মুম্বইয়ের Maratha Mandir এ টানা তিন দশক ধরে প্রতিদিন সকাল সাড়ে এগারোটায় প্রদর্শিত হয়ে আসছিল Dilwale Dulhania Le Jayenge। কিন্তু Dhurandhar 2 মুক্তির পর সেই দীর্ঘদিনের সময়সূচিতে এল বড় পরিবর্তন নতুন ছবির চাহিদার কারণে DDLJ এর শো টাইম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে যা ভেঙে দিল বহু বছরের ঐতিহ্য।
বলিউডের ইতিহাসে এমন ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। একটি নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি এমনভাবে প্রেক্ষাগৃহের সময়সূচি বদলে দিতে পারে, যা তিন দশকের ঐতিহ্যকে ভেঙে দেয়—এ যেন অবিশ্বাস্যই মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে ঠিক সেটাই ঘটিয়েছে Dhurandhar 2।
হিংস্রতা, প্রতিশোধ এবং অ্যাকশনে ভরপুর এই ছবির মুক্তির আগেই তৈরি হয়েছে তুমুল উত্তেজনা। আর সেই উত্তেজনার ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়েছে বলিউডের অন্যতম আইকনিক সিনেমা Dilwale Dulhania Le Jayenge-এর উপর।
মুম্বইয়ের বিখ্যাত প্রেক্ষাগৃহ Maratha Mandir শুধুমাত্র একটি সিনেমা হল নয়—এটি যেন বলিউড প্রেমীদের কাছে এক তীর্থস্থান।
১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে একটানা এখানে প্রদর্শিত হয়ে আসছে ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে যায়েঙ্গে’।
প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১১টার শো—এ যেন এক অটুট রীতি। বহু প্রজন্ম এই সময় মেনে সিনেমাটি দেখতে গিয়েছেন। নবদম্পতি থেকে শুরু করে বিদেশি পর্যটক—সবাই এই অভিজ্ঞতার অংশ হতে চেয়েছেন।
এই ধারাবাহিকতা শুধু একটি সিনেমার সাফল্যের প্রমাণ নয়, বরং ভারতীয় সিনেমার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।
এই দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতাতেই প্রথমবারের মতো বড় পরিবর্তন আনল Dhurandhar 2।
ছবিটির মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে শোয়ের চাহিদা এতটাই বেড়ে গেছে যে, বাধ্য হয়ে শো টাইম পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে। ফলে ‘DDLJ’-এর নির্দিষ্ট সময়—সাড়ে ১১টার শো—আর আগের মতো রাখা সম্ভব হয়নি।
এখন জানা যাচ্ছে, ছবিটি সকালের অন্য কোনও সময়ে দেখানো হবে।
এটি শুধুমাত্র একটি সময় পরিবর্তন নয়—এটি এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন।
‘ধুরন্ধর ২’-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি হল এর দৈর্ঘ্য।
প্রথম অংশ ‘ধুরন্ধর’ ছিল প্রায় ৩ ঘণ্টা
দ্বিতীয় অংশ ‘ধুরন্ধর ২’ প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট
এই বিশাল দৈর্ঘ্যের কারণে একটি স্ক্রিনে দিনে ৪টির বেশি শো রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ফলে প্রেক্ষাগৃহগুলিকে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হয়েছে।
ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে খুব কম ক্ষেত্রেই এমন দেখা গেছে যেখানে একটি ছবির জন্য মধ্যরাতেও নিয়মিত শো রাখা হচ্ছে।
‘ধুরন্ধর ২’-এর ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই ঘটেছে।
লেট নাইট শো
মিডনাইট শো
ভোরের শো পর্যন্ত পরিকল্পনা
সব মিলিয়ে এই ছবির জন্য শো বাড়ানোর এক অভূতপূর্ব চেষ্টা চলছে।
ছবিটি মুক্তির আগেই প্রায় ১৫ লক্ষের বেশি টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানা গিয়েছে।
এটি প্রমাণ করে—
দর্শকদের মধ্যে তীব্র আগ্রহ
আগাম বুকিংয়ের অভূতপূর্ব সাড়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং উপস্থিতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের বক্স অফিসে সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করা ছবিগুলির তালিকায় শীর্ষে থাকতে পারে এই সিনেমা।
‘ধুরন্ধর’ ছবির গল্প ঘুরে বেড়াত রহমান বালোচকে কেন্দ্র করে।
কিন্তু সিক্যুয়েলে গল্প নতুন মোড় নিয়েছে।
এইবার কেন্দ্রীয় চরিত্র:
? হামজ়া (অভিনয়ে Ranveer Singh)
রহমানের মৃত্যুর পর প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে থাকা হামজ়া—এই চরিত্রই গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ছবিনির্মাতাদের দাবি অনুযায়ী—
প্রথম ছবির তুলনায় বেশি হিংসাত্মক
আরও বেশি অ্যাকশন
রক্তারক্তি ও সংঘর্ষের মাত্রা বৃদ্ধি
এই কারণেই ছবিটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
অনেকে মনে করছেন, এটি বলিউডে অ্যাকশন সিনেমার নতুন মাত্রা তৈরি করবে।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন Aditya Dhar।
তিনি আগেও বড় মাপের গল্প এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে কাজ করেছেন।
এই ছবির মাধ্যমেও তিনি একটি ভিন্নধর্মী অ্যাকশন জগত তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।
বলিউডে Shah Rukh Khan এবং Kajol জুটির জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।
‘DDLJ’ শুধু একটি সিনেমা নয়—এটি এক আবেগ।
কিন্তু সেই আবেগের উপরই প্রভাব ফেলেছে ‘ধুরন্ধর ২’।
এটি দেখাচ্ছে—
নতুন প্রজন্মের দর্শকদের রুচির পরিবর্তন
দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রেকর্ডও ভাঙতে পারে নতুন কনটেন্ট
বক্স অফিসে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে
বলিউডের ইতিহাসে সময় সময় এমন কিছু ছবি এসেছে, যা শুধু বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি—বরং গোটা ইন্ডাস্ট্রির গতিপথই বদলে দিয়েছে। এক সময় রোম্যান্টিক সিনেমার যুগ তৈরি করেছিল Dilwale Dulhania Le Jayenge, আবার একসময় মাল্টিপ্লেক্স কালচারের উত্থান নতুন ধরণের গল্প বলার পথ খুলে দেয়। এখন সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হতে চলেছে Dhurandhar 2।
এই ছবিকে ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা শুধু একটি বড় বাজেটের অ্যাকশন সিনেমার জন্য নয়—বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বলিউডের ভবিষ্যৎ ট্রেন্ড, দর্শকের মানসিকতা এবং ব্যবসায়িক কৌশলের বড় পরিবর্তন।
‘ধুরন্ধর ২’-এর সবচেয়ে আলোচিত দিক হল এর দৈর্ঘ্য—প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। আধুনিক দর্শকের মনোযোগ যেখানে ক্রমশ কমছে বলে মনে করা হয়, সেখানে এত দীর্ঘ একটি সিনেমা তৈরি করা নিজেই একটি বড় ঝুঁকি।
কিন্তু এই ঝুঁকিকেই সুযোগে পরিণত করার চেষ্টা করছেন নির্মাতারা।
এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে গল্পকে বিস্তৃতভাবে বলা, চরিত্রগুলিকে গভীরভাবে তুলে ধরা এবং একাধিক স্তরের আবেগ ও অ্যাকশন তৈরি করা—এসবই লং-ফরম্যাট সিনেমার মূল শক্তি।
ওয়েব সিরিজের জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে প্রমাণ করেছে যে, দর্শক দীর্ঘ কনটেন্ট দেখতে রাজি—যদি সেটি যথেষ্ট আকর্ষণীয় হয়। সেই জায়গা থেকেই ‘ধুরন্ধর ২’ যেন সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজের মাঝামাঝি এক নতুন ফরম্যাট তৈরি করছে।
যদি এই ছবি সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও নির্মাতা বড় দৈর্ঘ্যের সিনেমা বানানোর সাহস পেতে পারেন।
একটি সিনেমার দৈর্ঘ্য যত বাড়ে, তত কমে যায় দৈনিক শোয়ের সংখ্যা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কিন্তু ‘ধুরন্ধর ২’ সেই সমস্যার সমাধান করেছে নতুন কৌশলে—
ভোরের শো
লেট নাইট শো
মিডনাইট শো
এই মাল্টিপল শো স্ট্র্যাটেজি বলিউডে খুব বেশি দেখা যায় না, বিশেষ করে নিয়মিতভাবে নয়।
এই পদ্ধতি আসলে একটি নতুন ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করছে, যেখানে সময়কে ভেঙে আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এতে করে বিভিন্ন ধরণের দর্শক—ছাত্রছাত্রী, নাইট শিফটে কাজ করা মানুষ, কিংবা সপ্তাহান্তে দেরিতে সিনেমা দেখতে পছন্দ করা দর্শক—সবাইকে টার্গেট করা সম্ভব হচ্ছে।
ভারতে মিডনাইট শো নতুন নয়, কিন্তু তা সাধারণত বড় বাজেটের ছবির প্রথম দিনের জন্যই সীমাবদ্ধ থাকে।
‘ধুরন্ধর ২’ সেই ধারণাকেই বদলে দিচ্ছে।
এই ছবির জন্য নিয়মিত মধ্যরাতের শো রাখা হচ্ছে, যা এক নতুন দর্শক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাতের বিনোদনের চাহিদা বাড়ছে। OTT প্ল্যাটফর্মে রাত জেগে সিরিজ দেখা এখন সাধারণ অভ্যাস। সেই অভ্যাসকে প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনতে পারে এই মিডনাইট স্ক্রিনিং।
এটি সফল হলে ভবিষ্যতে আরও ছবি এই পথ অনুসরণ করতে পারে।
গত এক দশকে বলিউডে দর্শকের রুচিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। রোম্যান্স বা ফ্যামিলি ড্রামার পাশাপাশি এখন অ্যাকশন, থ্রিলার এবং ডার্ক গল্পের প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি।
‘ধুরন্ধর ২’ সেই চাহিদাকেই পূরণ করছে।
এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র হামজ়া, যার চরিত্রে অভিনয় করছেন Ranveer Singh। প্রতিশোধ, হিংসা এবং মানসিক দ্বন্দ্ব—এই সবকিছুর মিশ্রণে তৈরি হয়েছে একটি জটিল চরিত্র।
ছবিনির্মাতাদের দাবি অনুযায়ী, এটি আগের অংশের তুলনায় অনেক বেশি হিংস্র এবং বাস্তবধর্মী।
এই ধরণের কনটেন্ট দর্শকদের মধ্যে যে সাড়া ফেলছে, তা থেকে স্পষ্ট—বলিউড এখন আরও গাঢ়, আরও বাস্তবধর্মী গল্পের দিকে এগোচ্ছে।
একসময় সিনেমা ছিল একটি সরল বিনোদনের মাধ্যম। কিন্তু এখন দর্শক শুধু বিনোদন নয়—অভিজ্ঞতা খোঁজে।
‘ধুরন্ধর ২’ সেই অভিজ্ঞতাকেই বড় করে তুলে ধরছে।
বড় স্কেল
দীর্ঘ সময়
তীব্র আবেগ
ভিজ্যুয়াল স্পেকট্যাকল
সব মিলিয়ে এটি একটি “ইভেন্ট সিনেমা” হয়ে উঠছে।
এই ধরনের সিনেমা দেখতে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে যেতে আগ্রহী হয়, যা OTT-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হলগুলিকে নতুন করে শক্তি দেয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—এই নতুন ট্রেন্ডের প্রভাব পড়েছে পুরনো ঐতিহ্যের উপর।
মুম্বইয়ের Maratha Mandir-এ টানা তিন দশক ধরে চলা ‘DDLJ’-এর নির্দিষ্ট শো টাইম বদলে যাওয়া শুধু একটি সময় পরিবর্তন নয়—এটি প্রতীকী।
এটি দেখায়—
নতুন প্রজন্মের চাহিদা পুরনো নিয়ম ভেঙে দিচ্ছে
ব্যবসায়িক প্রয়োজন ঐতিহ্যের উপর প্রাধান্য পাচ্ছে
সিনেমা হলগুলিকে টিকে থাকতে হলে পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে
? বলিউড এখন রূপান্তরের পথে
? দর্শকের রুচি দ্রুত বদলাচ্ছে
? নতুন প্রজন্ম নতুন ধরনের, বড় মাপের এবং তীব্র অভিজ্ঞতা চাইছে
একসময় Shah Rukh Khan ও Kajol-এর রোম্যান্স বলিউডকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। আজ সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে নতুন যুগের প্রতিনিধিত্ব করছে অ্যাকশন-ড্রিভেন, ডার্ক এবং গ্র্যান্ড সিনেমা।
এখন প্রশ্ন একটাই—
এই ঝড় কি সাময়িক, নাকি এটি বলিউডের ভবিষ্যৎ?
যদি ‘ধুরন্ধর ২’ বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে, তাহলে হয়তো আগামী দিনে আমরা আরও বড়, আরও দীর্ঘ এবং আরও সাহসী সিনেমা দেখতে পাব।
আর যদি তা না-ও হয়, তবুও এই ছবি ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে ফেলেছে—
এটি দেখিয়েছে যে, পরিবর্তন সম্ভব।
আর সিনেমার জগতে, পরিবর্তনই সবচেয়ে বড় নায়ক। ??
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, Dhurandhar 2 শুধু একটি সিনেমা নয়—এটি একটি পরিবর্তনের সূচনা।
তিন দশক ধরে চলে আসা একটি নির্দিষ্ট শো টাইম বদলে দেওয়া কোনও ছোট ঘটনা নয়। এটি প্রমাণ করে—