Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অঙ্কিতা কোনওয়ারের মেড ইন ইন্ডিয়া রিক্রিয়েশন ভাইরাল | মিলিন্দ সোমানের ভালোবাসায় ভাসল সোশ্যাল মিডিয়া

ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়ায় জমে উঠেছে মিলিন্দ সোমান ও অঙ্কিতা কোনওয়ারকে ঘিরে নতুন উচ্ছ্বাস। অঙ্কিতা সম্প্রতি মেড ইন ইন্ডিয়া গানটির মিলিন্দ সোমানের আইকনিক মুহূর্ত পুনরায় সৃষ্টি করে একটি ভিডিও পোস্ট করেন,যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। নব্বইয়ের পপ কালচারের সেই স্মৃতি আধুনিক আবেশে ফুটিয়ে তোলেন তিনি,আর ভিডিও জুড়ে তাঁর প্রাণশক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং স্বামীর প্রতি ভালোবাসা দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। মিলিন্দ ভিডিওটি দেখে আবেগে লেখেন, তিনি আবার নতুন করে প্রেমে পড়েছেন। অঙ্কিতার নাচ ও সরল হাসিতে ধরা পড়ে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা যেখানে শ্রদ্ধা, স্বাধীনতা এবং আন্তরিক ভালোবাসা মিলেমিশে আছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন,এটাই সত্যিকারের দাম্পত্য যেখানে একে অপরের অতীত ও বর্তমানকে সমান সম্মানে গ্রহণ করা হয়।

ভারতীয় সামাজিক মাধ্যমের দুনিয়ায় মিলিন্দ সোমান এবং অঙ্কিতা কোন্‌ওয়ার এমন এক দম্পতি, যাঁদের উপস্থিতি মানেই ভালোবাসা, স্বাধীনতা, স্বতঃস্ফূর্ততা এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। তাঁদের সম্পর্ক, তাঁদের জীবনযাপন, তাঁদের ফিটনেস রুটিন— সবকিছুই বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। বিশেষ করে বয়সের পার্থক্য নিয়ে সমাজ যে দ্বিধা ও সংশয় তৈরি করে, সেই প্রচলিত ধারণাগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তাঁদের ভালোবাসা এক অনবদ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সেই দুই মানুষের মধ্যেই যখন এক মুহূর্তে নস্টালজিয়া, প্রেম ও সৌন্দর্যের বিস্ফোরণ ঘটে— তখন সেটি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। সম্প্রতি ঠিক তেমনই হয়েছে অঙ্কিতা কোন্‌ওয়ারের একটি ছোট অথচ মন জয় করা ভিডিও পোস্টে, যেখানে তিনি পুনরায় সৃষ্টি করেছেন মিলিন্দ সোমানের জনপ্রিয় ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ মুহূর্ত। ভিডিওটি প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় যেন ঝড় বইতে শুরু হয়। ভক্তরা, দর্শকরা, অনুসারীরা সবাই একবাক্যে বলেছে— এটাই তাঁদের দেখা দিনের সবচেয়ে সুন্দর কনটেন্ট। মেড ইন ইন্ডিয়া এই শব্দদুটো শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নব্বই দশকের সেই দারুণ মিউজিক ভিডিও, যার কেন্দ্রীয় মুখ ছিলেন মিলিন্দ সোমান। আলিশা চিনয়ের খ্যাতিমান গানটির সঙ্গে মিলিন্দ সোমানের উপস্থিতি যেন ভারতের পপ কালচারের অন্যতম চিরস্মরণীয় ছাপ। তাঁর ব্যক্তিত্ব, তাঁর ক্যারিশমা, তাঁর চাহনি— সব কিছু মিশে গিয়ে তৈরি করেছিল এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি। সেই সময় ভারতীয় যুব সমাজের কাছে মিলিন্দ ছিলেন এক বিশেষ প্রতীক— আকর্ষণ, স্টাইল, আত্মবিশ্বাস, আধুনিকতা এবং শক্তির মিশেল। নব্বই দশকের সেই মুহূর্ত যেন আজও ভারতীয় পপ সংস্কৃতির এক অনিবার্য অংশ। আর তাই যখন আজকের দিনে তাঁর স্ত্রী অঙ্কিতা সেই স্মৃতিকে অভিনব ভঙ্গিতে পুনরায় ধারণ করলেন, তখন সেটি শুধু একটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিও নয়; বরং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের প্রতি ভালোবাসার উপহার হয়ে উঠল। অঙ্কিতা কোন্‌ওয়ার ভিডিওটির জন্য যেমন সাজলেন, তেমনই গানটির আবহ, ক্যামেরা-চলন, অঙ্গভঙ্গি  সবকিছুতেই যেন মিলিন্দের ক্লাসিক মুহূর্তের প্রতি এক আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি দেখা গেল। তাঁর লুক ছিল সহজ-সুন্দর, তাতে ছিল একটি ভারতীয় ছোঁয়া, ছিল আত্মবিশ্বাসের হালকা হাসি। সেই সঙ্গে তাঁর চোখেমুখে ধরা পড়ছিল এক অদ্ভুত মুগ্ধতা  যেন তিনি শুধু ভিডিওই করছেন না, বরং তার সঙ্গে নিজের ভালোবাসার মানুষকে স্মরণ করছেন, তাঁর প্রতি নিজের গর্ব আর অনুরাগ প্রকাশ করছেন। ভিডিও জুড়ে অঙ্কিতার মধ্যে যে প্রাণশক্তি দেখা গেল, তা যেন প্রকাশ করে দিল, তিনি শুধু মিলিন্দের স্ত্রী নন তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সমর্থক, তাঁর অনুপ্রেরণা, তাঁর সহযাত্রিণী এবং তাঁর প্রতি অগাধ ভালোবাসার এক অকপট প্রতীক। মিলিন্দ সোমান ভিডিওটি দেখামাত্র যে প্রতিক্রিয়া জানান, সেটিও ভক্তদের মন আরও বেশি গলিয়ে দেয়। তিনি যেমন অবাক হয়েছেন, তেমনই আবেগে আপ্লুত হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি অঙ্কিতাকে উদ্দেশ্য করে লেখেন— এমন ভালোবাসা পাওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুভূতি। তাঁর ভালোবাসা কীভাবে তাঁকে প্রতিদিন শক্তি দেয়, কীভাবে তাঁকে জীবনের প্রতি আবার নতুন করে মুগ্ধ করে তোলে— সেই কথাও তিনি প্রকাশ করেন। তিনি এমনকি বলেন যে, যতবার তিনি অঙ্কিতাকে এভাবে নাচতে, হাসতে, উজ্জ্বলভাবে জীবন উপভোগ করতে দেখেন, তিনি আবার নতুন করে প্রেমে পড়ে যান।এই ভিডিওটি শুধু তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা নয়, বরং আজকের যুগের ভালোবাসার ঈমানদার প্রতিচ্ছবি। তাঁদের ভালোবাসা নিস্পাপ, সহজ, আলোকিত এবং কৃত্রিমতাহীন। সে কারণেই সমাজ যখন বয়সের ব্যবধানের মতো বিষয় নিয়ে দ্বিধা তৈরি করে, তাঁরা তখন নিজেদের পথেই হাঁটেন, নিজেদের নিয়মেই জীবনকে সাজান। তাঁদের সম্পর্ক যে কতটা শক্তিশালী, তা এই ভিডিওতে স্পষ্ট। অঙ্কিতা শুধু অতীতের একটি স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করেননি; তিনি যেন মিলিন্দের যৌবনের সেই মুখটিকে নতুন করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি যেন বলতে চেয়েছেন— তাঁর জীবনের সেই পুরোনো অধ্যায় আজও তাঁর কাছে সমান আদরের, সমান মূল্যবান। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ চোখে দেখতে পেল মিলিন্দ এবং অঙ্কিতার সম্পর্কের সেই অদৃশ্য বন্ধন— বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, স্বাধীনতা এবং বিনোদনের এক অসাধারণ মিল। তাঁদের দাম্পত্যে কোনও ভান নেই, নেই কোনও জোর করে তৈরি করা ছবির মতো চমক। বরং তাঁরা যে যার মতো স্বাধীন, সুখী, পরস্পরের সঙ্গ উপভোগ করেন। এই ভিডিও সেই গল্পকেই আরও একবার প্রমাণ করে দিল। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, অঙ্কিতার ভিডিওর মধ্যে ভারতীয় নারীত্বের শক্তি, স্বাধীন সত্তার প্রকাশ আর স্বামীর প্রতি সম্মান একসঙ্গে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে তাঁর নাচের ভঙ্গিমার মধ্যে যে নির্ভারতা, যে আত্মবিশ্বাস, তা যেন মানুষের মনকে স্পর্শ করেছে। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ গানটির আত্মা বরাবরই ছিল নারী শক্তির প্রশস্তি— ভারতীয় সৌন্দর্যের আসল পরিচয়। অঙ্কিতা সেই পরিচয়কেই নতুন করে উপস্থাপন করেছেন নিজের মতো করে। তাঁর হাসি, তাঁর অঙ্গভঙ্গি, তাঁর চোখের উজ্জ্বলতা— সব মিলিয়ে মনে হয়েছে যেন গানটির আধুনিক রূপ তিনি নিজের শরীর দিয়ে নতুন করে সৃষ্টি করছেন।মিলিন্দের দিক থেকে দেখলে এই ভিডিও শুধু তাঁর যৌবনের স্মৃতি নয়, বরং তাঁর জীবনের বর্তমানের একটি আনন্দময় অধ্যায়। তিনি তাঁর অতীতের সঙ্গে বর্তমানকে মিলিয়ে দেখতে পারেন— এবং দুটো সময়ই তাঁর কাছে মূল্যবান। তাঁর জন্য এটি আরও একটি উপলক্ষ, যেখানে তিনি বুঝতে পারেন তাঁর জীবনে একজন মানুষ আছে, যিনি তাঁকে বুঝতে পারেন, সম্মান করেন, তাঁর সাফল্যের সঙ্গেও যেমন হাঁটেন, তেমনই তাঁর স্মৃতির সঙ্গেও। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজারো মন্তব্য এসেছে, যেখানে মানুষ বলেছেন— সম্পর্কের আসল শক্তি এখানেই। একজনের অতীতকে সম্মান করা, তাঁর পূর্বের পরিচয়কে গ্রহণ করা এবং সেটা নিয়ে আনন্দে, ভালোবাসায় নিজের প্রকাশ ঘটানো— এটাই সঠিক অর্থে দাম্পত্যকে সুন্দর করে তোলে। অঙ্কিতা সেটাই করেছেন। তাঁর ভিডিও যেন ঘোষণা করে দিল— মিলিন্দ যেমন তাঁর জীবনের ভালোবাসা, তেমনি তাঁর অতীতের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাও নিখুঁত।যে সময় আমরা দেখি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাম্পত্যের ভান, কৃত্রিমতা, স্ট্যাজড ছবি— সেই সময় অঙ্কিতার ভিডিও এক টুকরো সততা। তাঁরা দু’জনেই নিজেদের মতো থাকেন, কোনও সাজানো গল্প নয়, বরং জীবনের স্বাভাবিক হাসি, নাচ, উচ্ছ্বাসে তাঁদের ভালোবাসা ফুটে ওঠে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশ-বিদেশের বহু মানুষ লিখেছেন— তাঁরা মিলিন্দ এবং অঙ্কিতার মতো সম্পর্ক চান, যেখানে স্বাধীনতা, শ্রদ্ধা এবং অনুপ্রেরণা একসাথে থাকে। তাঁদের এই ভিডিও অনেকে স্ট্রেস ভরা জীবনে এক চিলতে আনন্দ দিয়েছে।ভিডিওটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিজস্বত্বের উদযাপন। অঙ্কিতা তাঁর নিজের রূপ, নিজের শরীর, নিজের বৈশিষ্ট্য— সবকিছুর প্রতি গর্ব প্রকাশ করেছেন। তিনি অন্যের মতো হওয়ার চেষ্টা করেননি, বরং নিজের মতো করেই গানটির সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন। এর ফলে তিনি আরও বেশি প্রশংসা পেয়েছেন। মানুষ দেখেছে— একজন নারী কতটা আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন যখন তিনি নিজের পরিচয়কে ভালোবাসেন। তাঁর নাচের প্রতিটি স্টেপ যেন বলছিল— ‘আমি আমার মতোই সুন্দর, আর আমার দেশ আমাকে নিয়ে গর্বিত। ভিডিওতে দেখা যায় অঙ্কিতা নিজের ঘরের বারান্দা থেকে শুরু করে বাগানের পথ ধরে ছোট ছোট স্টেপে নাচছেন। পরিবেশ ছিল খুবই সহজ— কোনও বিশেষ সেটআপ বা আলো নয়। তবুও তাঁর চোখে ছিল সেই বিশেষ উজ্জ্বলতা, যেটা শুধুমাত্র ভালোবাসা থেকেই আসে। এই সরলতা— এটাই ভিডিওটিকে আরও বেশি হৃদয়স্পর্শী করে তুলেছে। দর্শকেরা বলছেন— এ যেন এমন এক দৃশ্য, যেখানে মিলিন্দের অতীত, অঙ্কিতার বর্তমান এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ একসঙ্গে নাচছে। ভক্তরা আরও লক্ষ্য করেছেন, ভিডিওর শেষে অঙ্কিতা যখন হাসলেন, সেই হাসিতে যেন মিলিন্দ সোমানের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা ধরা পড়ল। তাঁর সেই একটুখানি লাজুক হাসি যেন বলে দিল— তিনি তাঁর স্বামীকে গর্বের সঙ্গে উদযাপন করেন। এই ভিডিও নিছক বিনোদন নয়; এটি সম্পর্কের বুনোট, মানুষের আবেগ এবং দুই প্রজন্মের প্রেমের গল্প। অঙ্কিতা যেন বলে দিলেন— ভালোবাসা বয়স দেখে আসে না। ভালোবাসা আসে সম্মান, বোঝাপড়া এবং আনন্দ থেকে। আর মিলিন্দ সোমান তাঁকে দেখে আবার প্রেমে পড়লেন— এটিই এই ভিডিওর সবচেয়ে সুন্দর অংশ।

news image
আরও খবর
Preview image