নওয়াজ়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে নজর কাড়েন, ক্যানসারে আক্রান্ত অভিনেত্রী রাজশ্রী, কেমন আছেন?জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাজশ্রী দেশপাণ্ডে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত। ‘সেক্রেড গেম্‌স’, ‘ব্ল্যাক ওয়ারেন্ট’-এর মতো সিরিজ়ে অভিনয় করেছেন তিনি। রাজশ্রী দীর্ঘ দিন ধরেই সমান্তরাল ছবিতে কাজ করছেন। যদিও ‘সেক্রেড গেম্‌স’ সিরিজ়ে নওয়াজ়উদ্দীন সিদ্দীকীর সঙ্গে তাঁর অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে বিপুল আলোচনা হয়। এর পরে একাধিক সিরিজ়ে কাজ করেছেন। সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হয়েছে তাঁর। হাসপাতাল থেকে কোন বার্তা দিলেন?
রাজশ্রী জানান তাঁর অস্ত্রোপচার ভাল ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে তিনি প্রথম পর্যায়ের ক্যানসারে আক্রান্ত শুনে নাকি বাড়িতে বলার মতো সাহস ছিল তাঁর। কারণ, মা-বাবার মনের উপর চাপ পড়বে, তা তিনি জানতেন। রাজশ্রীর কথায়, ‘‘আপনি এই লেখা পড়ছেন মানে আমি অবশেষে আমার বাবা-মাকে বলার সাহস পেয়েছি যে, আমার ইনফিলট্রেটিং ডাক্টাল কার্সিনোমা ধরা পড়েছে। যা গ্রেড ওয়ান স্তন ক্যানসার। এখন আপনাদের সকলের জানার সময়। সৌভাগ্যবশত, আমার একটি রুটিন চেক-আপের সময়ে এটি ধরা পড়েছিল। তার পরে প্রচুর পরীক্ষা, অস্ত্রোপচার— একাধিক চ়ড়াই-উতরাই পেরিয়েছি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, সকলের ভালবাসা এবং উষ্ণতা আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। অস্ত্রোপচারের পরে আমার মা এবং বাবার মুখ দেখে আমার ভয় যেন শক্তিতে পরিণত হয়েছে। আমি আরও লড়াই করতে প্রস্তুত। শীঘ্রই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরব।’’
রাজশ্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিলোত্তমা সোম, লরেন-সহ আরও অনেকে।
মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যা সম্পূর্ণ জীবনকে বদলে দেয়। কখনও সেই পরিবর্তন আনন্দের হয়, আবার কখনও তা ভয়, দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় ভরা। কিন্তু সেই কঠিন সময়েই বোঝা যায় একজন মানুষের প্রকৃত শক্তি কতটা। সম্প্রতি অভিনেত্রী রাজশ্রীর জীবনে এমনই এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি জানতে পারেন যে তিনি গ্রেড ওয়ান স্তন ক্যানসার, অর্থাৎ ইনফিলট্রেটিং ডাক্টাল কার্সিনোমা-এ আক্রান্ত। তবে এই খবর শোনার পরেও তিনি যে ধৈর্য, সাহস এবং ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন, তা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
রাজশ্রী নিজেই জানান যে তাঁর অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ক্যানসার ধরা পড়ার খবরটি প্রথমে তিনি নিজের পরিবারকেও বলতে পারেননি। কারণ তিনি জানতেন, এই খবর শুনে তাঁর বাবা-মা ভেঙে পড়তে পারেন। বিশেষ করে মা-বাবার মানসিক চাপের কথা ভেবে তিনি কিছুদিন বিষয়টি নিজের মধ্যেই চেপে রেখেছিলেন। একজন সন্তানের কাছে মা-বাবার আবেগের গুরুত্ব কতটা, তার একটি গভীর উদাহরণ এই ঘটনা।
তিনি পরে এক আবেগঘন বার্তায় বলেন, “আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন, তার মানে আমি অবশেষে আমার বাবা-মাকে বলার সাহস পেয়েছি যে আমার ইনফিলট্রেটিং ডাক্টাল কার্সিনোমা ধরা পড়েছে। এটি গ্রেড ওয়ান স্তন ক্যানসার।” তাঁর এই স্বীকারোক্তি শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং এটি অনেক মানুষের কাছে সাহসের গল্প হয়ে উঠেছে।
রাজশ্রী জানান যে তাঁর ক্যানসারটি ধরা পড়ে একেবারে একটি রুটিন চেক-আপের সময়। সাধারণত অনেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে অনীহা বোধ করেন বা গুরুত্ব দেন না। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে সেই রুটিন চেক-আপই জীবন বাঁচানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার ধরা পড়ার ফলে চিকিৎসা অনেক সহজ হয় এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকে।
স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রথম স্তরে ধরা পড়লে রোগের বিস্তার সাধারণত খুব বেশি হয় না এবং চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা যায়। রাজশ্রীর ক্ষেত্রেও সেটিই হয়েছে। সময়মতো পরীক্ষা করানোর ফলে তিনি দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পেরেছেন এবং অস্ত্রোপচারও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ক্যানসারের চিকিৎসা কখনওই সহজ নয়। এতে অনেক ধাপ থাকে—পরীক্ষা, রিপোর্ট, চিকিৎসকের পরামর্শ, অস্ত্রোপচার এবং প্রয়োজনে কেমোথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি। রাজশ্রীও এই দীর্ঘ পথের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। তিনি জানান যে তাঁর জীবনে এই সময়টি ছিল একাধিক “চড়াই-উতরাই”-এ ভরা।
অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসার প্রক্রিয়া মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। ক্যানসারের মতো রোগ ধরা পড়লে রোগীর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের উপরেও মানসিক চাপ পড়ে। কিন্তু এই কঠিন সময়ে রাজশ্রী নিজের মনোবল হারাননি। তিনি বিশ্বাস রেখেছেন যে ইতিবাচক মনোভাব এবং মানুষের ভালবাসা তাঁকে এই লড়াইয়ে জয়ী হতে সাহায্য করবে।
একজন মানুষের জীবনে পরিবারের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে কঠিন সময়ে পরিবারের সমর্থন সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে। রাজশ্রীও সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন। অস্ত্রোপচারের পরে যখন তিনি তাঁর মা-বাবার মুখ দেখেন, তখন তাঁর ভয় যেন শক্তিতে পরিণত হয়।
তিনি বলেন, সেই মুহূর্তে তিনি বুঝতে পারেন যে তাঁকে আরও শক্তভাবে লড়াই করতে হবে। কারণ তাঁর সুস্থতা শুধু তাঁর নিজের জন্য নয়, তাঁর পরিবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মায়ের চোখে উদ্বেগ ও ভালবাসা দেখে তাঁর মধ্যে নতুন করে বেঁচে থাকার ইচ্ছা জেগে ওঠে।
রাজশ্রীর এই কঠিন সময়ে অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। অভিনেত্রী তিলোত্তমা সোম, লরেন এবং আরও অনেকেই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের শুভেচ্ছা ও সমর্থনের বার্তা রাজশ্রীর মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কখনও কখনও একজন রোগীর জন্য মানুষের ভালবাসা ও সমর্থন ওষুধের থেকেও বেশি শক্তি জোগায়। রাজশ্রীর ক্ষেত্রেও সেটিই হয়েছে। তিনি জানান যে মানুষের উষ্ণতা ও ভালবাসা তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
ক্যানসারের মতো রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানসিক শক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় চিকিৎসা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ রোগীর মানসিক অবস্থা। যদি একজন রোগী ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখতে পারেন, তবে তাঁর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
রাজশ্রী নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সেটিই বুঝিয়েছেন। তিনি ভেঙে পড়েননি, বরং সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে তিনি এখন আরও লড়াই করতে প্রস্তুত এবং খুব শীঘ্রই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরবেন।
রাজশ্রীর এই অভিজ্ঞতা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় আমরা শরীরে ছোটখাটো সমস্যা বা অস্বস্তিকে গুরুত্ব দিই না। কিন্তু নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ে।
বিশেষ করে স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে নারীদের নিয়মিত পরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব। তাই সচেতনতা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জীবন বাঁচাতে পারে।
ভারতীয় সমাজে এখনও ক্যানসার নিয়ে অনেক ভয় এবং ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন যে ক্যানসার মানেই শেষ। কিন্তু বাস্তবে এখন চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে অনেক ধরনের ক্যানসার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য, বিশেষ করে যদি তা প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়ে।
রাজশ্রীর মতো মানুষ যখন নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে শেয়ার করেন, তখন তা সমাজে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে অন্যরাও সাহস পান এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা করাতে এগিয়ে আসেন।
রাজশ্রীর গল্প আসলে শুধু একটি রোগের গল্প নয়, এটি আশা এবং সাহসের গল্প। তিনি দেখিয়েছেন যে কঠিন পরিস্থিতিতেও মানুষ ভেঙে পড়ে না। বরং সেই পরিস্থিতি থেকেই নতুন শক্তি খুঁজে পাওয়া যায়।
তিনি এখন সুস্থতার পথে এগিয়ে চলেছেন এবং খুব শীঘ্রই বাড়ি ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর এই লড়াই অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
জীবনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ আসে। কখনও তা শারীরিক, কখনও মানসিক। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার সাহসই একজন মানুষকে আলাদা করে তোলে। রাজশ্রীর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই সেই সাহসেরই একটি উদাহরণ।
তিনি দেখিয়েছেন যে ভয়কে জয় করা সম্ভব, যদি পাশে থাকে পরিবারের ভালবাসা, বন্ধুদের সমর্থন এবং নিজের দৃঢ় মনোবল। তাঁর অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায় যে জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সচেতনতা অনেক বড় বিপদকেও সামাল দিতে পারে।
আজ রাজশ্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন অনেকেই। আশা করা যায়, তিনি খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। তাঁর এই লড়াই শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং এটি সকলের জন্য একটি বার্তা—সাহস, সচেতনতা এবং ভালবাসা থাকলে যেকোনও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।