শ্রীদেবীর আইকনিক ছবি মম এর সিক্যুয়েল নিয়ে বলিপাড়ায় জোর গুঞ্জন। শোনা যাচ্ছে, নতুন গল্পে মুখ্য চরিত্রে থাকছেন খুশি কাপুর ও করিশ্মা তান্না। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, কিন্তু ভক্তরা ইতিমধ্যেই অপেক্ষায় মায়ের উত্তরাধিকার কতটা সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যান খুশি।
২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া শ্রীদেবী অভিনীত ‘মম’ ছিল এমন এক সিনেমা, যা এক মায়ের ন্যায়বিচারের সংগ্রামকে ঘিরে নির্মিত হয়। ছবিটি শুধু বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি, বরং দর্শকদের মনে এক গভীর ছাপ ফেলেছিল। এটি ছিল শ্রীদেবীর জীবনের শেষ দিকের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ছবি, যা তাঁকে আবারও তাঁর অভিনয় প্রতিভার উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। সময় কেটে গেছে আট বছর, কিন্তু ‘মম’ এখনও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে বিশেষ জায়গা ধরে রেখেছে।
আর এবার সেই স্মৃতিই যেন ফিরতে চলেছে নতুন আকারে। বলিউডে গুঞ্জন উঠেছে, তৈরি হচ্ছে ‘মম ২’। আরও চমকপ্রদ খবর হলো, এই ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় থাকতে পারেন শ্রীদেবীর কন্যা খুশি কাপুর। তাঁর সঙ্গে স্ক্রিন ভাগ করবেন অভিনেত্রী করিশ্মা তান্না।
যদিও এখনও পর্যন্ত বনি কাপুর বা ছবির নির্মাতা দল আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেননি, বলিপাড়ার অন্দরমহলে খবর, প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে।
২০১৭ সালের সেই ছবিতে দেবকী নামের এক মায়ের ভূমিকায় ছিলেন শ্রীদেবী, যিনি তাঁর সৎ কন্যার প্রতি সংঘটিত নির্মম অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। ছবির আবেগ, নাটকীয়তা ও শক্তিশালী বার্তা দর্শকের হৃদয়ে দাগ কেটে দেয়।
রবি উদ্যওয়ার পরিচালিত এই সিনেমা কেবল একজন মায়ের প্রতিশোধের গল্প নয়, বরং সমাজে নারীর শক্তি, সাহস ও ভালোবাসার এক প্রতীক হয়ে ওঠে। ছবিটি ২০১৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করে।
শ্রীদেবীর আকস্মিক মৃত্যু সেই বছরই এই সিনেমাকে আরও আবেগপূর্ণ করে তোলে। অনেকেই বলেন, ‘মম’ ছিল এক অভিনেত্রীর বিদায়ী প্রার্থনা, যা দর্শকদের চোখে জল এনে দিয়েছিল।
সূত্রের খবর, ‘মম ২’ হবে না আগের গল্পের সরাসরি সিক্যুয়েল। বরং এটি একেবারে নতুন কাহিনিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হবে, যেখানে থাকবে ‘মম’-এর আবেগ ও ন্যায়বিচারের থিম, কিন্তু ভিন্ন প্রেক্ষাপটে।
খুশি কাপুরের চরিত্র সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি, তবে বলা হচ্ছে তিনি অভিনয় করবেন এক তরুণীর ভূমিকায়, যিনি সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান—একদম তাঁর মায়ের মতোই দৃঢ়।
অন্যদিকে করিশ্মা তান্না থাকবেন এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে—সম্ভবত গল্পের মেন্টর বা আইনজীবী হিসেবে। ২০২১ সালের ‘লাহোর কনফিডেনশিয়াল’ এর পর এটি হবে করিশ্মার অন্যতম বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন।
শ্রীদেবীর মৃত্যুর পর বনি কাপুর বারবার বলেছেন, যদি কখনও ‘মম ২’ তৈরি হয়, তবে তিনি চান তাঁর মেয়ে খুশি কাপুর সেই ছবিতে থাকুক।
একবার এক সাক্ষাৎকারে বনি বলেছিলেন—
“Sridevi’s legacy should live on through her daughters. If ever ‘Mom 2’ is made, Khushi will carry that emotion forward.”
এই কথার ইঙ্গিতই যেন আজ সত্যি হতে চলেছে। সূত্র অনুযায়ী, ছবির প্রাথমিক পরিকল্পনা ও গল্পের কাঠামো তৈরি হচ্ছে বনি কাপুরের তত্ত্বাবধানে।
খুশি কাপুর বলিউডে অভিষেক করেন জোয়া আখতারের ‘দ্য আর্চিজ’ ছবির মাধ্যমে, যা মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও তাঁর স্ক্রিন উপস্থিতি নজর কাড়ে। এরপর তিনি ‘লাভিয়াপা’ ও ‘নাদানিয়া’ নামের দুটি প্রজেক্টে কাজ করেন।
যদিও সমালোচকেরা এখনো তাঁকে শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে পাননি, তবে তাঁর অভিনয় শেখার আগ্রহ ও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা অনেকের কাছে তাঁকে বিশেষ করে তুলেছে।
বলিউডের অনেকেই বলছেন, ‘মম ২’ হতে পারে খুশির ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানো কাজ। যদি তিনি মায়ের মতোই আবেগের গভীরে ঢুকতে পারেন, তবে দর্শকদের মন জয় করা তাঁর পক্ষে কঠিন হবে না।
টেলিভিশন থেকে বড় পর্দা—করিশ্মা তান্নার পথচলা দীর্ঘ। ‘বিগ বস’, ‘নাগিন’, ‘সঞ্জু’ বা ‘লাহোর কনফিডেনশিয়াল’—সব জায়গাতেই তাঁর পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে।
‘মম ২’-তে তাঁকে দেখা যাবে এক বাস্তববাদী, সাহসী নারীর ভূমিকায়, যিনি গল্পে খুশির চরিত্রের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন। এই জুটি—খুশি ও করিশ্মা—বলিউডে এক নতুন নারীকেন্দ্রিক কেমিস্ট্রি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
শ্রীদেবী ছিলেন এমন এক অভিনেত্রী, যিনি ৫ দশক ধরে ভারতীয় সিনেমায় রাজত্ব করেছেন। তামিল, তেলেগু, মালায়ালম, হিন্দি—সব ভাষার দর্শকই তাঁকে সমানভাবে ভালোবেসেছেন।
তাঁর অনন্য স্ক্রিন প্রেজেন্স, সংযমী অভিব্যক্তি ও আবেগ প্রকাশের কৌশল তাঁকে কিংবদন্তি করে তুলেছিল।
‘মম ২’ তাই শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়—এটি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে উত্তরাধিকার হস্তান্তরের গল্প। খুশির জন্য এটি কেবল একটি চরিত্র নয়, বরং এক আবেগের যাত্রা—মায়ের অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের প্রয়াস।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘মম ২’ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন, “এটা এক আবেগঘন উদ্যোগ, মা-মেয়ের বন্ধনকে সম্মান জানানো হবে।” আবার কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন—“শ্রীদেবীর মতো অভিনেত্রীর উত্তরাধিকার বহন করা সহজ নয়।”
কিছু সমালোচক এমনও মন্তব্য করেছেন—
“If Mom 2 is made only to cash in on the original’s legacy, it may backfire. But if it brings fresh emotion, it will be a tribute worth watching.”
তবে অনেকেই একমত—যদি ছবিটি সঠিকভাবে নির্মিত হয়, তবে এটি বলিউডে আবারও নারীকেন্দ্রিক সিনেমার শক্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।
যদিও নির্মাতারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চিত্রনাট্যের কিছু প্রকাশ করেননি, তবুও ধারণা করা হচ্ছে, ‘মম ২’ সমাজের নারীদের নিরাপত্তা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও প্রজন্মান্তরের মানসিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি হবে।
প্রথম ছবির মতোই, এখানেও দর্শক পেতে পারেন এক মনস্তাত্ত্বিক নাটক, যেখানে আবেগ, থ্রিলার এবং সামাজিক বার্তা একসঙ্গে মিশে থাকবে।
পরিচালক হিসেবে কে থাকবেন, তা এখনো নির্ধারিত নয়। কিছু সূত্র বলছে, রবি উদ্যওয়ারই হয়তো দ্বিতীয় ছবিটিও পরিচালনা করবেন, কারণ প্রথম ছবির সাফল্যে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
চিত্রগ্রহণ শুরু হতে পারে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে, আর মুক্তি পেতে পারে বছরের শেষ দিকে। বনি কাপুর ইতিমধ্যেই স্ক্রিপ্ট রাইটারদের সঙ্গে আলোচনায় আছেন বলে খবর।
গত কয়েক বছরে বলিউডে ‘গঙ্গুবাই কাথিয়াওয়াড়ি’, ‘ছপাক’, ‘দঙ্গল’, ‘রাশমি রকেট’—এইসব ছবিতে নারী চরিত্রের শক্তিশালী উপস্থিতি দর্শক পছন্দ করেছে।
এই ধারাতেই ‘মম ২’ যদি সফলভাবে নারীর সাহস ও সহানুভূতির গল্প তুলে ধরতে পারে, তবে এটি হতে পারে বলিউডের পরবর্তী বড় নারীকেন্দ্রিক হিট।
একদিকে শ্রীদেবীর নাম, অন্যদিকে খুশি কাপুরের অভিনয় দক্ষতা—দুটির ভারসাম্য রক্ষা করা নির্মাতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
দর্শকরা চাইবেন, ছবিটি যেন শুধুমাত্র একটি “স্টার কিড প্রজেক্ট” না হয়ে, বরং সত্যিকারের শক্তিশালী গল্প বলুক।
খুশির জন্যও এটি প্রমাণের লড়াই—তিনি শুধু শ্রীদেবীর মেয়ে নন, বরং নিজস্ব পরিচয়ে একজন অভিনেত্রী।
বনি কাপুরের প্রযোজনা সংস্থা ছবিটির বাজেট নিয়ে এখনো কিছু বলেনি, তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি হবে মাঝারি থেকে বড় বাজেটের একটি প্রজেক্ট।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও থিয়েটার—দু’টি জায়গাতেই ছবির মুক্তির পরিকল্পনা চলছে। OTT প্ল্যাটফর্মগুলোর আগ্রহও নাকি ইতিমধ্যেই পাওয়া গেছে।
‘মম ২’ এখনো নিশ্চিত হয়নি, কিন্তু খবরটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বলিউডে আগ্রহের ঝড় উঠেছে। এটি কেবল একটি সিক্যুয়েল নয়—এটি এক আবেগ, এক উত্তরাধিকার, এক প্রজন্মের প্রতি শ্রদ্ধা।
যদি খুশি কাপুর মায়ের মতোই চরিত্রের গভীরে ঢুকে নিজের আবেগকে প্রকাশ করতে পারেন, তবে ‘মম ২’ শুধু সিনেমা নয়, হয়ে উঠতে পারে এক স্মৃতিময় যাত্রা—যেখানে এক মায়ের অসমাপ্ত গল্প পূর্ণতা পাবে মেয়ের হাতে।
বলিউডের দর্শকেরাও সেই আবেগের সাক্ষী হতে মুখিয়ে আছেন। হয়তো আবারও পর্দায় দেখা যাবে, এক মা ও মেয়ের অদৃশ্য বন্ধনের জাদু—যা সময়, প্রজন্ম ও মৃত্যুকেও অতিক্রম করে।