Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

খুশি কাপুর–বেদাঙ্গ রায়নার প্রেমে ইতি? বন্ধুত্ব রেখে আলাদা পথে হাঁটার গুঞ্জন বলিউডে

খুশি কাপুর ও বেদাঙ্গ রায়নাকে ঘিরে বলিউডে ছড়িয়েছে বিচ্ছেদের গুঞ্জন। একসময় ইনডাস্ট্রির নতুন জুটি হিসেবে আলোচিত হলেও নাকি এখন তারা আলাদা পথে হাঁটছেন। যদিও প্রেম থেমে গেলেও বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চান দুজনেই, তাই ইনস্টাগ্রামে এখনও একে অপরকে ফলো করছেন।

খুশি কাপুর এবং বেদাঙ্গ রায়নাকে নিয়ে বলিউডে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল একেবারে নীরবে, তা ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছিল ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে চর্চিত নতুন সম্পর্কের গুঞ্জনে। ‘দ্য আর্চিজ’ ছবির সেটে বন্ধুত্বের যে বীজ বপন হয়েছিল, তা কবে যে প্রেমে পরিণত হয়েছে—তা হয়তো তাঁরা নিজেরাও স্পষ্ট করে বলতে পারবেন না। কিন্তু ক্যামেরার সামনে, ক্যামেরার আড়ালে, পার্টি থেকে প্রিমিয়ার—সব জায়গায় তাঁদের উপস্থিতি একসময় এতটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল যে বলিউডপ্রেমীদের কাছে এই জুটি ছিল প্রায় নিশ্চিত বাস্তবতা।

শুরুর দিনগুলোতে অবশ্য কেউই সরাসরি সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি। বরং খুশি এবং বেদাঙ্গ দুজনেই বারবার বলেছেন, তাঁরা ভালো বন্ধু। কিন্তু বন্ধুত্বের সেই ব্যাখ্যা খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য লাগেনি ভক্তদের কাছে। কারণ তাঁদের চোখের ভাষা, একে অপরের পাশে থাকার স্বাচ্ছন্দ্য, হাসি আর খুনসুটি—সব মিলিয়ে স্পষ্ট ছিল, সম্পর্কটা শুধুই বন্ধুত্বের গণ্ডিতে আটকে নেই।

জোয়া আখতারের ‘দ্য আর্চিজ’ ছিল একঝাঁক নতুন মুখের আত্মপ্রকাশের মঞ্চ। সেই ছবির সেটেই খুশি কাপুর, শ্রীদেবী-কন্যা হিসেবে বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অন্যদিকে বেদাঙ্গ রায়না ছিলেন তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত মুখ, কিন্তু আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রমে নিজেকে প্রমাণ করার আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। শুটিংয়ের দীর্ঘ সময়, একসঙ্গে রিহার্সাল, ক্যামেরার সামনে বারবার একে অপরের সঙ্গে কাজ—এই সবকিছুই তাঁদের মধ্যে এক ধরনের বোঝাপড়া তৈরি করে।

শুটিংয়ের বাইরে, মুম্বইয়ের ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, নাইট আউট—প্রায়শই তাঁদের একসঙ্গে দেখা যেত। কখনও বন্ধুদের সঙ্গে, কখনও আবার একান্তে। পাপারাজ্জিদের ক্যামেরায় ধরা পড়ত তাঁদের অনাবিল হাসি, কখনও লাজুক চোখাচোখি। এই ছবিগুলোই ধীরে ধীরে গুঞ্জনকে আরও উসকে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ইঙ্গিত কম ছিল না। একে অপরের পোস্টে লাইক, মন্তব্য—সবকিছুতেই ছিল আলাদা একটা ঘনিষ্ঠতার ছাপ।

ছবির প্রচারের সময় সেই কেমিস্ট্রি যেন আরও প্রকাশ্যে আসে। ইন্টারভিউতে একে অপরের প্রশংসা, মঞ্চে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে স্বচ্ছন্দ আচরণ—সব মিলিয়ে বলিউডে তখন নতুন ‘ইট কাপল’ হিসেবে তাঁদের নাম উঠে আসে। যদিও তাঁরা কেউই সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে বলেননি, তবু নীরব সম্মতিই যেন সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিল।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। কয়েক মাস আগে থেকেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে ফিসফাস শোনা যাচ্ছিল—খুশি আর বেদাঙ্গের মধ্যে নাকি আগের মতো সব ঠিক নেই। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। বলিউডে গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। কিন্তু ধীরে ধীরে লক্ষ করা যায়, দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার হার কমছে। বড় ইভেন্টে যেখানে আগে তাঁরা প্রায় অবধারিতভাবে একসঙ্গে হাজির হতেন, সেখানে এখন আলাদা আলাদা উপস্থিতি চোখে পড়ছে।

ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই বিচ্ছেদ খুব নাটকীয় বা হঠাৎ কোনও ঝগড়ার ফল নয়। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সম্পর্কটা নাকি কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই থেমে গেছে। তবে এখানেই গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক—এই বিচ্ছেদে তিক্ততা নেই বলেই দাবি করছেন অনেকে। খুশি এখনও বেদাঙ্গকে ইনস্টাগ্রামে ফলো করেন, বেদাঙ্গও করেন খুশিকে। পোস্টে লাইক বা সৌজন্যমূলক প্রতিক্রিয়াও বন্ধ হয়নি পুরোপুরি। তাই ধারণা করা হচ্ছে, প্রেম থেকে সরে এলেও বন্ধুত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দুজনেই।

এই সম্পর্কের শুরু যেহেতু বন্ধুত্ব দিয়ে, তাই শেষটাও নাকি সেই বন্ধুত্বের জায়গাতেই থামাতে চেয়েছেন তাঁরা। বলিউডে যেখানে ব্রেকআপ মানেই আনফলো, পোস্ট ডিলিট, নীরব যুদ্ধ—সেখানে খুশি ও বেদাঙ্গের এই পরিণত আচরণ অনেকের নজর কেড়েছে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—কেন এই বিচ্ছেদ? এর উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। কেউ কেউ বলছেন, কাজের ব্যস্ততাই মূল কারণ। খুশি কাপুর এই মুহূর্তে কোনও নতুন প্রজেক্টে যুক্ত নন। ‘দ্য আর্চিজ’-এর পর তিনি খানিকটা আড়ালেই রয়েছেন। বেশিরভাগ সময় পরিবারের সঙ্গে কাটাচ্ছেন, নিজেকে আরও প্রস্তুত করছেন ভবিষ্যতের জন্য। অন্যদিকে বেদাঙ্গ রায়নার ক্যারিয়ার গ্রাফ দ্রুত উপরের দিকে উঠছে। করণ জোহরের প্রযোজনায়, আলিয়া ভাটের বিপরীতে ‘জিগরা’ ছবিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ইতিমধ্যেই আলোচনায়। নতুন কাজ, নতুন দায়িত্ব, শুটিংয়ের চাপ—সব মিলিয়ে তাঁর সময়সূচি বেশ টানটান।

এই ব্যস্ততার ফারাকই কি দূরত্ব তৈরি করেছে? অনেকের মতে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সময় আর মানসিক উপস্থিতি জরুরি। দুজনের জীবনের ছন্দ যদি আলাদা হয়ে যায়, তাহলে সেই ফাঁক পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টা শুধু কাজের চাপ নয়। সম্পর্কের স্বাভাবিক ওঠানামা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য—এই সবকিছু মিলেও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে।

তবে এই মুহূর্তে কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। খুশি কাপুর বরাবরের মতোই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নীরব থাকতে পছন্দ করেন। বেদাঙ্গ রায়নাও তাঁর কাজেই মন দিতে চাইছেন। তাই প্রশ্নের উত্তর আপাতত গুঞ্জনের স্তরেই থেকে যাচ্ছে।

বলিউডে সম্পর্ক ভাঙা-গড়া নতুন নয়। অনেক সম্পর্কই ক্যামেরার ঝলকে শুরু হয়, আবার নিঃশব্দে শেষ হয়ে যায়। খুশি ও বেদাঙ্গের গল্পও সেই ধারারই অংশ হয়ে উঠছে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে একটা আলাদা বিষয় রয়েছে—এই সম্পর্কের চারপাশে কোনও নেতিবাচকতা নেই। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, কাদা ছোড়াছুড়ি—কিছুই সামনে আসেনি।

ভক্তদের একাংশ এখনও আশা ছাড়তে চান না। তাঁদের বিশ্বাস, হয়তো এটা সাময়িক বিরতি। কাজের চাপ কমলে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আবার একসঙ্গে দেখা যাবে এই জুটিকে। আবার অনেকেই মনে করছেন, এই অধ্যায় হয়তো এখানেই শেষ। দুজনেই নিজের নিজের পথে এগিয়ে যাবেন, আলাদা পরিচয়ে, আলাদা সাফল্যের খোঁজে।

খুশি কাপুরের জন্য সামনে রয়েছে নিজের জায়গা আরও শক্ত করার চ্যালেঞ্জ। স্টার কিড হিসেবে তাঁর ওপর প্রত্যাশার চাপ কম নয়। অন্যদিকে বেদাঙ্গ রায়নার সামনে খুলে যাচ্ছে নতুন দরজা, বড় প্রজেক্ট, বড় সুযোগ। এই ভিন্ন ভিন্ন যাত্রাপথই হয়তো তাঁদের আলাদা করেছে।

তবু এই গল্পের শেষ লাইন এখনও লেখা হয়নি। বলিউডে বহুবার দেখা গেছে, আজ যাঁরা আলাদা, কাল আবার একসঙ্গে। আবার কখনও কখনও বন্ধুত্বটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে স্থায়ী সম্পর্ক। খুশি ও বেদাঙ্গ কোন পথ বেছে নেবেন, তা ভবিষ্যতের গর্ভেই।

খুশি কাপুর ও বেদাঙ্গ রায়নাকে ঘিরে বলিউডের যে নতুন প্রজন্মের প্রেমকাহিনি তৈরি হয়েছিল, তা ছিল অনেকটাই নিঃশব্দ, আবার একই সঙ্গে আলোচনার কেন্দ্রে। কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই, কোনও বড় স্বীকারোক্তি ছাড়াই, তাঁদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছিল দর্শক ও অনুরাগীদের কৌতূহলে। ‘দ্য আর্চিজ’ ছবির সেটে শুরু হওয়া বন্ধুত্ব যে একসময় আবেগের অন্য রূপ নেবে, তা হয়তো তখন কেউই নিশ্চিতভাবে জানতেন না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের আচরণ, একসঙ্গে সময় কাটানো এবং পরস্পরের প্রতি নির্ভরতা অনেক প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়ে দিয়েছিল।

বলিউডে স্টার কিড ও নতুন মুখদের সম্পর্ক বরাবরই বিশেষ নজর কাড়ে। খুশি কাপুর সেই অর্থে আলাদা পরিচয়ের দাবিদার। প্রয়াত শ্রীদেবী ও প্রযোজক বনি কাপুরের কন্যা হিসেবে তাঁর নামের সঙ্গে প্রত্যাশার ভার অনেক আগেই জড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে বেদাঙ্গ রায়না তুলনামূলকভাবে নতুন, কিন্তু আত্মবিশ্বাসী ও পরিশ্রমী অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার পথে হাঁটছিলেন। দুজনের এই ভিন্ন পটভূমি, ভিন্ন যাত্রাপথই হয়তো তাঁদের বন্ধুত্বকে শুরুতে আরও সহজ ও স্বাভাবিক করে তুলেছিল।

‘দ্য আর্চিজ’ ছবিটি শুধু একটি প্রজেক্ট ছিল না, ছিল নতুন প্রজন্মের বলিউড অভিনেতাদের জন্য এক ধরনের পরীক্ষার মঞ্চ। শুটিংয়ের দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটানো, চরিত্র নিয়ে আলোচনা, রিহার্সাল, আবার শুটিংয়ের ফাঁকে আড্ডা—এই সবকিছুই অভিনেতাদের মধ্যে আলাদা বন্ধন তৈরি করে। খুশি ও বেদাঙ্গের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রথমে সহকর্মী, তারপর বন্ধু—এই স্বাভাবিক পথেই এগোয় তাঁদের সম্পর্ক।

news image
আরও খবর

শুটিং শেষ হওয়ার পরও সেই বন্ধুত্ব থেমে থাকেনি। বরং শহরের নানা প্রান্তে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার ঘটনা বাড়তে থাকে। কখনও মুম্বইয়ের কোনও জনপ্রিয় ক্যাফেতে, কখনও রাতের পার্টিতে, কখনও আবার বন্ধুদের সঙ্গে সাধারণ আড্ডায়। পাপারাজ্জিদের ক্যামেরা প্রায়শই ধরত তাঁদের স্বচ্ছন্দ মুহূর্ত। সেই ছবিগুলোতে কোনও অভিনয় ছিল না, ছিল না অতিরিক্ত সচেতনতা। ছিল শুধু হাসি, চোখাচোখি আর একে অপরের উপস্থিতিতে স্বাভাবিক স্বস্তি।

সোশ্যাল মিডিয়াও এই সম্পর্কের নীরব সাক্ষী হয়ে ওঠে। একে অপরের পোস্টে মন্তব্য, ইমোজি, কখনও আবার প্রশংসামূলক শব্দ—সবকিছুতেই ছিল আলাদা একটা ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত। যদিও তাঁরা কেউই কখনও সরাসরি প্রেমের কথা স্বীকার করেননি, তবু এই ইঙ্গিতগুলোই অনুরাগীদের কাছে যথেষ্ট ছিল।

ছবির প্রচারের সময় সেই কেমিস্ট্রি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইন্টারভিউতে একে অপরের নাম উঠলেই হাসি, মঞ্চে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে স্বাচ্ছন্দ্য—সব মিলিয়ে বলিউডের নতুন ‘ফেভারিট জুটি’ হিসেবে তাঁদের নাম উঠে আসে। অনেকেই তখন ধরে নিয়েছিলেন, এই সম্পর্ক শুধু গুঞ্জন নয়, বাস্তব।

কিন্তু সম্পর্ক যত এগোয়, ততই বাস্তবতার নানা দিক সামনে আসে। কাজের চাপ, ব্যক্তিগত লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সবকিছু একসঙ্গে সামলানো সবসময় সহজ নয়। কয়েক মাস আগে থেকেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে শোনা যাচ্ছিল, খুশি ও বেদাঙ্গের মধ্যে নাকি আগের মতো ঘনিষ্ঠতা নেই। প্রথমে এই কথাগুলোকে গুজব বলেই উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কারণ বলিউডে এমন ফিসফাস নতুন কিছু নয়।

কিন্তু ধীরে ধীরে লক্ষ করা যায়, বড় ইভেন্টে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে না। যেখানে আগে প্রায় নিয়মিতভাবেই তাঁরা পাশাপাশি হাজির হতেন, সেখানে এখন আলাদা আলাদা উপস্থিতি। সোশ্যাল মিডিয়াতেও একসঙ্গে ছবি বা গল্পের সংখ্যা কমে আসে। এই পরিবর্তনই গুঞ্জনকে আরও জোরালো করে তোলে।

ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই বিচ্ছেদ হঠাৎ কোনও ঝগড়া বা তিক্ততার ফল নয়। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের গতি ধীরে হয়ে এসেছে, তারপর একসময় থেমে গেছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই নাকি তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্ক থেকে সরে আসবেন। তবে এখানেই এই গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক—এই বিচ্ছেদে কোনও নেতিবাচকতা নেই।

খুশি কাপুর এখনও বেদাঙ্গ রায়নাকে ইনস্টাগ্রামে ফলো করেন, বেদাঙ্গও করেন খুশিকে। কোনও আনফলো, ব্লক বা পোস্ট ডিলিট করার ঘটনা ঘটেনি। এমনকি মাঝেমধ্যে একে অপরের পোস্টে সৌজন্যমূলক প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। এই সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে, সম্পর্ক বদলালেও পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন দুজনেই।

অনেকেই মনে করছেন, এই পরিণত সিদ্ধান্তের নেপথ্যে তাঁদের সম্পর্কের শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। যেহেতু বন্ধুত্ব থেকেই এই সম্পর্কের সূচনা, তাই শেষটাও তাঁরা সেই বন্ধুত্বের জায়গায় এনে থামাতে চেয়েছেন। বলিউডে যেখানে ব্রেকআপ মানেই প্রকাশ্য দূরত্ব, নীরব দ্বন্দ্ব আর সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধ—সেখানে খুশি ও বেদাঙ্গের এই শান্ত বিচ্ছেদ আলাদা করে নজর কেড়েছে।

তবে বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। খুশি কাপুর বরাবরই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব সংযত। সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের কাজ আর পরিবার নিয়েই কথা বলতে পছন্দ করেন। বেদাঙ্গ রায়নাও এখন তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে। নতুন কাজ, নতুন সুযোগ—সবকিছু নিয়ে তিনি ব্যস্ত।

অনেকের ধারণা, কাজের ব্যস্ততাই এই দূরত্বের প্রধান কারণ। খুশি কাপুর বর্তমানে কোনও নতুন প্রজেক্টে যুক্ত নন। ‘দ্য আর্চিজ’-এর পর তিনি খানিকটা নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার সময় নিচ্ছেন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, নিজেকে আরও প্রস্তুত করা—এই মুহূর্তে সেটাই তাঁর অগ্রাধিকার। অন্যদিকে বেদাঙ্গ রায়নার ক্যারিয়ার গ্রাফ দ্রুত উপরের দিকে উঠছে। করণ জোহরের প্রযোজনায়, আলিয়া ভাটের বিপরীতে ‘জিগরা’ ছবিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ইতিমধ্যেই তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। শুটিং, প্রচার, নতুন অফার—সব মিলিয়ে তাঁর সময়সূচি বেশ চাপের।

এই ব্যস্ততার ফারাকই কি সম্পর্কের মধ্যে ফাঁক তৈরি করেছে? অনেকেই মনে করেন, দুটি মানুষের জীবনের ছন্দ যদি আলাদা হয়ে যায়, তাহলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সময়ের অভাব, মানসিক উপস্থিতির ঘাটতি—এই সবকিছুই ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করতে পারে।

আবার কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টা শুধু কাজের ব্যস্ততায় সীমাবদ্ধ নয়। সম্পর্কের স্বাভাবিক ওঠানামা, ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাদা ভাবনা, ব্যক্তিগত লক্ষ্য—এই সবকিছু মিলেও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে। বিশেষ করে যখন দুজনেই তরুণ, নিজেদের জায়গা তৈরি করার পথে, তখন ব্যক্তিগত উন্নতিই হয়ে ওঠে অগ্রাধিকার।

এই মুহূর্তে কোনও পক্ষই কিছু নিশ্চিত করছেন না, আবার অস্বীকারও করছেন না। তাই গল্পটা এখনও গুঞ্জনের স্তরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, এই সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ—দুটোই বলিউডের নতুন প্রজন্মের সম্পর্কের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।

বলিউডে সম্পর্ক ভাঙা-গড়া নতুন নয়। অনেক সম্পর্কই ক্যামেরার আলোয় শুরু হয়, আবার নিঃশব্দে শেষ হয়ে যায়। খুশি ও বেদাঙ্গের গল্পও সেই ধারারই অংশ। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে আলাদা করে যে বিষয়টি চোখে পড়ে, তা হলো পরিণত মনোভাব। কোনও অভিযোগ নেই, কোনও কাদা ছোড়াছুড়ি নেই, নেই প্রকাশ্য নাটকীয়তা।

ভক্তদের একাংশ এখনও আশা ছাড়তে নারাজ। তাঁদের বিশ্বাস, হয়তো এটা সাময়িক বিরতি। কাজের চাপ কমলে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আবার কাছাকাছি আসতে পারেন দুজন। আবার অনেকেই মনে করছেন, এই অধ্যায় হয়তো এখানেই শেষ। দুজনেই আলাদা পথে এগোবেন, নিজেদের পরিচয় আরও শক্ত করবেন।

এই মুহূর্তে যা নিশ্চিত, তা হলো—একসময় যাঁরা বলিউডের নতুন জুটি হিসেবে আলোচিত ছিলেন, তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে এখন প্রশ্নচিহ্ন। প্রেম থেমে গেলেও পারস্পরিক সম্মান আর বন্ধুত্ব অটুট রাখার চেষ্টা নজর কেড়েছে সকলের। আর সেই কারণেই তাঁদের গল্প শুধু গসিপ নয়, বরং পরিণত সম্পর্কের এক নীরব উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ভক্তরা তাই অপেক্ষায়। নতুন কোনও ছবিতে নয়, কোনও পার্টিতে নয়—হয়তো আবার কোনও একদিন, হঠাৎ করেই একসঙ্গে দেখা যাবে খুশি কাপুর আর বেদাঙ্গ রায়নাকে। তখনই হয়তো স্পষ্ট হবে, এই বিচ্ছেদ ছিল শেষ না কি শুধুই একটি বিরতি।

Preview image