দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার গুহা থেকে পাওয়া বিষ মাখানো তিরের ফলা আনুমানিক সাত হাজার বছর পুরনো ছিল। এবার সেই এলাকাতেই আরও হাজার হাজার বছরের পুরনো তিরের নমুনা মিলেছে
৪০ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার উমহলাতুজ়ানা রক শেল্টারে প্রাচীন তিরের ফলার মতো কিছু পাথরের টুকরো পাওয়া গিয়েছিল দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলি শুধু জাদুঘরের শোভা বৃদ্ধি করেছে কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা তাতে নতুন দিশা দিয়েছে স্টকহোলম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেভ্ন ইসাকসনের নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দল প্রাচীন এই তিরের ফলাগুলির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন তাদের পরীক্ষায় জানা গেছে এসব তিরের ফলাতে বিষাক্ত যৌগ পাওয়া গেছে এই বিষগুলো গাছ থেকে পাওয়া যেতে পারে গবেষকদের মতে তিরের ফলাতে যে বিষ মাখানো হত তা শিকার ধরতে ব্যবহার করা হত এবং সেই বিষ আধুনিক মানুষের জন্য পরিচিত গাছের উপাদান থেকে আসত
গবেষকদের ধারণা যে এই বিষ ব্যবহারের জন্য প্রাচীন মানুষদের মধ্যে গাছের বিষাক্ত উপাদান এবং তার কার্যকারিতা সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান ছিল গবেষকরা এও জানাচ্ছেন যে এই বিষ খুবই তীব্র ছিল না যাতে শিকারকে সাথে সাথে মেরে ফেলতে পারে বরং এটি শিকারীকে দুর্বল করে তাকে শনাক্ত করতে সাহায্য করত এটি তাদের শিকার ধরার কৌশলকে আরও সহজ এবং কার্যকরী করে তুলত
প্রাচীন তিরের ফলার মধ্যে যে বিষ ব্যবহৃত হত তা সম্ভবত গাছের বিভিন্ন অংশ থেকে পাওয়া যেত একটি বিশেষ গাছ যার নাম বুফোন ডিস্টিচা এই গাছের বিষের উপাদান শিকার ধরতে ব্যবহার করা হত বর্তমানে এই গাছের বিষ স্থানীয় উপজাতিরা শিকার ধরার কাজে ব্যবহার করে থাকেন
এটি বোঝায় যে প্রাচীন আফ্রিকার মানুষরা শিকার ধরার কৌশলে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন তারা শুধু শিকার ধরার জন্য প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারই করতেন না বরং তারা জানতেন কিভাবে এই বিষগুলি তাদের শিকারকে দুর্বল করবে এবং তাদের শিকার সহজে ধরা যাবে
গবেষকদের মতে এই প্রাচীন তিরের ফলাগুলির উপাদান পরীক্ষা করার পর এটি প্রমাণিত হয়েছে যে প্রাচীন কালে শিকার ধরার জন্য কেবল শিকারীকে শিকার করা নয় বরং শিকারকে ধরে রাখা এবং তাকে শনাক্ত করার জন্য বিষ ব্যবহারের কৌশল ছিল মানুষের মধ্যে খুবই পরিশীলিত এবং দক্ষ
এটি আমাদের দেখিয়ে দেয় যে প্রাচীন মানুষদের জীবনে শিকার-জ্ঞান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তারা শুধু বেঁচে থাকার জন্য শিকার করতেন না বরং শিকার ধরার জন্য উন্নত কৌশল অবলম্বন করতেন তারা জানতেন কোন গাছের কোন অংশ বিষাক্ত হবে এবং সেই বিষ কীভাবে শিকারকে দুর্বল করতে সাহায্য করবে
এটি প্রমাণিত যে প্রাচীন কালে মানুষের মধ্যে জ্ঞান এবং প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহারের দক্ষতা ছিল অত্যন্ত উন্নত এবং এই দক্ষতার মাধ্যমে তারা নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করত এবং তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য শিকার ধরার কৌশল ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ
তীরের ফলাতে মাখানো বিষের ব্যাপারে পুরনো ধারণা ছিল যে এটি কেবল কয়েক হাজার বছর আগেই ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে, এই নতুন আবিষ্কার সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছে। গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ হাজার বছর আগে আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষরা তিরের ফলাতে বিষ মাখিয়ে শিকার ধরার কৌশল শিখে নিয়েছিল। এই বিষগুলোটি সময়ের সঙ্গে শিকারকে দুর্বল করে দেয় এবং তখন শিকারীকে ধরতে সহজ হয়ে যেত।
গবেষকদলের দাবি, প্রাচীন তিরের ফলাতে যে বিষ ব্যবহার করা হত তা এতটাও তীব্র ছিল না যে শিকারকে সঙ্গে সঙ্গে মেরে ফেলতে পারত। বরং এটি শরীরে প্রবাহিত হয়ে শিকারকে দুর্বল করে ফেলত, যা শিকারীকে সহজে ধরতে সাহায্য করত। এর মাধ্যমে প্রাচীন মানুষ শিকার ধরার জন্য কেমন পদ্ধতি অবলম্বন করত তা বেশ ভালোভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে। এই বিষ মাখানো তিরের ফলার নমুনা পাওয়া গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার গুহা থেকেও, যেগুলির বয়স ছিল প্রায় ৭,০০০ বছর।
এটি নতুনভাবে প্রমাণিত হচ্ছে যে, প্রাচীন মানুষের শিকার করার কৌশল ছিল অত্যন্ত সুবিন্যস্ত। তিরের ফলায় বিষ মাখানোর প্রমাণ আগে পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু এবার যে নতুন প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে তা আরও প্রাচীন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে প্রাচীন মানুষরা শুধুমাত্র শিকার ধরার জন্য প্রস্তুত ছিল না, তারা নিজেদের শিকারের কৌশলেও অদ্বিতীয় দক্ষতা অর্জন করেছিল।
এছাড়া, গবেষকরা আরও জানান যে, দক্ষিণ আফ্রিকায় এই বিষ মাখানো তিরের ফলায় যে গাছের বিষ ব্যবহার করা হত তা "বুফোন ডিস্টিচা" নামক এক গুল্মজাতীয় গাছ থেকে আসত। এই গাছের বিষাক্ত যৌগগুলি শিকার ধরতে ব্যবহৃত হতে পারে। বর্তমানে এই গাছটির বিষ স্থানীয় উপজাতিদের মধ্যে শিকার ধরার কাজে ব্যবহৃত হয়।
গবেষকদের মতে এপিবুফানিসিন এবং বুফ্যান্ড্রিন নামে দুটি বিষাক্ত যৌগ এই তিরের ফলাতে পাওয়া গিয়েছে এদের মধ্যে বুফ্যান্ড্রিন বিষাক্ত গাছের একটি উপাদান যা প্রাচীন কালে তিরের ফলায় ব্যবহার করা হত গবেষকদলের অন্যতম সদস্য জোহানেসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্লিজ় লম্বার্ড বলেন এটি প্রমাণ করে যে প্রাচীন আফ্রিকান জনগণ তিরের ফলায় বিষ ব্যবহার করার ব্যাপারে অনেক আগে থেকেই দক্ষ ছিলেন এবং কিভাবে বিষ কাজ করবে তাও জানতেন
গবেষকদের বিশ্লেষণে জানা যায় যে এই বিষ গাছের সাহায্যে প্রাচীন মানুষ শিকার ধরতে এমনকি মৃত্যুর পরেও শিকারকে চিনতে পারত শিকার করা তীরের মাধ্যমে না শুধুমাত্র শিকারকে দুর্বল করা হত বরং এটির মাধ্যমে শিকারিকে সহজে শনাক্ত করাও সম্ভব হতো
এটি প্রমাণ করে যে প্রাচীন আফ্রিকার মানুষরা শিকার ধরার জন্য যথাযথ পদ্ধতি অবলম্বন করতেন এবং তাদের শিকার ধরার কৌশল ছিল অত্যন্ত উন্নত ও কার্যকর এক সময়ের পদ্ধতি ছিল শিকারকে দুর্বল করার জন্য বিষ ব্যবহার করে তা আধুনিক বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য এক নতুন আবিষ্কার
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন যে এই বিষের গাছটির নাম বুফোন ডিস্টিচা এটি আফ্রিকার একটি গুল্মজাতীয় গাছ যা এখনো কিছু উপজাতিরা শিকার ধরতে ব্যবহার করে এই গাছের বিষ প্রাচীন মানুষদের কাছে খুবই পরিচিত ছিল এবং তারা জানত কিভাবে এই বিষটি শিকারীর শরীরে কাজ করবে এবং শিকারীকে দুর্বল করে ফেলে
তীরের ফলায় এই বিষ ব্যবহার করা হয়েছিল শুধু শিকার ধরার জন্যই নয় বরং এটি শিকারীকে শনাক্ত করতেও সাহায্য করত তীরের মাধ্যমে বিষ শরীরে প্রবেশ করার পর কিছু সময়ের মধ্যে শিকার দুর্বল হয়ে পড়ত এবং এর ফলে শিকারীকে সহজেই খুঁজে পাওয়া যেত শিকারীর শক্তি কমে যেত এবং তার শিকার ধরা সহজ হয়ে পড়ত
গবেষকদের মতে প্রাচীন আফ্রিকার মানুষদের কাছে এই বিষ ব্যবহার করে শিকার ধরার কৌশল ছিল এক ধরনের জ্ঞান এবং প্রাকৃতিক উপাদান সম্পর্কে গভীর অনুধাবন তারা জানতেন কোন গাছের কোন উপাদান শিকার ধরার কাজে ব্যবহার করা যাবে এবং তার প্রভাব কি হবে
এছাড়া তারা এই বিষের কাজের সময়ও জানতেন এটি কিছু সময় পর শরীরে প্রভাব ফেলবে এবং শিকারকে দুর্বল করবে এতে তাদের শিকার ধরার পদ্ধতিতে আরও উন্নতি এসেছিল তাদের শিকার কৌশল ছিল যথার্থ এবং আধুনিক বিজ্ঞানীরা এই প্রাচীন কৌশল ও প্রযুক্তির বিশ্লেষণ করে নতুন তথ্য পাচ্ছেন
এটি শুধু প্রাচীন মানুষের শিকার ধরার কৌশলেরই প্রমাণ নয় বরং এটি আমাদেরকে প্রাকৃতিক উপাদান এবং পরিবেশের প্রতি মানুষের গভীর সম্পর্কের দিকে নির্দেশিত করে প্রাচীন মানুষরা তাদের জীবনধারণের জন্য কিভাবে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতেন তার একটি উদাহরণ পাওয়া যায়
প্রাচীন কালে এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে শিকার ধরার দক্ষতা ছিল অসাধারণ তারা যে কেবল প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে নিজেদের শিকার পদ্ধতি বিকাশ করেছিল তা নয় বরং তারা যে এসব বিষের কাজের সময় এবং প্রভাব সম্পর্কে বিশদ ধারণা পেত তা আরও অনেক আগে থেকেই ছিল
এটির মাধ্যমে বোঝা যায় যে প্রাচীন মানুষের কাছে শিকার ধরার দক্ষতা এবং উপাদান ব্যবহারের জ্ঞান ছিল অত্যন্ত বিশদ এবং তারা জানত কিভাবে শরীরের মধ্যে বিষ প্রবাহিত হবে এবং তার প্রভাব কি হবে এর মাধ্যমে শিকার ধরার কার্যকারিতা বাড়ত এবং শিকারীকে সহজে খুঁজে পাওয়া যেত
এই বিষের ব্যবহার প্রাচীন আফ্রিকার মানুষের দক্ষতা এবং তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যে নতুন ধারণার সূচনা হয়েছিল তার প্রমাণ এটি শিকার ধরার পদ্ধতিতে বিষ ব্যবহার করার জন্য প্রাচীন মানুষের এ দক্ষতা আমাদের কাছে এখনও এক বিস্ময়কর ঘটনা হিসেবে রয়ে গেছে