Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কানাডার নাগরিকত্ব, তাই ‘দেশপ্রেমিক’ ভাবমূর্তি তৈরি করতে চান? বিতর্কে কী জবাব দিলেন অক্ষয়?

‘এয়ারলিফ্‌ট’, ‘বেবি’, ‘কেসরী’, ‘মিশন মঙ্গল’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন অক্ষয়। প্রতিটি ছবিই দেশপ্রেম ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি। অক্ষয় কি ইচ্ছাকৃত ভাবে এমন ছবি বেছে নেন যাতে তাঁর একটি দেশপ্রেমী ভাবমূর্তি তৈরি হয়?অক্ষয় কুমারের নামের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে জাতীয়তাবাদী ভাবমূর্তি। পর পর এমন কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন, যার ফলে এই তকমা পেয়েছেন তিনি। অথচ একসময় তাঁর কাছে ভারতের নাগরিকত্বও ছিল না। তাই কি ভেবেচিন্তে ‘জাতীয়তাবাদী’ অভিনেতা হয়ে উঠতে চেয়েছিলেন তিনি? এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে মুখ খুললেন অক্ষয়।

‘এয়ারলিফ্‌ট’, ‘বেবি’, ‘কেসরী’, ‘মিশন মঙ্গল’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন অক্ষয়। প্রতিটি ছবিই দেশপ্রেম ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি। অক্ষয় কি ইচ্ছাকৃত ভাবে এমন ছবি বেছে নেন যাতে তাঁর একটি দেশপ্রেমী ভাবমূর্তি তৈরি হয়? এর উত্তরে অক্ষয় বলেন, “আমি কোনও কাজই ভাবমূর্তি তৈরি করার জন্য করি না। আমি অনেক ধরনের কাজ করি, কিন্তু জাতীয়তাবাদী ভাবমূর্তি তৈরির জন্য নয়। আমি ছবিতে অভিনয় করি। কারণ, এটা আমার ভাল লাগে।”

অক্ষয় তাঁর কানাডার পাসপোর্ট নিয়ে চলা বিতর্কেও মুখ খোলেন। তিনি জানান, এ বিষয়টি তিনি আগেও অনেক বার বলেছেন। একসময় তাঁর টানা ১৬–১৭টি ছবি ব্যর্থ হয়েছিল। বাকি ছিল ৩-৪টি ছবির মুক্তি। সেই সময়ে তিনি ভাবতে শুরু করেন, যদি অভিনয় করে না চলে, তা হলে অন্য কিছু করা দরকার। অক্ষয় জানান, সেই কঠিন সময়ে তাঁর এক কানাডাবাসী বন্ধু তাঁকে সেখানে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করার পরামর্শ দেন। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি কানাডার পাসপোর্ট নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। বাকি ছবিগুলি মুক্তির পরে সফল হয়। অক্ষয়ের দাবি, একটি পাসপোর্ট তাঁর পরিচয় নির্ধারণ করে না। তাঁর কথায়, “আমার সব সময় ভারতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক। আমি ভারতীয় এবং সবসময় ভারতীয়ই থাকব।”

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে কানাডার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে ভারতের নাগরিকত্ব ফিরে পান অক্ষয়।

অক্ষয় কুমারের কানাডিয়ান পাসপোর্ট বিতর্ক: পরিচয়, সমালোচনা এবং বাস্তবতা

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা Akshay Kumar বহু বছর ধরে বলিউডের শীর্ষস্থানীয় তারকাদের মধ্যে একজন। অ্যাকশন, কমেডি, দেশপ্রেমমূলক সিনেমা এবং সামাজিক বার্তাবহ ছবিতে অভিনয় করে তিনি কোটি কোটি দর্শকের মন জয় করেছেন। তবে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মাঝেও একটি বিষয় বহু বছর ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল—তার কানাডার নাগরিকত্ব এবং কানাডিয়ান পাসপোর্ট। এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক আলোচনা পর্যন্ত নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অক্ষয় কুমার বহুবার এই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ে কঠিন পরিস্থিতির কারণে তিনি কানাডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু সেটি কখনোই তাঁর ভারতীয় পরিচয় বা ভারতের প্রতি ভালোবাসাকে বদলে দেয়নি। ২০২৩ সালে তিনি আবার ভারতের নাগরিকত্ব ফিরে পান, যার ফলে দীর্ঘদিনের বিতর্ক অনেকটাই থেমে যায়। এই পুরো ঘটনাটি শুধু একজন অভিনেতার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি আমাদের সামনে তুলে ধরে পরিচয়, কর্মজীবনের অনিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বাস্তবতা।


অক্ষয় কুমারের ক্যারিয়ারের উত্থান ও জনপ্রিয়তা

অক্ষয় কুমার বলিউডে পরিচিত একজন বহুমুখী অভিনেতা হিসেবে। অ্যাকশন হিরো হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও পরে তিনি কমেডি, ড্রামা এবং সামাজিক বিষয়ভিত্তিক চলচ্চিত্রেও সমান সাফল্য অর্জন করেন। “হেরা ফেরি”, “ওহ মাই গড”, “টয়লেট: এক প্রেম কথা”, “এয়ারলিফট”, “রুস্তম” ইত্যাদি সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তিনি বলিউডে “খিলাড়ি” নামেও পরিচিত। নব্বইয়ের দশকে তাঁর একাধিক অ্যাকশন সিনেমা সফল হওয়ার কারণে এই নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ১০০-এরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং ভারতের অন্যতম বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।

তবে এই সফলতার পথ সবসময় সহজ ছিল না। তাঁর ক্যারিয়ারের একটি সময় ছিল যখন ধারাবাহিকভাবে তাঁর বেশ কয়েকটি ছবি ব্যর্থ হয়েছিল। সেই কঠিন সময়েই শুরু হয় তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—কানাডার নাগরিকত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত।


কঠিন সময়: ধারাবাহিক ফ্লপ সিনেমা

অক্ষয় কুমার নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে টানা ১৬ থেকে ১৭টি সিনেমা বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছিল। চলচ্চিত্র শিল্পে এমন পরিস্থিতি একজন অভিনেতার জন্য অত্যন্ত কঠিন। কারণ এখানে সাফল্যই সবকিছু নির্ধারণ করে—পরবর্তী ছবির সুযোগ, প্রযোজকের বিশ্বাস, এবং দর্শকের আগ্রহ।

যখন একের পর এক সিনেমা ব্যর্থ হতে থাকে, তখন অভিনেতাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই অক্ষয় কুমার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। তাঁর হাতে তখনও কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় ছিল, কিন্তু তিনি নিশ্চিত ছিলেন না সেগুলো সফল হবে কিনা।

এই সময় তিনি ভাবতে শুরু করেন—যদি অভিনয় জীবনে আর সফলতা না আসে, তাহলে বিকল্প কিছু করা দরকার। অনেকেই হয়তো এই পরিস্থিতিতে নতুন কাজ বা ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবেন। অক্ষয়ও সেই পথেই চিন্তা করেছিলেন।


কানাডায় ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা

অক্ষয় কুমারের এক বন্ধু ছিলেন যিনি কানাডায় বসবাস করতেন। সেই বন্ধু তাঁকে পরামর্শ দেন যে তিনি চাইলে কানাডায় গিয়ে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কানাডা এমন একটি দেশ যেখানে অভিবাসীদের জন্য ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের নানা সুযোগ রয়েছে।

বন্ধুর পরামর্শে অক্ষয় কুমার ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কানাডার নাগরিকত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল—যদি বলিউডে কাজ না চলে, তাহলে কানাডায় গিয়ে ব্যবসা করে নতুন জীবন শুরু করবেন।

এই সিদ্ধান্ত ছিল বাস্তবতা থেকে নেওয়া একটি পদক্ষেপ। অনেক মানুষই জীবনের কঠিন সময়ে নিরাপদ বিকল্প তৈরি করার চেষ্টা করেন। অক্ষয় কুমারও সেই সময়ে একই কাজ করেছিলেন।


ছবির সাফল্য এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন

যখন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন, তখনও তাঁর কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় ছিল। পরে যখন সেই সিনেমাগুলো মুক্তি পায়, তখন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। সেই ছবিগুলো সফল হয় এবং অক্ষয় কুমারের ক্যারিয়ার আবার নতুন গতি পায়।

এরপর তিনি আবার ধারাবাহিকভাবে সফল সিনেমা করতে শুরু করেন এবং বলিউডে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করে তোলেন। ধীরে ধীরে তিনি ভারতের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হন।

এই সাফল্যের পর তাঁর কানাডায় গিয়ে ব্যবসা করার পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু তিনি ইতিমধ্যেই কানাডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন।


কানাডিয়ান পাসপোর্ট নিয়ে বিতর্ক

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অক্ষয় কুমারের কানাডিয়ান পাসপোর্ট নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন—যদি তিনি ভারতের এত বড় তারকা হন, তাহলে কেন তিনি কানাডার নাগরিকত্ব নিয়েছেন?

এই প্রশ্ন আরও বেশি আলোচনায় আসে যখন তিনি দেশপ্রেমমূলক সিনেমায় অভিনয় করতে শুরু করেন। অনেক সমালোচক বলেন, যিনি অন্য দেশের নাগরিক, তিনি কীভাবে ভারতীয় দেশপ্রেম নিয়ে সিনেমা করেন।

এই সমালোচনার কারণে বিষয়টি একটি বড় বিতর্কে পরিণত হয়। অনেক সময় রাজনৈতিক আলোচনা পর্যন্ত বিষয়টি পৌঁছে যায়।


অক্ষয় কুমারের ব্যাখ্যা

এই বিতর্কের জবাবে অক্ষয় কুমার বহুবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি জীবনে কখনোই ভারতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কম অনুভব করেননি। তাঁর মতে, একটি পাসপোর্ট কোনো মানুষের পরিচয় নির্ধারণ করে না।

তিনি বলেন যে কানাডার নাগরিকত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল একটি কঠিন সময়ে নেওয়া বাস্তব সিদ্ধান্ত। তখন তিনি ভাবছিলেন তাঁর ক্যারিয়ার হয়তো শেষ হয়ে যেতে পারে।

অক্ষয় কুমারের ভাষায়,
“আমার সব সময় ভারতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক। আমি ভারতীয় এবং সবসময় ভারতীয়ই থাকব।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে নাগরিকত্বের কাগজপত্র একজন মানুষের আবেগ বা দেশের প্রতি ভালোবাসা নির্ধারণ করতে পারে না।

news image
আরও খবর

২০১১ সালে কানাডার নাগরিকত্বের আবেদন

২০১১ সালে অক্ষয় কুমার আনুষ্ঠানিকভাবে কানাডার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন। সেই সময়ে তিনি ইতিমধ্যেই বলিউডে আবার সফলতা পেতে শুরু করেছেন, কিন্তু নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া তখনও চলছিল।

কানাডা অনেক সময় সম্মানসূচক বা বিশেষ অবদানের জন্যও নাগরিকত্ব প্রদান করে। অক্ষয় কুমারও সেই সময় কানাডায় বিশেষ মর্যাদা পেয়েছিলেন।

তবে এরপরও বহু বছর ধরে তিনি কানাডার নাগরিকত্ব বজায় রাখেন, যার কারণে বিতর্কটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে।


২০২৩ সালে ভারতের নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়া

দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটে ২০২৩ সালে। সেই বছর অক্ষয় কুমার আবার ভারতের নাগরিকত্ব ফিরে পান।

তিনি সামাজিক মাধ্যমে এই খবরটি শেয়ার করে জানান যে তিনি আবার ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়ে অত্যন্ত গর্বিত। তাঁর বক্তব্য ছিল—“দিল অউর সিটিজেনশিপ, দোনো হিন্দুস্তানি।”

এই ঘোষণার পর অনেকেই তাঁকে অভিনন্দন জানান। অনেক সমালোচনাও ধীরে ধীরে থেমে যায়।


পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রশ্ন

অক্ষয় কুমারের এই ঘটনাটি আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে—একজন মানুষের পরিচয় কি শুধু তাঁর নাগরিকত্ব দিয়ে নির্ধারিত হয়?

বর্তমান বিশ্বে অনেক মানুষই বিভিন্ন দেশে কাজ করেন, বসবাস করেন বা নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। গ্লোবালাইজেশনের যুগে এটি খুবই সাধারণ বিষয়।

তবে আবেগ, সংস্কৃতি এবং শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অনেক সময় নাগরিকত্বের কাগজপত্রের থেকেও বেশি শক্তিশালী হয়।

অক্ষয় কুমারের বক্তব্যেও এই বিষয়টি স্পষ্ট। তিনি সবসময় বলেছেন যে তিনি নিজেকে ভারতীয় হিসেবেই দেখেন।


বলিউডে তাঁর অবদান

এই বিতর্কের মাঝেও অক্ষয় কুমার বলিউডে তাঁর কাজ চালিয়ে গেছেন। তিনি প্রতি বছর একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন এবং নানা সামাজিক বিষয় নিয়ে সিনেমা তৈরি করেন।

বিশেষ করে স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, নারীস্বাস্থ্য, দেশপ্রেম এবং সামাজিক সমস্যা নিয়ে তৈরি ছবিগুলো দর্শকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করেছে।

এই কারণেই অনেকেই মনে করেন যে তাঁর অবদান শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন বিষয়েও প্রভাব ফেলেছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনমত

আজকের যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অক্ষয় কুমারের নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কও মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই বেশি ছড়িয়ে পড়েছিল।

অনেক সময় তথ্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট না জেনে মানুষ দ্রুত মতামত প্রকাশ করে। ফলে বিতর্ক আরও বাড়ে।

অক্ষয় কুমারের ক্ষেত্রেও অনেকেই তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ না জেনে সমালোচনা করেছিলেন।


একজন মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত

অবশেষে বলা যায় যে নাগরিকত্ব পরিবর্তন করা একজন মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। অনেক সময় এই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে কর্মজীবনের অনিশ্চয়তা, পরিবার, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা বা নতুন সুযোগের সন্ধান।

অক্ষয় কুমারের ক্ষেত্রেও এটি ছিল এমনই একটি সিদ্ধান্ত, যা তিনি কঠিন সময়ে ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে যখন তাঁর ক্যারিয়ার আবার সফল হয়, তখন সেই সিদ্ধান্ত আর বাস্তবে কাজে লাগেনি।


উপসংহার

অক্ষয় কুমারের কানাডিয়ান পাসপোর্ট নিয়ে বিতর্ক আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে একজন মানুষের জীবন সবসময় সরলরেখায় চলে না। কখনো সাফল্য আসে, কখনো ব্যর্থতা। সেই ব্যর্থতার সময় মানুষ অনেক সিদ্ধান্ত নেয় যা পরে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।

অক্ষয় কুমারের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, কানাডার নাগরিকত্ব নেওয়া ছিল তাঁর জীবনের একটি কঠিন সময়ে নেওয়া বাস্তব সিদ্ধান্ত। কিন্তু তিনি সবসময় নিজেকে ভারতীয় বলেই মনে করেছেন।

২০২৩ সালে আবার ভারতের নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে এই বিতর্কের একটি অধ্যায় শেষ হয়েছে। আজও তিনি বলিউডের অন্যতম বড় তারকা এবং ভারতের সিনেমা জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম।

সবশেষে বলা যায়, একজন মানুষের পরিচয় শুধু একটি পাসপোর্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর কাজ, অবদান, সংস্কৃতি এবং আবেগই আসলে তাঁর প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করে।

Preview image