Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন সেলিম খান, জানালেন আরবাজ়, চলতি সপ্তাহেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন?

কেমন আছেন সেলিম খান? অবশেষে খান পরিবারের তরফে সেই বিষয়ে জানানো হল। আরবাজ়ের কথায় বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকারের বাড়ি ফেরার ইঙ্গিত রয়েছে।অবশেষে চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে মুখ খুলল খান পরিবার। বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকারের পুত্র, অভিনেতা-প্রযোজক আরবাজ় খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন তাঁর বাবা। সব ঠিক থাকলে শীঘ্রই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন তিনি। হয়তো চলতি সপ্তাহেই বাড়ি ফিরতে পারেন সেলিম।

সম্প্রতি, সেলিমের স্বাস্থ্য নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁর অভিন্নহৃদয় বন্ধু গীতিকার এবং চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার। তিনি জানান, এখন উঠে চেয়ারে বসতে পারছেন ৯০ বছরের সেলিম। কথা বলছেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। ভাল আছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যেই যেন সিলমোহর দিল আরবাজ়ের কথা।

১৭ ফেব্রুয়ারি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে মুম্বইয়ের এক প্রথম সারির হাসপাতালে ভর্তি হন সলমন খানের বাবা। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সুস্থ করছে তাঁকে। সেলিমের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তাঁর অনুরাগী-সহ গোটা বলিউড। হাসপাতাল থেকে সেই সময় তাঁর স্বাস্থ্যের নিয়মিত খবরাখবর দিচ্ছিলেন চিকিৎসক জলিল পার্কার এবং তাঁর দল। খান পরিবারের তরফ থেকে বিষয়টিতে আপত্তি জানানো হয়। পরিবারের যুক্তি, একমাত্র তাঁরা চাইলেই সেলিমের স্বাস্থ্যের খবর বাকিরা জানতে পারবে। চিকিৎসকদের তরফ থেকে এর পরে আর কোনও খবর প্রকাশ্যে আসেনি।চিকিৎসকেরা না জানালেও আমির খান, জাভেদ আখতার, চিত্রঙ্গদা সিংহ-সহ অনেকেই সেলিম খানের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নানা তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

সেলিম খানের অসুস্থতা, চিকিৎসকদের নীরবতা এবং বলিউডের তারকাদের প্রতিক্রিয়া

বলিউডের প্রবীণ চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের নাম ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে এক বিশেষ সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর লেখা এবং অবদান ভারতীয় সিনেমাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তবে সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অসুস্থতার খবর সামনে আসার পর গোটা বলিউড এবং তাঁর অসংখ্য অনুরাগী গভীর উদ্বেগে পড়েন। ১৭ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (ব্রেন হেমোরেজ) হওয়ার কারণে তাঁকে মুম্বইয়ের এক প্রথম সারির হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই সংবাদমাধ্যম, চলচ্চিত্র জগত এবং ভক্তদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

সেলিম খান শুধু একজন সফল চিত্রনাট্যকার নন, তিনি বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তাঁর সুস্থতা নিয়ে তাই স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ এবং উদ্বেগ দেখা যায়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জলিল পার্কার এবং তাঁর দল। প্রথমদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা নিয়মিতভাবে সংবাদমাধ্যমকে তাঁর শারীরিক অবস্থার খবর দিচ্ছিলেন। এর ফলে অনুরাগীরা কিছুটা আশ্বস্ত হচ্ছিলেন যে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

তবে কিছুদিন পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। খান পরিবারের তরফ থেকে এই বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। পরিবারের সদস্যদের মতে, সেলিম খানের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খবর প্রকাশ করার অধিকার কেবল তাঁদেরই থাকা উচিত। তাঁদের যুক্তি ছিল, পরিবারের অনুমতি ছাড়া কোনও চিকিৎসক বা অন্য কেউ তাঁর ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার খবর প্রকাশ করা ঠিক নয়। এই আপত্তির পর চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আর কোনও নতুন তথ্য সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা হয়নি।

চিকিৎসকদের এই নীরবতার পরেও বলিউডের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সেলিম খানের স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সাংবাদিকদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শুরু করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আমির খান, জাভেদ আখতার, চিত্রঙ্গদা সিংহসহ আরও কয়েকজন পরিচিত শিল্পী ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মন্তব্য এবং বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং এর ফলে আবারও সেলিম খানের শারীরিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

আমির খান বলিউডের একজন অত্যন্ত সম্মানিত অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি সবসময়ই শিল্পজগতের প্রবীণদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি সেলিম খানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং বলেন যে তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে তিনি সেলিম খানকে অত্যন্ত সম্মান করেন এবং তাঁর সুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

অন্যদিকে, জাভেদ আখতার এই ঘটনার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। কারণ সেলিম খান এবং জাভেদ আখতার একসময় বলিউডের বিখ্যাত চিত্রনাট্যকার জুটি ‘সেলিম–জাভেদ’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের যৌথ কাজ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছিল। ‘শোলে’, ‘দেওয়ার’, ‘ডন’, ‘জঞ্জির’ প্রভৃতি অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তাঁদের লেখনীর ফল। যদিও বহু বছর আগে তাঁদের পেশাগত সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, তবুও তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বন্ধুত্ব আজও অটুট রয়েছে।

সেলিম খানের অসুস্থতার খবর শুনে জাভেদ আখতারও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান যে সেলিম খান চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থার উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্যে বন্ধুত্বের আবেগ এবং উদ্বেগ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

চিত্রঙ্গদা সিংহও এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সেলিম খান ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর সুস্থতা কামনা করছেন গোটা চলচ্চিত্র জগৎ। তিনি আরও বলেন যে বলিউডের শিল্পীরা প্রায়ই একে অপরের পাশে দাঁড়ান এবং এই কঠিন সময়েও সবাই সেলিম খানের পরিবারের পাশে রয়েছেন।

এই ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। যখন চিকিৎসকেরা কোনও রোগীর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন, তখন অন্য ব্যক্তিদের সেই তথ্য প্রকাশ করা কতটা যুক্তিযুক্ত? অনেকেই মনে করেন যে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় এবং এটি প্রকাশ করার আগে পরিবারের অনুমতি থাকা প্রয়োজন। আবার অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করেন যে একজন জনমান্য ব্যক্তিত্বের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনগণের আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক।

news image
আরও খবর

এই বিতর্কের মাঝেও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—সেলিম খান শুধু একজন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব নন, তিনি একটি প্রজন্মের সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ। তাঁর লেখা চলচ্চিত্রগুলি শুধু বিনোদন দেয়নি, বরং সমাজের নানা বাস্তবতা এবং আবেগকে পর্দায় তুলে ধরেছে।

বিশেষ করে ১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকে তাঁর লেখা চিত্রনাট্য বলিউডে এক নতুন ধারার সূচনা করে। সেই সময়ে ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ চরিত্রের উদ্ভব ঘটে, যা পরে অমিতাভ বচ্চনের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হয়ে ওঠে। এই ধারার চলচ্চিত্রগুলির মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, দুঃখ এবং প্রতিবাদকে শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

সেলিম খানের ব্যক্তিগত জীবনও সমানভাবে আলোচিত। তিনি শুধু একজন সফল চিত্রনাট্যকারই নন, তিনি সুপারস্টার সালমান খানের বাবা। সালমান খান বর্তমানে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা এবং তাঁর সাফল্যের পেছনে পারিবারিক প্রেরণা ও সমর্থনের ভূমিকা অনেকেই উল্লেখ করেন।

সেলিম খানের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অসংখ্য ভক্ত টুইটার, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা পোস্ট করেন। অনেকেই তাঁর লেখা জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের দৃশ্য এবং সংলাপ শেয়ার করে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন।

এই প্রতিক্রিয়াগুলি দেখায় যে একজন শিল্পীর কাজ কীভাবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। সেলিম খানের লেখা সিনেমা বহু প্রজন্মের দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। তাই তাঁর অসুস্থতার খবর শুনে ভক্তদের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক।

চিকিৎসকদের নীরবতা এবং তারকাদের বক্তব্যের মধ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা মূলত ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্যের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। একজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের জীবনে এই দুই বিষয় প্রায়ই একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

তবে এই ঘটনায় সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় ছিল সেলিম খানের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা। চলচ্চিত্র জগতের বহু মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর সুস্থতা কামনা করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে একজন মানুষের কাজ এবং ব্যক্তিত্ব কত গভীরভাবে অন্যদের প্রভাবিত করতে পারে।

বর্তমানে খবর অনুযায়ী, চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষানিরীক্ষার ফলে সেলিম খানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। পরিবার এবং চিকিৎসকেরা তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভক্তরা আশাবাদী যে তিনি খুব শিগগিরই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন।

সবশেষে বলা যায়, সেলিম খানের অসুস্থতা নিয়ে যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে তা শুধু একটি স্বাস্থ্যসংক্রান্ত খবর নয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের জীবন কতটা মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। একই সঙ্গে এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং সামাজিক দায়িত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও সামনে নিয়ে আসে।

সেলিম খান ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর অবদান এবং সৃষ্টিশীলতা ভারতীয় সিনেমাকে নতুন দিশা দেখিয়েছে। তাই তাঁর সুস্থতা কামনা করছে শুধু তাঁর পরিবার বা বলিউড নয়, বরং সমগ্র ভারতীয় দর্শক সমাজ।

Preview image