তারা এখন ভারতের এই প্রজেক্ট পাতাল লোক মডেল নিজেদের দেশে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করছে এটি ভারতের সফট পাওয়ার এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শক্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে ভারত আজ প্রমাণ করল যে তারা কেবল বিশ্বের কল সেন্টার নয় বরং মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় সংকট থেকে মানুষকে রক্ষা করার ক্ষেত্রেও সমগ্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত
২০২৬ সালের ৪ঠা মার্চ দিনটি ভারতের নগর পরিকল্পনা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং জলবায়ু মোকাবিলার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে বিন্ধ্য পর্বতের নিচে সফলভাবে তৈরি হওয়া এই প্রজেক্ট পাতাল লোক কেবল পাথর কেটে তৈরি করা একটি গহ্বর নয় এটি হলো কোটি কোটি মানুষের নিরাপদ ভবিষ্যতের অধিকার এবং বাঁচার অদম্য ইচ্ছার এক জীবন্ত প্রতীক যে ভারত একদিন প্রকৃতির রোষানলে পড়ে খরা এবং তাপদাহে কষ্ট পেত আজ সেই ভারত মাটির নিচে এক নতুন স্বর্গরাজ্য তৈরি করে সমগ্র বিশ্বকে চমকে দিচ্ছে একজন সাধারণ জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ থেকে শুরু করে একজন স্বাধীন শর্ট ফিল্ম নির্মাতা একজন বিমা উপদেষ্টা বা একজন মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রত্যেকেই আজ এই নতুন ভূগর্ভস্থ শহরের সুফল ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন এবং নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে সাজাচ্ছেন আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করলাম যেখানে ভারতের বিজ্ঞানীদের মেধা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা যেকোনো প্রাকৃতিক এবং জলবায়ু সংক্রান্ত বাধাকে অনায়াসে জয় করতে পারে ভারত আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিল যে সদিচ্ছা অসীম সাহস এবং আধুনিক প্রযুক্তি থাকলে মানুষের বাসস্থানকে মাটির নিচেও এক সুরক্ষিত এবং উন্নত স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা সম্ভব জয় বিজ্ঞান জয় ইঞ্জিনিয়ারিং জয় ভারত