পঁচিশে মে বিশ ছাব্বিশ হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার প্রাণকেন্দ্র বাল্লা রোডে তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস করা খেটে খাওয়া মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে শুরু হয়েছে এক অভিনব এবং মানবিক উদ্যোগ যার নাম দেওয়া হয়েছে গরমের ভালোবাসা প্রখর রোদে পথচারী রিকশাচালক এবং দিনমজুরদের মাঝে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ ঠান্ডা জল স্যালাইন এবং শরবত বিতরণ করছেন স্থানীয় তরুণ এবং সমাজকর্মীরা মানবতার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সমগ্র দেশবাসীর নজর কেড়েছে এবং এক নতুন আশার জন্ম দিয়েছে
হবিগঞ্জ পঁচিশে মে বিশ ছাব্বিশ
বাংলাদেশের জলবায়ু এবং আবহাওয়ার এক চরম এবং অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের কারণে বিগত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে সমগ্র দেশ জুড়ে বয়ে যাচ্ছে এক তীব্র এবং অসহনীয় তাপপ্রবাহ বা হিটওয়েভ সূর্যের প্রখর রোদে এবং ভয়াবহ গরমে সাধারণ মানুষের জনজীবন আক্ষরিক অর্থেই সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিশেষ করে সিলেট বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা হবিগঞ্জ এবং তার আশেপাশের উপজেলাগুলোতে এই দাবদাহের প্রকোপ এক ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে বৈশাখের এই কাঠফাটা গরমে বাইরে বের হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু এই চরম প্রতিকূল এবং ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেই হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার অত্যন্ত পরিচিত এবং ব্যস্ততম বাল্লা রোডে আজ এক অভাবনীয় মানবিক এবং হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করা তৃষ্ণার্ত এবং খেটে খাওয়া প্রান্তিক মানুষের কষ্ট লাঘব করার জন্য স্থানীয় তরুণ সমাজ এবং সমাজকর্মীদের এক বিশাল এবং স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে শুরু হয়েছে গরমের ভালোবাসা নামক এক অভিনব কর্মসূচি প্রখর রোদের নিচে দাঁড়িয়ে ঘামে ভেজা ক্লান্ত পথচারী রিকশাচালক ভ্যানচালক এবং দিনমজুরদের হাতে এক গ্লাস ঠান্ডা জল এবং স্যালাইন তুলে দিয়ে এই তরুণরা আজ প্রমাণ করে দিয়েছে যে মানবতার কোনো মৃত্যু নেই এবং কঠিন বিপদের সময় মানুষই মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হয়ে দাঁড়ায়
চুনারুঘাট উপজেলা মূলত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে সমগ্র সিলেট অঞ্চলে পরিচিত এই উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাল্লা রোড হলো ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগের এবং স্থানীয় অর্থনীতির এক অন্যতম প্রধান ধমনী প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত এই বাল্লা রোড দিয়ে হাজার হাজার মানুষ এবং যানবাহন যাতায়াত করে বাল্লা স্থলবন্দর এবং স্থানীয় বাজারগুলোর কারণে এই রাস্তায় প্রতিদিন অসংখ্য শ্রমিক মালবাহী ভ্যান চালক এবং সাধারণ পথচারীর এক বিশাল ভিড় লেগে থাকে কিন্তু বর্তমানের এই অসহনীয় এবং প্রাণঘাতী গরমে এই খেটে খাওয়া মানুষগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি শোচনীয় যারা প্রতিদিন রোদে পুড়ে নিজেদের পরিবারের জন্য দুবেলা দুমুঠো ভাতের সংস্থান করতে রাস্তায় নামেন তাদের কাছে এই গরম এক চরম অভিশাপের মতো মনে হচ্ছে পিচ ঢালা কালো রাস্তা দুপুরের দিকে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে তার ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া বা রিকশার প্যাডেল ঘোরানো একপ্রকার অসাধ্য সাধন করার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এই তীব্র গরমে অনেক শ্রমিক হিটস্ট্রোক এবং জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের শিকার হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ছেন কিন্তু পেটের দায় বড় দায় তাই জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়েও তাদের প্রতিদিন এই বাল্লা রোডের ওপর দিয়েই নিজেদের জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়
এই অসহায় এবং তৃষ্ণার্ত খেটে খাওয়া মানুষগুলোর চরম দুর্দশা দেখে চুনারুঘাটের একদল আধুনিক এবং সমাজ সচেতন তরুণ সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে এবং নিজেদের অর্থায়নে এই গরমের ভালোবাসা কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে কেবল ঘরে বসে সোশ্যাল মিডিয়ায় গরম নিয়ে আক্ষেপ করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয় সমাজের প্রতি এবং মানুষের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকে তারা বাল্লা রোডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে অস্থায়ী প্যান্ডেল এবং শামিয়ানা টানিয়ে তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য বিশুদ্ধ ঠান্ডা জল স্যালাইন এবং লেবুর শরবতের ব্যবস্থা করেছেন এই তরুণরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত নিজেদের পড়াশোনা এবং ব্যক্তিগত কাজের ফাঁকে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করছেন তাদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং অক্লান্ত পরিশ্রম আজ চুনারুঘাটের সাধারণ মানুষের মনে এক বিশাল শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার জন্ম দিয়েছে যখনই কোনো ক্লান্ত রিকশাচালক বা ভ্যানচালক বাল্লা রোড দিয়ে যাওয়ার সময় এই তরুণদের প্যান্ডেলের সামনে এসে দাঁড়াচ্ছেন তখনই তরুণরা হাসি মুখে তাদের দিকে এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত এবং স্যালাইনের বোতল এগিয়ে দিচ্ছেন
এই গরমের ভালোবাসা কর্মসূচির সবচেয়ে বড় এবং মানবিক দিক হলো এর আন্তরিকতা এবং স্বতঃস্ফূর্ততা এই তরুণরা কেবল জল দিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করছেন না তারা ক্লান্ত মানুষদের একটু ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বসার জায়গার ব্যবস্থাও করেছেন অনেক বয়স্ক মানুষ যারা রোদের তাপে অসুস্থ বোধ করছেন তাদের এই তরুণরা হাত ধরে এনে প্যান্ডেলের নিচে বসাচ্ছেন এবং তাদের মাথায় জল দিয়ে তাদের সুস্থ করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন এই দৃশ্যগুলো প্রমাণ করে যে আমাদের সমাজের গভীরে আজও এক বিশাল মানবতা এবং সহমর্মিতা লুকিয়ে আছে যা কেবল একটু সুযোগ পেলেই সবার সামনে উন্মোচিত হয় বাল্লা রোডের এক প্রবীণ রিকশাচালক যিনি গত কুড়ি বছর ধরে এই রাস্তায় রিকশা চালিয়ে নিজের সংসার চালান তিনি এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত পান করার পর অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে জানান যে এই গরমে যখন তার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি আর রিকশা টানতে পারছিলেন না তখন এই তরুণদের দেওয়া এক গ্লাস জল তার কাছে আক্ষরিক অর্থেই এক নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার মতো মনে হয়েছে তিনি দুহাত তুলে এই তরুণদের জন্য মন থেকে দোয়া করেন এবং বলেন যে এই ছেলেরাই হলো আমাদের সমাজের আসল ভবিষ্যৎ
চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে এই ধরনের তীব্র গরমে সাধারণ জল পান করার চেয়ে ওরাল স্যালাইন এবং লেবুর শরবত পান করা মানুষের শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী অতিরিক্ত ঘামের ফলে মানুষের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল এবং অত্যাবশ্যকীয় খনিজ লবণ বেরিয়ে যায় যার ফলে মানুষ হঠাৎ করে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হিটস্ট্রোকের মতো ভয়ানক বিপদের সম্মুখীন হয় চুনারুঘাটের এই তরুণ সমাজ অত্যন্ত সচেতনভাবে এই বৈজ্ঞানিক দিকটি মাথায় রেখেই তাদের এই কর্মসূচি পরিচালনা করছেন তারা সাধারণ জলের পাশাপাশি বালতিতে বরফ মিশিয়ে লেবু চিনি এবং স্যালাইন দিয়ে অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর শরবত তৈরি করছেন যা মুহূর্তের মধ্যে একজন ক্লান্ত শ্রমিকের শরীরের লবণের ঘাটতি পূরণ করে তাকে আবার কাজ করার শক্তি প্রদান করছে প্রশাসনের এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তাব্যক্তিরাও এই তরুণদের এই বিজ্ঞানসম্মত এবং অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তারা বলছেন যে যদি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ এইভাবে একে অপরের বিপদে এগিয়ে আসে তবে অনেক বড় বড় বিপর্যয়কেও অত্যন্ত সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব
বাল্লা রোডের এই গরমের ভালোবাসা কর্মসূচি কেবল চুনারুঘাট উপজেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই এই মানবিক উদ্যোগের খবর আধুনিক ডিজিটাল মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে মুহূর্তের মধ্যে সমগ্র হবিগঞ্জ জেলা এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে অনেক আধুনিক তরুণ যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় তারা এই কর্মসূচির ছবি এবং ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে অন্যান্য এলাকার তরুণদেরও এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করছেন এই ছবিগুলো দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ইতিমধ্যেই পার্শ্ববর্তী উপজেলা যেমন মাধবপুর শায়েস্তাগঞ্জ এবং বাহুবল এলাকার তরুণরাও নিজেদের এলাকায় এই ধরনের জল বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেছেন একটি ছোট এবং সৎ উদ্যোগ কীভাবে সমগ্র সমাজে এক বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে চুনারুঘাটের তরুণরা আজ তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন এই তরুণরা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে মানুষের সেবা করার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয় না কেবল একটি সুন্দর মন এবং সদিচ্ছা থাকলেই সমাজের জন্য অনেক বড় কাজ করা সম্ভব
এই মহতী উদ্যোগকে সফল করার পেছনে স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক বিশাল বড় অবদান রয়েছে চুনারুঘাট এবং বাল্লা বাজার এলাকার অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী এই তরুণদের উৎসাহ দেখে নিজেরাই এগিয়ে এসে আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন কেউ বরফ কিনে দিচ্ছেন কেউ লেবু এবং চিনির বস্তা কিনে দিচ্ছেন আবার অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী যারা সুদূর মধ্যপ্রাচ্য ইউরোপ বা আমেরিকায় বসে নিজেদের এলাকার এই সুন্দর উদ্যোগের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছেন তারাও আর্থিকভাবে এই গরমের ভালোবাসা কর্মসূচিতে অনুদান পাঠাচ্ছেন এই প্রবাসী বাংলাদেশীরা বলছেন যে তারা যদিও নিজেদের কাজের জন্য দেশের বাইরে থাকেন কিন্তু তাদের মন সবসময় তাদের জন্মভূমি এবং দেশের সাধারণ মানুষের জন্যই কাঁদে চুনারুঘাটের এই খেটে খাওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পেরে তারা অত্যন্ত গর্বিত এবং আনন্দিত প্রবাসীদের এই নিঃস্বার্থ আর্থিক সহায়তা এই কর্মসূচিকে একটি বিশাল সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরিত করেছে এবং তরুণদের কাজের পরিধিকে আরও অনেক বেশি বিস্তৃত করার সুযোগ করে দিয়েছে
তবে এই সাময়িক জল বিতরণ কর্মসূচির পাশাপাশি তরুণ সমাজ এবং পরিবেশবিদরা এই তীব্র গরমের আসল কারণ এবং তার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নিয়েও অত্যন্ত গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছেন গত কয়েক দশকে অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং রাস্তা চওড়া করার নামে চুনারুঘাট এবং বাল্লা রোডের দুই পাশের অসংখ্য প্রাচীন এবং বিশাল গাছ কেটে ফেলা হয়েছে গাছের অভাবে এই এলাকা এখন এক কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হয়েছে যার ফলে রোদের তাপ শোষণ করার মতো কোনো প্রাকৃতিক ব্যবস্থা আর অবশিষ্ট নেই এই তরুণ সমাজ জল বিতরণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ রক্ষার সচেতনতা বৃদ্ধির কাজও শুরু করেছেন তারা সাধারণ মানুষকে বোঝাচ্ছেন যে আমরা যদি এখন থেকে প্রচুর পরিমাণে গাছ না লাগাই এবং আমাদের চারপাশের পরিবেশকে রক্ষা না করি তবে আগামী দিনে এই গরমের তীব্রতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেঁচে থাকা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়বে তারা শপথ নিয়েছেন যে বর্ষাকাল শুরু হওয়ার সাথে সাথেই তারা সমগ্র চুনারুঘাট এবং বাল্লা রোডের দুই পাশে হাজার হাজার ছায়াবৃক্ষ রোপণ করার এক বিশাল কর্মসূচি হাতে নেবেন
স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এবং জনপ্রতিনিধিরাও এই তরুণদের উদ্যোগে অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছেন চুনারুঘাট উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে এই তরুণদের সমস্ত রকম প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে প্রশাসন বুঝতে পেরেছে যে এই ধরনের সামাজিক এবং মানবিক কাজে তরুণ সমাজকে যুক্ত করা একটি সুস্থ এবং সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাল্লা রোড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে অস্থায়ী জলসত্র খোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এছাড়া হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষ শয্যা এবং স্যালাইনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা পেতে পারেন প্রশাসন সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছে তারা যেন অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলায় রোদের মধ্যে বাইরে বের না হন এবং বের হলেও যেন ছাতা এবং জলের বোতল সাথে রাখেন
আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় অনেক সময় তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে বিভিন্ন রকম নেতিবাচক আলোচনা করা হয় বলা হয় যে আধুনিক তরুণরা কেবল মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট নিয়েই ব্যস্ত থাকে তাদের মধ্যে কোনো সামাজিক দায়বদ্ধতা নেই কিন্তু চুনারুঘাটের এই তরুণরা সেই সমস্ত অমূলক ধারণাকে সম্পূর্ণভাবে ভুল প্রমাণ করেছেন তারা দেখিয়ে দিয়েছেন যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করার পাশাপাশি তারা মানুষের দুঃখ কষ্টে সমানভাবে ব্যথিত হন এবং মানুষের কল্যাণের জন্য নিজেদের আরাম আয়েশ ত্যাগ করে রাজপথে নেমে কাজ করতে পারেন এই তরুণরাই হলো আমাদের দেশের আসল শক্তি এবং আগামীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তাদের এই নিঃস্বার্থ সেবা এবং গরমের ভালোবাসা কর্মসূচি আমাদের প্রমাণ করে দেয় যে মানবতা আজও বেঁচে আছে এবং এই মানবতার ওপর ভর করেই আমাদের দেশ সমস্ত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে
এই কর্মসূচির আরেকটি অত্যন্ত সুন্দর দিক হলো এর অসাম্প্রদায়িক এবং সর্বজনীন রূপ এই জল বিতরণ কেন্দ্রে কে হিন্দু কে মুসলমান বা কে কোন ধর্মের তা কেউ জিজ্ঞাসা করছে না এখানে সবার একটাই পরিচয় তারা সবাই মানুষ এবং তারা সবাই তৃষ্ণার্ত তৃষ্ণার্ত মানুষের মুখে জল তুলে দেওয়ার চেয়ে বড় কোনো ধর্ম এই পৃথিবীতে হতে পারে না চুনারুঘাটের এই সম্প্রীতি এবং ভ্রাতৃত্ববোধ আমাদের দেশের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অত্যন্ত সুন্দর এবং উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই তরুণরা আমাদের শিক্ষা দিচ্ছেন যে সমাজে ভেদাভেদ ভুলে যদি আমরা সবাই একসাথে কাজ করি তবে আমরা এক অত্যন্ত সুন্দর এবং বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে পারব
পরিশেষে এটা অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের সাথে বলতে হচ্ছে যে পঁচিশে মে তারিখের এই গরমের ভালোবাসা কর্মসূচি চুনারুঘাট এবং বাল্লা রোডের ইতিহাসে এক অত্যন্ত স্মরণীয় এবং মানবিক অধ্যায় হিসেবে চিরকাল লেখা থাকবে তরুণ সমাজের এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মনে এক বিশাল শান্তির পরশ বুলিয়ে দিয়েছে যে বাল্লা রোড তীব্র গরমে এক আগ্নেয়গিরির মতো উত্তপ্ত হয়ে ছিল আজ সেই রোড এই তরুণদের ভালোবাসায় এবং এক গ্লাস ঠান্ডা জলে এক অত্যন্ত স্নিগ্ধ এবং পবিত্র স্থানে পরিণত হয়েছে আমরা লেন্সপিডিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে চুনারুঘাটের এই তরুণ সমাজ স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সমস্ত সমাজকর্মীদের এই যুগান্তকারী এবং ঐতিহাসিক উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই এবং স্যালুট জানাই আশা করি আগামী দিনেও এই ধরনের মানবিক কাজ অব্যাহত থাকবে এবং সমগ্র দেশের মানুষ এই তরুণদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে নিজেদের আশেপাশের তৃষ্ণার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন আসুন আমরা সবাই মিলে এই তীব্র গরমে একে অপরের হাত ধরি এবং মানবতার এই বিশাল জয়যাত্রায় শামিল হই বিস্তারিত খবরের জন্য এবং বাল্লা রোডের এই গরমের ভালোবাসা কর্মসূচির লেটেস্ট লাইভ আপডেট ও সাধারণ মানুষের স্বস্তির হাসি দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং সর্বদা চোখ রাখুন আমাদের ডিজিটাল পর্দায় মানবতার জয় হোক মানুষের জয় হোক